নিবন্ধ

ক্যারিয়ারের চেয়ে জীবনসঙ্গী নির্বাচন বেশি গুরুত্বপূর্ণ

জীবনসঙ্গী

আজ একজনের কথা বলছি – খুবই প্রাণবন্ত এক নারী। আর্থিকভাবে স্বচ্ছল, অভিজাত পরিবারের কন্যা। স্বভাবতই আমাদের ধারণা স্বামী মনে হয় সেই রকমের হবে! এই যেমন, দারুণ একটা পজিশন, ড্যাম স্মার্ট। প্রথম দেখেই অবাক হলাম। খুবই সাধারণ, সাধারণ ঘরের ছেলে। জীবন নিয়ে ভাবনা একদমই সাদামাটা। ভালো থাকাই তার কাছে সবচেয়ে বড় পাওয়া। কিছুদিন পরেই সেই মানুষটির জীবন দর্শন দারুণ লাগলো। এমন একজন সাধারণ মানুষকে লাইফ পার্টনার হিসাবে বেছে নেয়াই এক সেরা সিদ্ধান্ত। এ কারণেই বেশ আছেন। সেই নারী যে এতো প্রাণবন্ত থাকেন, তার মনের আকাশে আসলে অনেকে রঙ আর সেই রঙের কারিগর সেই ভুলাভালা পতিধন।

বিয়ের শুরুতেই যারা মানুষের মধ্যের মানুষটি কেমন তা গুরুত্ব দিয়ে দেখেন, দিনের শেষে আসলে বুদ্ধিমান তারা। দীর্ঘজীবন এক সাথে থাকতে হলে মনের আকাশে রঙ ছড়ানোর মানুষ চাই।বয়সটা একটু বাড়তে থাকলেই পজিশন, মেকআপ, শো আপ যে কতটা অর্থহীন, ভুয়া তা বুঝতে পারা যায়। আগে বুঝলে অনেক ভালো। যারা দূরেরটা দেখে, একটা চমৎকার জীবনের প্রত্যাশা করে – তারা পজিশন, টাকার কাছে পছন্দকে বিক্রি করবে না। টাকার কাছে, পজিশনের কাছে যখন কেউ তার পছন্দ, ভালো লাগা বিক্রি করে দেয়, আজীবন খেসারত দিয়ে যেতেই হবে।

মানুষের স্বভাবটা এমন – নিজের ভুলগুলো সহজে স্বীকার করতে চায় না। ভালো থাকার অভিনয় এখন সবাই বুঝে। ঘরের ভেতরে যে যত নিঃস্ব, বাহিরের তার ঠাঁট ততোই বেশি। এ এক চিরন্তন সত্য। সত্য থেকে দূরে গিয়ে আমরা ঘর হারাই, সব হারাই। তারপরে পথে পথে ঘুরে বেড়াই। সঙ সেজে ভালো থাকার কথা জানাতে চাই। ভালো থাকলে, জানাতে হবে না।জীবনের সবচেয়ে বড় পরাজয় একজন ভালো সঙ্গী না পাওয়া। কপালের দোষ দেয়ার চাইতে নিজেদের দোষটা একটু দেখা দরকার। অসৎ মানুষের কাছে সুখ নেই, এটা চিরন্তন সত্যি। জেনেশুনে ভীষণ অসৎ মানুষকে বিয়ে করে ভালো থাকার আশা করাও ভীষণ অসততা।

একমাত্র বুদ্ধিমানরাই বিয়ের সময় অনেক দূরের চিন্তা করে। হোক না সাধারণ, যদি মন সায় দেয়, মনে হয় একজন দারুণ মানুষ, ভালো মানুষ – তাকে বিয়ে করার মতো শ্রেষ্ঠ সিদ্ধান্ত আর হয় না। ভালো না থাকলেই মেক আপটা বেড়ে যায়, মনের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাসা বাঁধে। নিজের পার্টনার নিয়ে কার সাথে প্রতিযোগিতা? কাকে দেখাতে হবে? আমরা ভালো আছি, দেখো কেমন আছি! এই ভাবটাই বলে দেয় ভালো নেই তোমরা। ভালো থাকলে অন্যেকে ঢাকঢোল পিটিয়ে দেখানোর কথা মনেই আসবে না।শো অফের মানুষগুলো নিজেদের বড্ড স্মার্ট ভাবে। আসলে আসল স্মার্ট কে? ওই যে উপরে বলেছি! ওনার নাম রোমেনা আপা। দিনের শেষে রোমেনা আপাই জিতে যাওয়া মানুষ। এরকম রোমেনা আপাদের অনেকেই বলবে, “দেখো মেয়েটা কী বিয়ে করেছে, এমন একটা মেয়ে শেষ পর্যন্ত বিয়ে করলো কীনা একটা ক্ষ্যাতকে!” এই বলার দীর্ঘশ্বাসে আসলে থাকবে ঈর্ষা – রোমেনার মতো এমন স্বামী পেলেই ভালো হতো, ভালো থাকতাম। তাইতো গুগলের সিইও বলেছেন, “ক্যারিয়ারের চেয়ে জীবনসঙ্গী নির্বাচন বেশি গুরুত্বপূর্ণ”। ভেঙ্গে পড়া এই সমাজে, এই সময়ে, অনৈতিকতার এই প্রবল প্রবাহে কিছু মানুষ আছে ভীষণরকম ভালো। সাদামাটা এই ভালো মানুষগুলো হলো পরশমণি, যাদের ছোঁয়ায় শত প্রতিকূলতায় জীবনে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। একটা তৃপ্তিদায়ক, আনন্দময় জীবনের জন্য সাদামাটা এই মানুষগুলো অমূল্যরতন – এখনো আছে এমন নারী, এমন পুরুষ। ভালো একজন জীবনসঙ্গীর চেয়ে নশ্বর এই জীবনে আর শ্রেষ্ঠ পাওয়া কিছুই হতে পারে না |

ট্যাগ গুলো

মতামত যোগ করুন

মতামত দিতে ক্লিক করুন

error: দুঃখিত, অনুলিপি করা যাবে না ! পরে এই কন্টেন্ট প্রয়োজন হলে আপনার সামাজিক অ্যাকাউন্টের সাথে ভাগ করুন।