নিবন্ধ

কোরআন শরীফ সম্পর্কিত জানা অজানা

কোরআন শরীফ

কোরআন শরীফ ইসলাম ধর্ম এর পবিত্র ধর্মগ্রন্থ। ইসলামী ইতিহাস অনুসারে দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে ধারাবাহিক ভাবে খণ্ড খণ্ড অংশে এটি ইসলাম ধর্মের শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা:) এর নিকট প্রধান চারজন ফেরেশতার একজন হযরত জীবরাঈল (আ:) মাধ্যমে অবতীর্ণ হয়।

ইসলাম ধর্মের অনুসারীরা কোরআন শরীফকে একটি পুর্ণাঙ্গ জীবন বিধান বলে বিশ্বাস করে। কুরআনে সর্বমোট ১১৪টি সূরা আছে। আয়াত বা পঙক্তি সংখ্যা ৬,২৩৬ টি বা মতান্তরে ৬৬৬৬ টি। এটি মূল আরবি ভাষায় অবর্তীর্ণ হয়। মুসলনানদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে কুরআন ধারাবাহিকভাবে অবর্তীর্ণ ধর্মীয় গ্রন্থগুলোর মধ্যে সর্বশেষ এবং গ্রন্থ অবতরণের এই ধারা ইসলামের প্রথম বাণীবাহক হযরত আদম (আ:) থেকে শুরু হয়। কুরআনে অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখ রয়েছে যার সাথে বাইবেল ও অন্যান্য ধর্মীয়গ্রন্থের বেশ মিল রয়েছে, অবশ্য অমিলও কম নয়। তবে কুরআনে কোনও ঘটনার খুব বিস্তারিত বর্ণনা নেই । সকল ঘটনাই বিভিন্ন আয়াতের মাধ্যমে সংক্ষেপে বর্ননা করা হয়েছে। ইসলামী ভাষ্যমতে কুরআন অপরিবর্তনীয় এবং এ সম্পর্কে মুসলিমরা কুরআনের সূরা আল-হিজরের (১৫ নং সূরা), ৯ নং আয়াতের কথা উল্লেখ করে থাকে, এবং তা হলো –
“আমি স্বয়ং এ উপদেশগ্রন্থ অবতরণ করেছি এবং আমি নিজেই এর হেফাজতকারী ।”

আরবি ব্যাকরণে কোরআন শব্দটি মাসদার তথা ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি قرأ ক্বরা’আ ক্রিয়া পদ থেকে এসেছে যার অর্থ পাঠ করা বা আবৃত্তি করা। এই ক্রিয়াপদটিকেই কুরআন নামের মূল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এই শব্দটির মিটার বা “মাসদার” (الوزن) হচ্ছে غفران তথা “গুফরান”। এর অর্থ হচ্ছে অতিরিক্ত ভাব, অধ্যবসায় বা কর্ম সম্পাদনার মধ্যে একাগ্রতা। উদাহরণস্বরুপ, غفر নামক ক্রিয়ার অর্থ হচ্ছে “ক্ষমা করা”; কিন্তু এর আরেকটি মাসদার রয়েছে যার যা হলো غفران, এই মাসদারটি মূল অর্থের সাথে একত্রিত করলে দাঁড়ায় ক্ষমা করার কর্মে বিশেষ একাগ্রতা বা অতি তৎপর বা অতিরিক্ত ভাব। সেদিক থেকে কুরআন অর্থ কেবল পাঠ করা বা আবৃত্তি করা নয় বরং আরেকটি অর্থ হচ্ছে একাগ্র ভঙ্গীতে পাঠ বা আবৃত্তি করা। কুরআনের মধ্যেও এই অর্থেই কুরআন শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। কুরআনের সূরা আল-কিয়ামাহের (৭৫ নং সূরা) ১৮ নং আয়াতে এই শব্দটি উল্লেখিত আছে:
“অতঃপর, আমি যখন তা পাঠ করি (ক্বুরা’নাহু), তখন আপনি সেই পাঠের (কুরআ’নাহ্‌) অনুসরণ করুন।”

কোরআন শরীফ এর সংজ্ঞা –

মুসলমানদের মতে কোরআন আল্লাহ তাআলার বাণী বা বক্তব্য, যা ইসলামের নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর উপর আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়। তাদের মতে এটি একটি মুজিজা বা অলৌকিক গ্রন্থ যা মানব জাতির পথনির্দেশক। মুসলমানদের বিশ্বাস, কুরআনে মানব জীবনের সকল সমস্যার সমাধান রয়েছে এবং এটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান।

কুরআনের নাযিল হওয়া প্রথম চার আয়াত; ৯৬তম সূরা আলাক
কুরআনে বিভিন্ন দৈর্ঘ্যের মোট ১১৪টি সূরা রয়েছে। সকল সূরা মিলিয়ে মোট আয়াতের (আয়াত আরবি শব্দ, এর সাহিত্যিক অর্থ নিদর্শন) সংখ্যা প্রায় ৬২৩৬ (মতান্তরে ৬৩৪৮টি অথবা ৬৬৬৬টি)। প্রত্যেকটি সূরার একটি নাম রয়েছে। নামকরণ বিভিন্ন উপায়ে করা হয়েছে; তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সূরার অভ্যন্তরে ব্যবহৃত কোনো শব্দকেই নাম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া এমন নামও পাওয়া যায়, যা সূরার অভ্যন্তরে ব্যবহৃত হয় নি, যেমন: সূরা ফাতিহা, ফাতিহা শব্দটি সূরার কোনো স্থানে নেই। সূরাগুলোর একটি সুনির্দিষ্ট সজ্জা রয়েছে। সজ্জাকরণ তাদের অবতরণের ধারাবাহিকতা অনুসারে করা হয় নি। বরং দেখা যায় অনেকটা বড় থেকে ছোট সূরা অনুযায়ী সাজানো; অবশ্য এটিও পুরোপুরি সঠিক নয়, প্রকৃত সজ্জার কারণ কারও জানা নেই। অনেক ক্ষেত্রে বড় সূরাও ছোট সূরার পরে এসেছে। তবে একটি সূরা বা তার বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে ধারাবাহিকতার সাথেই অবতীর্ণ হয়েছিল বলে মুসলমানদের ধারণা। এই সজ্জাটি মুখস্থকরণের সুবিধার সৃষ্টি করেছে।

পারা –

কুরআনে মোট ৩০ টি অধ্যায় বা পারা রয়েছে। ১১৪ টি পূর্নাঙ্গ সূরা রয়েছে। সূরাগুলো বিভিন্ন আকারের হলেও কুরআনের পারাগুলো প্রায় সমান আকারের। কুরআন মুখস্থকরণের ক্ষেত্রে সাধারণত পারা অনুযায়ী শেখানো হয়ে থাকে। যে সকল স্থানে সমগ্র কুরআন পাঠের আয়োজন করা হয় সেখানেও এই পারা অনুযায়ী করা হয়।

কোরআন শরীফ এর বিভাজন:

হিজ্‌ব বা মানজিল হচ্ছে কুরআনের প্রথম সূরা (সূরা ফাতিহা) ব্যতীত অন্য সূরাগুলো নিয়ে করা একটি শ্রেণি। হিজ্‌ব মুফাস্‌সিল একটি গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য বহন করা। এতে ৭ টি মানজিলের মাধ্যমে সবগুলো সূরাকে একসাথে করা হয়েছে। মানজিলগুলো হচ্ছে:

মানজিল ১ = ৩ টি সূরা, যথা, ২—৪
মানজিল ২ = ৫ টি সূরা, যথা, ৫—৯
মানজিল ৩ = ৭ টি সূরা, যথা, ১০—১৬
মানজিল ৪ = ৯ টি সূরা, যথা, ১৭—২৫
মানজিল ৫ = ১১ টি সূরা, যথা, ২৬—৩৬
মানজিল ৬ = ১৩ টি সূরা, যথা, ৩৭—৪৯
মানজিল ৭ = ৬৫ টি সূরা, যথা, ৫০—১১৪

কোরআন শরীফ এর অলৌকিকতা –

মুসলমানরা বিশ্বাস করে আল কোরআন একটি ঐশি গ্রন্থ যা কোনো মানুষের পক্ষে রচনা করা সম্ভব নয়।

কোরআন শরীফের সাহিত্যিক গঠন –

ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি সাহিত্য এবং ইসলাম শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ইসা বাউলাতা কুরআনের সাহিত্যিক গঠনপ্রণালি সম্বন্ধে নিম্ন প্রকারের মন্তব্য করেছেন।

কুরআনের বার্তাগুলো বিভিন্ন সাহিত্যিক গঠনে প্রকাশিত হয়েছে, যা আরবি সাহিত্যের সবচেয়ে নিখুঁত লিখিত রচনা হিসেবে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। কুরআনের ভাষার উপর ভিত্তি করেই আরবি ব্যাকরণ রচিত হয়েছে, এবং মুসলিম অলঙ্কার শাস্ত্রবিদদের বর্ণনামতে, কুরআনের বাগধারাগুলো ভীষণ সুন্দর এবং মহিমান্বিত হিসেবে বিবেচিত হয়…

উপসংহারে একথা বলা যেতে পারে যে, কোরআন শরীফ এর বার্তা প্রকাশ করার নিমিত্তে বিপুল প্রকার ও শ্রেণির সাহিত্যিক উপাদানের সফল প্রয়োগ ঘটিয়েছে।

কোরআন শরীফ এর বিভিন্ন বিষয়ক আয়াত –

আদেশমূলক আয়াত= ১০০০
নিষেধমূলক আয়াত= ১০০০
প্রতিজ্ঞামূলক আয়াত= ১০০০
ভীতিমূলক আয়াত= ১০০০
দৃষ্টান্তমূলক আয়াত=১০০০
ইতিহাসমূলক আয়াত= ১০০০
প্রশংসামূলক আয়াত= ২৫০
উদ্দেশ্যমূলক আয়াত=২৫০
পুর্ণতামূলক আয়াত=১০০
অন্যান্য= ৬৬
মোট= ৬৬৬৬

সূরা আর-রাহমান = কুরানের মুকুট
সূরা আল-বাকারা = কুর’আনের সিংহাসন
সূরা ইয়াসীন = কুর’আনের মন
সূরা আল-ফাতিহা = কুর’আনের জননী
আয়াতুল কুরসী =কুর’আনের বন্ধু

কোরআন শরীফ এর সূরাসমূহের তালিকা-

কুরআনে ১১৪টি সূরা রয়েছে। এগুলো হলো :

১. আল ফাতিহা (সূচনা)
২. আল বাকারা (বকনা-বাছুর)
৩. আল ইমরান (ইমরানের পরিবার)
৪. আন নিসা (নারী)
৫. আল মায়িদাহ (খাদ্য পরিবেশিত টেবিল)
৬. আল আনআম (গৃহপালিত পশু)
৭. আল আরাফ (উঁচু স্থানসমূহ),
৮. আল আনফাল (যুদ্ধে-লব্ধ ধনসম্পদ),
৯. আত-তাওবাহ্‌ (অনুশোচনা),
১০. ইউনুস (নবী ইউনুস),
১১. হুদ (নবী হুদ),
১২. ইউসুফ (নবী ইউসুফ),
১৩. আর রা’দ (বজ্রপাত),
১৪. ইব্রাহীম (নবী ইব্রাহিম),
১৫. সূরা আল হিজর (পাথুরে পাহাড়),
১৬. আন নাহল (মৌমাছি),
১৭. বনী-ইসরাঈল (ইহুদি জাতি),
১৮. আল কাহফ (গুহা),
১৯. মারইয়াম (মারইয়াম (ঈসা নবীর মা))
২০. ত্বোয়া-হা (ত্বোয়া-হা),
২১. আল আম্বিয়া (নবীগণ),
২২. আল হাজ্জ্ব (হজ্জ),
২৩. আল-মু’মিনূন (মুমিনগণ),
২৪. আন-নূর (আলো),
২৫. আল ফুরকান (সত্য মিথ্যার পার্থক্য নির্ধারণকারী গ্রম্থ),
২৬. আশ শুআরা (কবিগণ),
২৭. আন নম্‌ল (পিপীলিকা),
২৮. আল কাসাস (কাহিনি),
২৯. আল-আনকাবূত (মাকড়শা),
৩০. আর রুম (রোমান জাতি),
৩১. লোক্‌মান (একজন জ্ঞানী ব্যক্তি),
৩২. আস সেজদাহ্ (সিজদা),
৩৩. আল-আহযাব (জোট),
৩৪. সাবা (রানী সাবা/শেবা),
৩৫. ফাতির (আদি স্রষ্টা),
৩৬. ইয়াসীন (ইয়াসীন),
৩৭. আস ছাফ্‌ফাত (সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো),
৩৮. ছোয়াদ (আরবি বর্ণ),
৩৯. আয্‌-যুমার (দলবদ্ধ জনতা),
৪০. আল মু’মিন (বিশ্বাসী)
৪১. হা-মীম সেজদাহ্ (সুস্পষ্ট বিবরণ),
৪২. আশ্‌-শূরা (পরামর্শ),
৪৩. আয্‌-যুখরুফ (সোনাদানা),
৪৪. আদ-দোখান (ধোঁয়া),
৪৫. আল জাসিয়াহ (নতজানু),
৪৬. আল আহ্‌ক্বাফ (বালুর পাহাড়),
৪৭. মুহাম্মদ (নবী মুহাম্মদ (সা.) ),
৪৮. আল ফাত্‌হ (বিজয়, মক্কা বিজয়),
৪৯. আল হুজুরাত (বাসগৃহসমূহ),
৫০. ক্বাফ (ক্বাফ),
৫১. আয-যারিয়াত (বিক্ষেপকারী বাতাস),
৫২. আত্ব-তূর (তূর পাহাড়),
৫৩. আন-নাজম (তারা),
৫৪. আল-ক্বামার (চন্দ্র)
৫৫. আর রাহমান (পরম করুণাময়)
৫৬. আল ওয়াক্বিয়াহ্‌ (নিশ্চিত ঘটনা)
৫৭. আল-হাদীদ (লোহা)
৫৮. আল-মুজাদালাহ (অনুযোগকারিণী),
৫৯. আল-হাশর (সমাবেশ),
৬০. আল-মুমতাহিনাহ (নারী, যাকে পরীক্ষা করা হবে),
৬১. আস-সাফ (সারবন্দী সৈন্যদল),
৬২. আল-জুমুআ (সম্মেলন/শুক্রবার),
৬৩. আল-মুনাফিকুন (কপট বিশ্বাসীগণ),
৬৪. আত-তাগাবুন (মোহ অপসারণ),
৬৫. আত-তালাক (তালাক),
৬৬. আত-তাহরীম (নিষিদ্ধকরণ),
৬৭. আল-মুলক (সার্বভৌম কর্তৃত্ব),
৬৮. আল-কলম (কলম),
৬৯. আল-হাক্কাহ (নিশ্চিত সত্য),
৭০. আল-মাআরিজ (উন্নয়নের সোপান),
৭১. নূহ (নবী নূহ)
৭২. আল জ্বিন (জ্বিন সম্প্রদায়)
৭৩. আল মুজাম্মিল (বস্ত্রাচ্ছাদনকারী)
৭৪. আল মুদ্দাস্সির (পোশাক পরিহিত),
৭৫. আল-কিয়ামাহ (পুনরুত্থান),
৭৬. আদ-দাহর (সময়),
৭৭. আল-মুরসালাত (প্রেরিত পুরুষগণ),
৭৮. আন নাবা (মহাসংবাদ),
৭৯. আন-নাযিয়াত (প্রচেষ্টাকারী),
৮০. আবাসা (তিনি ভ্রুকুটি করলেন),
৮১. আত-তাকভীর (অন্ধকারাচ্ছন্ন),
৮২. আল-ইনফিতার (বিদীর্ণ করা),
৮৩. আত-মুত্বাফ্‌ফিফীন (প্রতারণা করা),
৮৪. আল ইন‌শিকাক (খণ্ড-বিখণ্ড করণ),
৮৫. আল-বুরুজ (নক্ষত্রপুঞ্জ),
৮৬. আত-তারিক্ব (রাতের আগন্তুক),
৮৭. আল আ’লা (সর্বোন্নত),
৮৮. আল গাশিয়াহ্‌ (বিহ্বলকর ঘটনা),
৮৯. আল ফাজ্‌র (ভোরবেলা),
৯০. আল বালাদ (নগর),
৯১. আশ শামস (সূর্য),
৯২. আল লাইল (রাত্রি),
৯৩. আদ দুহা (পূর্বাহ্নের সূর্যকিরণ),
৯৪. আল ইনশিরাহ (বক্ষ প্রশস্তকরণ),
৯৫. আত-ত্বীন (ডুমুর),
৯৬. আল আলাক (রক্তপিণ্ড),
৯৭. আল ক্বাদর (মহিমান্বিত),
৯৮. আল বাইয়্যিনাহ (সুস্পষ্ট প্রমাণ),
৯৯. আল যিলযাল (ভূমিকম্প),
১০০. আল আদিয়াত (অভিযানকারী),
১০১. আল ক্বারিয়াহ (মহাসংকট),
১০২. আত তাকাসুর (প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা),
১০৩. আল আছর (সময়),
১০৪. আল হুমাজাহ (পরনিন্দাকারী),
১০৫. আল ফিল (হাতি),
১০৬. কুরাইশ (কুরাইশ গোত্র),
১০৭. আল মাউন (সাহায্য-সহায়তা),
১০৮. আল কাওসার (প্রাচুর্য),
১০৯. আল কাফিরুন (অবিশ্বাসী গোষ্ঠী),
১১০. আন নাসর (স্বর্গীয় সাহায্য),
১১১. আল লাহাব (জ্বলন্ত অঙ্গার),
১১২. আল ইখলাস (একত্ব)
১১৩. আল ফালাক (নিশিভোর)
১১৪. আন নাস (মানবজাতি)

বাংলা ভাষায় কোরআন শরীফ এর অনুবাদসমূহ –

গিরিশ চন্দ্র সেন
তাফসীরে মা‘রিফুল কুরআন অনুবাদক: মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
আব্বাস আলী (পশ্চিমবঙ্গ)
ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ
রফিকুর রহমান চৌধুরী, ২০১১ (আব্দুল্লাহ ইউসুফ আলী অনূদিত কুরআনের ইংরেজী অনুবাদের বাংলা অনুবাদ )
বিচারপতি হাবিবুর রহমান
মুহম্মদ কুদরাত-এ-খুদা
তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন
তাফসীরে তাফহীমুল কুরআন
তাফসীরে কানযূল ইরফান
তাফসীরে হিদায়াতুল কুরআন
তাফসীরে বুরহানুল কুরআন
তাফসীরে তাহেরী
হক্বানী তাফসীর
তাফসীরে মাজহারী
তাফসীরে ইবনে কাসীর
তাফসীরে ইবনে আব্বাস

সাংখ্যিক তাৎপর্য

মোট “পারা” – ৩০ টি
মোট “সূরা” – ১১৪ টি
মোট “সিজদা” – ১৪ টি
মোট “রুকু” – ৫৪০ টি
মোট “ওয়াক্ফ” – ১,০৫,৬৪৮ টি
মোট “তাশদীদ” – ১,২৫২ টি
মোট “মদ্” – ১,৭৭১ টি
মোট “নোক্তা” – ১,০৬,১৮৮ টি
মোট “পেশ” – ৮,৮০৪ টি
মোট “জের” – ৩৯,৫৮২ টি
মোট “যবর” – ৫৩,২৪২ টি
মোট আয়াত” – ৬,২৩৬ টি
মোট “হরফ” – ৩,৫০,১২৭ টি
মোট “আলীফ” – ৪৮,৮৭২ টি
মোট “বা” – ১১,১২৮ টি
মোট “তা” – ১,১৯৯ টি
মোট “ছা” – ১,২৭৬ টি
মোট “জ্বীম” – ৩,২৭৩ টি
মোট “হা” – ৭৭৩ টি
মোট “খা” – ২,৪১৬ টি
মোট “দাল” – ৫,৬৪২ টি
মোট “জাল” – ৪,৬৯৭ টি
মোট “রা” – ১,২৮৯ টি
মোট “যোয়া” – ১,৫৯০ টি
মোট “ছীন” – ৫,৮৯০ টি
মোট “শীন” – ২,২৫৩ টি
মোট “ছোয়াদ” – ২,০১৩ টি
মোট “দোয়াত” – ১,৬০৭ টি
মোট “তোয়া” – ১,২৭৪ টি
মোট “জোয়া” – ৮৪৬ টি
মোট “আইন” – ৯২,২০০ টি
মোট “গাইন” – ২,২০৮ টি
মোট “ফা” – ৮,৪৯৯ টি
মোট “ক্কাফ” – ৬,৮১৩ টি
মোট “কাফ” – ৯,৫১২ টি
মোট “লাম” – ৩,৪৩২ টি
মোট “মীম” – ২৬,৫৩৫ টি
মোট “নূন” – ২৬,৫৫০ টি
মোট “ওয়াও” – ২৫,৫৩৬ টি
মোট “হা” – ১৯,০৬০ টি
মোট “লাম-আলীফ” – ৩,৭২০ টি
মোট “হামজা” – ৪,১১৫ টি
মোট “ইয়া” ২৫,৯১৯ টি

ধবংসপ্রাপ্ত জাতিসমূহের নাম –

আ’দ,
সামূদ,
লূত,
নূহ,
সাবা,
তুব্বা,
বনী ইসরাঈল,

আসহাবে কাহফের সাথে সংশ্লিষ্ট,
আসহাবে সাবত,
আসহাবে কারিয়াহ,
আসহাবে আইকা,
আসহাবে উখদুদ,
আসহাবে রাস,
আসহাবে ফিল
ইনকাতিয়া জনপদ।

কোরআন শরীফ এ উল্লেখিত মহিলা –

হাওয়া
নূহ ও লূতের স্ত্রী
লূতের কন্যা
ইবরাহিমের (আ.) স্ত্রী (সারাহ)
আজিজ ওয়াইফর স্ত্রী (জুলাইখা)
মূসার মাতা ও বোন
মূসার স্ত্রী
ফেরাউনের স্ত্রী (আছিয়া)
ক্বাওমে সাবা’র রানী (বিলকিস)
ইমরানের স্ত্রী
মরিয়ম (ঈসার মাতা )
মুহাম্মদের (সা.) স্ত্রী
মুহাম্মদের (সা.) মেয়ে
যে স্ত্রী মুহাম্মাদকে (সা.) অভিযোগ করেছিলেন
আবু লাহাবের স্ত্রী

কোরআন শরীফ এর কিছু উপদেশবাণী

📗 তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে দিও না। [সূরা বাকারা ২:৪২] 📗 সৎকার্য নিজে সম্পাদন করার পর অন্যদের করতে বলো। [সূরা বাকারা ২:৪৪] 📗 পৃথিবীতে বিবাদ-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করো না। [সূরা বাকারা ২:৬০] 📗 কারো মসজিদ যাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করো না। [সূরা বাকারা ২:১১৪] 📗 কারো অন্ধানুসরণ করো না। [সূরা বাকারা ২:১৭০] 📗 প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করো না। [সূরা বাকারা ২:১৭৭] 📗 ঘুসে লিপ্ত হয়ো না। [সূরা বাকারা ২:১৮৮] 📗 যারা তোমাদের সঙ্গে লড়াই করবে, শুধু তাদের সঙ্গে তোমরা লড়াই করো। [সূরা বাকারা ২:১৯০] 📗 লড়াইয়ের বিধি মেনে চলো। [সূরা বাকারা ২:১৯১] 📗 অনাথদের রক্ষণাবেক্ষণ করো। [সূরা বাকারা ২:২২০] 📗 রজঃস্রাব কালে যৌনসঙ্গম করো না। [সূরা বাকারা ২:২২২] 📗 শিশুকে পূর্ণ দুই বছর দুগ্ধপান করাও। [সূরা বাকারা ২:২৩৩] 📗 সৎগুণ দেখে শাসক নির্বাচন করো। [সূরা বাকারা ২:২৪৭] 📗 দ্বিনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই। [সূরা বাকারা ২:২৫৬] 📗 প্রতিদান কামনা করে দাতব্য বিনষ্ট করো না। [সূরা বাকারা ২:২৬৪] 📗 প্রয়োজনে তাদের সহযোগিতা করো। [সূরা বাকারা ২:২৭৩] 📗 সুদ ভক্ষণ করো না। [সূরা বাকারা ২:২৭৫] 📗 যদি ঋণীঅভাবগ্রস্তহয়তবে তাকে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত সময় দাও। [সূরা বাকারা ২:২৮০] 📗 ঋণের বিষয় লিখে রাখো। [সূরা বাকারা ২:২৮২] 📗 আমানত রক্ষা করো। [সূরা বাকারা ২:২৮৩] 📗 গোপন তত্ত্ব অনুসন্ধান করো না এবং পরনিন্দা করো না। [সূরা বাকারা ২:২৮৩] 📗 সমস্ত নবির প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করো। [সূরা বাকারা ২:২৮৫] 📗 সাধ্যের বাইরে কারো উপর বোঝা চাপিয়ে দিও না। [সূরা বাকারা ২:২৮৬] 📗 তোমরা পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ো না। [সূরা আল-ইমরান ৩:১০৩] 📗 ক্রোধ সংবরণ করো। [সূরা আল-ইমরান ৩:১৩৪] 📗 রূঢ় ভাষা ব্যবহার করো না। [সূরা আল-ইমরান ৩:১৫৯] 📗 এই বিশ্বের বিস্ময় ও সৃষ্টি নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা করো। [সূরা আল-ইমরান ৩:১৯১] 📗 পুরুষ ও নারী উভয়ই তাদের কৃতকর্মের সমান প্রতিদান পাবে। [সূরা আল-ইমরান ৩:১৯৫] 📗 মৃতের সম্পদ তার পরিবারের সদস্যসের মাঝে বন্টন করতে হবে। [সূরা নিসা ৪:৭] 📗 উত্তরাধিকারের অধিকার নারীদেরও আছে। [সূরা নিসা ৪:৭] 📗 অনাথদের সম্পদ আত্মসাৎ করো না। [সূরা নিসা ৪১০] 📗 যাদের সাথে রক্তের সম্পর্ক তাদের বিবাহ করো না। [সূরা নিসা ৪:২৩] 📗 অন্যায়ভাবে কারো সম্পদ ভক্ষণ করো না। [সূরা নিসা ৪:২৯] 📗 পরিবারের উপর কর্তৃত্ব চালাবে পুরুষ। [সূরা নিসা ৪:৩৪] 📗 অন্যদের জন্য সদাচারী হও। [সূরা নিসা ৪:৩৬] 📗 কার্পণ্য করো না। [সূরা নিসা ৪:৩৭] 📗 বিদ্বেষী হয়ো না। [সূরা নিসা ৪:৫৪] 📗 মানুষের সাথে ন্যায়বিচার করো। [সূরা নিসা ৪:৫৮] 📗 একে অপরকে হত্যা করো না। [সূরা নিসা ৪:৯২] 📗 বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষ নিয়ে বিতর্ক করো না। [সূরা নিসা ৪:১০৫] 📗 ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকো। [সূরা নিসা ৪:১৩৫] 📗 সৎকার্যে পরস্পরকে সহযোগিতা করো। [সূরা মায়িদা ৫:২] 📗 সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। [সূরা মায়িদা ৫:২] 📗 মৃত পশু, রক্ত ও শূয়োরের মাংসা নিষিদ্ধ। [সূরা মায়িদা ৫:৩] 📗 সৎপরায়ণ হও। [সূরা মায়িদা ৫:৮] 📗 অপরাধীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাও। [সূরা মায়িদা ৫:৩৮] 📗 পাপ ও অবৈধ জিনিসের বিরুদ্ধে শ্রম ব্যয় করো। [সূরা মায়িদা ৫:৬৩] 📗 মাদক দ্রব্য ও আলকোহল বর্জন করো। [সূরা মায়িদা ৫:৯০] 📗 জুয়া খেলো না। [সূরা মায়িদা ৫:৯০] 📗 ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের উপাস্যদের গালমন্দ করো না। [সূরা মায়িদা ৫:১০৮] 📗 আধিক্য সত্যের মানদণ্ড নয়। [সূরা আন’আম ৬:১১৬] 📗 মানুষকে প্রতারণা দেওয়ার জন্য ওজনে কম দিও না। [সূরা আন’আম ৬:১৫২] 📗 অহংকার করো না। [সূরা আ’রাফ ৭:১৩] 📗 পানাহার করো, কিন্তু অপচয় করো না। [সূরা আ’রাফ ৭:৩১] 📗 সালাতে উত্তম পোশাক পরিধান করো। [সূরা আ’রাফ ৭:৩১] 📗 অন্যদের ত্রুটিবিচ্যুতি ক্ষমা করো। [সূরা আ’রাফ ৭:১৯৯] 📗 যুদ্ধে পশ্চাদ্‌মুখী হয়ো না। [সূরা আনফাল ৮:১৫] 📗 যারা নিরাপত্তা কামনা করছে তাদের সহযোগিতা করো ও নিরাপত্তা দাও। [সূরা তওবা ৯:৬] 📗 পবিত্র থেকো। [সূরা তওবা ৯:১০৮] 📗 আল্লাহ্‌ তাআলার অনুগ্রহ হতে নিরাশ হয়ো না। [সূরা ইউসুফ ১২:৮৭] 📗 যারা অজ্ঞতাবশত ভুলত্রুটি করে আল্লাহ্‌ তাআলা তাদেরকে ক্ষমা করবেন। [সূরা নাহ্‌ল ১৬:১১৯] 📗 প্রজ্ঞা ও উত্তম নির্দেশনা দ্বারা আল্লাহ্‌ তাআলার প্রতি আহ্বাব করা উচিত। [সূরা নাহ্‌ল ১৬:১১৯] 📗 কেউ কারো পাপের বোঝা বহন করবে না। [সূরা ইসরা ১৭:১৫] 📗 পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো। [সূরা ইসরা ১৭:২৩] 📗 পিতামাতাকে অশ্রদ্ধা করে কোনো কথা বলো না। [সূরা ইসরা ১৭:২৩] 📗 অর্থ অপচয় করো না। [সূরা ইসরা ১৭:২৯] 📗 দারিদ্রের আশঙ্কায় সন্তানসন্ততিকে হত্যা করো না। [সূরা ইসরা ১৭:৩১] 📗 অবৈধ যৌনাচারে লিপ্ত হয়ো না। [সূরা ইসরা ১৭:৩২] 📗 যে বিষয়ে জ্ঞান নেই তার অনুবর্তী হয়ো না। [সূরা ইসরা ১৭:৩৬] 📗 শান্তভাবে কথা বলো। [সূরা ত্বা-হা ২০:৪৪] 📗 অনর্থ জিনিস থেকে দূরে থেকো। [সূরা মু’মিনুন ২৩:৩] 📗 অনুমতি ছাড়া কারো গৃহে প্রবেশ করো না। [সূরা নূর ২৪:২৭] 📗 যারা শুধু আল্লাহ্‌ তাআলার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেন তিনি তাদেরকে নিরাপত্তা দেন। [সূরা নূর ২৪:৫৫] 📗 বিনা অনুমতিতে পিতামাতার ব্যক্তিগত ঘরে প্রবেশ করো না। [সূরা নূর ২৪:৫৮] 📗 বিনয় সহকারে ভূপৃষ্ঠে বিচরণ করো। [সূরা ফুরকান ২৫:৬৩] 📗 এই পৃথিবীতে তুমি তোমার অংশকে উপেক্ষা করো না। [সূরা কাসাস ২৮:৭৭] 📗 আল্লাহ্‌র সাথে অন্য কোনো বাতিল উপাস্যকে ডেকো না। [সূরা কাসাস ২৮:৮৮] 📗 সমকামিতায় লিপ্ত হয়ো না। [সূরা আন্‌কাবুত ২৯:২৯] 📗 সৎকার্যের আদেশ করো এবং অসৎকার্য হতে নিষেধ করো। [সূরা লোকমান ৩১:১৭] 📗 দম্ভভরে ভুপৃষ্ঠে বিচরণ করো না। [সূরা লোকমান ৩১:১৮] 📗 কণ্ঠস্বর অবনমিত রেখো। [সূরা লোকমান ৩১]

আশা করি নিবন্ধটি পড়ে আপনারা কোরআন শরীফ সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য জানতে পেরেছেন । যদি নিবন্ধটি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে এটি সবার সাথে ভাগ করে আমাদের উৎসাহ দেয়ার অনুরোধ রইলো । আপনি ফেসবুক, টুইটার, গুগুল প্লাস, লিংকডইন, হোয়াটস এ্যাপ, স্কাইপ, ভাইবার, ইমেইল বা মোবাইলের sms সহ যেকোনো ভাবে এটা সবার সাথে ভাগাভাগি করতে পারেন (টাকা খরচ করে sms করা লাগবেনা, যদি ফ্রি sms থাকে তাহলে sms করতে পারেন)। আমাদের প্রতিটি নিবন্ধের উপরে এবং নিচে শেয়ার করার অপশনগুলো দেয়া আছে । ধন্যবাদ…

ট্যাগ গুলো