নিবন্ধ

মৃত্যুর সাড়ে তিন হাজার বছর পরে যেকারনে তৈরি করা হয়েছিলো ফেরাউনের পাসপোর্ট!

মৃত্যুর সাড়ে তিন হাজার বছর পর ফেরাউনের পাসপোর্ট!

প্রাচীন মিশরের সম্রাট রামেসিসকে আমরা ফেরাউন নামেই চিনি (যদিও তিনিই ফেরাউন কিনা তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে)।
অবাক করা ঘটনা হলেও সত্য যে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর পূর্বে মারা গেলেও সম্রাট রমেসিসের বিদেশ ভ্রমনের জন্য পাসপোর্ট তৈরি করা হয় এবং সেই পাসপোর্ট দিয়ে তিনি বিদেশ ভ্রমনও করেছেন!

ফেরাউনের পাসপোর্ট তৈরির মূল কারন:

মূলত ফেরাউন বা রমেসিসের মমিটি মিশরের নিয়ন্ত্রনে থাকে। ১৯৭৪ সালে ফ্রান্সের বিখ্যাত লুভর জাদুঘর কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা তাদের জাদুঘরে ফেরাউনের মমিটি প্রদর্শন করবে। তারা মিশরীয় কর্তৃপক্ষের সাথে এই ব্যাপারে যোগাযোগ করে এবং মিশরীয় কর্তৃপক্ষও ফ্রান্সের অনুরোধে তাদের জাদুঘরে ফেরাউনের মমিটি প্রদর্শন করতে রাজি হয়। কিন্তু বাধা হয়ে দাড়ায় ফ্রান্সের একটি আইন।

ফ্রান্সের আইন অনুযায়ি তখন জীবিত বা মৃত যেকোন ব্যাক্তির ফ্রান্সে প্রবেশ করতে হলে পাসপোর্ট লাগতো। পাসপোর্ট ছাড়া ফ্রান্সে প্রবেশ করা ছিলো সম্পূর্ন নিষিদ্ধ।

ফলে মিশর সরকার সাড়ে তিন হাজার বছর আগে মারা যাওয়া ফেরাউন বা সম্রাট রমেসিসের জন্য একটি পাসপোর্ট ইস্যু করে এবং সেই পাসপোর্ট সাথে নিয়েই ফেরাউনের মমিটি ফ্রান্সে যায়।

ফেরাউন বা রমেসিস সম্রাট থাকা অবস্থাতেই মারা যায় তাই তার মমিটি ফ্রান্সের বিমানবন্দরে পৌছালে তাকে রাষ্ট্রপ্রধানদের মতো অভিবাদন জানানো হয় এবং সংবর্ধনা দেয়া হয়।

এভাবেই মৃত্যুর সাড়ে তিন হাজার বছর পর ফেরাউন মিশরীয় পাসপোর্ট নিয়ে ফ্রান্স ভ্রমন করে আসে!

মতামত যোগ করুন

মতামত দিতে ক্লিক করুন

error: দুঃখিত, অনুলিপি করা যাবে না ! পরে এই কন্টেন্ট প্রয়োজন হলে আপনার সামাজিক অ্যাকাউন্টের সাথে ভাগ করুন।