নিবন্ধ

বাংলাদেশের কোন টাকা তৈরির খরচ কত জেনে নিন

টাকা

নতুন টাকা হাতে পেলে আমরা সবাই খুশি হই । অনেকে নতুন টাকা সহজে খরচ করতে চায় না, নিজের কাছে জমিয়ে রাখতে চায় । আর বাংলাদেশ ব্যাংককেও প্রতিবছর নতুন চাহিদা সামাল দিতে ও পুরানো নষ্ট হয়ে যাওয়া টাকার প্রতিস্থাপন করতে প্রচুর পরিমান নতুন টাকা ও পয়সা তৈরি করতে হয় । আর এসব নোট ও পয়সা তৈরি করতে খরচ হয় মোটা অংকের টাকা । তবে বিভিন্ন দামের এই নোট ও পয়সাগুলি তৈরি করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কত টাকা খরচ হয় তা আমরা অনেকেই জানিনা । তাই যারা বিষয়টি জানেননা তাদের জন্য এখানে আমরা নোট ও ধাতব পয়সা তৈরির খরচ তুলে ধরছি ।

কাগজের নতুন টাকা তৈরির খরচ:

২ টাকার নোট: ২ টাকার প্রতিটি নোট তৈরির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে খরচ করতে হয় ১.৬০ ৳।

৫ টাকার নোট: ৫ টাকার একটি নোট তৈরি করতে খরচ হয় ২.১২ ৳।

১০ টাকার নোট: ১০ টাকার প্রতিটি নোট তৈরির জন্য গুনতে হয় ২.৩৫ ৳।

২০ টাকার নোট: ২০ টাকার নোট তৈরিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের খরচ হয় ২.৬৫ ৳।

৫০ টাকার নোট: ৫০ টাকার প্রতিটি নোট তৈরির পেছনে খরচ ২.৭৬ ৳।

১০০ টাকার নোট: ১০০ টাকার প্রতিটি নোট তৈরির খরচ ৪.৭৮ ৳।

৫০০ টাকার নোট: ৫০০ টাকার প্রতিটি নোট তৈরির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে খরচ করতে হয় ৬.৪০ টাকা।

১০০০ টাকার নোট: ১০০০ টাকার প্রতিটি নোট তৈরির পিছনে বাংলাদেশ ব্যাংকের খরচ হয় ৭.৪৫ টাকা ।

এবার আসুন দেখে নেয়া যাক ধাতব মুদ্রা তৈরি খরচ।

নতুন ধাতব পয়সা তৈরির খরচ:

১ টাকার ধাতব পয়সা: ১ টাকার প্রতিটি ধাতব পয়সা তৈরি করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের খরচ হয় ১.০২ ৳।

২ টাকার ধাতব পয়সা: ২ টাকার প্রতিটি ধাতব পয়সা তৈরির জন্য খরচ হয় ১.২৭ ৳।

৫ টাকার ধাতব পয়সা: ৫ টাকার পয়সা তৈরির পিছনে খরচ হয় ২.০৮ ৳।

২০১৯ সালের হিসেবে প্রতিটি কাগজের নোট এবং ধাতব পয়সা তৈরির পিছনে উপরোক্ত পরিমান খরচ হয় । মাঝে মধ্যে উপকরনের দামের উপর নির্ভর করে খরচ কিছুটা কম বেশি হতে পারে । তবে দিনে দিনে টাকা তৈরির খরচ বাড়ছে । ফলে জনগনের করের টাকা থেকে একটি বড় অংশ আবার টাকা তৈরির পিছনেই খরচ হয়ে যাচ্ছে ।

বাংলাদেশের টাকা কোথায় ছাপানো হয় ?

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগি প্রতিষ্ঠান টাকশালে (দ্যা সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস) এসব টাকা তৈরি করা হয় । তবে পয়সা তৈরির মূল্যবান ধাতু এবং কাগজের নোট তৈরির জন্য উন্নতমানের দামি কাগজ, কালি, বিশেষ নিরাপত্তা সুতা, রং ইত্যাদি প্রায় সব কিছুই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় । আর উন্নতমানের মূল্যবান এসব উপকরন দিয়ে টাকা বানাতে তাই খরচও হয় অনেক । আবার অনেক সময় বিদেশ থেকেও টাকা বানিয়েও আনা হয় ।

আর তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সবসময় জনগনকে যত্ন সহকারে টাকা ব্যবহারের জন্য অনুরোধ করা হয় । কারন অযত্ন, অবহেলায় বা অসচেতনভাবে টাকা ব্যবহার করার ফলে টাকাগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় । ফলে আবারও প্রচুর টাকা খরচ করে নতুন টাকা বানাতে হয় । একটি টাকা যত বেশিদিন টিকবে, টাকা উৎপাদনের খরচও তত কমবে । তাই আসুন আমরা যত্ন সহকারে টাকা ব্যবহার করি ।

আশা করি টাকা তৈরির খরচ নিয়ে আমাদের এই লেখাটি আপনাদের ভালো লেগেছে । আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করি বিভিন্ন নতুন ও গুরুত্বপূর্ন তথ্য আপনাদের জানাতে । লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করার অনুরোধ রইলো । আর নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইটে ভ্রমন করার আমন্ত্রন রইলো ।

ট্যাগ গুলো

মতামত যোগ করুন

মতামত দিতে ক্লিক করুন

error: দুঃখিত, অনুলিপি করা যাবে না ! পরে এই কন্টেন্ট প্রয়োজন হলে আপনার সামাজিক অ্যাকাউন্টের সাথে ভাগ করুন।