নিবন্ধ

স্টার্টআপ ব্যবসায়ের আইডিয়া কে কিভাবে কাজে লাগাবেন?

স্টার্টআপ ব্যবসা

যখন আপনি স্টার্টআপ ব্যবসায় করবেন তখন নতুন আইডিয়া নিয়ে শুরু করতে হবে যার মাধ্যমে মানুষ তাদের সমস্যার সমাধান করতে পারবে । সেজন্য আপনার আইডিয়াকে সঠিক ভাবে কাজে লাগাতে হবে যেন তা মানুষের কাছে গ্রহনযোগ্য হয়। আপনার আইডিয়া কে পরবর্তী লেভেলে নিয়ে যাওয়ার বা পুরোপুরি কাজে লাগানোর জন্য কিছু স্টেপ অনুসরন করতে হবে।

১) স্টার্টআপ নিয়ে রিলিভেন্ট বা প্রাসঙ্গিক ইন্ড্রাস্টি বিশ্লেষণঃ

প্রথমত আপনাকে নিশ মার্কেট খুঁজে বের করতে হবে। আপনার টার্গেটে ইন্ড্রাস্টিতে বা কাস্টমারদের কিসের অভাব রয়েছে বা তারা কি সমস্যায় ভুগছে তা আপনাকে খুঁজতে হবে। আপনার টার্গেট ইন্ড্রাস্ট্রিতে এমন কি কোন সমস্যা রয়েছে যা এখনও সমাধান হয়নি? আপনার স্টার্টআপের আইডিয়া কি ঐ সমস্যার সমাধান করতে পারবে বা অবস্থার উন্নতি করতে পারবে কিনা তা দেখতে হবে। তাছাড়া আপনার স্টার্টআপ ব্যবসায়ের সাথে সম্পার্কিত যে ধরনের ওয়েবসাইট গূলো রয়েছে সেগুলোতে এড হলে সহজেই নিত্য নতুন তথ্যের মাধ্যমে নিজেকে আপডেট রাখা যায় বা অনেক কিছু জানতে পারবেন। যেমন- Techcrunch হল এমন একটি চমৎকার ওয়েবসাইট যেখানে টেক ওয়াল্ডের নতুন নতুন পন্য সম্পর্কে প্রতিনিয়ত নিউজ আপডেট বা শেয়ার করে। এটি আরোও নতুন নতুন স্টার্ট- আপ বা আসন্ন স্টার্ট- আপের পণ্য বা সেবা নিয়ে তথ্য দেয়।

২) আইডিয়াকে গুলো লিখুন এবং বিস্তৃত করুনঃ

যখন আপনি কাস্টমারেরে চাহিদা বুঝবেন বা যেই এরিয়া নিয়ে কাজ করতে বা উন্নত করতে চান সেগুলো নোট করতে হবে। তারপরে আপনার কাজের এরিয়া অনুসারে কোন ধাপের পর কোন ধাপ নিয়ে কাজ করবেন সেগুলো আগে থেকেই পরিকল্পনা করে ফেলতে হবে ।সবগুলো ধাপ সঠিক ভাবে করা হয়েছে কিনা তা অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। এক্ষেত্রে Evernote টুল আপনার ওয়েবপেইজ ,ডকুমেন্ট , ফাইল বা ছবি , প্রেজেন্টটেশন ইত্যাদি সংগ্রহ করে রাখতে সাহায্য করতে পারে ।

৩) প্রতিযোগিদের বিশ্লেষন :

প্রতিযোগিদের বিশ্লেষন হল সর্বোত্তম পন্থা যার মাধ্যমে আপনি আপনার কম্পিটিটরের অবস্থা বা আপনি ব্যবসায় কোথায় দাঁড়িয়ে আছে তা সহজেই বুঝতে পারবেন। তাছাড়া কম্পিটিটিভ অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে আপনি আরোও বুঝবেন যে আপনার কম্পিটিটর কিভাবে আপনার থেকে এগিয়ে আছে বা কোথায় আপনার উন্নতি করতে হবে বা গ্যাপ রয়েছে সেসব সম্পর্কে ধারনা দেয়।

৪) ব্যবসায়ের মডেলঃ

একটি স্টার্টআপ ব্যবসায়ের জন্য বিজনেস মডেল খুবই গুরুত্বপূর্ণ । যখন আপনি একটি বিজনেস মডেল তৈরি করে ফেলবেন তখন সহজেই বুঝতে পারবেন কোন কাজের পর কোন কাজ করতে হবে। সাধারনত নাইন বিল্ডিং বিজনেস মডেল অনেক বেশী কার্যকর মডেল হিসেবে বিবেচিত হয় যেখানে- কাস্টমার সেগমেন্ট, ভেল্যু প্রপোজিশন, চ্যানেল, কাস্টমার রিলেশনশীপ, রেভিনিউ স্ট্রিমস, কি রিসোর্সেস, ব্যান্ড ভেল্যু, কি পার্টনার বা কস্ট স্ট্রাকচার ইত্যাদি সম্পর্কে ধারনা নিয়ে কাজ করে।

৫) ডিজাইন বা স্কেচ তৈরী এবং পরীক্ষা করাঃ

আপনাকে পন্যে বা সেবার ডিজাইন বা স্কেচ তৈরী করতে হবে এবং সেগুলো বার বার পরীক্ষা করে দেখতে হবে কোনটি বেশি প্রাসঙ্গিক বা কার্যকর হবে কাস্টমারদের জন্য। অনলাইনে কিছু টুল রয়েছে যেমন বালসামিক এবং ফ্রেমবক্স আপনাকে ওয়্যারফ্রেম বা স্কেচ তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে। তাছাড়া আপনি যদি আপনার ডিজাইন নিয়ে সমস্যায় পড়েন তাহলে InfluenceApp নামে একটি এপ বা টুল রয়েছে যার মাধ্যমে আপনি সহজেই ফিডব্যাক পেতে পারেন। এই অ্যাপে আপনি বিভিন্ন ফরম্যাটে ফাইল বা ডকুমেন্ট আপলোড করতে পারেন এবং জমা করে রাখতে পারেন। তবে ডিজাইন করার সময় আপনার টিমের সদস্যদের সাথে বার বার আলোচনা করে একটি চূড়ান্ত ডিজাইন তৈরি করলে ভাল হবে।

৬) মার্কেট সার্ভে করাঃ

যে কোন পন্য বাজারের আনার আগে মার্কেট সার্ভে করা অত্যন্ত জরুরি । এক্ষেত্রে আপনি অনলাইন ও ফিল্ড সার্ভে করে নিলে সহজেই বাজারের অবস্থা বুজতে পারবেন। তাছাড়া আপনি মিনিমাল ভায়াবল প্রোডাক্ট তৈরি করেও আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে ধারনা পেতে পারেন। এখানে আপনি আপনার প্রাথমিক টার্গেট কাস্টমারকে কাছে পন্য বা সেবা সরবারহ করে তাদের কাছ থেকে ফিডব্যাক নিতে হবে। এমভিপি আপনাকে সাহায্য করবে-
• কাস্টমাররা কি আপনার পন্য বা সেবা নিতে আগ্রহী কিনা?
• পন্য বা সেবার গুনাবলী বা মাণ সম্পর্কে ফিডব্যাক পাওয়া যায়
• চূড়ান্ত ডেলিভারী দেওয়ার আগে পন্যের উন্নয়ন করা যায়।

৭) চুড়ান্ত পন্য প্রস্তুতঃ

যখন আপনি ইনিসিয়াল কাস্টমারদের কাছ থেকে ফিডব্যাক পাবেন তখন আপনাকে একটি চুড়ান্ত পন্য প্রস্তুত করতে হবে। এই স্টেজে আপনাকে অনেক প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট করতে হবে সেক্ষেত্রে আপনি কিছু সফটওয়্যার যেমন- Trello and Agile Zen ব্যবহার করতে পারেন যেগুলো আপনার কাজের উন্নতি পরিমাপ করতে সাহায্য করবে। এই সফটওয়্যার গুলোর আবার বিভিন্ন স্টেজ ভাগ করা থাকে যেখানে আপনি আপনার সুবিধা মত সেকশন ভাগ করে নি্যে কাজ করতে পারবেন। তাছাড়া এই সফটওয়্যার গুলো প্রতিটি প্রজেক্ট কিভাবে করতে হবে সে সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারনা দিবে ।

৮) কাস্টমারের ফিডব্যাক সংগ্রহ এবং ব্যবসায়ের সাফল্য পরিমাপ করাঃ

যেহেতু ব্যবসায়ে ঝুঁকি বিদ্যমান তাই চূড়ান্ত পন্য মার্কেটে আনার পরেও আপনাকে কাস্টমারের মতামত সংগ্রহ করতে হবে বা জানতে হবে যে তারা কিভাবে আপনার পন্যটি মূল্যয়ন করছে? এক্ষেত্রে আপনি আপনার ওয়েবসাইটে কাস্টমারের বিভিন্ন মতামত বিশ্লেষণ করতে পারেন বা তাদের সাথে সরাসরি কথা বলে জানতে পারেন।
তাছাড়া Kissinsights সফটঅওয়্যার আপনাকে আপনার দর্শকদের কাছে পৌঁছানোর জন্য সহায়তা করতে পারে।এটি আপনি আপনার ওয়েবসাইটে ইন্সটল করে রাখতে পারেন যা আপনাকে কাস্টমারদের মতামত জরিপের কাজে সাহায্য করতে পারে। আরও একটি টুল যেমন-কিটম্যাট্রিকস ইন্সটল করে নিলে আপনি আপনার দর্শকদের সার্ফিং এবং ক্রয় আচরণগুলি ট্র্যাক করতে পারেন যা আপনাকে মূল্যবান তথ্য সরবরাহ করতে সাহায্য করবে। এই ধরনের তথ্যগুলো ব্যবহার করে আপনি আপনার মার্কেটিং কৌশল পরিবর্তন বা ওয়েবসাইট নেভিগেশন করতে পারবেন।

মূলত একটি স্টার্টআপ ব্যবসায়ের আইডিয়া কাজে লাগাতে চাইলে বা বাস্তবায়ন করতে চাইলে আপনাকে উপরোক্ত বিষয়গুলো অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে । এছাড়াও পরিবেশ, পরিস্থিতি অনুযায়ি আরো বিভিন্ন বিষয় আপনাকে বিশ্লেষন করতে হবে ।

ট্যাগ গুলো

মতামত যোগ করুন

মতামত দিতে ক্লিক করুন

error: দুঃখিত, অনুলিপি করা যাবে না ! পরে এই কন্টেন্ট প্রয়োজন হলে আপনার সামাজিক অ্যাকাউন্টের সাথে ভাগ করুন।