নিবন্ধ

খাবার খাওয়া সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ন নিয়ম-কানুন জেনে নিন মাত্র ২ মিনিটে

খাবার খাওয়া সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ন বিষয় জেনে নিন মাত্র ২ মিনিটে ।
এখানে আমি FANCIM.COM এর পাঠকদের সামনে খাবার খাওয়ার সাথে সম্পর্কিত এমন কিছু নিয়ম-কানুন তুলে ধরবো যা মেনে চললে আপনার খাবার খাওয়াটা আরো অর্থবহ হয়ে উঠবে । চলুন তাহলে দেখে নেই সহজ কিন্তু গুরুত্বপূর্ন কিছু নিয়ম ।

* খাবারের পরিমান:

কখন কি পরিমান খাওয়া উচিত তা নিয়ে একটা প্রাচীন প্রবাদ আছে যে, “সকালে খাও রাজার মতো, দুপুরে শ্রমিকের মতো আর রাতে ভিখারির মতো !” এই প্রবাদটি স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও শতভাগ সঠিক ।
সকাল বেলা আমাদের বেশি পরিমানে খাওয়া উচিত । কারন সকালের খাবার আমাদের সারাদিন কাজে লাগবে । তাই সকালে পরিমানে একটু বেশি এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত । সকালে পরিমানে একটু বেশি এবং পুষ্টিকর খাবার খেলে তা সারাদিন আমাদের শরীর চাঙ্গা, কর্মক্ষম ও সতেজ রাখতে ভূমিকা রাখে ।
দুপুরের খাবারের পরিমান হওয়া উচিত সাধারন । বেশিও নয় আবার কমও নয় । দুপুরের খাবার আমরা সাধারনত দেড়টা থেকে আড়াইটার ভিতর খেয়ে থাকি । এরপর আমাদের সাধারনত খুব বেশি পরিশ্রমের বা শক্তি খরচের কাজ থাকেনা কারন সাধারনত বিকাল ৫টার মধ্যেই আমরা পরিশ্রমের কাজগুলো সেরে ফেলি । তাই বেশি খাবারের প্রয়োজন নেই । আবার এমনও নয় যে দুপুরের পর আমাদের শরীর সম্পূর্ন বিশ্রামে থাকবে তাই কম খেলেও চলবে । সুতরাং দুপুরের খাবার দুইদিকেই ভারসাম্য রক্ষা করে খেতে হবে ।
রাতের খাবারের পরিমান হওয়া উচিত অনেকটাই কম । কারন রাতের বেলা আমরা সাধারনত তেমন কোন পরিশ্রমের কাজ করিনা আর রাতের বড় একটা অংশ আমরা ঘুমিয়েই কাটিয়ে দেই । ফলে আমাদের শরীর বিশ্রামেই থাকে । তাই বেশি পরিমানে খাওয়ার কোন প্রয়োজন নেই । তাই রাতে খুব অল্প পরিমানে খেলেই হয় ।

খাবারের সময়:

সকালের খাবার ঘুম থেকে উঠেই সাথে সাথে খাওয়া উচিত নয় । বরং ঘুম থেকে উঠে আধা গ্লাস পানি পান করে অন্তন ১০-১৫ মিনিট হালকা যোগ ব্যয়াম ও হাটাহাটি করা উচিত । তারপর খাবার খাওয়া উচিত । সকালের খাবার ৭টা থেকে ৮টার ভিতর খেয়ে ফেললেই ভালো ।
দুপুরের খাবার দেড়টা থেকে দুইটার ভিতরে খাওয়া উচিত । খুব বেশি দেরি করা ঠিক নয় । অনেকেই কাজের চাপে বা অভ্যাসের কারনে দুপুরের খাবার খেতে খেতে বিকাল ৩টা বা ৪টা বাজিয়ে ফেলেন । এটা ঠিক নয় ।
রাতের খাবার ৮টা থেকে নয়টার ভিতরেই খেয়ে ফেলা ভালো । ঘুমানোর অন্তত দুই ঘন্টা আগেই রাতের খাবার খেয়ে ফেলুন ।

পানি পান:

প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমান পানি পান করুন । একজন প্রাপ্তবয়স্ক সাধারন মানুষের দৈনিক দুই থেকে আড়াই লিটার পানি পান করা প্রয়োজন । কম পানি পান করলে কোষ্টকাঠিন্য, চর্মরোগ, কিডনির সমস্যা সহ বিভিন্ন রোগ হতে পারে । আবার খুব বেশি পরিমানে পানি খাওয়ারও প্রয়োজন নেই । আমাদের দেশে একটা ধারনা প্রচলিত আছে যে, বেশি পরিমানে পানি পান করা ভালো । হা, বেশি পরিমানে পানি পান করা ভালো, তবে খুব বেশি নয় । সবকিছুরই একটা সীমা আছে । অপ্রয়োজনীয় বা অতিরিক্ত কোন কিছুই ভালো নয় । আমরা যে পানি পান করি তা কিডনির মাধ্যমে পরিশোধিত হয় । ফলে কম পানি পান করলে যেমন কিডনিতে সমস্য হয় তেমনি খুব বেশি পরিমানে পানি পান করলেও কিডনিতে বাড়তি চাপ পড়ে ।
খাবার খাওয়ার সময়ও বেশি পানি পান করা উচিত নয় । বরং খাওয়া শুরু করার আগে আধা গ্লাস পানি পান করে নিলে ভালো । খাওয়ার মাঝে এবং খাওয়া শেষ করে সাথে সাথে বেশি পানি পান না করে অল্প পানি পান করা উচিত । এতে হজমে সুবিধা হয় । আরো পানি খাওয়ার প্রয়োজন থাকলে খাওয়ার আধা ঘন্টা পরে খেলে ভালো হয় ।
যে কোন খাবার খাওয়ার পরে পানি পানের সময় কুলি করে পান করলে ভালো । এতে মুখের ভিতর অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যায় ।

সময়ের ব্যবধান:

এক বেলা খাবার খাওয়ার অন্তত ৫ ঘন্টা পরে আরেক বেলার খাবার খাওয়া উচিত । এতে হজম পক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে । এর মাঝে কিছু খেতে চাইলে বেশি পরিমানে না খেয়ে অল্প পরিমানে খাওয়া যেতে পারে ।
উপরের বিষয়গুলো লক্ষ্য রেখে খাবারর খেলে আমাদের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে বলে আশা করা যায় ।

error: দুঃখিত, অনুলিপি করা যাবে না ! পরে এই কন্টেন্ট প্রয়োজন হলে আপনার সামাজিক অ্যাকাউন্টের সাথে ভাগ করুন।