নিবন্ধ

কেন প্রচলিত মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা নামক মুসলিমদের বোঝা বন্ধ করা দরকার ?

মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা

প্রথমেই একটা প্রশ্ন করি, বলুনতো মাদ্রাসায় কারা পড়ে ? উত্তরটা আমিই দেই, দেখুন হয় কিনা । যেসব মানুষ ইসলাম ধর্মকে ভালোবাসে, ইসলামকে গুরুত্ব দেয় তারাই মাদ্রাসায় পড়ে এবং তারাই তাদের সন্তানকে মাদ্রাসায় ভর্তি করে ।

এবার আরেকটি বিষয়ে কথা বলি । আমরা জানি যে দেশকে শত্রুর আক্রমন থেকে রক্ষা করা ও দেশের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব সেনাবাহিনী, নৈবাহিনী ও বিমানবাহিনীর উপর অর্পিত থাকে । এখন ধরুন সেনাবাহিনীতে যদি সব অন্ধ, পঙ্গু এবং রাইফেল চালাতে জানেনা এমন লোক নিয়োগ দেয়া হয় ?

নৌবাহিনীতে যদি সাতার জানেনা, পানিকে ভয় পায় এবং জাহাজ চালাতে পারেনা এমন লোক নিয়োগ দেয়া হয় ? বিমান বাহিনীতে যদি উড়তে ভয় পায় এবং প্লেন চালাতে পারেনা এমন লোক নিয়োগ দেয়া হয় ? এরকম সামরিক বাহিনী কি পারবে অন্য বাহিনীর সাথে মোকাবেলা করে নিজ দেশের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ? তারা কি পারবে স্বাধীনতা রক্ষা করতে ? না পরবেনা । তারা দেশকে যতই ভালবাসুক বা দেশের জন্য যতই জীবন বলি দিকনা কেন তাতে কোন লাভ হবেনা ।

তাই বলছি যদি ইসলামকে ভালোবেসে থাকেন তাহলে যেন-তেন মাদ্রাসায় পড়িয়ে সন্তানকে অযোগ্য বানাবেন না । অযোগ্য সন্তান যতই ধার্মিক হোক সে ধর্মের কোন কাজে আসবেনা ।

বর্তমানে উপমহাদেশে প্রচলিত মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা মুসলিম জাতির জন্য বোঝা । আপনার সন্তানকে এমন কোন মাদ্রাসায় পড়াবেন না যেখানে শুধু সুরা মুখস্ত করানো আর নামাজের নিয়ম শিখানো হয় । ইসলামের এইসব মৌলিক বিষয় শিখতে মাদ্রাসায় যাওয়া লাগেনা । মক্তবে বা বাসাতেই শেখা যায় । অথবা সর্বোচ্চ এক বা দুই বছর মাদ্রাসায় পড়লেই হয় । এসব মাদ্রাসায় পড়ে আপনার সন্তান মুদি দোকানদারি বা হুজুরগিরি ছাড়া আর কিছুই করতে পারবেনা (হুজুরদের ছোট করছিনা, তবে এত লাখ লাখ পেশাদার হুজুরের কোন প্রয়োজন নেই)। সে মুসলিম জাতির জন্য কোন অবদান রাখতে পারবেনা ।

শুধু নামাজ, দাড়ি-টুপি আর আপনার মৃত্যুর পর আপনার জন্য দোয়া করলেই মুসলিম জাতি এগিয়ে যাবেনা । ইহুদি খ্রিস্টানদের হাতে মার খেয়েই যেতে হবে । কৃষি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ব্যবসা, প্রযুক্তি ও সামরিক শক্তিতে মুসলিম জাতিকে এগিয়ে যেতে হলে সেসব বিষয়েও দক্ষ হতে হবে ।

ইসলাম মানে শুধু দাড়ি টুপি নয় । ইসলাম মানে পরিপূর্ন জীবন ব্যবস্থা । দেশে হাজার হাজার ছাত্র মাদ্রাসায় পড়ে পড়ে শুধু হুজুর হবে । কিন্তু তারা ডাক্তার হতে পারবেনা তাই চিকিৎসা করতে হলে ইহুদি খ্রিস্টানদের কাছে যেতে হবে । এরা সাইকেল, গাড়ি বা প্লেন বানাতে পারবেনা । তাই হজে যেতে হলেও ইহুদি খ্রিস্টানদের প্লেনে বা গাড়িতে করে যেতে হবে । এরা প্রকৌশলি হতে পারবেনা তাই রাস্তা ঘাট, ব্রিজ, টানেল বানাতে হলেও ইহুদি খ্রিস্টানদের কাছে যেতে হবে । এদের ভূতাত্বিক কোন জ্ঞান নেই তাই মাটির নিচে তেল গ্যাসের খনি পেলেও ইহুদি খ্রিস্টানদের সহায়তা ছাড়া উত্তোলন করতে পারেনা । এদের মানবদেহ সম্পর্কে কোন জ্ঞান নেই তাই এরা কোন ঔষদ আবিষ্কার করতে পারেনা ফলে ইহুদি খ্রিস্টানদের আবিষ্কার করা বিভিন্ন ভ্যাকসিন, ঔষুধ খেয়ে সুস্থ হতে হয় । এদের সামরিক কোন জ্ঞান নেই তাই যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ, ক্ষেপনাস্ত্র, স্যাটেলাইট বা সাবমেরিন তো দুরের কথা একটা পিস্তল বানাতে হলেও ইহুদি খ্রিস্টানদের কাছ থেকে শিখতে হবে বা ক্রয় করতে হবে ।

একটা বিষয় চিন্তা করুন, বর্তমানে ইন্টারনেট দুনিয়ায় অশ্লীলতা প্রকট আকার ধারন করেছে । আমরা এসব দেখে শুধু ছি ছি করেই যাচ্ছি কিন্তু তাতে কোন লাভ হচ্ছেনা । কারন পুরো ইন্টারনেট জগতটাই এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে যারা এসব নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নয় । এখন এই ইন্টারনেট জগতটা যদি কিছু ধার্মিক মানুষের নিয়ন্ত্রনে থাকতো তাহলে নিশ্চয় তারা এসব অশ্লীলতা ছড়াতে দিতোনা । গুগুলের মালিক যদি একজন খুবই আল্লাহভীরু মানুষ হতো তাহলে নিশ্চয় গুগুলে সার্চ দিয়ে পর্নগ্রাফি পাওয়া যেতনা । বিটিআরসির চেয়ারম্যান ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তরা যদি খুব ধার্মিক হতো তাহলে নিশ্চয় তারা কোন পর্নগ্রাফি সাইট চলতে দিতোনা ।

মাদ্রাসা গুলোতে হয়তো কিছু ধার্মিক মানুষ তৈরি করতে পেরেছে কিন্তু কোন গুগুল বা ফেসবুক বা ইউটিউবের মালিক তৈরি করতে পারেনি । তাই পর্নগ্রাফি বন্ধ হয়নি ।

মাদ্রাসা গুলোতে হয়তো সুদের বিরুদ্ধে ভাষন দেয়া কিছু মানুষ তৈরি করতে পেরেছে কিন্তু কোন অর্থমন্ত্রী, এনবিআর চেয়ারম্যান বা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হওয়ার মতো যোগ্য কাউকে তৈরি করতে পারেনি তাই সুদও বন্ধ হচ্ছেনা । মাদ্রাসায় পড়ে অনেকেই হয়তো জিহাদে যেতে চায় কিন্তু মাদ্রাসায় পড়ে কেউ যুদ্ধবিমান, সাবমেরিন, এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার বা ব্যালেস্টিক মিসাইল বানাতে পারেনা । তাহলে জিহাদে জয়লাভ করবে কিভাবে ?

তাই আলতু ফালতু মাদ্রাসায় পড়িয়ে সন্তানকে অপদার্থ না বানিয়ে কিভাবে সন্তানকে যোগ্য করে গড়ে তোলা যায় সেই চেষ্টা করুন । আপনার সন্তান যদি শুধু ভদ্র, সাদা মনের মানুষ এবং মুরুব্বিদের দেখলে সালাম দেয়- এমন একজন হুজুর হয় তাহলে সে মানবজাতির কোন কাজে আসবেনা সে চাইলেও ভালো কিছু করতে পারবেনা । শুধু মানুষের সাথে কথা বলার সময় আফসোফ করে বলবে- “দুনিয়াটা নষ্ট হয়ে গেছে” বা বলবে “ইহুদি খ্রিস্টানরা মুসলমানদের উপর অত্যাচার করছে ।” তবে সেই অত্যাচার থামানোর মতো যোগ্যতা তার নেই ।

কিন্তু যদি আপনার সন্তান রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রি হয় তাহলে সে বড় কিছু করতে পারবে । আপনার সন্তান যদি বিজ্ঞানি হয় তাহলে সে কিছু আবিষ্কার করতে পারবে । আপনার সন্তান যদি ডাক্তার হয় তাহলে সে মুসলমানদের চিকিৎসা করতে পারবে । এমনকি ভালো ডাক্তার হলে উল্টো ইহুদি খ্রিস্টানরাই তার কাছে চিকিৎসা নিতে আসবে । তাই ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিন ।

এখন প্রশ্ন আসে তাহলে কি আমরা আমাদের সন্তান বা ছোট ভাই-বোনদের মাদ্রাসায় পড়াবোনা ?
অবশ্যই মাদ্রাসায় পড়াবো । তবে যেন-তেন মাদ্রাসায় নয় । ভালো মানসম্মত মাদ্রাসায় পড়াবো । যে মাদ্রাসায় পড়লে সে স্বনির্ভর হতে পারবে । যেখানে সে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রয়োজনিয় বিষয়ে তাত্বিক ও কারিগরি জ্ঞান অর্জন করতে পারবে । যে মাদ্রাসায় পড়লে ভবিষ্যৎতে তাকে ধর্ম বিক্রি করে খেতে হবেনা ।

মাদ্রাসায় পড়ে আপনি সুরা-কেরাত শিখবেন ভালো কথা । আপনি হাফেজ হবেন ভালো কথা । কিন্তু শুধু হাফেজ হয়ে বসে থাকলে হবেনা । আপনাকে অন্য বিষয় গুলোতেও যোগ্য হতে হবে । আপনি কি শুধু হাফেজ হয়ে কোরআন খতম দিয়ে দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করবেন ?

মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করতে হবে । কিছু মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর লাগালে আর কিছু ল্যাপটপ অন-অফ করা ও টাইপিং করা শিখলেই আধুনিকায়ন করা হয়ে যাবেনা ।

মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা এমন হতে হবে যেন মাদ্রাসার একজন শিক্ষার্থী ভালো ব্যবসায়ি, প্রকৌশলি, দার্শনিক, বিজ্ঞানি, চিকিৎসক হতে পারে পারে । ইহুদি-খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে ভাষন দিয়ে আবার তাদের উপরই যেন নির্ভর করতে না হয় তেমন যোগ্য ও দক্ষ করে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে হবে ।

কিন্তু দুখের বিষয় হলো আমার জানামতে এমন কোন মাদ্রাসা নেই যার ছাত্রছাত্রীরা অর্ক্সফোর্ড, হার্ভাড, এমআইটির শিক্ষার্থীর সাথে পাল্লা দিতে পারবে ।
তাই বলছি হয়তো ভালো মানসম্মত মাদ্রাসা গড়ে তুলুন অথবা মাদ্রাসায় পড়িয়ে অপদার্থ বানানো বন্ধ করুন ।

এখন হয়তো অনেকেই বলতে পারেন মাদ্রাসায় না পড়িয়ে স্কুল কলেজে পড়ালেই কি সন্তান যোগ্য মানুষ হবে ? স্কুল কলেজ গুলোওতো খুব একটা মান সম্মত নয় । তাহলে স্কুল কলেজে পড়িয়ে কি লাভ ?

এটা অবশ্য ঠিক যে স্কুল কলেজগুলোর শিক্ষাব্যবস্থাও খুব একটা ভালো নয় তবে মাদ্রাসার চাইতে ভালো ।
আর আরেকটা বিষয় প্রথমেই বলেছি, যারা ইসলামকে ভালোবাসে এবং গুরুত্ব দেয় তারাই মাদ্রাসায় পড়ে । যে সন্তান বাবা মাকে খুব একটা সেবা-যত্ন করেনা বা গুরুত্ব দেয়না সেই সন্তান বাবা-মার কাছে থাক বা দুরে থাক তাতে কিছু আসে যায়না কিন্তু যেই সন্তান বাবা মাকে গুরুত্ব দেয় এবং তাদের সেবা যত্ন করে সেই সন্তানকে যদি দুরে সরিয়ে রাখা হয় তাহলে বাবা-মায়ের সমস্যা বেশি হয় । ঠিক তেমনি এখন সাধারন মানুষ যদি যোগ্যতার দিক থেকে পিছিয়ে থাকে তাহলে খুব একটা সমস্য হবেনা কিন্তু যারা ইসলামকে ভালোবাসে এবং গুরুত্ব দেয় তারাই যদি পিছিয়ে থাকে তাহলে ইসলামের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে । যা ইতিমধ্যেই সারা পৃথিবীর মুসলমানদের দিকে তাকালেই বুঝা যায় ।

বর্তমানে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার ফলে যারা ইসলামকে ভালোবাসে , যারা ইসলামকে ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় তারা নিজেরাই পিছিয়ে পড়ছে দিন দিন । তাই হয় মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন করুন অন্যথায় এগুলো বন্ধ করুন ।

জানি অনেকেই হয়তো এই লেখাটি পড়ে আমার উপর রাগ করবেন কিন্তু তবুও মুসলিমদের দুরবস্থা দেখে না লিখে পারলামনা কারন । আমেরিকা, রাশিয়া, জাপন, ফ্রান্স, জার্মানি এমনকি ইসরাইলের মতো ক্ষুদ্র একটি দেশের সাথে টক্কর দেয়ার ক্ষমতাও বর্তমানে কোন মুসলিম দেশের নেই । তারা দিন দিন শক্তিশালি হচ্ছে আর আমরা দিন দিন দূর্বল হচ্ছি ।

বর্তমানে ইরাক, সিরিয়া, আফগানস্তান সহ বিভিন্ন স্থানে লাখ লাখ মুসলমান মরছে । ভবিষ্যৎতে কোটি কোটি মরবে । আমরা কি মুসলমানদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মার খেয়ে খেয়ে মরার জন্য একটি অনিরাপদ পৃথীবিতে রেখে যাবো ?

ট্যাগ গুলো

মতামত যোগ করুন

মতামত দিতে ক্লিক করুন

error: দুঃখিত, অনুলিপি করা যাবে না ! পরে এই কন্টেন্ট প্রয়োজন হলে আপনার সামাজিক অ্যাকাউন্টের সাথে ভাগ করুন।