নিবন্ধ

ইংরেজি শুধুই একটি ভাষা, এর বেশি কিছু নয়

ইংরেজি শুধুই একটি ভাষা, এর বেশি কিছু নয় । দক্ষিন এশিয়া, বিশেষ করে এই ভারতীয় উপমাহাদেশ এর লোকজন ইংরেজি ভাষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে ।

বাংলাদেশ, ভারত বা পাকিস্তানের মতো দেশগুলোতে ইংরেজি বলতে বা লিখতে পারা দিয়ে একজনের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং চাকরি পাওয়ার যোগ্যতাও মূল্যায়ন করা হয় !

দেখা গেলো, হয়তো কোন ছাত্র পড়ালেখার ক্ষেত্রে অন্য বিষয়গুলোতে খারাপ হলেও সে যদি ইংরেজি ভালো বলতে বা লিখতে পারে তাহলে তাকে মেধাবি মনে করা হয় ! কিন্তু এ কেমন মেধাবি ? যে অন্য সাধারন বিষয়গুলোতে একজন সাধারন ছাত্রের চাইতেও খারাপ । যে সাধারন ভাবে কোন কিছু বুঝতে পারেনা, করতে পারেনা, চিন্তা করতে পারেনা, সে শুধু একটি ভাষা জানার কারনেই অধিক যোগ্যতা সম্পন্ন হয়ে গেলো ?

শুধু একটি ভাষা জানার কারনেই যদি কারো যোগ্যতা বেড়ে যায় বা কাউকে অধিক মূল্যায়ন করা হয় তাহলে যারা হিন্দি ভাষা, উূর্দ ভাষা, আরবি ভাষা জানে তাদেরকেও সমান ভাবে মূল্যায়ন করা দরকার ।

ইংরেজদের মধ্যেও অনেকেই আছে যারা বোকা, অদক্ষ, বা পড়ালেখায় খারাপ । এইসব বোকা, অদক্ষ বা পড়ালেখায় খারাপ লোকগুলোও কিন্তু সাবলিল ভাবে ইংরেজি বলতে ও লিখতে পারে । ইংরেজি ভাষা জানে বলে কিন্তু তাদের দক্ষতা কোনদিক দিয়ে বেড়ে যাচ্ছেনা ।

তারা যেমন তাদের জন্মের পর থেকে ইংরেজি শুনতে শুনতে শিখে ফেলেছে, তেমনি আমরাও। আমাদের জন্মের পর থেকে বাংলা ভাষা শুনতে শুনতে এই ভাষা শিখে ফেলেছি ।

এখন যদি বাংলাদেশে জন্ম নেয়া কোনো শিশুর সাথে জন্মের পর থেকে ইংরেজি বলা হয় তাহলে সেই বাংলাদেশি শিশুটাও ৫-৬ বছর বয়সেই সাবলিল ভাবে ইংরেজি বলতে পারবে । কিন্তু ৫-৬ বছর বয়সে কিন্তু সেই শিশুটা চাকরি বা ব্যবসা বানিজ্য বা কলকারখানার কাজ করতে পারবেনা ।

সুতরাং বোঝা যাচ্ছে ইংরেজি পারলেই কোন ব্যক্তির যোগ্যতা বেড়ে যাচ্ছেনা বা সে দক্ষ হয়ে যাচ্ছেনা । ইংরেজি ভাষা যদি দক্ষতা বাড়িয়ে দিতো তাহলে একটা ৫-৬ বছরের ইংরেজি জানা শিশুও খুব ভালো ভাবে সব কাজ করতে পারতো ।

আবার ইংরেজ কোন শিশুকেও জন্মের পর থেকে বাংলা ভাষা শোনালে সে সাবলিল ভাবে বাংলা বলতে পারবে । যেমনটা বরিশালে জন্ম নেয়া এক শিশু বরিশালের আন্চলিক ভাষা বলতে পারে বা সিলেটে জন্ম নেয়া শিশু সিলেটের আন্চলিক ভাষায় কথা বলতে পারে ।

সুতরাং আমার মতামত হলো, নোয়াখালির আন্চলিক ভাষা যেমন একটি ভাষা, বরিশালের আন্চলিক ভাষা যেমন একটি ভাষা, আমরা আমাদের গ্রাম্য ভাষায় যেভাবে কথা বলি সেটি যেমন একটি ভাষা, ইংরেজিও শুধুই তেমনি একটি ভাষা, এর বেশি কিছু নয় ।

শুধুমাত্র পার্থক্য এইটুকুই যে সারা দুনিয়ার উপনিবেশ এবং জনপ্রিয় সাহিত্য ও সংস্কৃতির কারনে ইংরেজি ভাষা একটু বেশি ছড়িয়ে পরেছে । বাংলা ভাষা ভাষীদের ব্যবসা বানিজ্য এবং সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে পারলে বাংলা ভাষাও দুনিয়াব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে ।

ট্যাগ গুলো

মতামত যোগ করুন

মতামত দিতে ক্লিক করুন

error: দুঃখিত, অনুলিপি করা যাবে না ! পরে এই কন্টেন্ট প্রয়োজন হলে আপনার সামাজিক অ্যাকাউন্টের সাথে ভাগ করুন।