FANCIM.COM-ADS-01848272767
নিবন্ধ

কৃষিতে সফলতার গল্প

সাফল্যের গল্প , উন্নতি , টাকার গাছ , সমৃদ্ধি , কৃষিতে সফলতার গল্প

কৃষিতে সফলতার গল্প তুলে ধরার পিছনে একটা রয়েছে | দেখুন কিভাবে এরা সফল হয়েছে । কৃষিতে সফলতার গল্প সমূহ অবশ্যই পড়ার অনুরোধ রইলো । এতে করে আপনি সহজে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন । আমরা অনেকেই মনে করি কৃষি কাজ করে জীবনে বড় কিছু করা সম্ভব নয় । কিন্তু কৃষিতে সফলতার গল্প গুলো পড়লেই আপনারা বুঝতে পারবেন একদম নীচু স্তর থেকেও কৃষিকাজের মাধ্যমে সফলতার উচ্চ স্তরে উঠা যায় । চলুন তাহলে শুরু করা যাক ।

গৃহবধু নুরুন্নাহারের কৃষিতে সফলতার গল্প –

পাবনার গৃহবধু নুরুন্নাহারের কৃষিতে সফলতার গল্প শুনলে অবাক হতে হয় | কৃষি কাজ করে নিজের ভাগ্য বদলে দিয়ে দেশজুড়ে রীতিমতো ঝড় তুলেছেন। তিনি মাত্র ২০ হাজার টাকা নিয়ে শুরু করেছিলেন তার এই কৃষি কাজ। তিনি এখন কোটিপতি। শুধু তাই নয়, তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের কৃষি উন্নোয়নের রোল মডেল। কৃষিতে বিপুল অবদান রাখায় পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার ! শুধু নিজের ভাগ্য ফিরিয়েই তিনি ক্ষান্ত হননি। তিনি বর্তমানে এক হাজার নারীর ভাগ্য বদলে দিতে গ্রহণ করছেন নানা পরিকল্পনা।
অন্যান্য গ্রাম্য বধুর মতোই চার দেওয়ালের গণ্ডির মধ্যে নিরিবিলি জীবন যাপন করার কথা থাকলেও নুরুন্নাহার সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। অদম্য স্পৃহা ও প্রবল সাহসের মাধ্যমে তিনি বর্তমানে একজন সমাজ উন্নয়ন কর্মী, নারী উদ্যোক্তা এবং সফল কৃষক। নারী কৃষক হিসেবে ইতিমধ্যেই নুরুন্নাহার বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি স্বর্ণ পদকও লাভ করেছেন।
পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম বিশ্বাসের স্ত্রী হলেন নুরুন্নাহার। নিবিড় সবজি, ফলমূল, পোল্ট্রি এবং গাভির খামার করে এলাকার নারীদের কৃষি কাজে উদ্বুদ্ধ করেছেন। দেশের সকল নারী কৃষককে ডিঙ্গিয়ে ২০১০ সালে সিটি গ্রুপ জাতীয় পুরষ্কার জিতে নেন তিনি। সে সময় নগদ সাড়ে ৩ লাখ টাকা, একটি সার্টিফিকেট ও একটি ২৪ ইঞ্চি রঙ্গিন টেলিভিশন পুরষ্কার তাকে দেওয়া হয়।
এই সফল নারী কৃষক নুরুন্নাহার ২০১১ সালে দেশের সেরা নারী কৃষক হিসেবে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি ব্রোঞ্জ পদক, ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি স্বর্ণ পদক ও ২০১৭ সালে নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নগদ ১ লাখ টাকাসহ মাছরাঙ্গা অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। তিনি রীতিমতো দেশের মানুষকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। জয়বাংলা নারী উন্নয়ন মহিলা সমবায় সমিতি এবং এনসিডিপি গ্রাম উন্নয়ন কমিটির সভানেত্রী নারী উদ্যোক্তা নুরুন্নাহার ১ হাজারের বেশি নারীদের সংগঠিত করে তাদের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য কাজ করে চলেছেন।
সংবাদ মাধ্যমকে নুরুন্নাহার জানিয়েছেন, স্বামী কাজে বেরিয়ে গেলে অলস বসে থাকা তার ভালো লাগতো না। ২০০৫ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠান দেখে তারও ইচ্ছে হয় বসতবাড়ির আশপাশে শাক-সবজি ও ফলমূলের বাগান গড়ে তোলার। এরপর আর থেমে থাকেননি নুরুন্নাহার। লালশাক, পুঁইশাক, বেগুন, কাঁচামরিচ, গোল আলু, পেঁয়াজ, রসুন, সব কিছু তিনি বাড়ির আঙ্গিনায় চাষ করেন, তা দিয়েই সারা বছরের সবজির চাহিদা মিটে যেতো। এমনকি বাড়তি কিছু আয়ও হতো তার। প্রথম প্রথম স্বামী তার এমন কর্মকাণ্ডে কিছুটা বিরক্ত হতেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
২০০৫ সালে ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, জাকির হোসেন এবং আব্দুর রশিদ নুরুন্নাহারের এলাকায় ব্র্যাক এনসিডিপির মহিলা গ্রাম কমিটি গঠনের পর তাকে দায়িত্ব অর্পণ করেন। এতে তার স্বামীর আগ্রহ আরও বেড়ে যায়।
ওই বছর ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে বসতবাড়ির আঙ্গিনায় ও বাড়ি সংলগ্ন ৫ বিঘা জমিতে ফুলকপি, বাধাকপি, ওলকপি, গাজর, ইত্যাদি নানা ফসলের আবাদ করে আশাতীত লাভবান হন। পরের বছর ৩১ আগষ্ট তিনি সেই ঋণ পরিশোধ করে দ্বিতীয়বারের মতো ২০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন |
এমন সময় তিনি জানতে পারেন বড়ইচারা দণিপাড়ায় ছিদ্দিকুর রহমান ময়েজের কূল চাষ প্রকল্পের বিষয়ে। ময়েজের কাছ থেকে চারা কিনে এনে নুরুন্নাহার ১৭৫টি গাছের একটি কূলের বাগান করেন। প্রথম বছর কূল বিক্রি করে তিনি ২৫ হাজার টাকা পান। এছাড়া উন্নত জাতের পেয়ারার ৪০টি গাছও লাগান তার আঙ্গিনায়।
বর্তমানে নুরুন্নাহারের খামারে ১০০টি গরু ও ৪ হাজার সোনালী মুরগী রয়েছে। তাছাড়া তিনি ২ বিঘা ড্রাগন, ৭ বিঘা পেয়ারা, ৬ বিঘা লিচু, ৫ বিঘা জমিতে পেঁপে, ২ বিঘা কলা, ৪ বিঘা লাউ, ৪ বিঘায় ফুল কপি, ৪ বিঘায় পেঁয়াজ, ৩ বিঘায় রসুন, ১ বিঘায় টমেটো, ৩ বিঘায় বেগুন, ৩ বিঘায় মটর, ২ বিঘা গম, ৪ বিঘায় আলু, ২০ বিঘা জমিতে মশুর চাষ করছেন। এনসিডিপি গ্রাম উন্নয়ন কমিটির সভানেত্রী একজন সফল কৃষক নুরুন্নাহারের স্বামী রবিউল ইসলাম বিশ্বাস একজন ব্যবসায়ী। জয়নগরের চাউল কল মোকামের একটি মিলে ধান চাউলের ব্যবসা করেন তার স্বামী রবিউল ইসলাম।
বর্তমানে নুরুন্নাহারের জয়-জয়কার ছড়িয়ে পড়েছে গোটা পাবনা জেলায়। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নুরুন্নাহারের কাছে কৃষি কাজের পরামর্শ নিতে আসেন। নুরুন্নাহারও তাদের মাঝে ছড়িয়ে দেন তার সফলতার কথা। নুরুন্নাহার তার গ্রামের ২শ’ নারীকে হাতে কলমে কৃষি কাজের প্রশিক্ষণ দিয়ে কৃষক হিসেবে গড়ে তুলছেন।
নুরুন্নাহার ২০১১ ও ২০১৬ সালে দেশের সেরা নারী কৃষক হিসেবে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক পেয়ে দেশের মানুষকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। নুরুন্নাহারের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সফল নারী উদ্যোক্তা ও নারী কৃষক নুরুন্নাহারের হাতে তুলে দেন বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক।
নুরুন্নাহার বেগমের সফলতা দেখে ছলিমপুর ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রামের নারীরা বর্তমানে প্রতিযোগিতামূলক কৃষি কাজে এগিয়ে এসেছেন। পরিশ্রম, ধৈর্য্য, অধ্যাবসায়, সাহস এবং মেধাকে কাজে লাগাতে পারলে নুরুন্নাহার বেগমের মতো দেশের অন্যান্য নারীরাও সফল হতে পারবেন এমনটিই বিশ্বাস জন্মেছে সকলের মধ্যেই।
নুরুন্নাহারের সফলতায় এখন সবাই উৎসাহী। দেশকে এবং নিজের ভাগ্যকে এগিয়ে নেওয়ার এমন সুযোগ সকলেই কাজে লাগাতে চান। এক কথায় ঈশ্বরদীর নুরুন্নাহার এখন আমাদের দেশের জন্য এক মডেল।

আদর্শবান কৃষক মকবুল হোসেনের কৃষিতে সফলতার গল্প

বাড়ির পাশের পতিত জমিতে লাগান বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ভার্মি কম্পোস্ট তৈরির প্রশিক্ষক ও এক ধানে দুই চাল বিশিষ্ট নতুন জাতের ধানের উদ্ভাবন করে এলাকার সফল কৃষক হিসেবে ইতোমধ্যে খ্যাতি অর্জন করেছেন। আর এই গল্পটি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মহেশ্বরচাঁদা গ্রামের কৃষক মকবুল হোসেনের।

মকবুল হোসেন (৭২)। একজন আদর্শবান কৃষকের নাম। মহেশ্বরচাঁদা গ্রামের সুপরিচিত কৃষক তিনি। ঔষধি গাছ, ভার্মি কম্পোস্ট ও তিন ধরনের ধান উদ্ভাবনের মাধ্যমে কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপক অবদান রেখেছেন তিনি। এরমধ্যে এক ধানে দুই চাল বিশিষ্ট নতুন জাতের ধানের জাত উদ্ভাবন করে ব্যাপক আলোচিত হন তিনি।

১৯৪৫ সালে এক গরীব কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মকবুল। চরম দারিদ্র্যের জন্য বেশিদুর পড়ালেখা করতে পারেননি। ৪র্থ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। বাবার মৃত্যুর পর ১৫ বছর বয়সে তিনি শ্রমিক হিসেবে বিভিন্ন কাজ শুরু করেন। ১৮ বছর থেকে রিকশা চালানো শুরু করেন। প্রায় ১৫ বছর তিনি রিকশা চালান। ১৯৮২ সালে যখন তার বয়স ৩৭, গ্রামবাসী গ্রামের উন্নয়নের জন্য একত্রিত হয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন।

তারা প্রথমে সেচের জন্য মাঠের মধ্যে একটি কূপ খনন করেন। ভালোভাবে চাষ করার জন্য গ্রামে একে অপরকে জমি বিনিময় শুরু হয়। ১৯৯৩ সালে গ্রামের বিভিন্ন অংশে শ্যালোমেশিন স্থাপন শুরু করেন অধিক ফসল ফলানোর জন্য। গ্রামবাসীরা আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠেন।

কৃষক মকবুল হোসেন বলেন, ২০০০ সালে ঢাকা থেকে ড. গুল হোসেন নামে একজন কৃষিবিদ আমাদের গ্রামে আসেন। উনার পরামর্শে এবং স্থানীয় এনজিও হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ডের সহযোগিতায় আমরা ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন ও সার সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। এখন কালীগঞ্জে প্রায় ৪০ হাজার কৃষক ভার্মি সার তৈরি ও জমিতে ব্যবহার করেন। আমি ২০১৭ সালে ৮ হাজার টাকা খরচ করে ২০ ঢিপি ভার্মি সার উৎপাদন করি। পরে সেগুলো বিক্রি করি ১৬ হাজার টাকায়। তিনি তিন ধরনের ধান উদ্ভাবন করেছেন।

তিনি বলেন, বিশেষ পদ্ধতিতে দুইটি ধানের ক্রস করিয়ে একটি ধানে দুই চাল বিশিষ্ট নতুন জাতের ধানের জাত উদ্ভাবন করি। পাশাপাশি তিনি বাড়িতে ১০৮ ধরনের ঔষধি গাছ লাগিয়েছেন। তিনি গ্রামের মানুষের বিভিন্ন রোগের ওষুধ ও গাছ বিনা টাকা প্রদান করেন।

‘আমার একসময় কিছুই ছিল না। এ পর্যন্ত ২ বিঘা জমি কিনেছি। একটা ইটের বাড়িও তৈরি করেছি। সৎভাবে আয় করে বেশ সুখী জীবনযাপন করছি।’ যোগ করেন এ সফল কৃষক।

তিনি ভার্মি কম্পোস্ট সারের প্রশিক্ষণ দিয়ে এই উপজেলায় একটি ভালো পরিবর্তন আনেন। এলাকায় রাসায়নিক সারের বিভিন্ন ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করে তোলেন। এ পর্যন্ত তিনি প্রশিক্ষণ দিয়ে ৩৩ জেলায় ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরির ৩৩টি ফার্ম গড়ে তুলেছেন। বেশির ভাগই এখন আত্মনির্ভরশীল। গ্রামের ১৫১টি পরিবার এখন ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরি করে বলে তিনি জানান।

কালীগঞ্জের সরকারি নলডাঙ্গা ভূষণ স্কুলের শিক্ষক আলিম উদ্দিন জানান, মকবুল রোগীদের বিনামূল্যে ঔষধি গাছ দেন। এমনকি তিনি ওষধি গাছ দিয়ে বিভিন্ন রোগের ওষুধ তৈরি করে রোগীদের প্রদান করেন।

কালার বাজারের সিদ্দিক মিয়া বলেন, তার(মকবুল) ওষুধ ভালো কাজ করে। তার ওষুধ খেয়ে আমার রোগ ভালো হয়েছে।

কালীগঞ্জ উপজেলার দাপনা গ্রামের সুখজান খাতুন বলেন, আমি মকবুল হোসেনের কাছ থেকে ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরির প্রশিক্ষণ নিয়েছি। এখন সার বিক্রি করে ভালো উপার্জন করছি।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার জাহিদুল করিম জানান, এই উপজেলার একজন আদর্শবান কৃষকের নাম মকবুল হোসেন। তিনি খুব উদ্যোগী ও চাষের ক্ষেত্রে আন্তরিক। তিনি তিন প্রজাতির ধান আবিষ্কার করেছেন। তার আবিষ্কার করা ধান এলাকার কৃষকরা লাগাচ্ছেন। তার ধান লাগিয়ে কৃষকরা বাম্পার ফলনও পাচ্ছে। মকবুলের তৈরি একটি ধানের মধ্যে দুইটা চাল থাকে। যদি বিআরআরআই এটা নিয়ে গবেষণা করে তাহলে এই এলাকাসহ দেশের মানুষ উপকৃত হবেন।

সবজি চাষী দম্পতির কৃষিতে সফলতার গল্প –

ভাগ্য বদলের আশায় ধারদেনা করে বিদেশে যাচ্ছিলেন ঠান্টু শেখ। বাধা হয়ে দাঁড়ান স্ত্রী শিরিনা খাতুন। তাঁর কথা, দেশে থেকেই ভালো কিছু করা সম্ভব। শেষ পর্যন্ত শিরিনারই জয় হয়েছে। দুজনে মিলে বিষমুক্ত টমেটো চাষ করেন। স্বাবলম্বী হয়েছেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার এই দম্পতি। শুধু তা-ই নয়, এলাকার কৃষকদের কাছে তাঁরা এখন আদর্শ।

ঠান্টু-শিরিনা দম্পতির বাড়ি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার উজানগ্রাম ইউনিয়নের গজনবীপুর গ্রামে। সম্প্রতি এক বিকেলে বাড়ির পাশের মাঠে টমেটো তুলছিলেন এ দম্পতি। টমেটো তোলার ফাঁকে ফাঁকে কথা হলো তাঁদের সঙ্গে।

শিরিনা বললেন, স্বামী ঠান্টু প্রাথমিকের গণ্ডি পেরোতে পারেননি। নিজস্ব বলতে আছে আড়াই বিঘা জমি। বিয়ের কয়েক বছর পরই ঠান্টু বিদেশে যাওয়ার জন্য পীড়াপীড়ি শুরু করেন। কিন্তু তিনি বাধা দেন। বলেন, এত টাকা খরচ করে বিদেশে না গিয়ে এর একটা অংশ দিয়ে সবজি চাষ করলেই অনেক ভালো হবে। এতে সংসারে আয়ও হবে, ঠান্টুও বাড়িতে থাকতে পারবেন।

শিরিনা খাতুন পড়ালেখা করেছেন সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত। এর ওপর ভর করে তিনি কৃষি বিভাগ থেকে চাষপদ্ধতির ওপর প্রশিক্ষণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ২০১৪ সালে সেখান থেকে সমন্বিত বালাইনাশক পদ্ধতিতে সবজি চাষ শিখে নেন। এরপর কেবলই স্বাবলম্বী হওয়ার পথে এগিয়ে যাওয়ার গল্প।

ঠান্টু জানালেন, প্রথমবার তাঁরা নিজেদের আড়াই বিঘা জমির মধ্যে আট কাঠা জমিতে টমেটো চাষ শুরু করেন। বাকি জমিতে পাশাপাশি করেন ধান ও শসার চাষ। প্রথম বছরে টমেটো বিক্রি করে লাভ হয়েছিল ৫০ হাজার টাকা। তবে পরের বছর প্রতিবেশী একজনের কাছ থেকে ১৮ কাঠা জমি বন্ধক নিয়ে শীতকালীন টমেটো চাষ করেন। সেবার লাভ আসে ৭৫ হাজার টাকা। পরের বছর এসেছে ৯০ হাজার টাকা। আর চলতি বছর ১০ হাজার টাকা খরচ করে ১৮ কাঠা জমিতে টমেটো চাষ করেছেন। এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ টাকার টমেটো বিক্রি হয়েছে। আরও ১ লাখ টাকা আসার আশা করছেন তাঁরা।

শিরিন-ঠান্টু দম্পতির ঘরে আছে একমাত্র মেয়ে কুসুম। তাকে স্কুলে পড়াচ্ছেন। মেয়েকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া এবং সংসারের অন্যান্য কাজ সামলান দুজন মিলে। এরপর স্বামী-স্ত্রী মিলেই বাড়ির পাশে মাঠে সবজি চাষ করেন। দুজনই প্রতিদিন জমি থেকে টমেটো উত্তোলন করেন। সন্ধ্যাবেলায় সেই টমেটো ১৫ কিলোমিটার দূরে কুষ্টিয়া শহরে পৌর বাজারের আড়তে নিয়ে বিক্রি করেন। প্রতিদিন গড়ে ১৫ মণ টমেটো ওঠে। এখন শীতের শেষে টমেটোর চাহিদা হওয়ায় দামও বেশি পাচ্ছেন।

ঠান্টু শেখ বলেন, স্ত্রীর কথা না শুনে বিদেশে চলে গেলে কী ভুলটাই না করতেন তিনি। সবজি চাষ করে সংসারে এসেছে সচ্ছলতা। আবার বাড়িতে সবার সঙ্গে থাকতে পারছেন। বেশ আনন্দেই কাটছে তাঁদের জীবন।

বাজারে শিরিনা-ঠান্টু দম্পতির টমেটোর চাহিদা বেশি। কেননা এই টমেটোতে কোনো বিষ ব্যবহার করা হয় না। টমেটো পাকাতেও রাসায়নিক বা বিষ ব্যবহার করেন না। গাছপাকা টমেটো সরাসরি বাজারে নিয়ে যান।

ঠান্টু-শিরিনার দেখাদেখি গ্রামের আরও কয়েকজন টমেটো চাষ শুরু করেছেন। তাঁদের একজন আশরাফুল ইসলাম। তিনি জানালেন, শিরিনা ও ঠান্টু শেখ এলাকার অনেক কৃষকের কাছে এখন আদর্শ। তাঁদের দেখাদেখি তিনিও টমেটো চাষ করে বেশ লাভবান হচ্ছেন।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেলিম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, শিরিনা নারী কৃষকদের মধ্যে উজ্জ্বল উদাহরণ। তিনি তাঁর স্বামীকে নিয়ে সবজি চাষে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন। কৃষি অধিদপ্তর তাঁদের সব ধরনের পরামর্শ দিচ্ছে। শিরিনাকে পুরস্কৃত করতে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন তাঁরা।

কবুতর খামারি আনোয়ারের কৃষিতে সফলতার গল্প –

শান্তির প্রতীক পায়রা। পায়রা বা কবুতর পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই দেখা যায়। বাংলাদেশসহ অনেক দেশের মানুষ কবুতর পালন করেন। কেউ সখের বশে। কেউ আর্থিক লাভের জন্য । যেমন ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার মহলবাড়ীতে গড়ে উঠেছে আনোয়ার হোসেনের কবুতরের খামার। খামারের নাম ‘আনোয়ার হোসেন পাখির খামার’।

রাণীশংকৈল পৌরসভায় বসবাস হলেও আনোয়ার হোসেনের যাবতীয় কার্যক্রম উপজেলার বিভিন্ন এলাকা, হাট বাজার ও বিভিন্ন দোকানে। তিনি রানীশংকৈল কেন্দ্রীয় উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০২ সালে এসএসসি পাশ করেন। এক সময়ে তিনি আনছার-ভিডিপিতে চাকরি করতেন। সেখান থেকে তার স্বপ্ন একটি পাখীর খামার গড়ে তোলার।

বাবা মার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা নিয়ে ২০১০ সালে ৫ শতক জমির উপর বাড়ি করে ৫ জাতের কবুতর এনে খামার শুরু করেন আনোয়ার হোসেন। পরবর্তীতে বিভিন্নভাবে তিনি কবুতরের খামারের সম্প্রসারণ করেন। তার ব্যবসারও প্রসার ঘটতে থাকে। এখন তার খামারে রয়েছে ১৫ জাতের কবুতর। বর্তমানে একশ’ জোড়া কবুতর রয়েছে তার খামারে। ২ জন কর্মচারী কাজ করছে তার খামারে।

তিনি জানান, খরচ বাদে প্রতি মাসে তার লাভ হয় ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা। এখন তার খামারে যে ১৫ জাতের কবুতর রয়েছে সেই জাতগুলো হলো হল্যান্ড, এরহুঘাইট, জেগোবিন, রেডজেগোবিন, সাদালালক্ষা, ঘিরাসুলি, লিভারসিরাজি, জামানবিউটি হোমা, বেলজিয়ান হোমাবাবহোমা, রেডকিং, ইওলো কিং, গিরিবাজ, ইওলোসিরাজি, ব্লাকসিরাজি, আস্ট্রেলিয়ন ডাব। তার খামারের এই কবুতরের দাম এখন প্রায় ২ লাখ টাকা। সাংসারিক জীবনে ২ মেয়ে নিয়ে বেশ সুখে রয়েছেন তিনি।

সরকারি বা বেসরকারিভাবে বিদ্যুৎ সহযোগিতা পেলে তিনি এই খামারটি আরো সম্প্রসারণ করতে পারতেন বলে জানান তিনি। তার বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকায় কবুতরের শীতকালীন প্রজন্ম কম হচ্ছে। শীতকালে তার আর্থিক ক্ষতিও হয়।

রাণীশংকৈল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকতা মোঃ সিরাজুল ইসলাম জানান, আনোয়ার হোসেন একজন পাখি প্রেমিক মানুষ। তিনি ক্ষুদ্র আকারে কবুতরের খামার করে সফল হয়েছেন।

তরুণ উদ্যোক্তা নওগাঁর সোহেল রানার কৃষিতে সফলতার গল্প

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার দিবর ইউনিয়নের রূপগ্রামের নিন্মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারের ছেলে সোহেল রানা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনার পাট চুকানোর পর কিছুদিন সংবাদপত্রে চাকরি করেন। পরে সেই চাকরি চেড়ে দিয়ে গড়ে তোলেন সমন্বিত কৃষি খামার। তাঁর খামারের নাম ‘রূপগ্রাম অ্যাগ্রো ফার্ম’। সোহেল রানার সমন্বিত কৃষি খামার এখন এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা অবস্থায় একটি দৈনিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন সোহেল রানা। পড়াশোনা শেষে ওই পত্রিকার ফিচার বিভাগে চাকরি নেন। এছাড়া আরও কয়েকটি ম্যাগাজিনেও কাজ করেছেন তিনি। পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে দায়িত্বও ছিল বেশি। তাই পড়াশোনা শেষে চাকরি করা ছাড়া অন্য কিছু ভাবার অবকাশ ছিল না।

কিন্তু ছোটবেলা থেকেই যে ফলের বাগান করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। সে স্বপ্ন তাঁকে তাঁড়িয়ে বেড়াচ্ছিল। নানা জাতের গাছ থাকবে তার বাগানে, আর বিচিত্র সব ফলে ভরে উঠবে বাগানটি।

সোহেল রানা জানান, ঢাকায় থাকা অবস্থায় পত্র-পত্রিকায় দেশের বিভিন্ন স্থানের সফল খামারিদের গল্প আগ্রহ নিয়ে পড়তেন এবং সুযোগ পেলেই সেইসব খামার পরিদর্শনে যেতেন। এক সময় সাহস করে চাকরি ছেড়ে বাড়িতে এসে স্বজনদের নিজের স্বপ্নের কথা জানান। শুরুতে বেশিরভাগ আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী নিরুৎসাহিত করলেও একপ্রকার স্রোতের বিপরীতে সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে তোলার কাজে হাত দেন।

সেই স্বপ্নকেই বাস্তবে রূপ দিয়েছেন ৩৫ বছরের এই উদ্যোক্তা। তিনি এখন সফল খামারি। তাঁর বাগান দেখে এখন অনেকেই মিশ্র ফলের বাগান করছেন। রূপগ্রামসহ আশপাশের এলাকায় গড়ে উঠেছে শতাধিক ফলের বাগান। এসব বাগানে আম, পেয়ারা, লেবু, স্ট্রবেরি ও কুল গাছই বেশি।

এই তরুণ উদ্যোক্তা জানান, ছাত্র অবস্থাতেই বাবার অনুমতি নিয়ে বাড়ির পাশে ৬ বিঘা জমিতে আমের বাগান গড়ে তোলেন। এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা তাঁকে আর্থিকভাবে সহায়তা করে। ২০১৫ সালে চাকরি ছেড়ে গ্রামে এসে ছোট ভাই আব্দুল বারীকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তোলেন সমন্বিত কৃষি খামার। সমন্বিত এই কৃষি খামারে রয়েছে আম, লিচু, ড্রাগন ফল, মাল্টা, খাটো জাতের নারিকেল, লেবুসহ ৫০ প্রজাতির ফলের গাছ। খামারে আরও আছে বাসক, তুলসী, নিম, নীল অপরাজিতা, সাদা লজ্জাবতীসহ নানা প্রজাতির ঔষুধি গাছ। আছে বিভিন্ন জাতের ফুল গাছ।

এছাড়া তিনটি পুকুরে মাছ চাষ, হাঁস-মুরগী ও ছাগল পালন করে বছরে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন তিনি।

সোহেল আরও জানান, সফল খামারি হওয়ার জন্য যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, আরডিএ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিএমডিএ থেকে কৃষির ওপর বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।

রূপগ্রামের পাশের গ্রাম নিশ্চিন্তপুরের শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সোহেলের খামার দেখে উৎসাহিত হয়ে ১০ বিঘা জমিতে আম ও থাই পেয়ারার বাগান করেছি। এছাড়া দুটি পুকুর ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করছি। বাগান ও মাছ চাষ করার ব্যাপারে সোহেল রানা বিভিন্ন সময় চারা ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেন।’

করমজাই গ্রামের আব্দুল জব্বার বলেন, সোহেলের সাফল্য দেখে উৎসাহিত হয়ে চার একর জমিতে গত বছর আম ও পেয়ারার বাগান গড়ে তুলেছেন। আশা করছি, সফল হবো।

নিজের স্বপ্নের কথা জানাতে গিয়ে সোহেল রানা বলেন, ‘এই এলাকায় অ্যাগ্রো ট্যুরিজম গড়ে তোলার স্বপ্ন রয়েছে আমার। যেখানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ফল থাকবে। এছাড়া বিলীন হতে বসা বিভিন্ন দেশি গাছের (জার্ম প্লাজম) সংরক্ষণাগার গড়ে তোলার স্বপ্ন রয়েছে তার। এই লক্ষ্যে সাপাহারে আরও ১৫ একর জমিতে মিশ্র ফলের বাগান গড়ে তুলছেন।’

পত্নীতলা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা প্রকাশ চন্দ্র সরকার বলেন, ‘উচ্চশিক্ষত হয়ে শুধু চাকরি করতে হবে এই কথা ঠিক না। বরং লেখাপড়া জানা মানুষদেরই কৃষি পেশায় আশা উচিত। চাকরি করে শুধু নিজের পরিবার চালানো সম্ভব। কিন্তু একজন ভালো উদ্যোক্তা কিংবা সফল খামারি নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবেন।

তিনি বলেন, সোহেল সেটিরই উজ্জ্বল উদাহারণ। কৃষি বিভাগ তাঁর খামারকে সফল করার জন্য চারা দিয়ে, পরামর্শ দিয়ে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে আসছে। তিনি একজন মডেল খামারি।

সুশান্ত তঞ্চঙ্গ্যার কৃষিতে সফলতার গল্প

কৃষি কাজে সফল ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব রাঙ্গুনিয়ার সুশান্ত তঞ্চঙ্গ্যা। পড়ালেখা করে চাকুরীর পেছনে না দৌড়ে শুধুমাত্র কৃষি কাজ করেই যে সফল হওয়া যায়, তা উৎকৃষ্ট উদাহারণ রাঙ্গুনিয়ার এই সফল চাষী।
তিনি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের রৈস্যাবিলি গ্রামের করুণা মোহন তঞ্চঙ্গ্যার পুত্র।
তিনি কৃষি ডিপ্লোমা পাস করার পর চাকুরীর পিছনে না ঘুরে গড়ে তুলেছেন কৃষি খামার। যেখানে তিনি বিভিন্ন ফলজ বাগানের পাশাপাশি করেছেন গরুর খামার এবং সৌসুমী সবজির আবাদ। তার খামারে নিয়মিত কাজ করে কর্মসংস্থান হয়েছে আরও ৫ বেকার লোকের। সুশান্ত তঞ্চঙ্গ্যা বেকার যুবকদের জন্য একজন অনুকরনীয় ব্যক্তিত্ব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিনে গিয়ে তার সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের রাজখালী বøকের একজন আদর্শ কৃষক এবং একজন সফল চাষী। একজন শিক্ষিত উদ্যোমী এই যুবক শিক্ষাজীবনে এস.এস.সি পাস করার পর কৃষির প্রতি প্রবল আগ্রহের কারনে ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার-এ ভর্তি হন। সফলভাবে কৃষি ডিপ্লোমা শেষ করে একটি এনজিওতে কিছুদিন কাজ করেন। পরে তিনি ওমানে গিয়ে কাজ করেন একটি কৃষিফার্মে। কিন্তু সেখানেও তিনি ২ মাস কাজ করে আবার দেশে ফিরে আসেন। দেশে এসে নিজের পৈতৃক ১০ বিঘা জমিতে চাষাবাদ শুরু করেন। পরবর্তীতে আরও ২৬ বিঘা জমি লিজ নিয়ে পুরোদমে চাষাবাদে মনোনিবেশ করেন। তার ১২ একরের একটি মিশ্র বাগান রয়েছে। যেখানে তিনি চাষ করেন আ¤্রপালি, রাঙ্গুআই জাতের আম, চায়না-৩ জাতের লিচু, উন্নত প্রজাতীর পেয়ারা, কাঁঠাল, বাউকুল, আপেলকুল, সেগুন, গামারি, মেহগনি প্রভৃতি গাছ। গত বছর ৫০ শতক জমিতে এক লাখ টাকা ব্যয় করে রেডরেডী জাতের পেঁপে চাষ করেন। পরবর্তীতে ফলন বাদ দিয়ে আয় করেন প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা। পরবর্তীতে এরপাশাপাশি উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে তিনি প্রতি বছর আগাম মুলা ও ফ্রান্সবীন এর চাষাবাদ করেন। যেখান থেকে নিয়মিত অল্প খরচে প্রচুর আয় করেন তিনি। তার একটি ছোট গরুর খামারে রয়েছে ৫টি গাভী, ৩টি বাছুরসহ সর্বমোট ১৪টি গরু। গত কুরবানীর ঈদে তিনি মোটাতাজা করে ২টি গরু বিক্রয় করেন। যেখান থেকে খরচ বাদ দিয়ে আয় করেন দুই লক্ষ টাকা। এভাবে বিভিন্ন ধরণের চাষাবাদের মাধ্যমে তিনি নিজেকে একজন সফল চাষী হিসেবে গড়ে তুলেছেন। পড়ালেখা করে চাকুরীর পেছনে না দৌড়ে তিনি নিজের শখের বসেই নিয়মিত এসব কৃষি কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

তিনি শিক্ষিত বেকার শ্রেণির যুবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘পড়ালেখা করে শুধু যে চাকুরী করতে হবে এমন কোন কথা নয়। পড়ালেখা করে সেই মেধা কাজে লাগিয়ে একজন সফল চাষী হয়ে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন করা যায়। যেমনটি আমি করতে পেরেছি। তিনি সকল বেকার যুবকদের তার খামার পরিদর্শন করে নিজের বেকারত্ব ঘুচাতে একটি কৃষি খামার গড়ে তুলার পরামর্শ দেন।’

রাজখালী বøকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সহিদুজ্জামান সাহেদ বলেন, ‘সুশান্ত তঞ্চঙ্গ্যা একজন আদর্শ কৃষক। তিনি সব সময় কৃষি অফিসের পরামর্শ মতে চাষাবাদ করে আসছেন। জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদের জন্য আমরা তাহার বাগানে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার সহ জৈব সার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছি। সেইমতে তিনি চাষাবাদ করছেন।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কারিমা আক্তার বলেন, ‘সুশান্ত তঞ্চঙ্গ্যা বেকার যুবকদের জন্য একজন অনুকরনীয় ব্যক্তি। চাকরীর পিছনে না ঘুরেও তার মতো সফল উদ্যোক্তা হয়ে খামার গড়েও যে সফল হওয়া যায় তিনি তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আমরা কৃষি অফিস থেকে সব ধরনের পরামর্শ দিয়ে তাকে প্রথম থেকেই সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।’

কেন আমরা কৃষিতে সফলতার গল্প আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি সে।কথা প্রথমেই বলেছি । কৃষি কাজকে অবহেলা করা উচিত নয় । কৃষি কাজ করেই ভাগ্য পরিবর্তন করা সম্ভব । সকল কৃষকের জন্য রইলো শুভকামনা ।

ট্যাগ গুলো

মতামত যোগ করুন

মতামত দিতে ক্লিক করুন

error: দুঃখিত, অনুলিপি করা যাবে না ! পরে এই কন্টেন্ট প্রয়োজন হলে আপনার সামাজিক অ্যাকাউন্টের সাথে ভাগ করুন।