নিবন্ধ

আইয়ুব বাচ্চু : সংক্ষিপ্ত জীবনী

আইয়ুব বাচ্চু

আমি বারো মাস তোমায় ভালবাসি..
তুমি সু্যোগ পাইলে বন্ধু বাসিও..
আমি বারো মাস তোমার আশায় আছি..
তুমি অবসর পাইলে আসিও..
এখন ভক্তরা আশায় থাকলেও আর ফিরে আসার অবসর পাবেননা এই কিংবদন্তি সংগীত শিল্পি ।
না ফেরার দেশে চলে গেলেন আইয়ুব বাচ্চু । সংক্ষেপে জেনে নিন আইয়ুব বাচ্চুর জীবনি…

আইয়ুব বাচ্চু একজন জনপ্রিয় বাংলাদেশী সঙ্গীত শিল্পী। তিনি একাধারে গায়ক, লিডগিটারিস্ট, গীতিকার, সুরকার, প্লেব্যাক শিল্পী। এল আর বি ব্যান্ড দলের লিড গিটারিস্ট এবং ভোকাল বাচ্চু বাংলাদেশের ব্যান্ড জগতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সম্মানিত ব্যক্তিত্বদের একজন।এর আগে তিনি দশ বছর সোলস ব্যান্ডের সাথে লিড গিটারিস্ট হিসেবে যুক্ত ছিলেন। সঙ্গীতজগতে তাঁর যাত্রা শুরু হয় ফিলিংসের মাধ্যমে ১৯৭৮ সালে। অত্যন্ত গুণী এই শিল্পী তাঁর শ্রোতা-ভক্তদের কাছে এবি (AB) নামেও পরিচিত। তাঁর ডাক নাম রবিন। মূলত রক ঘরানার কন্ঠের অধিকারী হলেও আধুনিক গান, ক্লাসিকাল সঙ্গীত এবং লোকগীতি দিয়েও শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন।

পরিচ্ছেদসমূহ

  • প্রাথমিক জীবন
  • সঙ্গীত জীবন
  • ব্যক্তিগত জীবন
  • অ্যালবাম
    • ৪.১ একক অ্যালবাম
    • ৪.২ ব্যান্ড অ্যালবাম
    • ৪.৩ নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী
  • মৃত্যু
  • তথ্যসূত্র
  • বহিঃসংযোগ

প্রাথমিক জীবন

আইয়ুব বাচ্চু ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) চট্টগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

আইয়ুব বাচ্চু : ব্যক্তিগত জীবন

২০১২ সালের ২৭ নভেম্বর বাচ্চু ফুসফুসে পানি জমার কারণে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি হন।সেখানে চিকিৎসা গ্রহণের পর তিনি সুস্থ হন

২০১৪ সালের ১৩ মার্চ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ২০১৪’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘বিসিবি সেলিব্রেশন কনসার্ট’-এ অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন নিয়ে মাইলস ব্যান্ডের হামিন-এর সাথে বাচ্চুর বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই দ্বন্দ্বের সূত্রে বাচ্চু ও তার ব্যান্ড এল আর বি বাংলাদেশ ব্যান্ড মিউজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বামবা) সদস্যপদ প্রত্যাহার করে।

আইয়ুব বাচ্চু : সঙ্গীত জীবন

বাচ্চুর সঙ্গীতজগতে যাত্রা শুরু হয় ফিলিংস ব্যান্ডের সাথে ১৯৭৮ সালে। তাঁর কন্ঠ দেয়া প্রথম গান “হারানো বিকেলের গল্প”। গানটির কথা লিখেছিলেন শহীদ মাহমুদ জঙ্গী। ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সালে তিনি সোলস ব্যান্ডের সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত রক্তগোলাপ আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম প্রকাশিত একক অ্যালবাম। এই অ্যালবামটি তেমন একটা সাফল্য পায়নি। আইয়ুব বাচ্চুর সফলতার শুরু তার দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ময়না (১৯৮৮) এর মাধ্যমে।

১৯৯১ সালে বাচ্চু এল আর বি ব্যান্ড গঠন করে। এই ব্যান্ডের সাথে তার প্রথম ব্যান্ড অ্যালবাম এল আর বি প্রকাশিত হয় ১৯৯২ সালে। এটি বাংলাদেশের প্রথম দ্বৈত অ্যালবাম। এই অ্যালবামের “শেষ চিঠি কেমন এমন চিঠি”, “ঘুম ভাঙ্গা শহরে”, “হকার” গানগুলো জনপ্রিয়তা লাভ করে। পরে ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে তার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্যান্ড অ্যালবাম সুখতবুও বের হয়। সুখ অ্যালবামের “সুখ, “চলো বদলে যাই”, “রূপালি গিটার”, “গতকাল রাতে” উল্লেখযোগ্য গান। “চলো বদলে যাই” বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতে অন্যতম জনপ্রিয় একটি গান। গানটির কথা লিখেছেন ও সুর করেছেন বাচ্চু নিজেই। ১৯৯৫ সালে তিনি বের করেন তৃতীয় একক অ্যালবাম কষ্ট। সর্বকালের সেরা একক অ্যালবামের একটি বলে অবিহিত কড়া হয় এটিকে। এই অ্যালবামের প্রায় সবগুলো গানই জনপ্রিয়তা পায়। বিশেষ করে “কষ্ট কাকে বলে”, “কষ্ট পেতে ভালোবাসি”, “অবাক হৃদয়”, ও “আমিও মানুষ”। একই বছর তার চতুর্থ ব্যান্ড অ্যালবাম ঘুমন্ত শহরে প্রকাশিত হয়। তিনি অনেক বাংলা ছবিতে প্লেব্যাক করেছেন। “অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে” বাংলা ছবির অন্যতম একটি জনপ্রিয় গান। এটি তাঁর গাওয়া প্রথম চলচ্চিত্রের গান।

২০০৯ সালে তার একক অ্যালবাম বলিনি কখনো প্রকাশিত। ২০১১ সালে এল আর বি ব্যান্ড থেকে বের করেন ব্যান্ড অ্যালবাম যুদ্ধ এই অ্যালবামে ১০টি গান রয়েছে। ছয় বছর পর তার পরবর্তী একক অ্যালবাম জীবনের গল্প (২০১৫) বাজারে আসে। এই অ্যালবামে ১০টি গান রয়েছে। গানের কথা লিখেছেন সাজ্জাদ হোসাইন এবং সুর ও সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন আইয়ুব বাচ্চু নিজে

গিটারে তিনি সারা ভারতীয় উপমহাদেশে বিখ্যাত। জিমি হেন্ড্রিক্স এবং জো স্যাট্রিয়ানীর বাজনায় তিনি দারুনভাবে অণুপ্রাণিত। আইয়ুব বাচ্চুর নিজের একটি স্টুডিও আছে। ঢাকার মগবাজারে অবস্থিত এই মিউজিক স্টুডিওটির নাম এবি কিচেন। তিনি ২০১০ সালে ঈদের জন্য নির্মিত ট্রাফিক সিগন্যাল ও হলুদ বাতি শিরোনামের নাটকে অভিনয় করেন।

অ্যালবাম

তিনি একক ও ব্যান্ড দুই ধরনের অ্যালবামই বের করেছেন। সেগুলো হলঃ

একক অ্যালবাম

  1. রক্তগোলাপ (১৯৮৬)
  2. ময়না (১৯৮৮)
  3. কষ্ট (১৯৯৫)
  4. সময় (১৯৯৮)
  5. একা (১৯৯৯)
  6. প্রেম তুমি কি! (২০০২)
  7. দুটি মন (২০০২)
  8. কাফেলা (২০০২)
  9. প্রেম প্রেমের মতো (২০০৩)
  10. পথের গান (২০০৪)
  11. ভাটির টানে মাটির গানে (২০০৬)
  12. জীবন (২০০৬)
  13. সাউন্ড অব সাইলেন্স (ইন্সট্রুমেন্টাল, ২০০৭)
  14. রিমঝিম বৃষ্টি (২০০৮)
  15. বলিনি কখনো (২০০৯)
  16. জীবনের গল্প (২০১৫)

ব্যান্ড অ্যালবাম

  1. এলআরবি (১৯৯২)
  2. সুখ (১৯৯৩)
  3. তবুও (১৯৯৪)
  4. ঘুমন্ত শহরে (১৯৯৫)
  5. ফেরারী মন (১৯৯৬)
  6. স্বপ্ন (১৯৯৬)
  7. আমাদের বিস্ময় (১৯৯৮)
  8. মন চাইলে মন পাবে (২০০০)
  9. অচেনা জীবন (২০০৩)
  10. মনে আছে নাকি নেই (২০০৫)
  11. স্পর্শ (২০০৮)
  12. যুদ্ধ (২০১২)

নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী

  • লাল বাদশা (১৯৯৯)
  • গুন্ডা নাম্বার ওয়ান (২০০০)
  • ব্যাচেলর (২০০৪)
  • চোরাবালি (২০১২)

মৃত্যু

২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে সকাল ৯টায় তিনি মারা যান। মৃত্যুর আগে ‘শেকড়ের সন্ধানে’ নামে শেষ কনসার্ট করেছেন রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১৬ অক্টোবরে ২০১৮ সালে।

১৬ অক্টোবরে ২০১৮ সাল সকালে অসুস্থতার কারণে বাচ্চুর ব্যক্তিগত গাড়িচালক তাকে স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যায়। গাড়িতে তোলার সময় তার মুখ থেকে ফেনা বের হচ্ছিল। সকাল সোয়া নয়টার দিকে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকেরা জানান, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে বাচ্চুর মৃত্যু হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্কয়ার হাসপাতালের মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. মির্জা নাজিমুদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, জরুরি বিভাগে কার্ডিয়াক কনসালট্যান্ট মুনসুর মাহবুবের উপস্থিতিতে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ধরে আইয়ুব বাচ্চুর হৃৎস্পন্দন ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয় এবং সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে আইয়ুব বাচ্চুকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

বাচ্চুর মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ সহ রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেকেই শোক প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা, উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম সহ আরো অনেকেই শোক প্রকাশ করেন।

ট্যাগ গুলো
error: দুঃখিত, অনুলিপি করা যাবে না ! পরে এই কন্টেন্ট প্রয়োজন হলে আপনার সামাজিক অ্যাকাউন্টের সাথে ভাগ করুন।