নিবন্ধ

ডোমেইন, ডোমেইন ট্র্যান্সফার, ডোমেইন সিকিউরিটি নিয়ে কিছু কথা

ডোমেইন, ডোমেইন ট্র্যান্সফার, ডোমেইন সিকিউরিটি নিয়ে কিছু কথা –

ডোমেইন কি?

ডোমেইন এমন একটি ইউনিক ঠিকানা যা ইন্টারনেট জগতে ব্যবহার করা হয় । সাধারন ভাবে বলা যায়, ইন্টারনেট জগতে আপনাকে বা আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের চিহ্নিত করার ঠিকানাই ডোমেইন নেম । একজন মানুষ পৃথিবীতে আসলে মানুষটিকে চেনার প্রথম শর্ত হিসেবে যেমন একটি নামের দরকার হয় তেমনি ওয়েবে আপনাকে বা আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের চিহ্নিত করার জন্য একটি ইউনিক নাম ব্যবহার হয় । আর এই নাম টি হচ্ছে ডোমেইন নেম । শুধু নিজেস্য বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান না, ডোমেই নেম হতে পারে যে কোন বিষয়াদির উপর বিত্তি করে। আপনি যখন একটি ওয়েব সাইট তৈরির কথা চিন্তা করবেন তখন, ওয়েব সাইটির পরিচিতির জন্য অবশ্যই একটি নাম বা ঠিকানা দিতে হয় আর সেইটাই ডোমেইন ।
আমরা যদি সংক্ষেপে বলি তাহলে বলতে পারি “ওয়েব জগতে একক বা অদ্বিতীয় নাম গুলোকেই ডোমেইন নেম বলে ; উদাহরন দেখে নেইঃ About.com, Yahoo.com, e-cab.net, wikipedia.org, Fancim.com
ওয়েবে বিভিন্ন এক্সটেনশন যুক্ত ডোমেইন হয়ে থাকে যেমনঃ .Com, .Net, .Org, .Biz, .Info, .Mobi, .Asia, .In
ডোমেইন সিকিউরিটি এবং যে বিষয় গুলো খেয়াল রেখে ডোমেইন কেনা উচিত ~
    • ডোমেইন সিকিউরিটি ইনসিউর করেই ডোমেইন রেজিস্ট্রি গুলো পারমিশন পেয়ে থাকে কাজেই এদিক থেকে কোন সমস্যা থাকে না , কিন্তু সমস্যা হয় মূলত প্রোভাইডারের এবং ক্লায়ন্ট থেকে ( এখানে প্রফেশনাল প্রোভাইডারদের বুজানো হয়নি কারণ এরা স্বচ্ছতা নিয়েই বিজনেস করে ) ।
    • ডোমেইন কেনার সময় সঠিক ইনফরমেশন ইউজ করা যেমন – সঠিক ইমেইল এড্রেস , সঠিক নাম এবং ঠিকানা ইউজ করা যা হতে হবে আপনার ন্যাশনাল আইডি কার্ড বা পাসপোর্ট এর সেইম , সেই সাথে সাথে অর্ডার আইডি এবং ইনভয়েস সংরক্ষণ করে রাখা যা পরবর্তি ডোমেইন রিকভারে কাজে আসবে এবং আপনার ইমেইল এড্রেস সিকিউর রাখা খুবই দরকারি ।
    • ডোমেইন কেনার আগে অবশ্যই ডোমেইন প্রোভাইডার সাথে বিস্তারিত কথা বলে নিবেন। যেমন – আপনার ডোমেইন একসেস পাবেন কিনা ,পরের বছর টাকা কেমন রাখবে এসব ; ডোমেইন একসেস বলতে আসলে কিছু বেসিক নিয়ন্ত্রণ থাকা যেমন – নেইম সার্ভার পরিবর্তন , ডি এন এস ম্যনেজমেন্ট , ট্রান্সফার কোড – এসব আরকি।
    • চেষ্টা করবেন ডোমেইন প্রাইভেসি এনাবল করে রাখতে সেই সাথে ডোমেইন লক করে রাখতে , এসব আপনার ডোমেইন একেসেস কন্টোলে পাবেন ।

কোথায় থেকে কিনবেনঃ

দেশি বিদেশি অনেক প্রোভাইডারই ডোমেইন বিক্রি করে থাকে , তবে আমি রিকমান্ড করব আমাদের দেশি প্রোভাইডার থেকে কেনার ; 800-1000 টাকার মধ্যেই পেয়ে যাবেন ।

ডোমেইন ট্র্যান্সফার কি?

সহজ ভাবে এক রেজিস্টার থেকে অন্য রেজিস্টারে ডোমেইন হস্তান্তর করা কে ডোমেইন ট্র্যান্সফার বলে ।
কেন ডোমেইন ট্র্যান্সফার – প্রোভাইডার এর প্রাইসিং ব্যবধান এবং সার্বিস এবং সাপোর্ট এই তিনটি কারণে ডোমেইন ট্রান্সফার করা হয়ে থাকে । তবে আমাদের দেশে আরেকটি মেজর কারণে ক্লায়েন্ট ডোমেইন ট্র্যান্সফার করে থাকে , তা হচ্ছে প্রোভাইডারের স্বচ্ছতা বা বিশ্বস্ততা ।

ডোমেইন ট্রান্সফার করতে যা প্রয়োজন ~

ডোমেইন ট্র্যান্সফার করতে আপনার ডোমেইনটির নিয়ন্ত্রণ আপনার কাছে থাকা চাই , ডোমেইন ট্রান্সফার করতে আপনার প্রধানত দুটি জিনিস প্রযোজন হবে “ডোমেইন ট্র্যান্সফার কোড” এটা ভিবিন্ন নামে হতে পারে যেমন – auth code, transfer key, transfer secret , secret code , EPP code, EPP authentication code, or EPP ।
দ্বিতীয় হল, যে ইমেইল দিয়ে ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন করা আছে তার এক্সেস । অর্থাৎ ডোমেইন এডমিন ইমেইল । কেননা , ট্রান্সফার রিকুয়েস্ট এর পর আপনার কাছে অনুমতি চেয়ে একটা মেইল যাবে , যা থেকে আপনাকে সম্মতি দিতে হবে ।
প্রক্রিয়া –
    • আপনার ডোমেইন প্যানেলে লগইন করুন । ডোমেইন ম্যানেজমেন্ট থেকে আপনার ডোমেইন টি লক করা থাকলে আন-লক করে নিন , প্রাইভেসি ডিজাবল করে দিন এবং “ডোমেইন ট্র্যান্সফার কোড” সংরক্ষণ করুন ।
    • আপার নতুন প্রোভাইডারের ওয়েব সাইটে সাইন আপ করে নেন আগে বাগেই । তারপর ডোমেইন ট্রান্সফার অপশনে ক্লিক করুন । দেখবেন আপনার “ডোমেইন ট্র্যান্সফার কোড” চাচ্ছে । কোড দিয়ে দিন , প্রোভাইডার ভেদে কিছু তথ্য বা এডন দেখাতে পারে তা বুঝতে সমস্যা হবে না আসা করি এবং অর্ডার কমপ্লিট করুন ।
    • ডোমেইন এডমিন ইমেইলে অনুমতি চেয়ে একটা মেইল যাবে , যা থেকে সম্মতি দিয়ে দিন । মানে এরকম, আপনি ডোমেইনটি অন্যত্র সরিরে নিতে চাচ্ছেন বা কেউ নিতে চাচ্ছেন আপনি রাজি আছেন । একটি লিঙ্ক থাকবে তাতে ক্লিক করেই এপ্রুভ করতে হবে ।
    • শেষ , এবার ৫ দিনের মধ্যে আপনার ডোমেইনটি নিউ প্রোভাইডারের ট্র্যান্সফার হয়ে যাবে ।

যে কারণে ডোমেইন ট্র্যান্সফার প্রবলেম হতে পারে-

ডোমেইন লক করা থাকলে , প্রাইভেসি এনাবল থাকলে এডমিন এপ্রুবাল রিকোয়েস্ট একসেপ্ট না করলে , আপনার প্রোভাইডার বাধা প্রধান করলে , ডোমেইন ট্র্যান্সফার কোড” ভুল থাকলে । কাজেই ট্রান্সফার রিকুয়েস্ট এর আগে এ ব্যপার গুলো দেখে নিবেন ; যেমন ডোমেইন আনলক করে নিবেন , প্রাইভেসি ডিজাবল করে নিবেন ।
এক প্রোভাইডার থেকে অন্য প্রোভাইডারে ডোমেইন ট্র্যান্সফার করতে সমস্যা হতে পারে যদি দুটি প্রোভাইডারে রেজিস্টার একই হয়। এ জন্য রয়েছে ডোমেইন মুভ করার অপশন ; বাংলাদেশের বেশিরভাগ প্রোভাইডার PublicDomainRegistry (PDR) ইউজ করে কাজেই সরাসরি মুভ করে আনতে পারবেন ইন্সটেন্টলি। এজন্য আপনি আপনার প্রোভাইডারের সাথে কথা বললেই তারাই করে দিবে।
আরও কিছু তথ্য,
আপনার ডোমেইনটির বয়স ৬০ দিন হতে হবে মিনিমাম , মানে ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন করার মিনিমাম ৬০ দিন পর ডোমেইন ট্র্যান্সফার করতে পারবেন । তেমনি , ডোমেইন আগে ট্র্যান্সফার করে থাকলে সেখানেও আপনাকে ৬০ দিন অতিক্রম করার পর ডোমেইন নতুন করে অন্যত্র ট্র্যান্সফার করতে পারবেন ।
এতো গেল ডোমেইন ট্র্যান্সফার , লক্ষ করেছেন যে এই প্রক্রিয়ায় ডোমেইন নিয়ন্ত্রণ আপনার কাছে থাকতে হবে এবং এটাই একটি স্বচ্ছ এবং সহজ মাধ্যম ।
আপনার ডোমেইনটি চুরি হয়ে গিয়েছে ? ডোমেইন কন্ট্রোল নেই ? আপনার প্রোভাইডার এর সাথে যোগাযোগ করতে পারছেন না ?
ডোমেইন চুরি হয়ে গেলে যত দ্রুত পসেবল আপনার প্রোভাইডার এর সাথে যোগাযোগ করুন ,ডোমেইন একটিভেশন এর সাথে সাথেই কন্ট্রোল এবং পেমেন্ট ইনভয়েস বুজে নেন ; এর পরেও যদি সমাধান না হয় তবে যা করতে পারেন –
ডোমেইন রেজিস্ত্রশন প্রেসেস হয় ডোমেইন রেজিস্ট্রির মাধ্যমে ; ডোমেইন যে রেজিস্ট্রি থেকে রেজিস্ট্রেশন হয়েছে তাদের সাথে সঠিক ইনফরমেশন দিয়ে যোগাযোগ করলেই হয় ; তারই ব্যবস্থা করবে সঠিক এবং গ্রহণযোগ্য মালিকানা ইনফরমেশন দিতে পারলে ; কোন রেজিস্ট্রি থেকে ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন হয়েছে তা যেনে নিতে পারবেন এসব ওয়েব সাইট থেকে who.is , whois.domaintools.com , whois.net ;
কাজেই কোন ভাবেই ডোমেইন হারানোর পসেবেলিটি নেই বললেই চলে ; এখানেই শেষ না এছাড়া রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ডোমেইন নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ICANN ।
error: দুঃখিত, অনুলিপি করা যাবে না ! পরে এই কন্টেন্ট প্রয়োজন হলে আপনার সামাজিক অ্যাকাউন্টের সাথে ভাগ করুন।