বাংলা সংবাদ

থমথমে কাশ্মীর: হাই এলার্ট জারি, সাবেক ২ মুখ্যমন্ত্রী সহ শীর্ষ স্থানিয় সকল রাজনৈতিক নেতা আটক, স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষনা !

বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কাশ্মিরে সংঘাত বৃদ্ধি পেয়েছে

কাশ্মিরের সায়ত্বশাষনের সাথে সম্পর্কিত সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের প্রেক্ষাপটে কাশ্মির নিয়ে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে ।

পররাষ্ট্র, যোগাযোগ ও প্রতিরক্ষা ছাড়া রাজ্য পরিচালনার অন্য সকল বিষয়ে কাশ্মিরের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা বাতিল করার জন্য কাশ্মীরের উপর থেকে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করা হয়েছে ।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ট সহযোগি, বর্তমান ক্ষমতাসিন দল বিজেপির সভাপতি, জৈন ধর্মের অনুসারি কেন্দ্রীয় সরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পার্লামেন্টে এই ধারা বাতিল সংক্রান্ত প্রস্তাব জমা দেন ।

এসময় পার্লামেন্টে উপস্থিত কাশ্মিরের ২জন সংসদ সদস্য এর তীব্র বিরোধিতা করে ক্ষেভে ফেটে পরেন । এসময় তারা এতটাই রাগান্বিত হয়ে পরেন যে তারা ভারতিয় সংবিধান ও নিজেদের জামা ছিড়ে ফেলেন । পরে তাদের পার্লামেন্ট থেকে বের করে দেয়া হয় ।

কংগ্রেস সহ প্রায় সব রাজনৈতিক দল ও সিনিয়র নেতারা বিজেপি সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে । তবুও বিজেপি সরকার অনেকটা নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে । ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রি ও প্রভাবশালি নেতা পি চিদাম্বরন এই ঘটনার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এর ফলে ভারতের ভাংগন শুরু হতে পারে”।

উল্লেখ্য, কট্টর হিন্দুত্ববাদি দল বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কাশ্মিরে সংঘাত বৃদ্ধি পেয়েছে । এছাড়াও বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর সমগ্র ভারতেই মুসলিম হত্যার পরিমান আগের চাইতে কয়েকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে ।

কাশ্মিরের রাজনৈতিক নেতারা এবং সাধারন জনগন এই সিন্ধান্তের প্রতিবাদে ফুসে উঠেছে । বিদ্রোহি এবং সাধারন জনগনের সাথে যে কোন সময় ভারতিয় সেনাবাহিনীর সংষর্ষের আশংকা করা হচ্ছে ।

বর্তমানে কাশ্মির জুরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে । মিছিল, সভা-সেমিনার সহ সকল ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ করে রাজ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে । সন্দেহজনক লোক সমাগম ও বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রনের জন্য সেনাবাহিনিকে গুলি চালানোর অনুমতি দেয়া হয়েছে । মুফতি মেহবুবা সহ সাবেক দুইজন মুখ্যমন্ত্রীকে আটক করা হয়েছে এবং শীর্ষস্থানিয় সকল রাজনৈতিক নেতাকে আটক অথবা গৃহবন্দি করা হয়েছে । স্কুল কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে ।

আমেরিকা বর্তমান পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে । পাকিস্তান, তুরস্ক ও মালয়েশিয়া কাশ্মিরের জনগনের পাশে থাকার ঘোষনা দিয়েছে ।

উল্লেখ্য, কাশ্মির আগে থেকেই বিশ্বের সবচেয়ে সেনা ঘন একটি অন্চল । তারপরও গত দুই সপ্তাহে নতুন করে আর ২০ হাজার ভারতীয় সৈন্যকে কাশ্মিরে পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনে আরো সৈন্য পাঠানোর জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে ।

ট্যাগ গুলো

মতামত যোগ করুন

মতামত দিতে ক্লিক করুন

error: দুঃখিত, অনুলিপি করা যাবে না ! পরে এই কন্টেন্ট প্রয়োজন হলে আপনার সামাজিক অ্যাকাউন্টের সাথে ভাগ করুন।