নিবন্ধ

শের-ই-মহীশূর

fancim.com

শের-ই-মহীশূর টিপু সুলতানের জীবন ঘিরেই ছিল বাঘ!

শের-ই-মহীশূর অর্থাৎ মহীশূরের বাঘ নামে পরিচিত ছিলেন টিপু সুলতান। ১৭৮২ সালের এ দিনে ৩২ বছর বয়েসে তিনি ভারতের মহীশুরের রাজা হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। কিন্তু টিপু সুলতানের সেনাপতি মীর সাদিকের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে ক্ষমতা গ্রহণের ১৭ বছরের মাথায় ১৭৯৯ সালে ব্রিটিশদের সঙ্গে যুদ্ধে তিনি নিহত হন।

টিপু সুলতানের পিতা হায়দার আলী ছিলেন মহীশূর রাজ্যের সেনাপতি। টিপুর মায়ের নাম ফকির-উন-নেসা। বলা হয়, একদা এক ফকিরের দোয়ায় তিনি পুত্রসন্তান লাভ করেন। ওই ফকিরের নাম ছিল টিপু। পরবর্তীতে সে ফকিরের নামেই টিপু সুলতানের নামকরণ করা হয়।
তবে শের-ই-মহীশূর উপাধিটা তাকে দেয় ব্রিটিশরা। তার অসাধারণ ক্ষিপ্রতা, দক্ষতা, বুদ্ধিমত্তা আর কৌশলপূর্ণ রাজ্য পরিচালনা দেখে মুগ্ধ হয় তারা। এ কারণে তাকে মহীশূরের বাঘ বলা হতো।
মহীশূরের স্থানীয় ভাষায় টিপু শব্দের অর্থ বাঘ। অবাক করার মতো বিষয় হলো, নামের অর্থের মতোই টিপু সুলতানের সামগ্রিক কাজের সাথে তার বাঘের সম্পর্ক ছিল।

ছোটবেলা থেকেই তিনি বাঘের গল্প শুনতে পছন্দ করতেন। কিশোর বয়সেই টিপু সুলতান বাঘ পুষতে শুরু করেন। তার রাজবাড়িতেও পোষা বাঘ ছিল। বিশেষ করে তার ঘরের দরজার সামনে বাঁধা থাকতো সেগুলো।
বাবার মৃত্যুর পর তিনি যখন সিংহাসনে আরোহণ করেন, তখন আগের সিংহাসনের পরিবর্তে তিনি যে নতুন সিংহাসনটি বানান, তার নাম দেন, ব্যাঘ্রাসন বা বাঘের আসন। কারণ আট কোণা ঐ আসনটির ঠিক মাঝখানে ছিল বাঘের একটি মূর্তি। আট ফুট চওড়া আসনটির রেলিংয়ের মাথায় বসানো ছিল সম্পূর্ণ সোনার তৈরি দশটি বাঘের মাথা, আর ওপরে ওঠার জন্য ছিল দুধারে রূপার তৈরি সিঁড়ি। আর পুরো ব্যাঘ্রাসনটাই ছিলো বাঘের শরীরের মতো ডোরাকাটা।
তার রাজ্যের প্রতীকও ছিল বাঘ। তার রাজ্যের পতাকায় কানাড়ি ভাষায় লেখা ছিল, বাঘই ঈশ্বর। তাই টিপু সুলতান বলতেন, ভেড়া বা শিয়ালের মতো দুশো বছর বাঁচার চেয়ে বাঘের মতো দুদিন বেঁচে থাকাও ভালো।
তার সমস্ত পোষাক ছিল হলুদ-কালো রঙে ছাপানো আর বাঘের শরীরের মতো ডোরাকাটা। তিনি যে তলোয়ার ব্যবহার করতেন তার গায়েও ছিল ডোরা দাগ এবং হাতলে ছিলো খোদাই করা বাঘের মূর্তি। তার ব্যবহৃত রুমালও ছিল বাঘের মতো ডোরাকাটা। তার রাজ্যের সমস্ত সৈনিকের পোষাকে থাকতো বাঘের ছবি। সৈন্যদের ব্যবহার্য তলোয়ার, বল্লম, বন্দুকগুলোর নলেও আঁকা থাকতো বিভিন্ন আকারের বাঘের প্রতিরূপ কিংবা মূর্তি।

একবার তিনি তার রাজ্যে নির্দেশ জারি করেন, প্রধান প্রধান সড়কের পাশের বাড়ির দেয়ালে যেন বাঘের ছবি আঁকা হয়।
টিপু সুলতান বিশ্বব্যাপী বিখ্যাত হন টিপুস টাইগাগের জন্য। এটি একটি খেলনা বিশেষ। তৎকালীন ইংরেজ সেনাপতি ছিলেন হেক্টর মুনরোর। ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে হেক্টর মুনরোর একমাত্র পুত্র সুন্দরবনের সাগরদ্বীপে বাঘশিকার করতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে নিহত হন।
টিপু সুলতান ছিলেন প্রচণ্ড ইংরেজবিরোধী। ফলে বাঘ আক্রমণে নিহত হওয়ার ঘটনা শুনে তিনি এতটাই খুশি হন যে, তিনি ওই বিচিত্র খেলনা তৈরি করেন। এ খেলনাটিতে ক্লকওয়ার্ক সিস্টেম ব্যবহৃত হয়। এ কারণে খেলনায় দম দিয়ে ছেড়ে দিলে এর সাথে লাগনো একটি অর্গান পাইপ থেকে রক্তহিম করা বাঘের গর্জন, সাথে এক ইংরেজের প্রচণ্ড গোঙানির আওয়াজ বের হতো।

ব্রিটিশবিরোধী টিপু সুলতান ব্রিটিশদের দাসত্ব গ্রহণ করেননি। তাই তিনি বাঘের মতোই যুদ্ধ করেন ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে। কিন্তু তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে তারই সেনাপতি মীর সাদিক। যার ফলাফক স্বরূপ ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিসর সাথে যুদ্ধে ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দে নিহত হন শের-ই-মহীশূর।

ট্যাগ গুলো

মতামত যোগ করুন

মতামত দিতে ক্লিক করুন

error: দুঃখিত, অনুলিপি করা যাবে না ! পরে এই কন্টেন্ট প্রয়োজন হলে আপনার সামাজিক অ্যাকাউন্টের সাথে ভাগ করুন।