ছবি - ভান্ডার

এত কাছে, তবু কত দুরে !

২০১১ সালের মার্চ মাস। শান্ত সুশৃঙ্খল জাপানের জনজীবন। হঠাৎ বিকট ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো চারপাশ। সুনামির বেগ ভাসিয়ে দিলো উপকূলের জনপদ। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা হয়ে পড়লো অচল। তখনো জাপানবাসী জানেনা এর চেয়েও কি ভয়াবহ বিপর্যয় অপেক্ষা করছে তাদের জন্য। ফুকুশিমার নিউক্লিয়ার প্ল্যান্ট অচল হয়ে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ দুষণ ছড়িয়ে পড়লো চারপাশে!

যারা তখন বাইরে ছিল সবাইকে জরুরি অবস্থায় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বলা হলো। তাতেও কি রক্ষা মিললো? যেই মানুষটা সকালে বাজার করে বাচ্চাকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে অফিসে গেল তাকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না অফিস থেকে।

স্ত্রী বিকালে মাঠে হাঁটতে যায়, আজকেও কি বেরিয়েছে? বাচ্চাটা স্কুলেই আছে তো? এতক্ষণে তো ছুটি হয়ে যাওয়ার কথা! ও স্রষ্টা! ওরা যেন বের না হয়! কুলকুল করে ঘামছে লোকটা।

এভাবেই সেদিন জাপানে এমন অনেক মানুষ আলাদা হয়ে পড়লো পরিবার থেকে। আর কোনদিন হয়তো লোকটির দেখা হয়নি স্ত্রী সন্তানের সাথে। কোনদিন হয়তো এই মেয়েটির বলা হয়নি বাবা মাকে জড়িয়ে ধরে কতোটা ভালবাসে সে তাদের।

সে যে তেজস্ক্রিয় বিকিরণের শিকার। প্রিয়জনের উষ্ণ আলিঙ্গন যে তার আর কোনদিন পাওয়া হবে না! কাঁচের ওপারে প্রিয়জন। কলিজার টুকরা পোষা কুকুরটা। আর কোনদিন ছুঁয়ে দেখা হবে না! এত কাছে, তবু কত দূরে! একটা কাঁচের দেয়াল যে আজ জীবন আর মৃত্যুর মাঝে সীমানা টেনে দিয়েছে !

মতামত যোগ করুন

মতামত দিতে ক্লিক করুন

error: দুঃখিত, অনুলিপি করা যাবে না ! পরে এই কন্টেন্ট প্রয়োজন হলে আপনার সামাজিক অ্যাকাউন্টের সাথে ভাগ করুন।