নিবন্ধ

রান্নায় ঝুকিপূর্ন সিলিন্ডার গ্যাসের বিকল্প কয়েকটি উপায়

রান্নায় সিলিন্ডার গ্যাস , রান্না, রান্নার টিপস

বর্তমানে গ্যাস সল্পতার কারনে বাসাবাড়িতে রান্নার জন্য সরকারি লাইনের গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়না। ফলে বাড়িতে রান্নার জন্য অনেকেই সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করে থাকেন। সিলিন্ডার গ্যাস সব এলাকাতেই পাওয়া যায় এবং সহজে পরিবহন ও ব্যবহার করা যায় বলে এর ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে সহজলভ্য ও ব্যবহার সহজ হলেও এর অনেক ঝুকিও রয়েছে। অনেকসময় আমরা খবরে দেখতে পাই যে, সিলিন্ডার গ্যাস বিস্ফোরন হয়ে বাড়িতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটছে এমনকি অনেকসময় এলপিজি সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে মানুষও মারা যাচ্ছে। তাই এইখানে আমি আপনাদের জন্য ঝুকিপূর্ন এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের বিকল্প কিছু উপায় তুলে ধরছি, যা আপনারা কাজে লাগাতে পারেন।

* বৈদ্যুতিক চুলা: সিলিন্ডার গ্যাসের বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করতে পারেন। বর্তমানে অনেক দেশেই প্রচুর পরিমামে বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার হচ্ছে। আমাদের দেশেও অনেকে এর ব্যবহার করছেন। বৈদ্যুতিক চুলার ব্যবহার যথেস্ট সহজ এবং খরচও কম। বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ বিল কিছুটা বেশি আসবে তবে সিলিন্ডার গ্যাসের সাথে তুলনামূলক হিসাব করলে তখন আর এর খরচ বেশি হবেনা বরং অনেক ক্ষেত্রে কম খরচ হবে। বৈদ্যুতিক চুলাতেও শক খাওয়া বা শর্ট সার্কিট হওয়ার সম্ভবনা থাকে তবে এটি সিলিন্ডার বিস্ফোরন হওয়ার ঝুকির চাইতে অনেক অনেক কম।

* সৌর চুলা: সূর্যের আলো এবং তাপকে কাজে লাগিয়ে কাজ করে সৌর চুলা। সৌর চুলা যেমন নিরাপদ তেমনি এর জন্য কোন জ্বালানিও লাগেনা। ফলে সৌর চুলা ব্যবহার করলে নিরাপদে রান্না করার পাশাপাশি এর মাধ্যমে আপনার বিদ্যুৎ বিল বা গ্যাস সিলিন্ডার ক্রয়ের খরচও বেচে যাবে।

* বন্ধু চুলা: বন্ধু চুলা হলো মাটি বা সিমেন্ট দিয়ে তৈরি এমন এক চুলা যেটাতে সাধারনত কম জ্বালানি খরচ করে রান্না করা যায় এবং এই চুলায় ধোয়াও কম হয়। আর যেটুকু ধোয়া হয় তা পাইপের মাধ্যমে রান্নাঘরের বাইরে বেরিয়ে যায় ফলে রান্নাঘরও অনেকটাই পরিষ্কার থাকে। গ্রামে বা মফস্বলে একতলা বাড়িগুলোতে খুব সহজেই বন্ধুচুলা ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি ঝুকিপূর্ন এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের একটি সহজ বিকল্প।

* বায়োগ্যাস: আমার মতে সিলিন্ডার গ্যাসের সবচেয়ে ভালো বিকল্প হলো বায়োগ্যাস। যারা গরু-ছাগল পালান করেন বা যাদের খামার রয়েছে তারা চাইলে নিজস্ব বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করে দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা ভোগ করতে পারেন। ব্যায়োগ্যাসের মাধ্যমে রান্নার জন্য গ্যাসের চাহিদা পুরনের পাশাপাশি আপনার বাড়ির বিদ্যুতের চাহিদাও পুরন করা সম্ভব। ফলে গ্যাস এবং বিদ্যুতের জন্য আপনাকে সরকারের উপর নির্ভর করতে হবেনা। ফলে সরকার বা সরবরাহকারি প্রতিষ্ঠানগুলো গ্যাস এবং বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করলেও আপনার কোন সমস্যা হবেনা।

ব্যায়োগ্যাসের মাধ্যমে গ্যাস উৎপাদনের পাশাপাশি খুব সহজে বিদ্যুৎ উৎপাদনও করা যায়। ব্যায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের খরচও খুব বেশি নয়। আর এটি একবার স্থাপন করলে ৩০-৪০ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবেন এবং তারপর কিছু মেরামত করে এর মেয়াদ আরো বৃদ্ধি করতে পারবেন। ফলে খুব সহজেই এর পিছনে আপনার বিনিয়োগকৃত টাকা উঠে আসবে।

* কেরোসিনের স্টোভ: গ্যাস সিলিন্ডারের আরেকটি বিকল্প হতে পারে কেরোসিন চালিত স্টোভ। ১০-১৫ বছর আগেও এটি অনেকেই ব্যবহার করতেন। বর্তমানে এর ব্যবহার কিছুটা কমে আসলেও আপনি চাইলে গ্যাস সিলিন্ডারের বিকল্প হিসেবে এটি ব্যবহার করতে পারেন। তবে এটি সাশ্রয়ি হবে কিনা তাও চিন্তার বিষয় কারন জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পেলে এর পিছনে খরচও বেড়ে যাবে।

আপনি এটি পড়তে পারেন: রান্নায় সিলিন্ডার গ্যাস বেশিদিন ব্যবহারের উপায়

* এয়ার ফ্রাইয়ার: ঝুকিপূর্ন ও অধিক ব্যয় সম্পন্ন সিলিন্ডার গ্যাসের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন এয়ার ফ্রাইয়ার। এয়ার ফ্রাইয়ার একটি বিশেষ পদ্ধতিতে গরম বাতাসকে কাজে লাগিয়ে খাবার ভেজে থাকে। এয়ার ফ্রাইয়ার দিয়ে খাবার ভাজতে তেলও অনেক কম লাগে। ফলে এটি স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারি।

ট্যাগ গুলো

মতামত যোগ করুন

মতামত দিতে ক্লিক করুন

error: দুঃখিত, অনুলিপি করা যাবে না ! পরে এই কন্টেন্ট প্রয়োজন হলে আপনার সামাজিক অ্যাকাউন্টের সাথে ভাগ করুন।