নিবন্ধ

পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকারে সাধারন নাগরিকরা যা যা করতে পারে

পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকারে

বর্তমানে পৃথীবির অস্তিত্বের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে যে সমস্যাটি তা হলো পরিবেশগত সমস্যা। তাই এই নিবন্ধে আমরা পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার করার বিভিন্ন সহজ দিক নিয়ে আলোচনা করবো। পরিবেশের দূষন রোধ করতে সরকার বা বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো কোন আইন প্রনয়ন বা বড় প্রকল্প গ্রহনের শক্তি সাধারন জনগনের হাতে নেই কিন্তু তবুও সাধারন জনগন চাইলে বিভিন্ন উপায়ে পরিবেশের দূষন রোধ করতে পারে। সরকার বা বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ছাড়াই আমরা সাধারন জনগন নিজেরাই কিভাবে পরিবেশ দূষন রোধ এবং পরিবেশের উন্নয়ন করতে পারি তেমন কিছু বিষয় এখানে তুলে ধরছি।

সাধারন মানুষের জন্য পরিবেশ দূষন রোধ ও তার প্রতিকারের সহজ পথ:

কম জ্বালানি ব্যবহার:
অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহার মানেই অতিরিক্ত ক্ষতিকর গ্যাস নি:সরন এবং অতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন করা। এছাড়া প্রচলিত পদ্ধতিতে জ্বালানি উৎপাদন করতে গেলেও পরিবেশের অনেক ক্ষতি হয়। তাই যত কম জ্বালানি ব্যবহার করা যায় পরিবেশের জন্য তা ততই ভালো।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার:
জ্বালানি ব্যবহারের ফলে পরিবেশের ক্ষতি কমিয়ে আনতে আমাদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করা উচিত। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে জ্বালানি উৎপাদনের জন্য পরিবেশের যতটুকু ক্ষতি হয় তা ৯৮% পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব। বায়োগ্যাস, সৌর বিদ্যুৎ, বায়ুকল, নদীর স্রোত কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ইত্যাদি হলো নবায়নযোগ্য জ্বালানির অন্যতম উদাহারন।

ব্যক্তিগতভাবে নবায়ন যোগ্য জ্বালানি উৎপাদন করে ব্যবহার করলে তা আপনার সরকারের উপর থেকে নির্ভরতা কমাবে। উদাহারন স্বরুপ আপনি যদি আপনার বাড়িতে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করেন তাহলে সেখান থেকে আপনি রান্নার গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবেন। ফলে আপনাকে গ্যাসের জন্য বা বিদ্যুৎ এর জন্য সরকারের উপর নির্ভর করতে হবেনা।

অনেক সময় দেখা যায় গ্যাস বা বিদ্যুৎ সংযোগের আবেদন করেও সংযোগ পাওয়া যায়না বা সরকার হুট করে এসবের দাম বাড়িয়ে দেয়। সেক্ষেত্রে নিজেই নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন ও ব্যবহার করতে পারলে এসব ঝামেলা থেকে মুক্তি পাবেন।

যেখানে সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলা:
যেখানে সেখানে ময়লা ফেললে পরিবেশ দূষিত হয় বেশি। তাই যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে ফেলুন। বাড়িতে পচনশীল জিনিসগুলো মাটিতে একটি গর্ত করে সেখানে ফেলতে পারেন আর যেসব সামগ্রি পচনশীল নয় সেগুলো একটি নির্দিষ্ট স্থানে ফেলুন বা পূনরায় ব্যবহার উপযোগি করা গেলে তা করুন। যেমন, প্লাস্টিক, লোহা, কাগজ ইত্যাদি নিজে কাজে লাগাতে পারেন বা বিক্রি করে দিতে পারেন।

অনেক সময় আমরা রাস্তাঘাটে ময়লা আবর্জনা ফেলে নোংরা করি যা একদমই উচিত নয়। আমরা রাস্তাঘাটে পলিথিন, চিপস বা জুসের প্যাকেট, পানির বোতল ইত্যাদি ফেলে নোংরা করি কিন্তু এগুলো নির্ধারিত ডাস্টবিনে ফেলা উচিত।

যদি হাতের কাছে ডাস্টবিন না থাকে তাহলে এগুলো পকেটে বা ব্যাগে রেখে দিতে পারেন। পরে যেখানে ডাস্টবিন পাবেন সেখানে ফেলবেন বা বাড়িতর এসে ময়লার সাথে ফেলবেন। পলিথিন, চিপস/জুসের প্যাকেট বা পানির বোতলের ওজন খুবই সামান্য। এগুলো কিছুটা বাড়তি সময় পকেটে বা ব্যাগে রাখলে কোন কষ্টই হবেনা। ইচ্ছা শক্তিটাই মূল কথা।

পলিথিনের ব্যবহার হ্রাস:
বর্তমান কালে পলিথিন পরিবেশের প্রধান শত্রু হয়ে দাড়িয়েছে। পলিথিনের ক্ষতিকর দিক আমরা সবাই জানি। আমাদের দৈন্যন্দিন জীবনে পলিথিন অনেক উপকারও করছে তবে এর অতিরিক্ত ব্যবহারই মূল সমস্যা। শুধুমাত্র যেখানে অন্য কোন উপায় নেই সেখানেই পলিথিন ব্যবহার করা যেতে পারে এবং সম্ভব হলে একটি পলিথিনই একধিকবার ব্যবহার করা উচিত। বেশিরভাগ সময়ই দেখা যায় যেখানে একটি বাজারের ব্যাগ নিয়ে গেলেই কাজ হয়ে যায় সেখানে আমরা বাজারের ব্যাগ ব্যবহার না করে ৫-৬ পলিথিন ব্যবহার করছি। যা কোনভাবেই উচিত নয়।

পলিথিন সহজে পচে না। এটি ক্ষয় হয়ে মাটির সাথে মিশে যেতে ১০০০ বছর থেকে ১৫০০ বছর লেগে যায়! একদম পাতলা পলিথিনগুলোও ক্ষয় হয়ে মাটির সাথে মিশে যেতে ৫০০-৬০০ বছর লেগে যায়। আর তার আগ পর্যন্ত এটি পরিবেশের ক্ষতি করতেই থাকে। সুতরাং অতিরিক্ত পলিথিন ব্যবহার বন্ধ করুন। পলিথিনের পাশাপাশি প্লাস্টিক সামগ্রির অতিরিক্ত ব্যবহারও বাদ দিতে হবে।

ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার হ্রাস:
ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার বিশ্বব্যাপী মরুকরনের অন্যতম প্রধান কারন। বর্তমানে আমরা সবাই মাটির নিচ থেকে পানি উঠিয়ে বাড়িতে বা কল-কারখানায় ব্যবহার করি। মাটির নিচ থেকে পানি উঠিয়ে ব্যবহারের ফলে মাটির নিচের পানির স্তর নীচে নেমে যায়। ফলে মাটির উপরিভাগ শুকিয়ে যায়, গাছপালা শেকড় দিয়ে পর্যাপ্ত পানি গ্রহন করতে পারেনা। সবুজ শ্যামল এলাকাও ধীরে ধীরে মরুভূমির রুপ ধারন করে।

১টি পরিবারে যদি দৈনিক ১০০ লিটার মাটির নিচের পানি ব্যবহার করা হয় তাহলে ১০ লাখ পরিবারে প্রতিদিন (১০০×১০০০০০০= ১০০০০০০০০) ১০ কোটি লিটার মাটির নিচ থেকে উত্তোলিত পানি ব্যবহার হচ্ছে!

এটাতো একটা উদাহারন মাত্র। বাস্তবে একটি পরিবারে দৈনিক কয়েকশো লিটার, এমনকি হাজার লিটার পানিও ব্যবহার হয়, অনেক সময় শুধু একজনের গোসল এবং কাপড় ধুতেই খরচ হয়ে যায় কয়েকশো লিটার পানি। তাহলে সারা দেশ এবং সারা দুনিয়ায় কতখানি ভূগর্ভস্থ্য পানি প্রতিদিন খরচ হচ্ছে তা আপনিই চিন্তা করে দেখুন।

আপনার ব্যবহার করা পানির একটি অংশ বিভিন্ন প্রাকৃতিক নিয়ম অনুসরন করে আবারো একদিন মাটির নীচে ফিরে যাবে ঠিকই কিন্তু তার জন্য কয়েকশো বছর এমনকি হাজার বছরও লাগে যেতে পারে! ততদিনে পৃথীবির অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।
তাই মাটির নিচের পানি ব্যবহারে আমাদের খুবই হিসেবি হতে হবে। ভূগর্ভস্থ পানি যত কম ব্যবহার করা যায় ততই ভালো।

ভূ-উপরি ভাগের পানির ব্যবহার বৃদ্ধি:
ভূর্গভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগের পানি ব্যবহার করতে হবে। কৃষি জমিতে সেচ, নির্মানকাজ ও অন্যান্য বিভিন্ন প্রয়োজনে পুকুর, নদী, খাল, বিল সহ ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগের বিভিন্ন উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করে ব্যবহার করতে হবে। এতে করে মাটির নীচের পানির স্তর অতিরিক্ত কমবে না এবং পৃথীবি মরুকরনের হাত থেকে রক্ষা পাবে।

বৃষ্টির পানি সংরক্ষন ও ব্যবহার:
বৃষ্টির পানি নিরাপদ পানির একটি অন্যতম সহজ উৎস। সাধরনত বৃষ্টির পানি বিশুদ্ধ ও পানযোগ্য হয়ে থাকে। তবে আপনি যদি বৃষ্টির পানি পান করতে না চান তাহলে অন্যান্য কাজেও ব্যবহার করতে পারবেন। বৃষ্টির পানি সংরক্ষন ও ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি পানির অন্য উৎসগুলোর উপর চাপ কমাতে পারেন। যা পরিবেশের জন্য উপকারি হবে।

আপনি বাড়ির ছাদে বা বাড়ির আশেপাশে সুবিধামতো যে কোন জায়গায় পানির চৌবাচ্চা স্থাপন করে সেখানে বৃষ্টির পানি সংরক্ষন করে রাখতে পারেন। বৃষ্টির পানি সংরক্ষনের উপযোগি একটি চৌবাচ্চা তৈরি করতে আপনার খুব বেশি খরচ হবেনা। আর বৃষ্টির পানির জন্য যেহেতু বৈদ্যুতিক মটর বিল দিতে হবেনা তাই চৌবাচ্চা তৈরিতে আপনার যা খরচ হবে তা কয়েকবছরেই পুষিয়ে যাবে।

ভালো মতো ইট সিমেন্ট দিয়ে একটি চৌবাচ্চা (পানির ট্যাংক) তৈরি করলে সেটি ৫০-১০০ বছর পর্যন্ত বা তারও বেশি সময় ব্যবহার করা যাবে। সুতরাং ততদিনে আপনার অন্তত কয়েক লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বেচে যাবে। বর্ষাকালে ভালোমতো মাত্র কয়েক ঘন্টা বৃষ্টি হলেই কয়েকশ লিটার বৃষ্টির পানি সংরক্ষন করা যায়।
বৃষ্টির পানি সংরক্ষনের মাধ্যমে আপনি যেমন পরিবেশের উপকার করতে পারেন তেমনি নিজেও আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেন।

রাসায়নিক সারের ব্যবহার হ্রাস:
রাসায়নিক সারের ব্যবহার পরিবেশের জন্য খুবই ক্ষতিকর। রাসায়নিক সার মাটির অনুজীবের মৃত্যুর কারন হয়ে দাড়ায়। বৃষ্টি বা সেচের পানির সাথে মিশে গিয়ে এগুলো খাল, নদী, পুকুর ইত্যাদির পানিকে দূষিত করে ফেলে। এছাড়া রাসায়নিক সার মানুষের স্বাস্থের জন্যও ক্ষতিকর। রাসায়নিক সারের উৎপাদন পক্রিয়াও জটিল এবং এগুলো ব্যবহারে বেশি টাকা খরচ হয় বলে ফসলের দামও বৃদ্ধি পায়।

জৈব সারের ব্যবহার বৃদ্ধি:
জৈব সার পরিবেশের ক্ষতি করেনা। এগুলো মাটির উপকারি অনুজীবকে হত্যা করেনা এবং পশু পাখিরও ক্ষতি করেনা। জৈব সার ব্যবহার করলে ফলন ভালো হয় এবং মাটিও সবসময় উৎপাদনক্ষম থাকে। পাশাপাশি জৈবসার দিয়ে উৎপাদিত ফসল মানবদেহেরও ক্ষতি করেনা। তাই নিজের সুরক্ষায় এবং পরিবেশের সুরক্ষায় জৈব সার ব্যবহার করা উচিত।

পরিবেশ দূষনকারী প্রতিষ্ঠানের পন্য ও সেবা ব্যবহার না করা:
যেসব প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিবেশ দূষন করে সেসব প্রতিষ্ঠানের পন্য বা সেবা ব্যবহার না করলে তারা বাধ্য হয়ে পরিবেশ দূষিত হয় এমন কার্যক্রম বন্ধ করবে। আর যেসব প্রতিষ্ঠান পরিবেশ ঠিক রেখে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং পরিবেশের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পে অনুদান দেয় তাদের পন্য ও সেবা ব্যবহার করতে হবে| এতে করে তারা তাদের কষ্টের প্রতিদান পাবে এবং অন্যরাও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে চেষ্টা করবে।

বৃক্ষ রোপন:
বৃক্ষ রোপন পরিবেশ দূষন রোধের একটি অন্যতম সেরা উপায়। বৃক্ষ বাতাস থেকে ক্ষতিকর উপাদান শোষন করে এবং অক্সিজেন প্রদান করে। ফলে বায়ুদূষন কমাতে বৃক্ষ কার্যকর ভূমিকা রাখে।

২০১৯ সালের শেষের দিকে প্রকাশিত এক গবেষনায় দেখা যায় পৃথীবি জুড়ে ১০০ কোটি গাছ লাগানো গেলে ১০০ বছর আগের মত নির্মল বাতাস ফিরে পাওয়া সম্ভব। মানে ১০০ বছর আগে পরিবেশের দূষন অনেক কম ছিলো। তখন বাতাসে এখনকার মতো এত ক্ষতিকর উপাদান ছিলোনা। ফলে তখনকার বায়ুমন্ডল যতটা ভালো ছিলো, ১০০ কোটি গাছ লাগালে এখনো তেমন বায়ুমন্ডল ফিরে পাওয়া সম্ভব। এছাড়া গাছ থেকে ফল সংগ্রহ, কাঠ সংগ্রহ, মাটির ক্ষয়রোধ ইত্যাদি সুযোগ সুবিধাতো আছেই।

বন-জংগল রক্ষা:
পরিবেশের ভারসাম্য ঠিক রাখতে হলে বন-জংগল কিছুতেই ধংস করা যাবেনা। বন জংগল ধংস করে বাসস্থান বা কলকারখান নির্মান করা যাবেনা।

বন্যপ্রানী সংরক্ষন:
বন্যপ্রানীর উপর পরিবেশের ভারসাম্য খুব নিবিড় ভাবে নির্ভর করে। বন্যপ্রানী বা পশুপাখি হলো একটি চক্রের মতো। এগুলোর একটির উপর অন্যটি নির্ভর করে। কোন কারনে একটি প্রানী ক্ষতিগ্রস্থ হলে বা বিলুপ্ত হলে সেগুলোর প্রভাব অন্যগুলোর উপরও পরে। বন-জংগল রক্ষার পাশাপাশি বন্যপ্রানীদেরও যত্ন ও রক্ষনাবেক্ষন করতে হবে।

পরিবেশ বান্ধব বাড়ি ও কল-কারখানা তৈরি:
বাড়ি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা কল কারখানা তৈরির সময় পরিবেশের সুরক্ষার বিষয়টি খেয়াল রাখা উচিত। যেভাবে তৈরি করলে পরিবেশের ক্ষতি হবেনা বা কম ক্ষতি হবে সেভাবে তৈরি করা উচিত।

কিভাবে সহজেই আপনার বাড়িটিকে পরিবেশ বান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন সেই বিষয়ে জানতে এখানে ক্লিক করুন।

শিশুদের শিক্ষা দেয়া:
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার গুরুত্ব এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হলে কি কি ক্ষতি হবে তা শিশুদের জানাতে হবে। কিভাবে পরিবেশের যত্ন নিতে হয় তা তাদেরকে শিখাতে হবে। পরিবেশের ক্ষতি না করে কিভাবে নিজের প্রয়োজন মিটানো যায় সে বিষয়গুলো শিশুদের শিক্ষা দিতে হবে। আগামি দিনে পরিবেশকে সুন্দর রাখার দায়িত্ব তাদেরকেই পালন করতে হবে।

পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি:
পরিবেশের দূষন রোধে এবং পরিবেশের উন্নয়নের জন্য পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। নিজের পরিবারের সদস্যদের পরিবেশের প্রতি যত্নশীল হতে বলতে হবে। নিজের এলাকায় পরিবেশ দূষন হচ্ছে- এমন কোন কার্যকলাপ হলে সেটি সামাজিক ভাবে প্রতিহত করার চেষ্টা করতে হবে। সমাজের মানুষকে পরিবেশ দূষনের ক্ষতিকর দিক ও কিভাবে সহজে পরিবেশ দূষন ঠেকানো যায় তা শিক্ষা দিতে হবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে দাবি জানানো:
রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে খুব বেশি কিছু আশা করে হয়তো লাভ নেই, তবুও সবসময় তাদের কাছে পরিবেশের বিভিন্ন সমস্যাগুলো তুলে ধরতে হবে এবং এর সমাধানের দাবী জানাতে হবে, সবসময় এই বিষয়ে তাদের চাপে রাখতে হবে এবং নির্বাচনের আগে এই বিষয়ে দাবিগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে তুলে ধরতে হবে।

যারা পরিবেশের সমস্যাগুলো সমাধানের ওয়াদা করবে বা যারা আগে সমাধানের চেষ্টা করেছে তাদেরকে ভোট দিতে হবে। ফলে মানুষের দাবীর মুখে তারা কিছুটা হলেও পরিবেশ দূষন বন্ধ করার চেষ্টা করবে।

বন্ধ করতে হবে পরিবেশ দূষণ ও তার প্রতিকার করতে নিতে হবে সর্বাত্বক প্রচেষ্টা। সরকার বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভর না করে আমরা সাধারন জনগন নিজেরাই পরিবেশ দূষন রোধ করতে উপরের কৌশলগুলো কাজে লাগাতে পারি। চলুন দেরি না করে আজ থেকেই শুরু করি পরিবেশের উন্নয়ন। আমাদের ওয়েবসাইটের কোন লেখা যদি আপনাদের ভালো লাগে বা উপকারে আসে তবে তা শেয়ার করে আমাদের উৎসাহ দেয়ার অনুরোধ রইলো পাশাপাশি নিয়মিত আমাদের সাইট ভ্রমন করার আমন্ত্রন রইলো। ধন্যবাদ।

ট্যাগ গুলো

মতামত যোগ করুন

মতামত দিতে ক্লিক করুন

error: দুঃখিত, অনুলিপি করা যাবে না ! পরে এই কন্টেন্ট প্রয়োজন হলে আপনার সামাজিক অ্যাকাউন্টের সাথে ভাগ করুন।