নিবন্ধ

জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নিয়ম

জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নিয়ম

পতাকা একটি দেশের প্রতীক । পতাকার সাথে একটি দেশের সম্মান ও মর্যাদা জড়িত থাকে । তাই যেন-তেন ভাবে ইচ্ছামতো পতাকা উত্তোলন করলে সেটা গ্রহনযোগ্য হয়না । নির্দিষ্ট কিছু নিয়মকানুন মেনে পতাকা উত্তোলন করতে হয় । পৃথীবির অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পতাকা উত্তোলনের কিছু বিধিমালা আছে । নিচে সেসব বিধিমালা নিয়ে আলোচনা করা হলো –
১৯৭২-এর ৯ম অনুচ্ছেদের ৪ নং ধারায় উল্লেখ আছে: “…গণপ্রজতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি ব্যতিত বিদেশী রাষ্ট্রের পতাকা কোনো বাড়ীতে বা গাড়ীতে উত্তোলন করা যাইবে না।”

পতাকা বিধিমালায় উল্লেখিত কিছু ধারা-

১. মোটরগাড়ি, নৌযান, উড়োজাহাজ ও বিশেষ অনুষ্ঠান ব্যতীত অন্য সময় পতাকা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উত্তোলিত থাকবে এবং সূর্যাস্তের পর কোনো মতেই পতাকা উড্ডয়ন অবস্থায় থাকবে না।

২. বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক আরোপিত কোন শর্তাবলী (যদি থাকে) এবং লিখিত অনুমোদন ব্যতীত, কোন ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য, সম্বোধন, পেশা বা অন্য যে কোন উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের ‘পতাকা’ কোন ডিজাইন, ট্রেড মার্ক, শিরোনাম অথবা কোন প্যাটেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

৩. জাতীয় পতাকাকে পোশাক হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে না এবং গায়ে জড়িয়ে রাখা যাবে না।

৪. পতাকা এমনভাবে উত্তোলন, প্রদর্শন বা মজুদ করা যাবে না, যাতে এটি সহজেই ছিঁড়ে যেতে পারে, মাটি লাগতে পারে বা নষ্ট হতে পারে।

৫. কোনো দেয়ালে দণ্ডবিহীন পতাকা প্রদর্শিত হলে তা দেয়ালের সমতলে এবং রাস্তায় প্রদর্শিত হলে উলম্বভাবে দেখাতে হবে।

৬. আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকা উত্তোলনের সময় জাতীয় সংগীত গাইতে হবে। যখন জাতীয় সংগীত বাজানো হয় এবং প্রদর্শিত হয় তখন উপস্থিত সবাইকে পতাকার দিকে মুখ করে দাঁড়াতে হবে।

৭. পতাকার অবস্থা ব্যবহারযোগ্য না হলে তা মর্যাদাপূর্ণভাবে সমাধিস্থ করতে হবে।

৮. বাংলাদেশের পতাকার উপরে অন্য কোন পতাকা উত্তোলন করা যাবে না।

৯. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি ব্যতীত, ‘জাতীয় পতাকা’ অর্ধনমিত করা যাবে না, তবে শর্ত থাকে যে, বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনের প্রধান (যে দেশের নিকট তিনি আস্থাভাজন) ইচ্ছা করলে ঐ সকল দিবসে ‘পতাকা’ অর্ধনমিত রাখতে পারবেন, যে সকল দিবসে উক্ত দেশে, সরকারীভাবে ‘পতাকা’ অর্ধনমিত রাখা হয়।

১০. কোন কিছু বিলি করা, গ্রহণ, বা ধারণ করার জন্য ‘পতাকা’ ব্যবহার করা যাবে না।

** বিধি ভঙ্গ করে কেউ জাতীয় পতাকার অবমাননা করলে তাকে একই বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

জাতীয় পতাকা শুধু একটি কাপড় নয়, এটি আমাদের পরিচয় এবং আমাদের স্বাধীনতার প্রতীক। আবেগের বশবর্তি হয়ে আমরা যেনো এমন কিছু করে না ফেলি যাতে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব কিংবা জাতীয়তাবোধে আঘাত না করে।
যতই আবেগ থাকুক, আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি ” এটাই যেনো চূড়ান্ত শ্লোগান থাকে।

ট্যাগ গুলো
error: দুঃখিত, অনুলিপি করা যাবে না ! পরে এই কন্টেন্ট প্রয়োজন হলে আপনার সামাজিক অ্যাকাউন্টের সাথে ভাগ করুন।