নিবন্ধ

কারাগারে খালেদা জিয়ার খাবার তালিকা ও লাইফস্টাইল

কারাগারে খালেদা জিয়ার নারী বডিগার্ড

বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের রাজনীতিবিদ খালেদা জিয়া বর্তমানে দূর্নীতির মামলায় কারাদন্ড ভোগ করছেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে কারাগারে বেগম খালেদা জিয়া ১ম শ্রেনীর বন্দির মর্যাদা ভোগ করছেন। জেল কোডের অধ্যায় ২৭, রুল ৯১০(১) অনুযায়ি ১ম শ্রেনীর বন্দিরা কারাগারে বিশেষ সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকেন যা অন্য কোন সাধারন বন্দিরা পায়না। খালেদা জিয়াও প্রথম শ্রেনীর বন্দি হিসেবে খাবার-দাবার থেকে শুরু করে সকল বিষয়ে বিশেষ সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকেন। চলুন তাহলে দেখে নেই খালেদা জিয়ার কারাবন্দি জীবনের যাবতীয় দিক।

কারাগারে খালেদা জিয়ার খাবার তালিকা:

কারাগারে খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় নিয়ম অনুযায়ি খাবার প্রদান করা হয়ে থাকে। প্রথমেই চলুন দেখে নেই কারাগারে খালেদা জিয়ার খাবার তালিকা।

সকালের খাবার: সকালের খাবার হিসেবে খালেদা জিয়াকে ৮৭ গ্রাম আটা দিয়ে তৈরি রুটি এবং ৮৭ গ্রাম ডাল ও সবজি ভাজি দেয়া হয়।
দুপুরের খাবার: দুপুর বেলা একজন ফার্স্ট ক্লাস বন্দি হিসেবে খালেদা জিয়াকে আড়াইশো গ্রাম চিকন চালের ভাত, ১১০ গ্রাম মাছ বা মাংস এবং ৭৫ গ্রাম ডাল দেয়া হয়ে থাকে। সাধারনত তিনি রুই মাছ বা আইড় মাছ খেয়ে থাকেন।
রাতের খাবার: রাতের খাবার হিসেবেও দুপুরের মতো ভাত, মাছ/মাংস ও ডাল বা রুটি, সবজি ও মুগডাল খেয়ে থাকেন।

ইদের দিনের খাবার: রাষ্ট্রীয় নিয়ম অনুযায়ি ইদের দিনে দেশের সকল কারাবন্দিদের জন্যই বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করে থাকে কারা কর্তৃপক্ষ। খালেদা জিয়াকেও ইদের দিন বিশেষ খাবার দেয়া হয়ে থাকে। ইদের দিন সকালে কারারক্ষিদের বানানো সেমাই, পায়েস ও মুড়ি দেয়া হয়ে থাকে।

দুপুর বেলা তিনি ভাত অথবা পোলাউ যেটি খেতে চান সেটিই দেয়া হয়। ভাত বা পোলাউ যেটাই খাবেন তার সাথে দেয়া হয় ডিম, রুই মাছ, গরুর মাংস বা খাসির মাংস এবং মজাদার আলুর দম। (গরুর মাংস খেতে যাদের এলার্জি রয়েছে বা যারা গরুর মাংস খেতে চাননা তাদের জন্য ইদের দিন খাসির মাংসের ব্যবস্থা রাখা হয়)।
রাতের বেলা দেয়া হয় পোলাউ, গরু বা খাসির মাংস, ডিম, মিষ্টি জাতীয় খাবার এবং কোমল পানীয়।

খালেদা জিয়ার জন্য এসব খাবার কারাগারের ভিতরেই দক্ষ বাবুর্চি দ্বারা রান্না করা হয়। একজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যেন কেউ তাকে হত্যার জন্য খাবারে বিষ বা ক্যামিকেল মিশাতে না পারে এবং ভেজাল খাবার না দিতে পারে সেকারনে নিরাপত্তার জন্য খাবার রান্নার পর সেই খাবার আগে কারা উপঅধক্ষ্য এবং কারা অধক্ষ্যকে খেতে হয়। তারা খাওয়ার পর সব ঠিক থাকলে তারপর সেগুলো খালেদা জিয়াকে খেতে দেয়া হয়।

তবে এসব খাবারের বাইরে তিনি যদি অন্য কিছু খেতে চান তাহলে প্রথম শ্রেনীর বন্দি হিসেবে তিনি কারাগারের ক্যান্টিন থেকে নিজের বা আত্বীয়-স্বজনদের দিয়ে যাওয়া টাকা দিয়ে খাবার কিনে খাওয়ার সুযোগ পাবেন। এছাড়া আত্বীয় স্বজনরা দেখা করতে যাওয়ার সময় শুকনো খাবার ও ফলমূল নিয়ে গেলে সেগুলো খাওয়ার সুযোগ পান তিনি।

তবে খালেদা জিয়ার কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা থাকায় এবং তিনি একজন বয়স্ক ব্যক্তি হওয়ায় কারাগারে তার খাবারগুলো তৈরি হয় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ি ডায়েট চার্ট মেনে।

বাসবাস সুবিধা: ১ম শ্রেনীর বন্দি হিসেবে তিনি টাইলস লাগানো কক্ষ, শোয়ার জন্য খাট এবং আরামদায়ক বিছানা, চেয়ার টেবিল, একটি ড্রেসিং টেবিল, প্রয়োজনমাফিক বাতি ও বৈদ্যুতিক পাখা, কক্ষের সাথে সংযুক্ত গোসলখানা ও পায়খান ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন। কারাগারে তাকে থাকারর জন্য দুইটি কক্ষ দেয়া হয়েছে। সারাদিন কক্ষগুলোতে তিনি একাই সময় কাটান তবে রাতের বেলা তার ব্যক্তিগত গৃহকর্মী ফাতেমা তার পাশের কক্ষেই ঘুমায়।

এছাড়াও তাকে প্রতিনিদ একটি জাতীয় পর্যায়ের দৈনিক পত্রিকা দেয়া হয় এবং টিভিও রয়েছে। তবে টিভিতে কোন ডিশ সংযোগ নেই, শুধুমাত্র বিটিভি দেখা যায়। সপ্তাহে একটি চিঠি লেখারও সুযোগ পান তিনি।

চিকিৎসা সুবিধা: ১ম শ্রেনীর বন্দি হিসেবে খালেদা জিয়া তার পছন্দমতো দেশের যে কোন সরকারি হাসপাতাল বা সরকারি মেডিকেল কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা সেবা নিতে পারবেন। এছাড়া তার চিকিৎসার জন্য কারাগারে সার্বক্ষনিক একজন নারী ফার্মাসিস্ট নিয়োজিত থাকেন। প্রয়োজনে খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসা নেয়ার জন্যও পাঠানো যেতে পারে তবে সেটা সরকারের সিদ্ধান্ত।

কারাগারে খালেদা জিয়ার সময় কাটে যেভাবে:

কারাগার সুত্রে জানা যায়, খালেদা জিয়া বেশিরভাগ সময়ই শান্ত ও চুপচাপ থাকেন। তিনি নিজে সাধারনত কারো কাছে কিছু চাইতে যাননা। কিছু লাগবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, লাগলে আমিই আপনাদের বলবো। কারাগারের কর্মিদের সাথেও ভালো ব্যবহার করেন।

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে খালেদা জিয়া ফ্রেশ হয়ে সকালের খাবার খেয়ে থাকেন। এরপর তিনি বেশ অনেকটা সময় পত্রিকা পড়েন। পত্রিকা পড়া শেষে তিনি গোসল করতে যান। গোসল করে তিনি যোহরের নামাজ পড়েন। যোহরের নামাজের পর অজিফা পাঠ করেন। এরপর তিনি দুপুরের খাবার খান। দুপুরের খাবার খেতে খেতে চারটার মতো বেজে যায়। এরপর কিছুসময় বিশ্রাম নেন। এরপর তিনি আসরের নামাজ পরে বারান্দায় কিছুক্ষন হাটাহাটি করেন। এরপর বারান্দায় চেয়ারে বসে থাকেন। মাগরিবের নামাজের পর তিনি বেশকিছু সময় বিটিভি দেখেন।এরপর এশার নামাজ পড়ে রাতের খাবার খান। রাতের খাবার খেয়ে আরো কিছুক্ষন টিভি দেখেন। এরপর ঘুমাতে যান। সাধারনত এভাবেই খালেদা জিয়ার দিন কেটে যায়।

কারাগারে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা:

কারাগারে খালেদা জিয়ার কক্ষের পাশে দিন-রাত ২৪ ঘন্টা ৪ জন নারী বডিগার্ড মোতায়েন থাকেন। এছাড়া সম্পূর্ন কারাগার জুড়ে কারাগারের নিরাপত্তা রক্ষীরা সার্বক্ষনিক নিয়োজিত থাকেন। এরপরও কারাগারের বাইরে পুলিশ ও RAB এর সদস্যরা মোতায়েন থাকেন এবং কারাগারের আশেপাশের এলাকায় সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বেশ কয়েকজন অফিসার ও কর্মি দিন-রাত ২৪ ঘন্টাই নিয়োজিত থাকেন যেন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে না পারে।

মূলত এই ছিলো কারাগারে খালেদা জিয়ার দিনযাপনের সংক্ষিপ্ত বর্ননা। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, খালেদা জিয়ার আত্বীয় ও বিএনপি নেতাদের বক্তব্য এবং কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ি উপরের তথ্যগুলো জানা যায় যা আমরা আপনাদের জন্য তুলে ধরেছি। ভালো লাগলে শেয়ার করে আমাদের উৎসাহ দেয়ার জন্য অনুরোধ রইলো এবং নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইট ভ্রমনের আমন্ত্রন রইলো। ধন্যবাদ।

ট্যাগ গুলো

মতামত যোগ করুন

মতামত দিতে ক্লিক করুন

error: দুঃখিত, অনুলিপি করা যাবে না ! পরে এই কন্টেন্ট প্রয়োজন হলে আপনার সামাজিক অ্যাকাউন্টের সাথে ভাগ করুন।