নিবন্ধ বাংলা সংবাদ

আমেরিকার অকল্পনীয় বিশ্বরেকর্ড !

আমেরিকার বিমান বাহিনী

আমেরিকা নামক দেশটি আয়তনে বিশ্বে ৩য় এবং জনসংখ্যায়ও বিশ্বে ৩য় ।
অর্থনীতি, গবেষনা, বিজ্ঞান, শিল্পক্ষেত্র, সামরিক ক্ষেত্র সহ পৃথীবির প্রায় সকল সেক্টরেই আমেরিকা নামক দেশটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী । তবে কিছু কিছু সেক্টরে তাদের সাফল্য কল্পনাকেও হার মানায় ।

তারই ধারাবাহিকতায় সামরিক ক্ষেত্রে আমেরিকা এমন রেকর্ড করলো যা অন্যদের জন্য প্রায় অকল্পনীয় ।

১৯১৮ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এক শতাব্দী ব্যাপী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একাই প্রায় ৬ লক্ষাধিক যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার, সামরিক ও বেসামরিক পরিবহণ বিমান এবং প্রশিক্ষণ বিমান, ড্রোন বা এরিয়াল সিস্টেম উৎপাদন করে এক বিরল ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। অর্থ্যাৎ বিগত এক শতাব্দীতে সারা বিশ্বজুড়ে চীন, রাশিয়া সহ পৃথীবির সকল দেশ মিলে যতখানি এভিয়েশন এন্ড এরিয়াল সিস্টেমের তৈরি করেছে, আমেরিকা একাই তারচেয়ে বেশি তৈরি করেছে ।

এমনকি বিংশ শতাব্দীর ভয়ঙ্করতম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে মিত্র বাহিনী প্রায় ৫ লক্ষ যুদ্ধবিমান এবং বোম্বার তৈরি করেছিল। যার মধ্যে ১৯৩৯ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একাই প্রায় তিন লক্ষাধিক যুদ্ধবিমান, বোম্বার, সামরিক পরিবহণ বিমান তৈরি করে ম্যাসিভ এভিয়েশন প্রডাকশনের এক বিরল দৃষ্টান্ত বা রেকর্ড তৈরি করে বিশ্বের এক নম্বর সুপার পাওয়ার হিসেবে নিজের যোগ্য স্থান করে নিয়েছে। আর এই বিরল রেকর্ডের ধারে কাছে আজো দ্বিতীয় কোন দেশ আসতে পারেনি। অবশ্য শীতল যুদ্ধ চলাকালে সভিয়েত ইউনিয়ন খুব অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় এক লক্ষাধিকের অধিক জেট ফাইটার, বোম্বার, হেলিকপ্টার, সামরিক ও বেসামরিক পরিবহণ বিমান ও হেলিকপ্টার তৈরি করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিজের স্থান করে নেয় তবে তা আমেরিকার তুলনায় কিছুই না।

আমেরিকার বোমারু বিমান

বর্তমানে মার্কিন বিমান বাহিনী একাই ৫৯৬০টি জেট ফাইটার, বোম্বার এবং হেলিকপ্টার ব্যবহার করে বিশ্বের প্রথম স্থান দখল করে রেখেছে এবং মার্কিন নৌ বাহিনী ৩৭৮০টি এর কাছাকাছি ক্যারিয়ার বেসড জেট ফাইটার, বোম্বার এবং হেলিকপ্টার ব্যবহার করে। তাছাড়া মার্কিন সেনা এবং মেরিন কর্পোস প্রায় ১৬০০ এর কাছাকাছি এভিয়েশন সিস্টেম কাজে লাগায়। আর সারা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে সার্বক্ষণিক মোতায়েন এবং সক্রিয় যুদ্ধে বিরামহীন ভাবে পরিচালনা করে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে মার্কিন ব্যাতিত সর্বোচ্চ এরিয়াল সিস্টেম ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে রাশিয়া প্রায় ৩৬০০ এর অধিক এবং রেড জায়ান্ট চীন ৩২০০ এর কাছাকাছি এরিয়াল সিস্টেম সার্ভিসে এনেছে। তাছাড়া ভারতের বিমান বাহিনীতে ২২০০ এর কাছাকাছি যুদ্ধবিমান, বোম্বার, হেলিকপ্টার, প্রশিক্ষণ বিমান, এবং ড্রোন বা এরিয়াল সিস্টেম সক্রিয় রয়েছে। তবে এখানে প্রকাশ থাকে যে, মার্কিন ব্যাতিত এসব দেশের ব্যবহৃত এরিয়াল সিস্টেমের ৩৫% থেকে ৪৫% পর্যন্ত অতি পুরনো এবং ব্যবহার অধিক মাত্রায় ঝুঁকীপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

তবে এখানে প্রকাশ থাকে যে, সারা বিশ্বের প্রতিটি দেশই কিন্তু প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার এভিয়েশন টেকনোলজি এবং সিস্টেমের উপর অতি মাত্রায় নির্ভরশীল। আর বিশ্বে সর্বোচ্চ ব্যায়িত মাল্টি নেশন এভিয়েশন প্রজেক্ট হিসেবে মার্কিন লকহীড কর্পোরেশনের ১.৩৫ ট্রিলিয়ন ডলারের এফ-৩৫ লাইটনিং স্টিলথ জেট ফাইটার ইতিমধ্যেই সার্ভিসে এসে পরেছে এবং এ প্রজেক্টের মূল সুবিধাভোগী কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেই। অর্থ্যাৎ এ প্রজেক্ট থেকে আগামী ২০৩৫ সাল পর্যন্ত আনুমানিক ৩ হাজারের কাছাকাছি এফ-৩৫ স্টিলথ জেট ফাইটার পর্যায়ক্রমে মার্কিন বিমান, নৌ এবং মেরিন কর্পোসে অন্তভুক্ত করা হবে। অথচ রাশিয়া প্রায় এক দশক আগে তাঁদের ডেডিকেটেড এন্ড স্টিলথ টেকনোলজি বেসড এফজিএফএ প্রজেক্টের আওতায় (পিএকেএফএ টি-৫০) বা এসিউ-৫৭ স্টিলথ জেট ফাইটার নিয়ে কাজ শুরু করলেও পর্যাপ্ত ফাণ্ডের অভাবে আজ অবধি প্রডাশন লাইন শুরু করতে পারেনি।

এছাড়া আমেরিকার কাছে রয়েছে ১২২ টি F-22 RAPTOR যুদ্ধবিমান । যা বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে আধুনিক ও শক্তিশালি যুদ্ধবিমান ।

আমেরিকার বিমান বাহিনী পৃথীবির সবচেয়ে বড় এবং শক্তিশালী বিমান বাহিনী । তবে মজার বিষয় হলো পৃথীবির ২য় বৃহত্তম ও শক্তিশালি বিমান বাহিনীও কিন্তু আমেরিকার । অর্থ্যাৎ ১ম এবং ২য় উভয় বিমানবাহিনীর মালিক আমেরিকা । ভাবছেন কিভাবে ? একটি দেশে আবার দুইটি বিমান বাহিনীর মালিক হলো কি করে ?

আমেরিকার নৌবাহিনী

সরাসরি না হলেও আমেরিকার ক্ষেত্রে বিষয়টা কিন্তু তাই ঘটেছে । পৃথীবির সেরা বিমানবাহিনী হলো আমেরিকার বিমানবাহিনী আর পৃথীবির ২য় সেরা বিমানবাহিনী হলো আমেরিকার নৌবাহিনী ! অর্থ্যাৎ আমেরিকার নৌবাহিনীর কাছে যতগুলো যুদ্ধবিমান, হেলিকাপ্টার ও সামরিক বিমান রয়েছে পৃথীবির অন্য কোন দেশের বিমানবাহিনীর হাতেও এত সামরিক বিমান নেই !

পাশাপাশি এটিও জেনে রাখুন যে, আমেরিকার নৌবাহিনী হলো পৃথীবির সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী নৌবাহিনী । ধারনা করা হয় যে আমেরিকার নৌবাহিনী একাই পৃথীবির সকল দেশের নৌবাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে টিকে থাকতে সক্ষম !
কারন আগেই উল্লেখ করা হয়েছে তারা সবচেয়ে শক্তিশালী নৌবাহিনী হওয়ার পাশাপাশি তাদের হাতে যত যুদ্ধবিমান রয়েছে তা পৃথীবির অন্য কোন দেশের নেই ।

বিমান বাহক যুদ্ধ জাহাজ

এছাড়া আমেরিকার সামরিক বাজেটও চোখ কপালে তোলার মতো । ২০১৮ সালে আমেরিকার সামরিক বাজেট ছিলো ৬১০ বিলিয়ন ডলার !
অন্যদিকে চীনের সামরিক বাজেট ছিলো ২২৮ বিলিয়ন এবং রাশিয়ার মাত্র ৬৬ বিলিয়ন । অর্থ্যাৎ চীন ও রাশিয়া একত্রিত হয়েও আমেরিকার অর্ধেকও হচ্ছেনা !

আর ২০১৮ সালে বাংলাদেশের সামরিক বাজেট ছিলো ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলার । সুতরাং ২০১৮ সালের হিসাব অনুযায়ি বাংলাদেশের সাথে আমেরিকার তুলনা করলে দেখা যাচ্ছে, আমেরিকার এক বছরের সমান সামরিক বাজেট দিতে বাংলাদেশের প্রায় ১৮০ বছর লাগবে !!!

এছাড়া আমেরিকার আরেকটি ভয়ংকর সামরিক রেকর্ড হলো, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকা একাই ৪১ বিলিয়ন এ্যামুনিয়েশন উৎপাদন করেছিল যা তখনকার মানুষের সংখ্যা হিসেব করলে সারা পৃথিবীর সব মানুষকে ১৭ বার মেরে ফেলার পক্ষে যথেষ্ট ছিল !!!

ট্যাগ গুলো

মতামত যোগ করুন

মতামত দিতে ক্লিক করুন

error: দুঃখিত, অনুলিপি করা যাবে না ! পরে এই কন্টেন্ট প্রয়োজন হলে আপনার সামাজিক অ্যাকাউন্টের সাথে ভাগ করুন।