নিবন্ধ

ইসলামি মতে সুদ থেকে প্রাপ্ত টাকা ব্যবহারের নিয়ম

সুদ গ্রহন করা ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম তা আমরা সবাই জানি কিন্তু তবুও বিভিন্ন ভাবে আমাদের কাছে সুদের টাকা চলে আসতে পারে । সেক্ষেত্রে সুদ থেকে প্রাপ্ত সেই টাকাগুলো কি করবেন তা কয়েকজন ইসলামিক ব্যাক্তির মতামত অনুসারে আমরা এখানে তুলে ধরছি ।

চলুন তাহলে জেনে নেই ইসলামি মতে সুদ থেকে প্রাপ্ত টাকা ব্যবহারের নিয়ম –

প্রথমেই চেষ্টা করতে হবে এমন ব্যাংকে টাকা জমা রাখতে বা এমন প্রতিষ্ঠানে টাকা বিনিয়োগ করতে যেখান থেকে সুদ আসবেনা ।

তবে হয়তো আপনার ইচ্ছা না থাকা সত্বেও ব্যাংকের সাধারন নিয়ম অনুযায়ি আপনার হিসাবে সুদের টাকা চলে এসেছে । বর্তমানে ব্যাংকে টাকা রাখলে সাধারনত বছর শেষে কিছুটা সুদ চলে আসে । বা হয়তো আগে সুদের টাকা গ্রহন করে ফেলেছেন কিন্তু পরে ভূল বুঝতে পেরে এখন সেই টাকা ব্যবহার করতে চাইছেন না । এমন পরিস্থিতিতে কি করবেন সেই টাকাগুলো দিয়ে ? টাকাগুলো কি ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দিবেন ? না, তা করবেন না। কারন এই টাকাগুলোও কোন একজন মানুষের কষ্টের উপার্জিত টাকা। এগুলোর অপচয় করা যাবেনা । নাকি ভাবছেন ব্যাংকে সুদের যেই টাকা জমা হয়েছে সেই টাকাগুলো তুলবেনই না । সেগুলো ব্যংকেই পরে থাক। না এমনটাও করার প্রয়োজন নেই। কারন ব্যাংকের মালিকেরা এমনিতেই হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক, তাদেরকে আরো টাকা দিয়ে আসার প্রয়োজন নেই। চলুন তাহলে দেখে নেই কি করবেন সুদ থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে।

১- গরির, দুস্থ বা অসহায় মানুষকে দিয়ে দেয়া: আপনার সুদের টাকাগুলো আপনি যেকোন গরিব, দুস্থ বা অসহায় মানুষকে দিয়ে দিতে পারেন । তবে এটা শুধুই দিয়ে দেয়া হবে, দান করা হবে না । এই টাকা আপনি দান করছেন এমনটা ভাবা যাবেনা কারন এই টাকার উপর আপনারতো কোন হক-ই নেই । আপনি শুধু নিজের বোঝা কমানোর জন্য টাকাগুলো অসহায় কাউকে দিয়ে দিচ্ছেন । তবে আপনি যাকে টাকাটা দিয়ে দিবেন সে এটা ব্যবহার করতে পারবে । তার জন্য ঐ টাকা হালাল । কারন সেতো এটা সুদ হিসেবে নেয়নি বরং সাহায্য হিসেবে নিয়েছে এবং এর পিছনে তার কোন হাত নেই । তাই আপনি যাকে টাকাটা দিয়ে দিবেন সে এটা যেকোন হালাল পথে ব্যবহার করতে পারবে।

২- অসহায় রোগির চিকিৎসা ব্যয়: এটাও গরিবদের দিয়ে দেয়ার মতোই । আপনি চাইলে এমন কাউকে টাকাগুলো দিতে পারেন যে জটিল কোন রোগে আক্রান্ত কিন্তু চিকিৎসা করার মতো পর্যাপ্ত টাকা তার কাছে নেই বলে সে চিকিৎসা করতে পারছেনা । টাকাগুলো পেলে হয়তো সে চিকিৎসা করে ভালো হতে পারবে ।

৩- রাস্তা নির্মান: আপনি চাইলে সুদ থেকে প্রাপ্ত টাকা দিয়ে মানুষের চলাচলের জন্য রাস্তা নির্মান বা মেরামত করে দিতে পারেন । তবে রাস্তাটি শুধু নিজের সুবিধার জন্য হবেনা বরং সর্বসাধারনের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রয়োজনে অন্য সবার মতো আপনিও সেই রাস্তা ব্যবহার করতে পারবেন তবে টাকা দিয়েছেন বলে সেই রাস্তার উপর আপনার কোন বাড়তি অধিকার বা দাবি থাকতে পারবেনা । কারন যেই টাকা আপনি দিয়েছেন সেই টাকার উপরইতো আপনার কোন হক নেই ।

৪- গনশৌচাগার তৈরি: সুদের টাকা দিয়ে আপনি চাইলে গনশৌচাগার (পাবলিক টয়লেট) তৈরি করতে পারেন, যেটি সর্বসাধারনের জন্য উন্মুক্ত থাকবে । তবে এক্ষেত্রেও আপনি আপনার ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য বা নিজেদের সুবিধার জন্য কোন শৌচাগার বানাতে পারবেন না । শৌচাগারটি হবে সাধারন মানুষের জন্য তবে প্রয়োজনে আপনিও একজন সাধারন মানুষ হিসেবে এটি ব্যবহার করতে পারবেন কিন্তু এর উপর আপনার কোন দাবি থাকবেনা ।

উপরে উল্লেখিত ইসলামি মতে সুদ থেকে প্রাপ্ত টাকা ব্যবহারের নিয়ম মেনে আপনি আপনার সুদের টাকা খরচ করতে পারেন এবং যদি ইচ্ছাকৃত ভাবে সুদ নিয়ে থাকেন তাহলে সেটা নিজে ভোগ না করে এভাবে খরচ করে দিয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান । আশা করা যায় যে, হয়তো আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন ।

আর আরেকটা বিষয় মনে রাখবেন যে সুদের টাকা আপনো যত ভালো পথেই খরচ করেননা কেন, তার জন্য আপনি কোন সওয়াবের আশা করতে পারবেন না। শুধুমাত্র গুনাহ থেকে মুক্তির আশা করতে পারেন। কারন ঐ টাকার উপর আপনার কিন হক নেই । আপনি নিজেও জানেননা যে কার টাকা আপনার পকেটে চলে এসেছে । তাই সেটা যেকোন অসহায় মানুষ বা সাধারন জনগনের প্রয়োজনে খরচ করে দিয়ে নিজে ভারমুক্ত হোন ।

ট্যাগ গুলো

মতামত যোগ করুন

মতামত দিতে ক্লিক করুন

error: দুঃখিত, অনুলিপি করা যাবে না ! পরে এই কন্টেন্ট প্রয়োজন হলে আপনার সামাজিক অ্যাকাউন্টের সাথে ভাগ করুন।