নিবন্ধ

শর্ট ফিল্ম বানাতে লক্ষ্য রাখবেন যেই বিষয়গুলো

শর্ট ফিল্ম শুটিং

শর্ট ফিল্ম বানাতে হলে কোন বিষয়গুলো বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা উচিত, শর্ট ফিল্ম বানানোর সময় খরচ নিয়ন্ত্রনের জন্য কি কি পক্রিয়া অনুসরন করবেন এরকম বিভিন্ন প্রয়োজনীয় বিষয়- যা শর্ট ফিল্ম বানানোর সময় কাজে দিবে তা এখানে আমরা FANCIM.COM এর পাঠকদের জন্য তুলো ধরবো । যারা শর্ট ফিল্ম বানাতে আগ্রহি তারা এই লেখাটি পড়ে বিভিন্ন প্রয়োজনিয় বিষয়গুলো জেনে নিতে পারেন ।

শর্ট ফিল্ম কি ?

শর্ট ফিল্ম বানানোর আগে আমাদের জানতে হবে শর্ট ফিল্ম কি । নামেই বোঝা যায় শর্ট ফিল্ম হলো ছোট ফ্লিম । সহজ কথায় কম সময়ের ব্যাপ্তি নিয়ে যে চলচিত্র ধারন করা হয় সেটিই শর্ট ফিল্ম । এখন বুঝতে হবে ফ্লিম কাকে বলে । যে কোন একটা কিছু ভিডিও করলেই সেটাকে ফ্লিম বলা যাবেনা । ফ্লিম বা চলচিত্র হওয়ার জন্য সেই ভিডিওটির মাঝে অবশ্যই কিছু বৈশিষ্ট থাকতে হবে । চলচিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট হলো এতে সংলাপের তুলনায় চিত্রায়ন বেশি থাকে । শুধু সংলাপ এটাতে প্রধান ভূমিকা পালন করেনা বরং অনেক কিছুই চিত্রায়নের মাধ্যমে তুলে ধরা হয় । চলচিত্রে ক্যামেরার কারুকাজের মাধ্যমে অনেক সাদামাটা বিষয়কে সুন্দর করে উপস্থাপন করা হয় । অনেক সময় অভিনয়ের চাইতেও ক্যামেরার সূচারু কাজ বেশি গুরুত্ব বহন করে । সিনেমায় অভিনয়ের চাইতেও কারিগরি কাজের প্রাধান্য বেশি । অপরদিকে নাটক হলো সংলার নির্ভর । নাটকে চিত্রায়নের চাইতে সংলাপ বেশি থাকে । এখানে কারিগরি কাজের প্রাধান্য কম । ঘটনার প্রায় পুরোটাই এখানে অভিনয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে হয় । মূলত এটাই হলো ফ্লিম এবং ড্রামা বা চলচিত্র ও নাটকের মধ্যেকার পার্থক্য । আর আকারে কম সময় নিয়ে যে ফ্লিম নির্মান করা হয় সেটাই শর্ট ফিল্ম

কম খরচে শর্ট ফিল্ম বানাতে হলে লক্ষ্য রাখতে হবে যে বিষয়গুলো –

আমাদের অনেকেরই স্বপ্ন থাকে ফ্লিম তৈরি করার । কিন্তু একটি পূর্নদৈর্ঘ্য ফ্লিম বানানো বিশাল খরচের ব্যাপার । তাই চাইলেও সব সময় সবার পক্ষে পূর্নদৈর্ঘ্য ফ্লিম বানানো যায় না । তাই ছোটখাটো বিষয়গুলোকে সবার সামনে তুলে ধরতে বিরাট ভূমিকা রাখে শর্ট ফিল্ম । এছাড়া সরাসরি ফ্লিম তৈরির আগে কয়েকটি শর্ট ফিল্ম তৈরি করলে অভিজ্ঞতাও অনেকটাই বাড়বে । কিন্তু খরচের কথা চিন্তা করে অনেকেই কাজটি করতে পারেননা । তাই কিভাবে কম খরচে শর্ট ফিল্ম বানাবেন সেই বিষয়ে আমার পরামর্শগুলো বিবেচনা করে দেখতে পারেন । চলুন তবে কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক-

* আগেই মনে মনে চিন্তা করে দেখুন কিভাবে আপনি সর্বনিন্ম খরচে কাজটি পরবেন । তারপর পরিকল্পনা অনুযায়ি বাজেট লিখে রাখুন এবং সেই বাজেটের ভিতরে কাজটি শেষ করার চেষ্টা করুন ।

* লোকেশন হিসেবে খোলামেলা, সবার জন্য উন্মুক্ত এমন জায়গা ব্যবহার করুন । টিকেট কেটে ঢুকতে হয় বা জায়গা ভাড়া নিতে হয় এমন স্থানে শুটিং যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন ।

* অভিনয়ের জন্য শিল্পি ভাড়া না করে বন্ধুবান্ধব ও পরিচিত মানুষদের কাজে লাগান । বন্ধুবান্ধব দিয়ে কাজ করালে আপনার অভিনয়ের জন্য শিল্পী ভাড়া করতে হবেনা । ফলে খরচের একটি বিরাট অংশ বেচে যাবে । তবে সব সময় বন্ধুদের দিয়ে ফ্রি কাজ করানোর চেষ্টা করবেন না । এতে সম্পর্ক নষ্ট হয় । তাই একেবারে ফ্রি কাজ করানোর বদলে অল্প পারিশ্রমিক প্রদান করুন বা কিছু খাওয়া- দাওয়ার আয়োজন করুন ।

* যথা সম্ভব কাছের লোকেশনে শুটিং করুন । দুরের লোকশনে গিয়ে শুটি করা বাড়তি খরচের ব্যপার পাশাপাশি দুরে অপরিচিত এলাকায় শুটিং করতে গেলে বিভিন্ন ঝামেলা পোহাতে হয় । আপনার বাড়ির পিছনেই যেই দৃশ্য ধারন করা যায় সেটা ধারন করতে ২০ টাকা রিক্সা ভাড়া দিয়ে কোথাও যাবার প্রয়োজন নেই । তাই সবসময় কাছের কোন লোকেশনে শুটিং।করুন । এতে খরচের পাশাপাশি সময়ও বাচবে ।

* সব সময় অভিজ্ঞ লোক প্রয়োজন নেই । এমন অনেক কাজ আছে যা করতে অভিজ্ঞতা না থাকলেও চলে । তাই সব কিছুতে অভিজ্ঞ লোক না খুজে কাজটি করার আগ্রহ আছে এমন কাউকে দিয়ে কাজটি করাতে পারেন ।

* সকাল সকাল শুটিং শুরু করুন । সকালে যত দ্রুত শুটিং শুরু করবেন আপনি তত বেশি সময় পাবেন আপনার কাজ করতে । এতে দেখবেন ৩ দিনের শুটিং দুই দিনে কিংবা দুইদিনের শুটিং হয়তো আপনি একদিনেই শেষ করে ফেলতে পারবেন । ফলে আপনার খরচ অবশ্যই কমে আসবে ।

* টিম ছোট করুন । টিম যথা সম্ভব ছোট রাখলে আপনার শর্ট ফিল্ম বানানোর খরচ স্বাভাবিক ভাবেই অনেকটাই কমে আসবে । দলের লোক কম থাকলে তাদের পিছনে খরচও কমবে ।

* কম অভিনেতা- অভেনিত্রী নিয়ে কাজ করুন । আপনি কম খরচে আপনার শর্ট ফিল্ম বানাতে চাইলে এমন গল্প নিয়ে কাজ করুন যেটাতে খুব বেশি অভিনয় শিল্পীর দরকার হবেনা । এই বিষয়টি আপনাকে গল্প নির্বাচনের সময়ই মাথায় রাখতে হবে । গল্প বাছাইয়ের সময়ই খেয়াল করে দেখুন আপনার গল্পটি ফুটিয়ে তুলতে কয়জন অভিনয় শিল্পীর প্রয়োজন পরতে পারে । সেই অনুযায়ি গল্প নির্বাচন করুন ।

* নতুনদের অভিনয়ের সুযোগ দিন । নতুন কাউকে কাজ করাতে ভয় পাবেননা । নতুনদের কাছ থেকেও কৌশলে ভালো কাজ আদায় করা যায় । তবে সেজন্য তাকে অবশ্যই কাজে আগ্রহি হতে হবে । কাজটি করার আগ্রহ আছে এমন নতুন লোককে কাজের সুযোগ দিন ।

* একজন মোটামুটি দক্ষ সহকারি জোগার করুন । ভালো একজন সহকারি আপনার কাজ অনেকটাই কমিয়ে দিবে ।

* দিনের আলোর পরিপূর্ন ব্যবহার করুন । দিনের আলোর সঠিক ব্যবহার করতে পারলে ক্যমেরায় ধারনকৃত দৃশ্য যেমন সুন্দর ও পরিষ্কার আসবে তার পাশাপাশি লাইটিংয়ের জন্যও খরচ করতে হবেনা ।

* দামী ক্যামেরা ব্যবহারের চিন্তা বাদ দিন । সাধারন মোটামোটি দামের ক্যামেরা দিয়েও বর্তমানে ভালো কাজ করা যায় । ক্যামেরা প্রযুক্তি এখন অনেক উন্নত ও সহজলভ্য হয়েছে । অল্প দামের ক্যামেরা দিয়েও ভালোমানের ভিডিও করা যায় ।

* এডিটিং করার জন্য ফ্রি সফটওয়্যার ব্যবহারর করতে পারেন । বর্তমানে অনেক ভালো ভালো ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার ফ্রিতেই পাওয়া যায় । যেগুলো দিয়ে আপনি অনেক ভালো এডিটিং করতে পারবেন । তাই সফটওয়্যারের জন্য বাড়তি টাকা খরচ না করে ফ্রি সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারেন । বা কম দামে লাইফটাইমের জন্য সফটওয়্যার কিনে নিতে পারেন ।

* অপ্রয়োজনীয় লাইটিং এবং মেকাপের পিছনে খরচ করবেন না। শুধু যতটুকু লাইটিং এবং মেকাপ না করলেই নয় ততটুকুই করুন ।

* সম্ভব হলে নিজেই ক্যামেরা পরিচালনা এবং ভিডিও এডিটিংয়ের কাজ করুন । যদি আপনি দেখেন যে আপনার বানানো ফ্লিমটির ক্যামেরা পরিচালনা ও ভিডিও এডিটিংয়ের কাজ আপনিই করতে পারবেন তাহলে আলাদা লোক দিয়ে কেন কাজ করাতে যাবেন ? নিজেই করে ফেলুন ।

* যেসব স্থানে অনুমতি নিয়ে শুটিং করতে হয় সেসব স্থানে অনুমতি নিয়েই শুটিং করুন অথবা ঐসব স্থানে শুটিং করা হতে বিরত থাকুন । অনুমতি না নিয়ে ঝামেলায় জড়াতে যাবেন না ।

* এক দিন বা দুইদিনের ভিতর শুটিং এর কাজ শেষ করার জন্য চেষ্টা করুন । মূলত শুটি এর পিছনেই একটা বড় অংশ খরচ হয়ে যায়, তাই শুটি যত দ্রুত শেষ করবেন ততই ভালো ।

* সব কিছু একদম নিখুঁত করার চেষ্টা করতে যাবেন না । সব সময় সবকিছু নিখুঁত করা জরুরী নয় আবার সম্ভবও হয়না । তাই একই দৃশ্য বারবার শুট না করে এবং একই কাজ বারবার না করে সময় ও অর্থ বাচান ।

* আপনার শর্ট ফিল্মটিতে খাবারের দৃশ্য থাকলে তা দুপুরের খাবারের সময় ধারন করে ফেলতে পারেন । তাহলে সময়ও যেমন বাচবে তেমনি খাবারের পিছনে বাড়তি খরচও হবেনা ।

* কেউ ভালো কাজ করলে তাকে অবশ্যই ধন্যবাদ জানান এবং তার ভালো কাজটির প্রশংসা করুন । আর কেউ খারাপ বা ভূল কাজ করলে প্রথমে তাকে বুঝিয়ে বলুন এবং শিখিয়ে দিন । তারপরও সে সংশোধন না হলে বিকল্প চিন্তা করুন ।

* কাজটি করার আগ্রহ নেই এমন কাউকে কাজে নিবেননা । এতে আপনার বোঝা বাড়বে ।

শর্ট ফিল্ম দিয়ে কিভাবে আয় করবেন ?

বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে বিক্রি করে আয় করতে পারেন । আর টিভিতে বিক্রি করতে না পারলেও বর্তমানে ইউটিউব বা ফেসবুকে আপনার শর্ট ফিল্ম প্রচার করে ভালো পরিমান আয় করা সম্ভব ।

আশা করি আমাদের পরামর্শগুলো মেনে কাজ করলে আপনি সহজেই কম খরচে সুন্দর এবং ভালো মানের শর্ট ফিল্ম বানাতে পারবেন । আমাদের লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করার অনুরোধ রইলো ।

মতামত যোগ করুন

মতামত দিতে ক্লিক করুন

error: দুঃখিত, অনুলিপি করা যাবে না ! পরে এই কন্টেন্ট প্রয়োজন হলে আপনার সামাজিক অ্যাকাউন্টের সাথে ভাগ করুন।