নিবন্ধ

সোয়ারের গোস্তাভ: কল্পনাকে হার মানানো এক আর্টিলারি গান!

বিশ্বের বৃহত্তম আর্টিলারি সোয়ারের গোস্তাভ

আর্টিলারি হলো এমন এক যুদ্ধাস্ত্র যা শত্রুর উপর গোলা নিক্ষেপের কাজে ব্যবহৃত হয়। বাংলায় এটাকে আমরা কামান বলে চিনি। সমর জগতে একটা কথা প্রচলিত আছে যে, “আর্টিলারি হলো যুদ্ধের দেবতা”।

যাদের আর্টিলারি যত ভালো, তাদের যুদ্ধ জয়ের সম্ভবনা তত বেশি। আর তাই শক্তিশালি দেশগুলো সবসময় চেষ্টা করে অন্যদের চাইতে শক্তিশালি ও উন্নত আর্টিলারি বানাতে। আর এরই ধারাবিকতায় ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় এডলফ হিটলারের নেতৃত্বাধীন জার্মানি শত্রুদের শায়েস্তা করতে তৈরি করে এমন এক আর্টিলারি যা মানুষের কল্পনাকেও হার মানায়। অবাক করা সেই বিষ্ময়কর আর্টিলারিটি সম্পর্কে আজকে আপনাদের জানাবো।

আর্টিলারিটির নাম সোয়ারের গোস্তাভ। বিশ্বের বৃহত্তম আর্টিলারি| সোয়ারের গোস্তাভকে রেলওয়ে গানও বলা হয় কারন এটি শুধুমাত্র রেলওয়ে লাইনের উপর বসিয়েই বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া যেত। সড়ক পথে কোন রাস্তা দিয়ে এটিকে নিয়ে যাওয়া ছিলো এক কথায় অসম্ভব। কারন সোয়ারের গোস্তাভের ওজন ছিলো ১৩ লাখ ৫০ হাজার কেজি!!!😵

আর বিশাল এই আর্টিলারিটিকে রেল লাইনের মাধ্যমেও পূর্নাঙ্গ অবস্থায় নিয়ে যাওয়া যেত না। ফলে এটিকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে খুলে খুলে নিয়ে যাওয়া হতো এবং নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে সব যন্ত্রপাতিগুলো লাগিয়ে তারপর গোলা নিক্ষেপ করা হতো। এটিকে সম্পূর্ন ভাবে লাগিয়ে ফায়ার করার জন্য প্রস্তুত করতে ২৫০ জন সৈনিকের ৩ দিন সময় প্রয়োজন হতো!!!😵

জার্মানির তৈরি ৮০ সে.মি ব্যাসের সোয়ারের গোস্তাভই হলো পৃথীবির ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ব্যবহৃত সবচেয়ে বড় আর্টিলারি এবং একই সাথে সবচেয়ে ভারি শেল (গোলা) ফায়ার করতে পারা আর্টিলারি।

এর এক একটি গোলার ওজন ছিলো ৭ হাজার কেজি!!!😵
আর এর ফায়ারিং রেন্জ ছিলো ৪৭ কিলোমিটার। অর্থ্যাৎ ৭ হাজার কেজি ওজনের গোলাগুলো এটি ৪৭ কিলোমিটার দুরে উরিয়ে নিয়ে ফেলতে পারতো!!!😵
যখন এটি ফায়ার করা হতো তখন এর গর্জনে আকাশ-বাতাস কেপে উঠতো। আর যেখানে এর ৭ হাজার কেজি ওজনের গোলাগুলো বিস্ফোরিত হতো সেখানে কি অবস্থা হতো তা নিশ্চয় বুঝতেই পারছেন। তবে এটি একদিনে ১৪ রাউন্ড ফায়ার করতে পারতো।😞

মূলত ফ্রান্সের বিপক্ষে ব্যবহার করার জন্যই এটি তৈরি করা হয়েছিলো তবে এটি ব্যবহার করার আগেই ফ্রান্স জার্মানির কাছে হেরে যায়। ফলে এটি ফ্রান্সের উপর ব্যবহার করা হয়নি। পরবর্তিতে এটি সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়।

তবে যুদ্ধের শেষ দিকে জার্মানি যখন হারতে শুরু করে তখন তারা এই ভেবে ভীত হয়ে ওঠে যে, এই অস্ত্রটি শত্রুরা পেয়ে গেলে তারা এটি বানানো শিখে যাবে। তাই শত্রুরা যেন এমন কিছু বানাতে না পারে তাই তারা নিজেরাই এটি ধংস করে দেয়।

জার্মানি বরাবরই প্রযুক্তিতে উন্নত একটি দেশ। সামরিক প্রযুক্তিতেও তারা অনেক এগিয়ে। তাদের আবিষ্কৃত অনেক অস্ত্র এখনও মানুষকে অবাক করে। ঠিক তেমনই এক আবিষ্কার সোয়ারের গোস্তাভ। এটি যেমন জার্মানির ক্ষমতা ও দক্ষতাকে ফুটিয়ে তোলে তেমনি এর মাধ্যমে প্রকাশ পায় যে ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানি কতটা আক্রমনাত্বক হয়ে উঠেছিলো।

ট্যাগ গুলো

মতামত যোগ করুন

মতামত দিতে ক্লিক করুন

error: দুঃখিত, অনুলিপি করা যাবে না ! পরে এই কন্টেন্ট প্রয়োজন হলে আপনার সামাজিক অ্যাকাউন্টের সাথে ভাগ করুন।