Home » প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে: ৫ হাজার টাকা দিলাম, যাকে ইচ্ছা তাকে খুন করো!
বাংলা সংবাদ

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে: ৫ হাজার টাকা দিলাম, যাকে ইচ্ছা তাকে খুন করো!

আরেকজনকে ফাঁসাতে নিরিহ পারুলকে খুন করা হয়

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিযোগিকে ফাঁসাতে ৫ হাজার টাকা দিয়ে খুনি ভাড়া করে খুন করা হয় নিরীহ পারুল বেগমকে, অথচ নির্বাচন বা রাজনীতির সাথে তার কোন সম্পর্কই নেই। ফেরি করে কাপড় বিক্রি করে কোনরকমে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতেন তিনি।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (PBI) হত্যাকারিদের চিন্হিত করে তাদের ধরতে সক্ষম হয়েছে।

পারুল মেহেরপুর জেলার গাংনি সিন্দু এলাকার মেয়ে। স্বামীর সংগে পারুলের ছাড়াছাড়ি হয়েছে আগেই। সন্তানদের গ্রামের বাড়িতে রেখে জীবিকা অর্জনের লড়াইয়ে নেমে পড়েন তিনি। একসময় জীবিকার সন্ধানে সাভারে আসেন। সাভারে শিশুদের জামাকাপড় তৈরি করে হেটে হেটে ফেরি করে সেগুলো বিক্রি করতেন তিনি। সেই পারুলকেই বানানো হয় বলির পাঁঠা।

২০ সেপ্টেম্বর সাভারে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নিজের প্রতিপক্ষ বিল্লাল সরদারকে একটি হত্যা মামলায় ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন আসামি হালিম হাওলাদার।

প্রতিপক্ষকে হত্যা মামলায় ফাঁসাতে একটি লাশ ফেলার সিদ্ধান নেন তিনি। তার পরিকল্পনা ছিলো যেকোন একজনকে খুন করে তার লাশের পাশে প্রতিপক্ষ বিল্লাল সরদারের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি রেখে দিবেন যেন পুলিশ লাশের পাশে বিল্লাল সরদারের পরিচয় পত্র পেলে তাকে গ্রেফতার করে।

এজন্য তিনি জামাল হাওলাদার নামে একজন খুনিকে ভাড়া করেন। জামালকে তার সুবিধামতো যেকোন একজনকে খুন করতে বলা হয়। বলা হয় যে, কাকে খুন করতে হবে সেটা কোন বিষয় নয়, যেকোন একজনকে খুন করলেই হবে। তবে শর্ত হলো লাশের পাশে বিল্লাল সরদারের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিটি রেখে আসতে হবে। এ কাজের জন্য তাকে ৫ হাজার টাকা দেয়া হয়।

খুন করার জন্য সুবিধামতো লোক কোথায় পাওয়া যেতে পারে এবিষয়ে আলোচনা করতে ভাড়াটে খুনি জামাল তার বন্ধু দর্জি মিলনের সাথে দেখা করে। দর্জি মিলন পারুলকে আগে থেকেই চিনতেন। তিনি পারুলকে খুন করার পরামর্শ দিয়ে বলেন যে, পারুলের আপন বলতে তেমন কেউ নেই। তাই তাকে খুন করলে সুবিধা হবে। কারন এনিয়ে থানা-পুলিশে কেউ দৌড়াদৌড়ি করবেনা আর তার বাড়িও অনেক দুরে।

বন্ধুর পরামর্শ মতো খুনি জামাল পারুলকে টার্গেট করেন এবং পারুলের সাথে পরিচিত হন। পরে তিনি কৌশলে পারুলকে একটি বাসায় ডেকে নিয়ে সেখানে তাকে গলাটিপে হত্যা করে লাশের পাশে বিল্লাল সর্দারের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি রেখে আসেন যেন পুলিশ খুনের সাথে জড়িত সন্দেহে বিল্লাল সরদারকে গ্রেফতার করে।

হত্যাকান্ডটি তদন্ত করতে গিয়ে পিবিআই প্রথমে বিল্লাল সরদারকে আটক করে। তবে তদন্ত করে তারা বুঝতে পারে যে বিল্লাল সরদার হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত নন। খুনিরা হয়তো ইচ্ছে করে লাশের পাশে তার আইডি কার্ড রেখে আসতেও পারে। বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার জন্য তদন্তকারিরা বিল্লাল সরদারের কাছে জানতে চান যে তার সাথে কারো কোন শত্রুতা আছে কিনা? যারা তাকে মামলায় ফাসানোর চেষ্টা করতে পারে।

বিল্লাল সরদার তখন অনুমান করে ১২ জন ব্যাক্তির নাম বলেন। যার ভিতরে মূল পরিকল্পনাকারি হালিম হাওলাদারের নামও ছিলো। তদন্তকারি দল তখন ঐ ১২ জনের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধান করে তারা দেখতে পান আসামি হালিম হাওলাদার ও জামাল নামের একজনের সাথে হত্যাকান্ডের আগে পরে একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছে। বিষয়টি তাদের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি করে। তারা জামালকে মিরপুরের একটি এলাকা থেকে আটক করেন।

জামালের একটি ছবি তুলে তারা সাভারে যে বাড়িতে পারুলকে হত্যা করা হয়েছিলো সে বাড়িতে যান এবং বাড়ির কেয়ারটেকারকে জামালের ছবি দেখান। কেয়ারটেকার জামলের ছবিটি দেখেই চিনতে পারেন এবং তদন্তকারিদের জানান যে যেদিন হত্যাকান্ডটি ঘটেছিলো সেদিন এই জামালের সাথেই পারুল এখানে এসেছিলো। তখন তদন্তকারিরা বুঝে ফেলেন যে জামালই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত।

এরপর তদন্তকারিরা জামালকে জেরা করা শুরু করলে সে কথার জালে ফেঁসে যায় এবং একপর্যায়ে স্বীকার করতে বাধ্য হয় যে সে নিজ হাতে পারুলকে হত্যা করেছে। এরপর সে তার বন্ধু দর্জি মিলন ও মূল পরিকল্পনাকারি হালিম হাওলাদারের বিষয়ে তদন্তকারিদের জানায়।

হালিম হাওলাদার আগে থেকেই গোয়েন্দাদের নজরদাড়িতে ছিলো। জামালের স্বীকারোক্তির পর হালিম হাওলাদারকে খুলনা থেকে আটক করা হয়। আর দর্জি মিলনকেও ঢাকা থেকে আটক করা হয়।

পিবিআই এর তদন্তকারিদের জোর প্রচেষ্টার ফলে অল্প দিনেই সকল অপরাধীদের ধরা সম্ভব হয়েছে। আসামিরা ইতিমধ্যে আদালতে জবানবন্দীও দিয়েছেন।

এতেই দেখা যায় যে সম্পূর্ন বিনা কারনে শুধু মাত্র আরেকজনকে ফাঁসাতে নিরিহ পারুলকে খুন করা হয়!

BD MEDIA MATE AD WITH SCREENSHOT

Add Comment

Click here to post a comment

এই সপ্তাহের সর্বাধিক দেখা ভিডিও:

বাংলাদেশীদের জন্য সেরা অ্যাপ

BD MEDIA MATE APP SCREENSHOT

আমাদের ওয়েবসাইটের জনপ্রিয় পোস্টগুলি:

BEST APP FOR US PEOPLE

US MEDIA MATE APP