নিবন্ধ

করলা ভাজি রেসেপি – তিতা করলার মজার স্বাদ

আলু দিয়ে করলা ভাজি রেসেপি

করলা ভাজি বাংগালিদের নিয়তিম খাবার গুলোর মধ্যে একটি অন্যতম পদ। এটি একদিকে যেমন মজাদার অন্যদিকে তেমন স্বাস্থ্যকর। এখানে আমি আপনাদের জন্য মজাদার ও জনপ্রিয় এই করলা ভাজি রেসেপি তুলে ধরবো। করলা ভাজি বিশেষ কোন খাবার নয়, এটি একটি নিয়মিত খাবার। সব পরিবারেই এটি নিয়মিতই খাওয়া হয়। আমি এখানে করলার বিশেষ কোন রেসেপি উল্লেখ করবোনা বরং সাধারনত আমরা যেই করলা ভাজি খাই সেটির রেসেপিই উল্লেখ করবো। কেউ কেউ হয়তো তিতা স্বাদের জন্য কিছুটা অপছন্দ করে থাকতে পারেন তবে তিতা বলে কিন্তু এটি খারাপ নয় বরং খুবই উপকারি এবং এর মধ্যেও একটা আলাদা স্বাদ রয়েছে। আর ঠিক ভাবে রাধতে পারলে তিতা ভাবও অনেকটা কমে যায়। কথা না বাড়িয়ে চলুন তবে শুরু করা যাক।

করলা ভাজি তিতা ভাব কমানোর টিপস:

* করলা মাঝখান দিয়ে লম্বালম্বি করে কেটে ভিতরের বীজ ও ফোমের মত অংশগুলো ফেলে দিন।
* এরপর করলা পাতলা করে করে কেটে অল্প একটু লবন দিয়ে মাখিয়ে ২০ মিনিট রেখে দিন। তারপর দেখবেন কিছুটা সবুজ রস বেরিয়েছে। সেই রসটুকু ফেলে দিন।
* একটু বেশি করে আলু দিয়ে রাধতে পারেন।
* সম্ভব হলে ছোট ছোট চিংড়ি ভেজে দিতে পারেন।
* করলা ভাজি করার সময় পানি দিবেন না। শুধু তেলে ভাজি করুন।

প্রথমেই যারা তিতা ভাব কমাতে চান তাদের জন্য কয়েকটি টিপস দিয়ে দিলাম। এই টিপসগুলো মানলে করলার তিতা ভাব অনেকটাই কমে যাবে বলে আশা করি। এবার চলুন মূল রেসেপিতে যাই।

করলা ভাজি রেসেপি উপকরন:

(আমি এখানে ২৫০ গ্রাম হিসেবে উপকরন উল্লেখ করছি। ২৫০ গ্রাম করলা আলু দিয়ে ভাজি করলে ৩/৪ জনের একবেলা খাবারের জন্য যথেষ্ট হবে, তবে একদিন রান্না করলেই আপনি বুঝতে পারবেন আপনার পরিবারের জন্য আরো বেশি লাগবে নাকি কম লাগবে। তখন সেই অনুপাতে উপকরন বাড়িয়ে বা কমিয়ে নিবেন।)

১- করলা ২৫০ গ্রাম
২- আলু মাঝারি আকারের ২ টি
৩- পেয়াজ কুচি আধা কাপ
৪- রসুন কুচি বা বাটা ১ চা চামচ
৫- জিড়া গুড়া আধা চা চামচ
৬- কাঁচা মরিচ
৭- গুড়া হলুদ
৮- তেল আধা কাপ

করলা ভাজি রেসেপি প্রস্তুত প্রনালী:

করলা ভাজি রেসেপি তৈরির জন্য প্রথমে করলা ভালো করে ধুয়ে মাঝ বরাবর লম্বালম্বি কাটুন। তারপর ভেতরের বীজ ও ফোমের মতো অংশগুলো ফেলে দিন। এবার পাতলা করে টুকরো টুকরো করে করলা কাটুন। (এবার করলা গুলোকে অল্প লবন দিয়ে মাখিয়ে ২০ মিনিটের জন্য রেখে দিন। দেখবেন কিছুটা সবুজ রস বের হবে। সেই রসগুলো ফেলে দিন। এতে তিতা ভাব কিছুটা কমে যাবে। তবে আপনার তিতা সমস্যা না থাকলে এটা না করলেও চলবে।)

কাচা মরিচ ও আলু ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে কুচি কুচি করে কেটে নিন। পেয়াজ, রসুন কুচি কুচি করে কাটুন।

কড়াইতে তেল দিন। তেল গরম হয়ে আসলে পেয়াজ কুচি গুলো দিয়ে সামান্য ভাজুন। এরপর তাতে একে একে রসুন, জিড়া গুড়া ও গুড়া হলুদ দিয়ে নেড়েচেড়ে মিশিয়ে দিন। এরপর তাতে করলা ও আলু কুচি গুলো দিয়ে পরিমান মতো লবন দিয়ে ভালোভাবে নেড়েচেড়ে মশলার সাথে মিশিয়ে দিন।

মিশানো হয়ে গেলে চুলার আচ একদম কমিয়ে দিয়ে ঢেকে দিন। যেহেতু এতে পানি দেয়া হয়না তাই আগুনের আচ একদম কমিয়ে দিন, নাহলে পোড়া লেগে যাবে। আমি আগুন একদম নিভু নিভু অবস্থায় রাখি। আর অবশ্যই কড়াই ঢেকে রাখতে হবে। তাহলে ভেতরে বাষ্পের ফলে আলু ও করলা সেদ্ধ হয়ে যাবে। নাহলে কাচা থেকে যেতে পারে।

৭-৮ মিনিট পর ঢাকনা তুলে উপরের গুলো নিচে এবং নিচের গুলো উপরে- এভাবে নেড়ে দিন এবং আবার ঢাকনা দিয়ে রাখুন। এতে করে পোড়া লাগবেনা এবং সবগুলো ভালোমত সেদ্ধ হবে। ৭-৮ মিনিট পর ঢাকনা উঠিয়ে দেখুন হয়েছে কিনা। হয়ে গেলে নামিয়ে নিন নাহলে আবার আগের মতো নেড়েচেড়ে দিয়ে আরো কয়েক মিনিট রাখুন। এতক্ষনে হয়ে যাওয়ার কথা। হয়ে গেলে নামিয়ে নিন| অবশ্যই চুলার আগুনের দিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখবেন এবং মাঝে নেড়েচেড়ে দিবেন। নাহলে পুড়ে যাবে।

আরো বিভিন্ন রেসেপি জানতে এখানে ক্লিক করুন।

গরম ভাতের সাথে করলা ভাজির মজাই আলাদা। আপনি চাইলে আলু ছাড়া শুধু করলা ভাজিও করতে পারেন । নিয়ম একই রকম। তবে আলু দিলে তিতা ভাব কিছুটা কমে এবং বাচ্চারাও খেতে আপত্তি করেনা। আশা করি এই সাধারন করলা ভাজি রেসেপি আপনাদের কাজে দিবে। নিয়মিত করলা খাওয়া স্বাস্থের জন্য খুবই উপকারি। তাই করলা দেখলে এড়িয়ে যাবেননা। আমাদের রেসেপিগুলো ভালো লাগলে শেয়ার করে উৎসাহ দেয়ার অনুরোধ রইলো। আপনারা শেয়ার করলে আমরা নতুন নতুন রেসেপি দেয়ার উৎসাহ পাই। আপনার নিজস্ব কোন মজাদার রেসেপি থাকলে আমাদের কাছে ইমেইল করে পাঠাতে পারেন meetus@fancim.com – এই ঠিকানায়। শুভকামনা রইলো, ধন্যবাদ।

ট্যাগ গুলো

মতামত যোগ করুন

মতামত দিতে ক্লিক করুন

error: দুঃখিত, অনুলিপি করা যাবে না ! পরে এই কন্টেন্ট প্রয়োজন হলে আপনার সামাজিক অ্যাকাউন্টের সাথে ভাগ করুন।