নিবন্ধ

ল্যাপটপের যত্ন নেয়ার কিছু টিপস

ল্যাপটপের যত্ন নেয়ার কিছু টিপস , ল্যাপটপ সমস্যা ও সমাধান

বর্তমানে আমরা অনেকেই ল্যাপটপ ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু প্রায়ই একটা সমস্যা দেখা যায় ল্যাপটপের ক্ষেত্রে তা হলো খুব দ্রুত ল্যাপটপ নষ্ট হয়ে যায় । ল্যাপটপ দ্রুত নষ্টের জন্য দায়ী আমাদের অসাবধানতা ও অসচেতনা । তাহলে কি এবার নিজেকে দোষারোপ করবেন? না। নিজেকে যাতে আর দোষ দিতে না হয় তাই আপনাদের সুবিধার্থে নীচে ল্যাপটপের যত্ন নেয়ার কিছু টিপস দেয়া হলোঃ

* ল্যাপটপের ধারে কাছে কখনো তরল কিছু রাখবেন না। যেমন- চা, কফি, দুধ, শরবত, লবণ পানি ইত্যাদি। গরম চা, কফি যাই খান না কেন তা ল্যাপটপ থেকে দূরে রাখুন আর নিতান্তই যদি রাখার প্রয়োজন পড়ে তবে ঢেকে রাখুন যাতে গরম ভাপ ল্যাপটপের কাছে না পৌঁছে।
* সব সময় ল্যাপটপে এ্যান্টিভাইরাস রাখবেন। মনে রাখবেন, ভাইরাস থেকে আপনার ল্যাপটপ কখনই নিরাপদ না আর তাই ভালো মানের যেকোনো এ্যান্টিভাইরাস ল্যাপটপে ইনস্টল করে নিন।
* ল্যাপটপ সবসময় চার্জে লাগিয়ে চালাবেন না । মাঝে মধ্যে চার্জে না লাগিয়েই চালাবেন । এতে ব্যাটারিটি কর্মক্ষম থাকবে ।
* যারা বেশি পরিমান টাইপিংয়ের কাজ করেন তারা একটি কিবোর্ড ও মাউস কিনে সেটি দিয়ে ল্যাপটপে টাইপিংয়ের কাজ করবেন । এতে ল্যাপটপের কিবোর্ড ও টাচপ্যাড বেশিদিন টিকবে ।
* কখনও ল্যাপটপের উপর খাবার রেখে খাবেন না। এতে খাবারের ছোট দানা আপনার কী-বোর্ডে অনেক সময় ঢুকে গিয়ে ধীরে ধীরে কী-বোর্ডের বাটন নষ্ট করে দিতে পারে।
* যখন আপনি ল্যাপটপ বন্ধ করবেন তখন লক্ষ্য রাখবেন যেন কোন ক্ষুদ্র জিনিসও ল্যাপটপের উপর না থাকে। যেমন কলম, পেন্সিল ইত্যাদি। দুই হাত দিয়ে ধরে ঢাকনা দিয়ে ঢাকুন। এক হাত দিয়ে ধরলে ল্যাপটপের উপর চাপ পড়ে।
* সরাসরি পোর্টেবল হার্ডডিস্ক থেকে মিডিয়া ফাইল প্লে না করাই ভালো। কেননা, এক্সটার্নাল ডিভাইসগুলোর ডাটা-আদান প্রদান করতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ শক্তির প্রয়োজন হয়; সেক্ষেত্রে ল্যাপটপের হার্ডডিস্কে কপি করে ব্যবহার করুন। একই নিয়ম পোর্টেবল সিডি-ডিভিডি রমের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
* কখনও ল্যাপটপ সরানোর প্রয়োজন হলে ল্যাপটপের মনিটর ধরে কোনদিন তা উঠাবেন না। এতে মনিটরের ডিসপ্লে নষ্ট হতে পারে।
* পাওয়ার সকেট থেকে কোনদিন কর্ড টান দিয়ে খোলা বা লাগানোর চেষ্টা করবেন না। এতে সকেট ভেঙ্গে যাবার সম্ভাবনা থাকে।
* কর্ড পারলে ট্যাপ দিয়ে আটকে রাখুন অথবা এমন কর্ড ব্যবহার করুন যাতে ল্যাপটপের কাজ শেষ হয়ে গেলে খুব সহজেই তা খুলে রাখা যায়। সবসময় চেয়ার থেকে কর্ড কিছুটা দূরে রাখুন যাতে আপনি চেয়ার নিয়ে নাড়াচাড়া করলেও আপনার পা অথবা চেয়ার কর্ডে না লাগে।
* কোন ডিভাইস যেমন মডেম, পেনড্রাইভ ঢুকাতে হলে তার উপযোগী পোর্টে ঢুকান। তার জন্য পোর্টের প্রতীক আর ডিভাইসের প্রতীক মিলিয়ে তারপর ঢুকান। প্রত্যেক ল্যাপটপের আলাদা পোর্ট আলাদা প্রতীক সম্পন্ন।
* ল্যাপটপে যেসব সিডি ব্যবহার করবেন তা অবশ্যই আলাদা ব্যাগে রাখুন আর যখন বের করবেন অত্যন্ত যত্ন সহকারে বের করুন। অনেক সময় সিডি থেকেও ল্যাপটপ নষ্ট হতে পারে। সিডি ব্যবহার করার সময় সিডির লেভেল চেক করে নিন।
সরাসরি।
* সূর্যের আলোতে ল্যাপটপ রাখবেন না। এতে ল্যাপটপ দ্রুত গরম হয়ে যায় ।
* অনেকে ল্যাপটপ গাড়িতে রেখে যায়। এই কাজ কোনদিন করবেন না। ল্যাপটপ গাড়ির তাপমাত্রার সাথে মানানসই না। বন্ধ গাড়ী রোদে থাকলে অনেক গরম হয়ে যায়।
* ল্যাপটপ নিয়মিত পরিষ্কার করুন। পরিষ্কার নরম কাপড় ব্যবহার করুন, কারণ ময়লা পড়ার কারণে পার্টস গুলো নষ্ট হয়ে ল্যাপটপ আর কাজ করেনা।
* ল্যাপটপের উপর কখনো ভারী জিনিষপত্র রাখবেন না। এমনকি বইও রাখবেন না।
* ল্যাপটপ সবসময় ল্যাপটপ ব্যাগে রাখবেন। অনেকে আজকাল ছোট ছোট ব্যাগে ল্যাপটপ বহন করে থাকে। এতে ব্যাগ ছিড়ে ল্যাপটপ পড়ে যাবার আশঙ্কা থাকে।
* প্রসেসরের উপর চাপ কমাতে অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম/সফটওয়্যার গুলো বন্ধ করে দিন বা আনইন্সটল করুন।
* ল্যাপটপ সব সময় একটি সমান্তরাল ও পরিষ্কার জায়গার উপর রেখে কাজ করবেন।
* মাঝে মাঝে পুরাতন টুথব্রাশ দিয়ে কী-বোর্ড ও অন্যান্য পার্টস পরিষ্কার করুন।
* সহজে বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে ল্যাপটপ রেখে কাজ করবেন। এবং অবশ্যই ফ্যানের নিচে বা এসি রুমে ল্যাপটপ ব্যবহার করুন। রান্নাঘরে বা এর আশেপাশে এবং তাপমাত্রা বেশি এমন স্থানে ল্যাপটপ চালাবেন না।
* প্রয়োজন না হলে ব্লুটুথ এবং ওয়াইফাই চালু করে রাখবেন না এবং ‘শাটডাউন’ ও ‘স্লিপের’ পরিবর্তে ‘হাইবারনেট’ অপশন ব্যবহার করুন। ‘হাইবারনেট’ হচ্ছে এমন একটি অবস্থায় চলে যাওয়া যা আপনার সে মুহুর্তের কাজগুলো একটি ফাইলে জমা রেখে আপনাকে এমন একটি স্টেটে (অবস্থায়) নিয়ে যাবে যা প্রায় বিদ্যুৎ ব্যবহার না করারই সমান। পরবর্তী সময়ে সিস্টেম রিজিউম করলে আপনাকে আপনার সকল কাজের প্রোগ্রেস ঠিক সেখানেই ফিরিয়ে দেবে যেখানে আপনি হাইবারনেট করেছিলেন। আপনি স্লিপ মোডও ব্যবহার করতে পারেন। এটি হাইবারনেট এর চাইতে দ্রুত গতিতে সিস্টেম রিজিউম করতে সক্ষম। কিন্তু এটি হাইবারনেটের চাইতে কিছুটা বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে থাকে। তাই ব্যাটারির চার্জ ধরে রাখতে ‘হাইবারনেট’ অপশনটিই অধিক কাজে দেয়।

ল্যাপটপ একটি দামী প্রযুক্তি পন্য । একবার ল্যাপটপ নষ্ট হয়ে গেলে সেটি ঠিক করতে অনেক টাকা প্রয়োজন হয় । আর দাম বেশি হওয়াতে চাইলেই যখন তখন নতুন ল্যাপটপ ক্রয় করা সম্ভব নয় । তাই একটি ল্যাপটপের দাম উসুল করতে হলে সেটি দীর্ঘদিন ব্যবহার করা প্রয়োজন । আর উপরে বর্নিত ল্যাপটপের যত্ন নেয়ার টিপস সমূহ মেনে চললে একটি ল্যাপটপ থেকে দীর্ঘদিন সেবা পাওয়া সম্ভব ।

ট্যাগ গুলো
error: দুঃখিত, অনুলিপি করা যাবে না ! পরে এই কন্টেন্ট প্রয়োজন হলে আপনার সামাজিক অ্যাকাউন্টের সাথে ভাগ করুন।