নিবন্ধ

অনিয়মিত মাসিক হওয়ার কুফল এবং মুক্তির উপায়

পেট ব্যাথা , অনিয়মিত মাসিক , ঋতুস্রাব

অনিয়মিত মাসিক মেয়েদের জন্য একটি বিরক্তিকর স্বাস্থ্য সমস্যা । এখানে আমরা অনিয়মিত মাসিক কাকে বলে, অনিয়মিত মাসিকের কুফল এবং এর থেকে মুক্তি পেতে ঘরোয়া পদ্ধতিতে করনিয় বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করবো ।

অনিয়মিত মাসিক বলতে কি বুঝায় ?

মেয়েদের ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার পর এক ঋতুস্রাব থেকে অন্য ঋতুস্রাবের ব্যবধান ২১-৩৫ দিন হলে তাকে নিয়মিত মাসিক বলে ধরা হয় । অর্থ্যৎ একবার মাসিক হওয়ার পর যদি ২১ থেকে ৩৫ দিনের ভিতর পরবর্তি মাসিক হয় তাহলে তাকে স্বাভাবিক বলে ধরে নেয়া হয় । আর যদি ২১ দিনের আগে অথবা ৩৫ দিনের পরে হয় তাহলে সেটিকে অনিয়মিত মাসিক বলা হয়ে থাকে ।

স্বাভাবিক সময়ে মাসিক না হলে এর কিছু কুফল দেখা দিতে পারে । নিচে এর কিছু কুফল তুলে ধরা হলো । তবে সবার ক্ষেত্রেই যে এর কুফল দেখা দিবে এমন কোন কথা নেই । কারো কারো হয়তো কোন সমস্যা নাও হতে পারে ।

অনিয়মিত মাসিকের কুফল –

* মাসিক সঠিক সময়ে নিয়মমত না হলে পেট ব্যাথা হতে পারে ।
* মাসিক অনিয়মিত হলে অনেকেরই ঘন ঘন মাথা ব্যাথা হয়ে থাকে ।
* ঋতুস্রাব নিয়মিত না হলে ওজন বেড়ে যেতে পারে ।
* অনিময়িত মাসিকের কারনে মুখে ব্রন হয় । যা চেহারার সৌন্দর্য নষ্ট করে।
* অনিয়মিত মাসিকের কারনে অনেক মেয়ের খাবারে অরুচি হয়ে থাকে ।
* এর ফলে মেজাজ খিটখিটে হয় ।
* মানসিক অস্বস্তি তৈরি হয় ।

অনিয়মিত মাসিক হলে করনিয় –

আমরা এখানে মুলত ঘরোয়া পদ্ধতিতে কিভাবে অনিয়মিত মাসিক সমস্যার সমাধান করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করবো ।

* প্রাচীন কাল থেকেই বিভিন্ন শারিরিক সমস্যায় কাঁচা হলুদ ব্যবহার হয়ে আসছে । মাসিক নিয়মিত করতে এবং হরমোনের ভারসাম্য ঠিক করতেও এটি সাহায্য করে । এক কাপ দুধের সাথে চা চামচের চার ভাগের ১ ভাগ কাচা হলুদ এবং অল্প পরিমান মধু বা গুড় মিশিয়ে নিয়মিত পান করলে ভালো ফল পেতে পারেন ।

* ১ চামচ আদা কুচি ১ কাপ ফুটন্ত পানিতে ৫-৬ মিনিট ফুটিয়ে অল্প চিনি বা মধু মিশিয়ে তিনবেলা খাবার খাওয়ার পর ভরাপেটে পান করুন । এই পদ্ধতিটি মাসিক নিয়মিত করে তুলতে অনেকের ক্ষেত্রেই কাজে দেয় ।

* দেড় থেকে দুই চা চামচ জিরা নিয়ে সারারাত ১ গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রাখুন এবং এগুলো সকালে উঠে জিরা সহ পান করুন । এটি ঋতুস্রাব নিয়মিত করে তুলতে ভূমিকা রাখে ।

* প্রতিদিন নিয়মিত ১ কাপ কাচা পেপের রস খেলে উপকার পেতে পারেন । পেপের রস মাসিক নিয়মিত করার পাশাপাশি খাবার হজমেও ভালো ভূমিকা রাখে ।

* তেতুল সহ আরো কিছু টক জাতীয় ফল ঋতুস্রাব নিয়মিত করতে সাহায্য করে । হালকা চিনি মেশানো পানিতে এক ঘণ্টা তেতুল ভিজিয়ে রাখুন। তারপর এর সাথে অল্প পরিমান লবণ, চিনি এবং জিরা গুঁড়ো মিশিয়ে পান করুন। এটি আপনার অনিয়মিত মাসিক সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখে ।

* প্রতিদিন খাবার খাওয়ার আগে ১-২ টেবিল চামচ আপেল সাইডার ভিনেগার পানির সাথে মিশিয়ে পান করুন। রক্তের ইলসুলিন এবং ব্লাড সুগার কমিয়ে দিতে আপেল সাইডার ভিনেগার সাহায্য করে যা মাসিক নিয়মিত করে থাকে।

* বেশি করে শাকসবজি খেলে তা মাসিক নিয়মিত হতে সাহায্য করে।

* অতিরিক্ত ডায়েট করলে তা স্বাভাবিক ঋতুস্রাবের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করে । তাই অনিয়মিত মাসিক হলে ডায়েট না করে ওজন স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করুন ।

উপরে উল্লেখিত নিয়মগুলো মেনে চললে অনিয়মিত মাসিক সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা যায় । কয়েকমাস এই নিয়মগুলো মেনে চলুন। তবে এসব ঘরোয়া পদ্ধতি মেনে চলার পরও যদি সমস্যার সমাধান না হয় তবে অবশ্যই একজন ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত হবে ।

মতামত যোগ করুন

মতামত দিতে ক্লিক করুন

error: দুঃখিত, অনুলিপি করা যাবে না ! পরে এই কন্টেন্ট প্রয়োজন হলে আপনার সামাজিক অ্যাকাউন্টের সাথে ভাগ করুন।