বাংলা সংবাদ

নুসরাতকে গালিগালাজ, মাদ্রাসা শিক্ষকের মুক্তির দাবিতে মিছিল ! কি বলছে তারা ?

মাদ্রাসা শিক্ষকের মুক্তির দাবিতে মিছিল !

আগুনে শরীরের ৮০% পু্ড়ে গিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া নুসরাতের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে ফেনীর বহু মানুষ !

পাশাপাশি তারা উক্ত ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন, পুলিশের হাতে আটক মাদ্রাসা শিক্ষকের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তার মুক্তির দাবীতে মিছিল ও মানববন্ধন করেছে !

এই ঘটনায় দেশজুরে চান্চল্য সৃষ্টি হয়েছে । অপরাধীর পক্ষে এমন আন্দোলন দেখে মানুষ হতবাক হয়েছে ।

কিছুদিন আগে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত তার মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে পুলিশ সেই অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে ।

এরপর পরিক্ষা কেন্দ্রে চারজন বোরকা পরিহিত মেয়ে নুসরাতকে আড়ালে ঢেকে নিয়ে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় । এর মধ্যে নুসরাত শম্পা নামে একজনের নাম বলেছে । তবে কে এই শম্পা সেই বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি ।

ধারনা করা হচ্ছে নুসরাতের গায়ে আগুন দেয়া ঐ চারজন মেয়ে নুসরাত যে মাদ্রায়াস পড়তো সেই মাদ্রাসারই ছাত্রী ! পুলিশ ইতিমধ্যে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করেছে ।

নুসরাত যৌন হয়রানির অভিযোগ করলে পুলিশ মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে । এরপর সেই অধ্যক্ষের মুক্তির দাবিতে মিছিল ও মানববন্ধন করে স্থানীয় কিছু লোক এবং ঐ মাদ্রাসারই ছাত্রীরা ! যারা কিনা নুসরাতেরই সহপাঠি । এসময় তারা অধ্যক্ষের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেয় ।

একজন মেয়ে হয়ে আরেকজন নির্যাতিত মেয়ের বিপক্ষে আন্দোলন করায় হতবাক হয়েছেন অনেকেই ।

এসময় পরিচয় প্রকাশ না করে অধ্যক্ষের পক্ষে মিছিলকারী কয়েকজন মেয়ে বলেন, “অধ্যক্ষ স্যার খুবই ভালো মানুষ । তিনি এধরনের কাজে জড়িত নন । তার নামে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে ।”
“নুসরাত ভালো মেয়ে নয় । সে স্যারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে । আমরা ওর শাস্তি চাই ।”
আরেক জন মেয়ে বলেন, “নুসরাতের নিজের চরিত্রের ঠিক নেই, সে আরেকজনকে হয়রানি করছে ।

এদিকে খোজ নিয়ে জানা গেছে , মিছিলের আয়োজনকারী মূলত মাকসুদুল আলম নামে স্থানীয় এক জামায়াত নেতা । যিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন । মাদ্রাসার অধ্যক্ষের সাথে তার দীর্ঘদিনের সূসম্পর্ক রয়েছে ।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা সোনাগাজী উপজেলা জামায়াতের আমির ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আগেও অনৈতিক কাজের অভিযোগ এবং একাধিক মামলা আছে।

এতদিন অধ্যক্ষের বিষয়ে অভিযোগগুলো আমলে না নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে মাদ্রাসার বর্তমান সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)পি কে এনামুল হককে বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে এখন বেশিরভাগ যে অভিযোগগুলো তোলা হচ্ছে, সেগুলো আপনারদের মতোই আমিও এখন শুনছি। আমাকে আগে কেউ কিছু জানায়নি।

এদিকে কোর্টে অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার পক্ষে উকিল হয় লড়ছে আওয়ামিলীগ, বিএনপি ও জামাতের আইনজীবিরা !
এর মধ্যে বিএনপির এ্যাডঃ ইউসুফ আলমগীর ও এ্যাডঃ ফরিদ উদ্দিন নয়ন। জামাতের এ্যাডঃ বেলায়েত হোসেন এবং আওয়ামীলীগের এ্যাডঃ বুলবুল আহমেদ সোহাগ।
তবে মধ্যে আওয়ামিলীগের এ্যাডঃ বুলবুল আহমেদ সোহাগকে অপরাধীর পক্ষে মামলা পরিচালনা করায় দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে ।

মতামত যোগ করুন

মতামত দিতে ক্লিক করুন

error: দুঃখিত, অনুলিপি করা যাবে না ! পরে এই কন্টেন্ট প্রয়োজন হলে আপনার সামাজিক অ্যাকাউন্টের সাথে ভাগ করুন।