Home » জাস্টিন ট্রুডো ও সোফিয়ার পরিচয়, প্রেম ও পরিণয়ের ছোট গল্প!
নিবন্ধ

জাস্টিন ট্রুডো ও সোফিয়ার পরিচয়, প্রেম ও পরিণয়ের ছোট গল্প!

জাস্টিন ট্রুডো ও সোফিয়া

কানাডার প্রধানমন্ত্রি জাস্টিন ট্রুডো ও তার স্ত্রী সোফিয়ার হাস্যজ্বল ছবি আমরা গনমাধ্যমে প্রায়ই দেখে থাকি। সুখের সংসার তাদের। শুধু তাদের ছবিগুলো দেখলেই বোঝা যায় যে, এ দুজনের দাম্পত্য জীবনটা বেশ ভালোই কাটছে।

তবে শুধু বিয়ের পরে নয়, এ দুজনের সম্পর্কটা আরো অনেক আগের। কিভাব তাদের পরিচয় হলো, আর পরিচয় থেকে শুরু করে কিভাবে তা প্রেম ও পরিনয়(বিয়ে) পর্যন্ত গড়ালো সেটাই আজ তুলে ধরবো আপনাদের সামনে।

জাস্টিন ট্রুডো কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রি পেরি ট্রুডোর ছেল। অন্যদিকে সোফিয়া কানাডার একটি সাধারন পরিবারের মেয়ে।

জাস্টিন ট্রুডো একজন সুদর্শন স্মার্ট পুরুষ। ছোটবেলা থেকেই হাসিখুশি ও চঞ্চল প্রকৃতির ছিলেন। একদিকে তারা বাবা দেশটির একজন শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা ও পরবর্তিতে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন আর পাশাপাশি জাস্টিন ট্রুডোও ছিলেন যেকারো পছন্দ হওয়ার মতোই একজন পুরুষ। ফলে কিশোর বয়স থেকেই তিনি ছিলেন বহু মেয়ের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু তিনি ঐসব দিকে কখনো দৃষ্টি দেননি। আর সেই মানুষটিই কিনা অনেকটা হুট করেই সোফিয়ার প্রেমে পরে যান! অবশ্য সোফিয়াও যেকারো ভালো লাগার মতোই একজন মেয়ে বটে!

সোফিয়া ও জাস্টিন ট্রুডোর পরিচয় হলো যেভাবে:

আসলে জাস্টিন ট্রুডো ও সোফিয়া ছোটবেলা থেকেই একে অপরকে চিনতেন। কারন তারা ছোটবেলায় মন্টরিয়েলের একই এলাকায় থাকতেন এবং সোফিয়া ছিলো জাস্টিন ট্রুডোর ছোট ভাই মিচেল ট্রুডোর সহপাঠি। বাইরে খেলতে গিয়েও অনেক সময় দুজনের দেখা হয়ে যেতো। কিন্তু তাদের মধ্যে খুব একটা কথা হতোনা। জাস্টিন ব্যস্থ থাকতেন তার খেলার সাথীদের নিয়ে আর সোফিয়াও ব্যস্ত থাকতেন তার খেলার সাথিদের নিয়ে।

পরবর্তিতে তাদের দুইজনের পরিবার অন্য দুই এলাকায় চলে যায়। ফলে বহু বছর তাদের আর কোন দেখা হয়নি।
হঠ্যাৎ ২০০৩ সালে একটি শিশুদের দাতব্য সংস্থার অনুষ্ঠানে তাদের দুজনের আবার দেখা হয়। সোফিয়াই প্রথমে এগিয়ে আসেন ট্রুডোর সংগে কথা বলার জন্য। দুজনের মধ্যে বেশ কিছুক্ষন কথা হয়, অনেক হাসি-ঠাট্টা ও মজা হয়। ছোটবেলার পর নতুন করে আবার পরিচয় হয়।

দুজনের প্রেমের শুরু:

সেদিন দাতব্য সংস্থার অনুষ্ঠানে দেখা হওয়ার পর সোফিয়া জাস্টিন ট্রুডোকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে একটি ইমেইল পাঠান। কিন্তু জাস্টিন সেই ইমেইলটি দেখেও তার কোন উত্তর না দিয়ে চুপ করে থাকেন!

পরবর্তিতে জাস্টিন একটি সাক্ষ্যাৎকারে বলেন যে, তখন ইমেইলটি দেখেও কোন উত্তর না দিয়ে তিনি চুপ ছিলেন কারন তখন তিনি সম্পর্কে জড়ানোর বিষয়ে ভীত ছিলেন। প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোর মতো পরিস্থিতি তখন তার ছিলোনা। তাই তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছিলেন।

কিন্তু মনের ভিতরে তিনি সোফিয়ার জন্য দূর্বলতা অনুভব করতে শুরু করেন। তবে তা কারো কাছে প্রকাশ করেননি। কয়েকমাস পর আবার একদিন রাস্তায় হঠ্যাৎ করে সোফিয়ার সাথে তার দেখা হয়। তিনি সোফিয়াকে কথা বলার জন্য ডাক দেন এবং সোফিয়ার কাছে তার মোবাইল নাম্বারটি চান কিন্তু সোফিয়া তার মোবাইল নাম্বার দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন যে, মোবাইল নাম্বার দেয়া সম্ভব নয়, প্রয়োজন হলে তিনি যেন তার সাথে ইমেইলে যোগাযোগ করেন এবং ইমেইল এড্রেসটি সেভ করে রাখেন!

এরপর দুজন যার যার কাজে চলে যান কিন্তু জাস্টিনের মাথায় সারাদিন ইমেইলের কথা ঘুরপাক খাচ্ছিলো। এদিকে সোফিয়াও জাস্টিন তাকে ইমেইল পাঠাবেন এই অপেক্ষাতেই ছিলেন। কাজ শেষে রাতে জাস্টিন বাড়ি ফিরে তার কম্পিউটার নিয়ে বসে পড়েন এবং পুরানো ইমেইল গুলো খুজতে শুরু করেন। এরপর সোফিয়ার সেই পুরানো ইমেইলটি খুজে বের করেন এবং সোফিয়ার সাথে একটি রেস্টুরেন্টে দেখা করে তার সাথে কিছু কথা বলতে চান বলে জানান। সোফিয়াও তাতে সাড়া দেয়।

পরদিন তারা দুজনে দেখা করেন। জাস্টিন বলেন যে, “সেদিন ওর দিকে তাকিয়ে আমি নিজের ভেতরে একটা শক্তি ও শান্তি অনুভব করছিলাম।” সেদিন আমিই ওকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বলি “আমি ৩২ বছর ধরে ঠিক যেন তোমার অপেক্ষাতেই ছিলাম। আমরা সারা জিবন একসাথে থাকবো।”

জাস্টিন বলেন, “আমরা দুজনেই একটু আবেগপ্রবন ও নরম মনের মানুষ, সেদিন আমরা দুজনেই কেদে ফেলি।”
সেদিন থেকে তাদের প্রেমের সম্পর্ক শুরু হয়।

জাস্টিন ট্রুডো ও সোফিয়ার পরিনয়:

নতুন বউ সোফিয়াকে নিয়ে বাড়ি ফিরছেন জাস্টিন ট্রুডো

 

১ বছর প্রেম করার পর ২০০৫ সালের ২৮ মে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বর্তমানে ৩ সন্তান নিয়ে তাদের সুখের সংসার। রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততা সামলিয়ে বাকি সময়টুকু পরিবারকে নিয়ে ভালোই কাটছে জাস্টিন ট্রুডোর। ভালোবাসা যেন দিন দিন বড়েই চলছে। সারা জীবন এই ভালোবাসা অটুট থাকুক এই কমনা করি। ভালোবাসা রইলো জাস্টিন ট্রুডো ও সোফিয়ার প্রতি।

এই সপ্তাহের সর্বাধিক দেখা ভিডিও:

বাংলাদেশীদের জন্য সেরা অ্যাপ

BD MEDIA MATE APP SCREENSHOT

আমাদের ওয়েবসাইটের জনপ্রিয় পোস্টগুলি:

BEST APP FOR US PEOPLE

US MEDIA MATE APP