নিবন্ধ

নামাজের উপকারিতা

নামাজের উপকারিতা

ধর্মীয় দিক থেকে নামাজের উপকারিতা ও গুরুত্ব অনেক। তবে ধর্মীয় দিকের পাশাপাশি সামাজিক, মানসিক ও স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও নামাজের অসংখ্য উপকারিতা রয়েছে ।

নামাজ আদায় করা একটি ফরজ ইবাদাত। আল্লাহ সব মুসলমানের জন্য প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকে ফরজ করে দিয়েছেন। এ নামাজ পরকালের মুক্তি লাভের অন্যতম মাধ্যম। কারণ পরকালে সর্বপ্রথমে নামাজের হিসাব গ্রহণ করা হবে। যে ব্যক্তি নামাজের হিসাব সুন্দরভাবে দিতে পারবে, তার পরবর্তী হিসাব সহজ হয়ে যাবে। আবার নামাজ দুনিয়ায় বিভিন্ন ধরনের অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে।

মানুষের দেহ চলমান। সুস্থতার জন্য নড়া-চড়া, হাঁটা-চলা ও ওঠা-বসা দরকার। ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে মসজিদে যাওয়া-আসা করতে হয়। নামাজে ওঠা-বসা করতে হয়। এ সবই উপকারী। ৫ ওয়াক্ত সালাতের জন্য ৫টি সময় রয়েছে। এছাড়াও সুন্নত ও নফল নামাজের সময় রয়েছে। এ সময়গুলোর চিকিৎসা বিজ্ঞানগত উপকারিতা রয়েছে। নিচে বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে নামাজের উপকারিতা তুলে ধরা হলো ।

ধর্মিয় দিক থেকে নামাজের উপকারিতা

  •  নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায় ।
  •  নামাজ মুমিন বান্দার জন্য মেরাজ স্বরুপ ।
  •  নামাজের মাধ্যমে গুনাহ মাফ হয় ।
  •  নামাজ একটি ফরজ ইবাদত । ফরজ ইবাদত পালন না করলে কঠিন শাস্তি পেতে হবে । তাই অবশ্যই ফরজ ইবাদত পালন করতে হবে ।

স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের দিক থেকে নামাজের উপকারিতা

  • নামাজের মাধ্যমের আমাদের শরীরের একটি ব্যায়াম সাধিত হয়। এটি এমন একটি ব্যায়াম যা ছোট বড় সবাই করতে পারে।
  • নামাজি ব্যক্তি যখন রুকু করে এবং রুকু থেকে ওঠে সোজা হয়ে দাঁড়ায় তখন মানুষের কোমর ও হাঁটুর ভারসাম্য রক্ষা হয়। রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়। ফলে কোমর ও হাটু ব্যাথা উপশম হয়।
  •  নামাজে যখন সিজদা করা হয় তখন নামাজি ব্যক্তির মস্তিস্কে দ্রুত রক্ত প্রবাহিত হয়। ফলে তার স্মৃতি শক্তি বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। আবার সিজদা থেকে ওঠে যখন দুই সিজদার মাঝখানে বসে এতে তার পায়ের উরু ও হাঁটু সংকোচন এবং প্রসরণ ঘটে। এতে করে মানুষের হাঁটু ও কোমরের ব্যথা উপশম হয়।
  •  নামাজের সময় নামাজি ব্যক্তিকে দাঁড়ানো, রুকুতে যাওয়া, রুকু থেকে ওঠে সোজা হয়ে স্থির দাঁড়ানো, আবার সিজদায় যাওয়া, সিজদা থেকে ওঠে স্থিরভাবে বসা, আবার সিজদা দিয়ে দাঁড়ানো বা বসা। এ সবই মানুষের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যায়াম। এতে মানুষের শারীরিক বহুবিদ উপকার সাধিত হয়।
  •  নামাজ মানুষের দেহের কাঠামোগত ভারসাম্যতা বজায় রাখে। ফলে স্থুলতা ও বিকলঙ্গতা হার কমে যায়। মানুষ যখন নামাজে নড়াচড়া করে তখন অঙ্গগুলো স্থানভেদে সংবর্ধিত, সংকুচিত হয়ে বিশেষ কাজ করে থাকে। অঙ্গ ও জোড়াগুলোর বর্ধন ও উন্নতি এবং শক্তি বৃদ্ধি পায়।
  •  নামাজের জন্য মানুষকে প্রতিদিন পাঁচবার অজু করতে হয়। আর এতে মানুষের ত্বক পরিষ্কার থাকে। ওজুর সময় মানুষের দেহের মূল্যবান অংশগুলো পরিষ্কার হয় য দ্বারা বিভিন্ন প্রকার জীবানু হতে মানুষ সুরক্ষিত থাকি।
  •  নামাজের মাধ্যমে আমাদের মনের অসাধারন পরিবর্তন আসে। ৫ নামাজ সকল মানুষের দেহের কাঠামো বজায় রাখে।
    ফলে শারীরিক বিকলঙ্গতা লোপ পায়।
  •  নামাজের জন্য মানুষ যতবার অজু করে, ততবারই মানুষের মুখমণ্ডল ম্যাসেস হয়ে থাকে। যাতে মুখমণ্ডলে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। ফলে মানুষের চেহারার লাবন্যতা বৃদ্ধি পায়, মুখের বলিরেখা ও মুখের দাগ কমে যায়।

নামাজের সামাজিক উপকারিতা

  •  কিশোর বয়সে নামাজ আদায় করলে মন পবিত্র থাকে এর ফলে নানা প্রকার অসামাজিক কাজ সে বিরত থাকে।
  •  নামাজ আদায়কারী ব্যাক্তি বিভিন্ন অসামাজিক ও খারাপ কার্যকলাপ থেকে দুরে থাকতে চেষ্টা করে । ফলে সমাজে শৃঙ্খলা বজায় থাকে ।
  •  নামাজ আদায়কারি ইমানদার ব্যাক্তি সুদ-ঘুষ ও দূর্নীতি থেকে নিজেকে দুরে রাখে । ফলে সুন্দর সমাজ গঠিত হয় ।

মানসিক দিক থেকে নামাজের উপকারিতা

  •  সময়ের কাজ সময়ে করার মানসিকতা তৈরি হয় ।
  •  নামাজের মাধ্যমে মানুষের মন ও মানসিকতায় অসাধারণ পরিবর্তন আসে। গোনাহ, ভয়, নীচুতা, হতাশা, অস্থিরতা, পেরেশানি ইত্যাদি দূরভীত হয়। ফলে বিশুদ্ধ মন নিয়ে সব কাজে সম্পৃক্ত হওয়া যায়।
  •  নামাজের যখন আমরা দাড়াই তখন আমাদের চোখ জায় নামাজের সামনের ঠিক একটি কেন্দ্রে স্থির অবস্থানে থাকে ফলে মনোযোগ বৃদ্ধি পায়।
  •  নামাজ আদায় করলে মানুষের জীবনি শক্তি বৃদ্ধি পায় |
  •  নামাজ আদায় করলে মন প্রফুল্ল থাকে ।
ট্যাগ গুলো

মতামত যোগ করুন

মতামত দিতে ক্লিক করুন

error: দুঃখিত, অনুলিপি করা যাবে না ! পরে এই কন্টেন্ট প্রয়োজন হলে আপনার সামাজিক অ্যাকাউন্টের সাথে ভাগ করুন।