নিবন্ধ

বিদেশে উচ্চশিক্ষা এবং আমাদের প্রস্তরযুগীয় চিন্তাধারা

বিদেশে উচ্চশিক্ষা এবং আমাদের প্রস্তরযুগীয় চিন্তাধারা :
অনেকদিন থেকেই এই বিষয়ে লিখতে চেয়েছিলাম । চেয়েছিলাম ইংলিশে লিখতে কিন্তু বাংলায় বোধোদয় বেশি ভালো হবে । আজকের বিশ্বে উচ্চশিক্ষার পরিধি অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে । একটা সময় ছিল যখন লোকজন কেবলই ইংলিশ মাতৃভাষা এমন দেশগুলোতে পড়তে যেত । পৃথিবীর দেশগুলোর উন্নয়নের সাথে সাথে এই ধারণারও পরিবর্তন হয়েছে । উচ্চশিক্ষার জন্য আজকাল এশিয়া মহাদেশের দেশগুলোর অগ্রগতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য । অর্থনৈতিক দিক থেকে চিন্তা করলে দেখা যায়যে অন্য মহাদেশের দেশগুলোর থেকেও এশিয়া মহাদেশের দেশগুলোর উন্ননতি সবক্ষেত্রেই উল্ল্যেখযোগ্য । শিক্ষাক্ষেত্রে সবচে বেশি উন্নতি হয়েছে এই সব দেশগুলোতে । বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাংকিং দেখলে বুঝা যায় যে এশিয়া মহাদেশ কত ভালো করতেছে । বিশ্বের সেরা ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শতকরা হিসেবে প্রায় 25% বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে এশিয়ান । এইটা তো গেলো রাংকিং এর বিষয় । এইবার দেখা যাক আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের কি রকম ধারণা এশিয়া মহাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে । কেমন ধারণা কয়েকটা দেশ ছাড়া । মনে করুন, আপনি চীন কিংবা মালয়েশিয়া এর কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফুল স্কলারশিপ এ পড়াশুনা করে দেশে ফিরলেন । কিছুদিন পর যখন চাকরির পিছনে ছুটবেন তখনই শুনবেন নানা রকম কথা যেমন – দেশের ইউনিভার্সিটি থাকতে চীন থেকে কেন পড়লেন? আমাদের দেশের ভার্সিটি গুলোতো অমুক দেশ থেকেও ভালো । আবার অনেকে বলবে এত দেশ থাকতে অমুক দেশ কেন ? আরো কত কি । আসলে কি জানেন ব্রিটিশরা আমাদের শাসন করেছে ১৫০ বছরেরও বেশি । তাই এইসব সাদা চামড়াওয়ালা মানুষগুলোর উপর আমাদের এক আবেগ সৃষ্ঠি হয়ে আছে । আমাদের কাছে তাই অন্য দেশের এবং ঐসব দেশের ইউনিভার্সিটিগুলোর দাম নেই । এইবার আসুন আরো একটু মূল্যবান কথায় ।

আমাদের দেশ থেকে প্রতিবছরেই অনেক ছাত্রছাত্রী বিদেশে পড়তে যায় । কিন্তু জানেন কি তাদের মধ্যে কয়জন বিদেশে ভালো করে পড়াশুনা করে । আমাদের দেশের শিক্ষার যে অবস্থা সিস্টেম করে দিয়েছে এই অবস্থা থেকে বাইরে পড়তে গেলে
লোকজনকে কত দুর্ভোগ পোহাতে হয় কেউই তা বলে না । আমাদের দেশে দেখবেন অমুকের সিজিপিএ এত – এই রকম আরো
অনেক কথা প্রচলিত । কিন্তু বাইরে থেকে পড়াশুনা করে আসলে সিজিপিএ নিয়ে কেউ ঢোল পিটান না । কারণ পৃথিবীর সবদেশেরই
শিক্ষা ব্যবস্থায় রেজাল্ট থেকে রিসার্চের দাম অনেক বেশি । তারপর আরো একটি বিষয় আছে । যারা এশিয়া মহাদেশের দেশগুলোকে পছন্দ করেন না, এদের অনেকেই কিন্তু ওই সব সাদা চামড়াওয়ালার দেশে গিয়ে গাধার মতো পার্ট-টাইম করে নিজের পড়ার খরচ যোগান । আবার কেউ কেউ আছেন মা-বাবার টাকার উপর পড়াশুনা করে আসেন ।

কিন্তু মূল পার্থক্য একটি জায়গায় চলে আসে । আর তা হচ্ছে জ্ঞানের পরিধি । যে ছেলেটা অথবা মেয়েটা স্কলারশিপ নিয়ে পড়াশুনা করে সে কিন্তু সবসময় পড়াশুনা নিয়ে থাকে । এই জন্য দেখবেন কেউ অনেক নামি জায়গা থেকেও পাস করেও গবেষণা করেন না, আবার অনেকেই এইসব ছোট খাটো জায়গা অথবা আপনাদের অপছন্দের জায়গা থেকে পাস করেও অনেক ভালো গবেষণা করছেন ।
আমাদের চারপাশের অনেক পরিবর্তন হচ্ছে, হবে । এমনকি আপনার হাতের মুঠোফোনেটিও বদলে যাচ্ছে মূহর্তের মধ্যে ।
কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো একটি আর তা হলো আমাদের প্রস্তরযুগীয় এহেন মানুষিকতার আজও পরিবর্তন সাধিত হয় নি ।
সবার মধ্যে পসিটিভ পরিবর্তন আসুক, নির্দিষ্ট কোনো দেশ নয় জ্ঞানের মূল্যায়ন হোক ।

ট্যাগ গুলো
error: দুঃখিত, অনুলিপি করা যাবে না ! পরে এই কন্টেন্ট প্রয়োজন হলে আপনার সামাজিক অ্যাকাউন্টের সাথে ভাগ করুন।