নিবন্ধ বাংলা সংবাদ

মাত্র ৫ বছরে ৪০ কোটি টাকার মালিক আল্লামা শফির ছেলে আনাস মাদানি!

আলোচিত ধর্মিয় সংগঠন হেফাজতে ইসলামির আমির আল্লামা আহমদ শাহ শফির ছেলে আনাস মাদানি মাত্র ৫ বছরেই ৪০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন।

মতিঝিলের শাপলা চত্বরের মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষন করে হেফাজতে ইসলাম। শুরুতে সরকারের সাথে ব্যাপক বিরোধ থাকলেও পরবর্তিতে সরকারের সাথে বেশ ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে হেফাজতে ইসলামির।

প্রথমদিকে সরকারকে নাস্তিকদের দোসর বলে আখ্যা দিলেও পরে সরকারকে ইসলামের সেবক, আওয়ামিলীগ ভালো, ছাত্রলীগ ভালো বলে আখ্যা দেন হেফাজতের আমির আল্লামা শফি।

এমনকি স্বাধীনতার পর থেকে দাবি করে আসলেও বিএনপি-জামাত সহ কোন সরকারই কাওমি মাদ্রাসাকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না দিলেও বর্তমান আওয়ামীলিগ সরকার সবাইকে অবাক করে কাওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স সম-মানের সার্টিফিকেট হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং এতে খুশি হয়ে হেফাজতও সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে এক বিশাল শোকরানা মাহফিলের আয়োজন করে সেখানে শেখ হাসিনাকে কাওমি জননী উপাধি দেয়।

ধারনা করা হয় যে শাপলা চত্বরের সমাবেশের পর থেকেই সরকারের সাথে গোপন সমঝোতা করে চলে হেফাজতে ইসলাম। বিনিময়ে সরকারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকে হেফাজতের নেতারা। আর সরকারের কাছ থেকে টাকা পাওয়াত কারনেই এত দ্রুত এত সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে ধারনা করা হয়।

আল্লামা শফির পুত্র আনাস মাদানি বিগত ৫ বছরে প্রায় ৪০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। চট্টগ্রামে তিনি ২০ কাঠা জমি ক্রয় করেছেন যার প্রতি কাঠার মূল্য ৪০লাখ টাকা। এতএব শুধু জমির মূল্যই দাড়ায় ৮ কোটি টাকা। যেখানে তিনি আরো কয়েক কোটি টাকা খরচ করে ৫টি বহুতল ভবন নির্মান করছেন। এছাড়া রাংগুনিয়া ও হাটহাজারিতে আরো অন্তত দুইটি স্থানে জমি ক্রয় করেছেন। এছাড়া তিনি আরো কিছু ব্যবসাও প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং ব্যাংকেও তার টাকা জমা রয়েছে। সব মিলিয়ে তার সম্পদের পরিমান প্রায় ৪০ কোটি টাকা। যার সবই হয়েছে বিগত ৪/৫ বছরে অথচ বিগত কয়েক বছর আগেও তার বলতে গেলে তেমন কোন সম্পদ ছিলোনা।

এছাড়া আরো জানা যায় সরকার নিয়ম বহির্ভূত ভাবে বাংলাদেশ রেলওয়ের ১৫ কাঠা জমি আল্লামা শফিকে দিয়েছে।

কাগজে কলমে আল্লামা শফি হেফাজতের আমির হলেও বয়স জনিত অসুস্থতার কারনে তিনি কোন দায়িত্বই পালন করতে পারেননা। মূলত তার ছেলে আনাস মাদানি এবং হেফাজতের কয়েকজন শীর্ষ নেতা পিছন থেকে সংগঠনের সব কিছু পরিচালনা করেন।

সংগঠনের সমস্ত আর্থিক হিসাব, মাদ্রাসা পরিচালনা ও যাবতীয় লেনদেন তারাই করে থাকেন। এছাড়া হেফাজতে ইসলামকে কেউ অনুদান দিলে সেসব টাকাও তাদের হাতেই থাকে।

মাত্র ৫ বছরে ৪০ কোটি টাকা (অর্থ্যাৎ প্রতি মাসে গড়ে ৬৭ লাখ টাকা) কিভাবে তিনি আয় করলেন তা অনেকের কাছেই বিস্ময়ের বিষয় হয়ে দেখা দিয়েছে। তবে সরকারের সাথে যে হেফাজতের একটা সমঝোতা হয়েছে তা অনেকটাই নিশ্চিতভাবে ধারনা করা যায়। এবছর সরকারি খরচে হেফাজতের ৪০জন নেতা হজ পালন করেছেন যার ভিতর আল্লামা শফির ছেলে আনাস মাদানিও ছিলেন।

ধর্মিয় আবেগের কারনে দেশ বিদেশ থেকে অনেকেই হেফাজতে ইসলাম এবং হাটহাজারি মাদ্রাসায় প্রচুর টাকা পয়সা দান করে থাকেন তবে এসব অর্থের কখনো হিসাব পাওয়া যায়না।

শাপলা চত্বরের সমাবেশের পরের বছর ওমরা হজ করার জন্য বিভিন্ন লোকজন আহমদ শফিকে ৭৫ লাখ টাকার মতো দান করেন অথচ ওমরা হজে যেতে ১লাখ টাকাই যথেস্ট।
প্রতি বৃহস্পতি এবং শুক্রবার কয়েক লাখ টাকা অনুদান পাওয়া যায় তবে এত টাকা কিভাবে কোথায় খরচ হচ্ছে তা জানেনা মাদ্রাসার সাধারন শিক্ষার্থীরা।

এছাড়া শাপলা চত্বরে সমাবেশের আগের দিন আহমেদ শফি লালবাগ মাদ্রাসায় অবস্থান করেছিলেন। সেদিন লোকজন লাইন ধরে হেফাজতের আমির আহমদ শফিকে প্রচুর টাকা দান করেন। সেখান থেকে দুই বস্তা টাকা নিয়েছিলেন আহমেদ শফি। বাকি টাকা অন্য নেতারা গ্রহন করেন এবং কিছু টাকা সমাবেশের জন্য খরচ করা হয়। শুধু ঐ একদিনেই অন্তত কয়েক কোটি টাকা পেয়েছিলেন আহমেদ শফি।

এছাড়া সমাবেশের পর আহত এবং নিহতদের জন্যও লোকজন হেফাজতে ইসলামকে প্রচুর টাকা অনুদান দেয় কিন্তু সেখান থেকে আহত এবং নিহতদের পরিবারকে ১ টাকাও দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

মূলত শাপলা চত্বরের সমাবেশের পর থেকে হেফাজতে ইসলামকে ব্যবহার করে হেফাজতের শীর্ষ নেতারা এবং আল্লামা শফি ও তার পরিবারের লোকজন প্রচুর ধন-সম্পদের পাহাড় গড়েছেন যার মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন আহমদ শফির ছেলে আনাস মাদানি।

ট্যাগ গুলো

মতামত যোগ করুন

মতামত দিতে ক্লিক করুন

error: দুঃখিত, অনুলিপি করা যাবে না ! পরে এই কন্টেন্ট প্রয়োজন হলে আপনার সামাজিক অ্যাকাউন্টের সাথে ভাগ করুন।