নিবন্ধ

মানুষ

মানুষ এর দৈহিক গঠন

মানুষ কি ? কিভাবে পৃথিবীতে মানুষের বিস্তার ঘটলো ? মানুষ এর দৈহিক গঠন সহ মানুষকে নিয়ে বিভিন্ন তথ্য নিয়ে এই নিবন্ধটি সাজানো হয়েছে । চলুন তাহলে জেনে নেই নিজের সম্পর্কে ।

মানুষ কি ?

মানুষ পৃথীবিতে থাকা অন্য সকল প্রানীর মতোই একটি প্রানী ।
মানুষ নিজেরাই দাবি করে থাকে যে মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব ।
অবশ্য এই দাবিটি অযৌক্তিক নয় ।বাস্তবিক অর্থেই মানুষ পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর, বুদ্ধিমান ও প্রভাবশালী জীব।
মানুষের রয়েছে বোঝার এবং চিন্তা করার অসাধারন ক্ষমতা যা অন্য সকল প্রানীর চেয়ে উন্নত যা মানুষকে সৃষ্টিজগতের সেরা জীব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে ।

পৃথীবিতে মানুষ এর আবির্ভাব –

কিভাবে পৃথীবিতে মানুষের যাত্রা শুরু হলো বা কিভাবে এই বিশ্বে প্রথম মানুষ সৃষ্টি হলো সেটা তা নিশ্চিতভাবে এখনো প্রমানিত নয় ।
ইসলাম ধর্ম মতে, আল্লাহ তাআলা সরাসরি মানুষ সৃষ্টি করে পৃথিবিতে পাঠিয়েছেন এবং সেখান থেকে ক্রমবর্ধমান ভাবে সারা পৃথীবিতে মানুষের বিস্তার ঘটেছে ।
অপরদিকে বিখ্যাত বিজ্ঞানি ডারউইনের মতবাদ অনুযায়ি, মানুষ হলো বানরের একটি প্রজাতি । সময়ের পরিক্রমায় নিজেদের প্রয়োজনে এবং প্রকৃতির সহায়তায় বানরের একটি প্রজাতি বিবর্তিত হতে হতে মানুষে পরিনত হয়েছে ।

মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম হোমো স্যাপিয়ান্স । মানুষ বা হোমো স্যাপিয়ান্স হলো হোমিনিনা উপজাতির একমাত্র বিদ্যমান সদস্য যা বানর পরিবারের অন্তর্গত হোমিনিনি গোত্রের একটি শাখা। মানুষের বৈশিষ্ট হল স্থির অবস্থান এবং গতিশক্তি; অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন এবং ভারী সরঞ্জাম ব্যবহারে সক্ষমতা; আকারে বৃহত্তর ও জটিল মস্তিষ্ক এবং সামাজিক প্রাণী।

মানুষ এর দৈহিক গঠন –

মানুষের তিনটি শ্রেনী রয়েছে । ছেলে, মেয়ে এবং হিজড়া । পৃথীবির প্রায় সকল মানুষই ছেলে অথবা মেয়ে- এই দুই শ্রেনীর অন্তর্ভুক্ত । খুবই অল্প সংখ্যক মানুষ হিজরার বৈশিষ্ট নিয়ে জন্মায় । তবে ছোটবেলায় সাধারনত এই দৈহিক পার্থক্য বোঝা যায়না । হিজরাদের বেলায় দৈহিক পার্থক্য ছাড়াও আচরনগত কিছু পার্থক্যও দেখা যায় । যাই হোক, মানুষের শরীর মূলত হাত, পা, ধড়, বাহু, ঘাড় এবং মাথা নিয়ে গঠিত । পা দিয়ে মানুষ হাটার কাজ করে আর হাত দিয়ে কোন কিছু ধরার কাজ করে থাকে । প্রাপ্তবয়স্ক একজন মানুষের শরীর গঠিত হয় প্রায় ১০০ ট্রিলিয়ন কোষ নিয়ে । এছাড়া একজন স্বাভাবিক মানুষের শরীরে ২০৬টি হাড় থাকে । মানুষের শরীরের মধ্যে সর্বাধিক সংজ্ঞায়িত সিস্টেমগুলি হল- স্নায়ুতন্ত্র, কার্ডিওভাসকুলার, সার্কোলেটরি, ডাইজেস্টিব, এ্যানডক্রিন , ইমিউন, ইন্টিগোমেন্টারী, লিমফেটিক, মোসকোস্কেলিটাল, প্রজনন, শ্বাসযন্ত্র এবং মূত্রনালি। তবে বানর থেকে বিবর্তিত হয়ে মানুষের বর্তমান রুপ এসেছে বলে ধারনা করা হলেও বানর বা ঐ জাতীয় প্রানীর মতো মানুষের কোন লেজ নেই ।
মানুষের শরীরের রক্তের মধ্যে একজনের থেকে অন্যজনের রক্তের ভিন্নতা রয়েছে ।

মানুষ এর খাদ্যাভাস –

মানুষ হলো একটি সর্বভুক প্রাণী । মানুষ পশু, পাখি, মাছ, শাক, সবজি, ফল, মূল সহ প্রায় সব ধরনের খাবার খেতে পারে । তবে ধর্মীয়, পরিবেশগত বা ব্যক্তিগত কারনে বিভিন্ন মানুষের মাঝে খাদ্য গ্রহনের পার্থক্য দেখা যায় । মানব গোষ্ঠীগুলির বেশিরভাগ নিরামিষভোজী থেকে মাংসভোজী হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে, মানুষের খাদ্যতালিকাগত বিধিনিষেধগুলির কারণে পুষ্টির অভাব জনিত রোগ হতে পারে; যাইহোক, স্থিতিশীল মানব গ্রুপ পুষ্টিকর সুষম খাদ্যের উৎস ব্যবহার করতে জেনেটিক বিশেষজ্ঞ এবং সাংস্কৃতিক কনভেনশন উভয় মাধ্যমে অনেক খাদ্য তালিকাগত অনুকরণে নিজেরা অভিযোজিত হয়েছে।

মানুষের দেহ নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ

১। হাড় সংখ্যা – ২০৬
২। পেশী সংখ্যা – ৬৩৯
৩। কিডনি সংখ্যা – ২
৪। দুধ দাঁতের সংখ্যা – ২০
৫। পাঁজড় সংখ্যা – ২৪ (১২ জোড়া)
৬। হৃদয়ের চেম্বার সংখ্যা – ৪
৭। স্বাভাবিক রক্তচাপ – ১২০/৮০
৮। রক্তের PH – ৭.৪
৯। মেরুদন্ড মেরুদন্ডের সংখ্যা – ৩৩
১০। নেক মধ্যে #Vertebrae সংখ্যা – ৭ টি
১১। মাঝারি কানের হাড়ের সংখ্যা – ৬
১২। মুখে হাড় #সংখ্যা – ১৪
১৩। স্কাল মধ্যে হাড় সংখ্যা – ২২
১৪। বুকে হাড় সংখ্যা – ২৫
১৫। অস্ত্র হাড় সংখ্যা -৬
১৬। মানুষের প্রতিটি কানের ভিতরে ৩টি করে হাড় থাকে। এগুলোর নাম হলঃ ম্যালিয়াস, ইনকাস, স্টেপিস (কানের বাহির থেকে ভিতরের দিকে সিরিয়াল অনুযায়ী।
মনে রাখার সূত্র: MIS।) ২ কানে মোট ৬ টি হাড় থাকে। এগুলোর মধ্যে স্টেপিস হল মানব দেহের ক্ষুদ্রতম হাড়।
১৭। মানুষের বাহুতে পেশীর সংখ্যা – ৭২
১৮। হৃদয়ের পাম্প সংখ্যা – ২
১৯। বৃহত্তম #অঙ্গ – চামড়া
২০। বৃহত্তম গ্রান্তি – লিভার
২১। ছোট কোষ – রক্তের কোষ
২২। বৃহত্তম #কোষ – ডিম সেল (ডিম্ব)
২৩। ছোট হাড় – স্ট্যাপ
২৪। সর্বাধিক #ধমনী – বারোটাবারোটা
২৫। আমাদের দেহের রক্তে একটি সমুদ্রের সম পরিমাণ লবন রয়েছে।
২৬। দৈনিক আমাদের হৃদপিণ্ড ১০০বার করে আমাদের দেহে রক্ত ঘুরিয়ে ফিরিয়ে প্রবাহিত করে।
২৭। আমাদের চোখের একটি পাপড়ি ১৫০ দিন বেঁচে থাকে। এর পর নিজে থেকেই ঝড়ে পড়ে।
২৮। আমাদের চোখের ওপর ভ্রুতে তে ৫০০ টি লোম আছে।
২৯। ১০০ বিলিয়ন এর অদিক নার্ভ সেল নিয়ে আমাদের দেহ গঠিত।
৩০। মানুষ চোখ খুলে হাঁচি দিতে পারেনা।
৩১। পাথর থেকে মানুষের দেহের হাড় ৪ গুণ বেশি শক্তিশালী।
৩২। আমরা যখন খাবার খাই আমাদের মুখে সে খাবারের স্বাদ ১০ দিন পর্যন্ত থাকে।
৩৩। মানুষ হাঁটুর ক্যাপ ছাড়া জন্মগ্রহণ করে এবং তা ২ থেকে ৬ বছর পর্যন্ত দেখা যায়না।
৩৪। মানব শিশু বসন্ত কালে দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
৩৫। আমাদের চোখ সবসময় একই রকম থাকে কিন্তু কান ও নাক বৃদ্ধি পাওয়া কখনোই থেমে থাকেনা।
৩৬। আমরা জন্মগ্রহণ করি ৩০০ হাড় নিয়ে কিন্তু প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর আমাদের দেহে ২০৬ টি হাড় থাকে।
৩৭। আমাদের মাথার খুলি ২৬ ধরণের ভিন্ন ভিন্ন হাড় দিয়ে তৈরি।
৩৮। আমাদের হাতের নখে যেই পদার্থ আছে ঠিক সেই পদার্থ দিয়ে আমাদের চুল তৈরি হয়ে থাকে, ফলে হাত এবং চুল উভয়ই একই জিনিস তবে দুইটির ঘনত্ব আলাদা।
৩৯। অবাক হবেন না, আমরা যখন হাঁচি দেই তখন আমাদের শরীরের ভিতর সমস্ত ধরণের কাজ বন্ধ হয়ে যায় এমনকি হার্টবীটও থেমে যায়।
৪০। মানুষের দেহের সবচেয়ে শক্তিশালী পেশি হচ্ছে জিহ্বা।
৪১। একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ প্রতিদিন ৬ বার বাথরুমে যায়।
৪২। আমাদের মুখ থেকে পেটে খাদ্য পৌছাতে মাত্র ৭ সেকেন্ড সময় লাগে।
৪৩। প্রাপ্তবয়স্কদের থেকে শিশুদের মুখে যেকোন খাবারের স্বাদ থাকে বেশি।
৪৪। মানুষ হাঁচি দিলে যে বাতাস বের হয় তা প্রতি ঘণ্টায় ১০০ মাইল গতিতে বাহির হয়।
৪৫।মানব দেহের সবচেয়ে বড় হাড় হল উরুর হাড় (Thighbone)। এর নাম হল ফিমার।
৪৬। আমাদের শরীরের ক্ষুদ্রতম হাড় হল কানের হাড়।
৪৭। রাতের তুলনায় সকালে আমাদের দেহ লম্বা হয় দ্রুত।
৪৮।মুত্র প্রস্তুত হয় কিডনীতে। মুত্র হলুদ দেখায় বিলিরুবিনের জন্য।
৪৯। নার্ভের মাধ্যমে প্রবাহিত আবেগের গতি প্রতি সেকেন্ডে ১২৫ মিটার।
৫০। একজন সুস্থ মানুষের একটি হৃদ কম্পন সম্পূর্ণ হতে কত সময় ০.৪ সেকেন্ড ।

এই নিবন্ধটিতে আমরা মানুষ সম্পর্কিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি । ভালো লাগলে শেয়ার করে উৎসাহিত করার অনুরোধ রইলো ।

মতামত যোগ করুন

মতামত দিতে ক্লিক করুন

error: দুঃখিত, অনুলিপি করা যাবে না ! পরে এই কন্টেন্ট প্রয়োজন হলে আপনার সামাজিক অ্যাকাউন্টের সাথে ভাগ করুন।