বাংলা সংবাদ

বাংলাদেশে মাদক বিক্রি করে মায়ানমারের আয় বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা: RAB মহাপরিচালক

RAB এর মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ

বাংলাদেশে মাদকের বিস্তার ও এর ফলে হওয়া দেশের আর্থিক ক্ষতি নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন RAB এর মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ। তিনি বলেন, “দেশে মাদকের বিরুপ প্রভাব ভয়াবহ আকার ধারন করেছে।”

মাদক নিয়ন্ত্রন সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর হিসাব মতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গড়ে প্রতিবছর ১ লাখ কোটি টাকার মাদক বাংলাদেশে ঢুকছে। মূলত মায়ানমার এবং ভারত থেকেই বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি মাদক প্রবেশ করে। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি মাদক আসছে মায়ানমার থেকে, যার আর্থিক মূল্য বছরে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা! এরপর ভারত থেকে বছরে ৩০ হাজার কোটি টাকার মত মাদকদ্রব্য চোরাইপথে দেশে আমদানি করছে মাদক ব্যবসায়িরা। এছাড়া আরো ১০ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকার মতো মাদক বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে আসছে এবং প্রতি বছর এর পরিমান ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিভিন্ন সূত্রমতে করা সরকারের হিসাব অনুযায়ি বর্তমানে দেশে ৭০-৮০ লাখ লোক সম্পূর্ন মাদকাসক্ত! যা দেশের মোট জনসংখ্যার অন্তত ৪%। অর্থ্যাৎ প্রতি ১০০ জন লোকের মধ্যে কম করে হলেও ৪ জন মাদকাসক্ত লোক রয়েছে। এছাড়া পুরোপুরি মাদকাসক্ত না হলেও প্রায়ই মাদকসেবন করে এমন লোক করেছে আরো কয়েকলাখ।

31 BD Newspaper, Tv, Radio & Service website in 1 App free download

RAB এর মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ বলেন, “দেশে ৭০-৮০ লাখ লোক মাদকাসক্ত। আমরা হিসাব করে দেখেছি প্রতি বছর অন্তত ১ লাখ কোটি টাকা মাদকের পিছনে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ব্যবসায়ি ও প্রবাসি শ্রমিকরা বহু কষ্ট করে এই টাকাগুলো আয় করেন অথচ এই টাকাগুলো এভাবে অন্যদেশের পকেটে চলে যাচ্ছে।”
“আমাদের দেশের ব্যবসায়িরা বহু কষ্ট করে মাত্র কয়েকশো কোটি টাকার পন্য মায়ানমারে বিক্রি করতে পারে আর তারা আমাদের কাছে এসব বিক্রি করে বহুগুন বেশি টাকা পকেটে ভরছে।”

যুবসমাজের কাছে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, “আমরা কেন এক লাখ কোটি টাকা নষ্ট করবো? কেন আমরা মায়ানমার ও ভারতের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকার মাদক কিনবো? ইয়াবা খাওয়ার সুযোগ থাকার পরও মায়ানমারের যুবসমাজ তো ইয়াবা খায়না, তোমরা কেন খাও? যুবসমাজের কাছে আমার প্রশ্ন রইলো।”

তিনি আরো বলেন, “দেশে যেন মাদক ঢুকতে না পরে সেজন্য আমরা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছি, অপরাধীদের গ্রেফতার করছি কিন্তু দেশের জনগনই যদি এসব কিনে আনে তাহলে আমরা কয়জনকে আটকাবো? দায়িত্ব কি শুধু আমাদের? জনগনেরও দায়িত্ব আছে, অভিভাবকদের দায়িত্ব আছে। সন্তান কি করে, কাদের সাথে মিশে তা খেয়াল রাখুন। হাত খরচের নামে সন্তানকে অতিরিক্ত টাকা দিবেননা।”

জংগিবাদের সাথে মাদকের তুলনা করে তিনি বলেন, “মাদকও জংগিবাদের মতোই ভয়াবহ। সোশাল মিডিয়ার কারনে যেমন গুজব আর জংগিবাদ ছড়িয়েছে তেমনি অভিভাবকদের অবহেলার কারনে মাদক এত ছড়িয়েছে।”

চট্টগ্রামের ভেটেরিনারি আ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন। এছাড়া তিনি জংগিবাদ বিষয়েও কথা বলেছেন।

ট্যাগ গুলো

মতামত যোগ করুন

মতামত দিতে ক্লিক করুন

error: দুঃখিত, অনুলিপি করা যাবে না ! পরে এই কন্টেন্ট প্রয়োজন হলে আপনার সামাজিক অ্যাকাউন্টের সাথে ভাগ করুন।