নিবন্ধ

গুপ্তচরদের মাধ্যমে যেভাবে ৪ ধাপে শত্রু দেশকে ধংস করা হয়

গুপ্তচর, গোয়েন্দা

পৃথিবীর প্রায় সব দেশেরই নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থা বা গুপ্তচর রয়েছে, যাদের মূল কাজ হলো শত্রু বা প্রতিযোগি দেশকে কাবু করে নিজের দেশের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা ও আধিপত্য বিস্তার করা । কিন্তু কিভাবে এই কাজগুলো করা হয় তা আমরা সাধারন নাগরিকরা বুঝতেও পারিনা । আমরা মনে করি গোয়েন্দা বা গুপ্তচরদের কাজ হলো গোপনে খুন করা, তথ্য পাচার করা, নজরদারি চালানো ইত্যাদি । হ্যাঁ গুপ্তচরেরা এসব কাজও করে তবে তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন কাজ হলো সাবভারশান !

শত্রুদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, সচিব, বিজ্ঞানী, প্রকৌশলি, উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের অপহরন করা, খুন করা, শত্রুদেশের সামরিক বাহিনীর শক্তি ও দূর্বলতা সম্পর্কে জানা, তাদের ঘাটি ও অস্ত্রগুদামগুলো সম্পর্কে জানা, শত্রুদেশের বানানো বা আবিষ্কৃত বিভিন্ন অস্ত্রের ডিজাইন ও ফর্মূলা চুরি, শত্রুদেশের যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন, স্যাটেলাইট, যুদ্ধবিমান, ক্ষেপনাস্ত্রগুলি কখন কোথায় কি অবস্থায় রয়েছে সেই সম্পর্কে তথ্য অনুসন্ধান, শত্রুদেশের বিভিন্ন খনি, গ্যাস ফিল্ড, তেলক্ষেত্র, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর ইত্যাদি বিভিন্ন প্রয়োজনীয় বিষয়ে যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে নিজের দেশকে জানানো গুপ্তচরদের সাধারন কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম ।

তবে সাবভারশানের কাজটি অনেকটাই আলাদা, সূক্ষ পরিকল্পনা নির্ভর ও দীর্ঘমেয়াদি এবং এইধরনের কাজের জন্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আলাদা শাখা থাকে । এখানে আমরা সাবভারশানের কাজগুলো সম্পর্কে খুব সংক্ষেপে তুলে ধরবো । তবে যারা সামরিক বিষয় সম্পর্কে কম বোঝেন তাদের জন্য বলছি, জাতীয় নিরাপত্তা বা সামরিক গোয়েন্দা আর সাধারন গোয়েন্দা কিন্তু এক জিনিস নয় । যেমন পুলিশ, RAB, ডিবি, পিবিআই ইত্যাদি সংস্থার গোয়েন্দারা দেশের অভ্যান্তরীন বিভিন্ন সাধারন ঘটনা নিয়ে কাজ করে । যেমন: চুরি, ডাকাতি, খুন, দূর্নীতি, ছিনতাই বা এধরনের সাধারন বিষয়। অন্যদিকে জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা বা সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দাদের কাজ সম্পূর্ন আলাদা ।

জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে এমন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সাংবিধানিক ভাবেই প্রচুর ক্ষমতা পেয়ে থাকে এবং এরা সাধারনত সরাসরি প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির অধীনে কাজ করে । তাই এদের কাজের জন্য সংসদ বা মন্ত্রনালয়ে কোন জবাবদিহিতা করতে হয়না । ফলে এদের বিষয়ে মিডিয়ায় তেমন আলোচনা হয়না এবং এরা প্রচুর গোপনিয়তার সাথে কাজ করে । বাংলাদেশে এধরনের দুইটি গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করে । একটি হলো “এনএসআই” (ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টিলিজেন্স) আর অপরটি হলো “ডিজিএফআই” (ডিরেক্টর জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টিলিজেন্স)। পৃথীবির বেশিরভাগ দেশেই এধরনের সংস্থা রয়েছে । যেমন ভারতের “RAW”, ইসরাইলের “মোসাদ”, আমেরিকার “সিআইএ” ইত্যাদি । চলুন তবে মূল বিষয়ে যাওয়া যাক ।

এখানে আমরা রাশিয়ার একজন গুপ্তচর ইউরি বেজমেনভ এর ভাষায় সাবভারশান পক্রিয়া কিভাবে কাজ করে তা তুলে ধরবো ।
ইউরি বেজমেনভ একজন রাশিয়ান গুপ্তচর । তিনি “কেজিবি”তে কর্মরত ছিলেন । স্নায়ু যুদ্ধের সময়ে, ১৯৭০ সালে তিনি রাশিয়া (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন) থেকে আমেরিকা ডিফেক্ট করেন।
(কেজিবি” ছিলো সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের দূর্ধর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা । তারা সরাসরি আমেরিকা ও ইংল্যান্ডের সাথে প্রতিযোগিতা করে কাজ করতো । সুতরাং বুঝতেই পারছেন তাদের দক্ষতা কোন পর্যায়ের। সারা বিশ্বে তাদের শত শত দূর্ধর্ষ এজেন্ট কাজ করতো । পরে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেংগে গেলে “কেজিবি” বন্ধ হয়ে যায় । বর্তমানে রাশিয়াতে “কেজিবি”র পরিবর্তে অন্য একটি সংস্থা কাজ করছে ।

আর যারা জানেননা তাদের জন্য বলছি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কিন্তু এই “কেজিবি”রই ফরেন ইনফরমেশন শাখার একজন এজেন্ট ছিলেন । তিনি দীর্ঘদিন আমেরিকাতে সাংবাদিক, ফটোগ্রাফার, দূতাবাস কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন ভূয়া পরিচয় দিয়ে চাকরি করেছেন আর গোপনে “কেজিবি”র হয়ে কাজ করেছেন। এমনকি পুতিন বেশ কয়েকবার আমেরিকার প্রেসিডেন্টের একদম কাছে বা পাশে চলে গিয়েছিলেন ! একসাথে হাত মিলিয়েছেন, ছবিও তুলেছেন ! বিষয়টি আমেরিকার জন্য কতটা ঝুকিপূর্ন ছিলো বুঝতেই পারছেন । পরবর্তিতে পুতিন চাকরি জীবন শেষ করে রাজনীতিতে যোগ দেন এবং রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন । পুতিন আমেরিকা থেকে চলে আসার অনেক পরে আমেরিকা তার আসল পরিচয় জানতে পারে ! যাই হোক, সেসব অন্য ইতিহাস ।

রাশিয়ান গুপ্তচর ইউরি বেজমেনভ ১৯৮৪ সালে দেয়া তার একটা বিখ্যাত লেকচার আছে, যেই খানে তিনি “কেজিবি” কিভাবে, গুপ্তচরবৃত্তিতে সাবভারশান ব্যবহার করে, তার একটা চমৎকার বর্ণনা দিয়েছেন।

তিনি বলছেন, অনেকে মনে করে, একটা দেশে কি অস্ত্রশস্ত্র আছে, গোপন তথ্য চুরি, গোপন স্থাপনার খবর নেয়া, মারামারি করা, এই গুলো হচ্ছে গুপ্তচর বৃত্তি। তবে এইগুলো সিনেমাটিক বিষয়, কিন্ত এর কোন বাস্তবতা নাই। রাস্তাঘাটে মারামারি করে বা নায়কগিরি দেখিয়ে সর্বোচ্চ গোপনিয়তায় থাকা কোন এজেন্ট নিশ্চয় ধরা পরতে চাইবেনা । আর যে দেশ থেকে পাঠানো হয়েছে তারাও তাকে এসব করতে দিবেনা । গুপ্তচরদের কাজ হবে একদম নিরবে ।

তিনি বলেছেন, গুপ্তচর বৃত্তির সর্বোচ্চ আর্ট হচ্ছে, সাবভারশান। যেটা হলো গুপ্তচরবৃত্তির আসল উদ্দেশ্য, যা একটাও গুলি না ছুড়েই অর্জন করা যায়। সাবভারশানের মুল কাজ গুলো বৈধ এবং এইটা রাষ্ট্রের নিজের নাগরিকদেরকে দিয়েই অর্জন করা যায়। অনেক সময় বাইরের গুপ্তচরও লাগেনা।
তিনি বলছেন, সাবভারশনের চারটা স্টেজ আছে,

১। ডিমরালাইজেশান-

এই ডিমরালাইজ করতে ১৫ থেকে ২০ বছর লাগে। কেন ২০ বছর লাগে ? তিনি বলেছেন, এই সময়ের মধ্যে একটা জেনারেশানের চিন্তাকে শেপ করা যায়, তার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা যায়।
ডিমরালাইজেশানে থাকে, ইনফিল্ট্রেশান বা প্রোপাগান্ডা। যার মাধ্যমে বিভিন্ন ভাবে, ছয়টা জিনিষকে আক্রমন করা হয় ।

ক। ধর্ম: ধর্মীয় ভ্যালুকে ধ্বংস করা। সকল ধর্মই কম বেশি নৈতিকতা শিক্ষা দেয় । তাই নৈতিকতা, সহনশিলতা আর একতা ধংসের জন্য ধর্মিয় মূল্যবোধকে নষ্ট করা হয়।

খ। শিক্ষা: শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে, প্রকৃত জ্ঞানকে ধ্বংস করা হয়। প্রয়োজনীয় বিষয় বাদ দিয়ে ধীরে ধীরে বিভিন্ন অপ্রয়োজনিয় বিষয় ঢুকানো হয় । সাইন্স, ফিজিক্স, বিদেশী ভাষা, ক্যামিস্ট্রি, ম্যাথমেটিক্স, ইন্জিনিয়ারিং, মার্কেটিং, ম্যানেজমেন্ট, ফিন্যান্স, চিকিৎসা, কারিগরি জ্ঞান ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ন বিষয় বদলে ইতিহাস, যুদ্ধ, হোমইকনমিক্স, চারুকারু, বিনোদন, যৌন শিক্ষা ইত্যাদির উপরে গুরুত্ব নিয়ে আসা হয়।

গ। সামাজিক জীবন: স্বাভাবিক সামাজিক জীবনকে ধ্বংস করতে রাষ্ট্রের মধ্যে আদর্শিক বিরোধ তৈরি করা হয় এবং এমন একটা সমাজ সৃষ্টি করা হয়, যেখানে আদর্শিক কারনে ক্রিমিনালকে সমাজ আর ক্রিমিনাল বলবে না, ক্রিমিনালকে কিছু লোক বা সমাজের বড় একটা অংশ শ্রদ্ধা করবে।

ঘ। ক্ষমতার বিন্যাস: জনগণের ইচ্ছায় ক্ষমতা নির্ধারনকে ধ্বংস করে, অস্ত্র এবং শক্তি দিয়ে ক্ষমতার আরোহণ-অবরোহণের পথ তৈরি করা হয়। আরটিফিসিয়াল ক্ষমতা তৈরি করে অযোগ্য নেতৃত্বকে অধিষ্ঠিত করা হয়, যে বলে দিবে, কে ভালো কে খারাপ। সমাজ নিজে থেকে ভালো খারাপ আর নির্ধারন করতে পারবেনা।

ঙ। শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক: মালিক শ্রমিক সম্পর্কে বারগেনের বা নেগশিয়াশানের জায়গা নষ্ট করে, মালিক পক্ষের কর্তৃত্ব স্থাপন করা হয় তবে এই কর্তৃত্ব মালিকপক্ষের কাছেও স্বস্তিদায়ক হয়না। বারগেইনের মাধ্যমে কম্প্রমাইজের পরিবেশ নষ্ট করে, মালিক শ্রমিক সম্পর্কের মধ্যে অবিশ্বাস এবং ঘৃণা সৃষ্টি করা হয়। মালিকদের সম্পর্কে বিভিন্ন নেতিবাচক ঘটনা বেশি প্রচার করা হয় যেন শ্রমিকরা মালিকদের ঘৃনা করতে শুরু করে এবং মালিক প্রচুর টাকা উপার্জন করছে তা শ্রমিকরা সহ্য করতে পারেনা বরং হিংসা করতে শুরু করে এবং মনে করে মালিক তাদের ঠকাচ্ছে তাই কাজে ফাকি এবং অবহেলা, অপব্যয় করতে শুরু করে । অন্যদিকে মালিকরা মনে করে শ্রমিকরা ঠিকমতো কাজ করছেনা, এদের কারনে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, শ্রমিকরা প্রতিষ্ঠানের ভালো চায় না । ফলে ধীরে ধীরে দেশে মালিক শ্রমিক সম্পর্ক নষ্ট হবে, ব্যবসার পরিবেশ নষ্ট হবে, নতুন ব্যবসা বা শিল্প গড়ে তুলতে মালিকরা আগ্রহ পাবেনা, শিল্প প্রতিষ্ঠানে লাভ কমে আসবে, প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে ধংস বা বন্ধ হয়ে যাবে । এভাবে শত্রু দেশের অর্থনীতিকে ধংস করে পরনির্ভরশীল করে তোলা হবে । এছাড়া শ্রমিকদের আয় বৃদ্ধি পেলেও, শ্রমিকরা যেন লিভিং ওয়েজ পেতে না পারে সেইটা নিশ্চিত করা হয়।

চ। ল এন্ড অর্ডার: মানুষের বিচার পাওয়ার , কনফ্লিক্ট রেজুলিউশান হওয়ার রাস্তা সম্পূর্ণ ভাবে ধ্বংস করে দেয়া হয়, যেন, মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নেয়।
এই কাজ গুলো করে, দেশের সকল প্রতিষ্ঠানকে ডিমরেলাইজ করা হচ্ছে, এই ফেজের উদ্দেশ্য। বেজমেনভের মতে এই কাজ গুলো কিন্ত, গুপ্তচরেরা করেনা। এই কাজ গুলো দেশের নাগরিকদের হাতেই সম্পন্ন করানো হয় |

২। ডিস্টাবাইজেশান-

এই পর্যায়ে গিয়ে দেশে আর কোন কনফ্লিক্ট রেজুলেশান হয়না। নিজেদের মধ্যে সংঘাত, বিরোধ এবং মারামারি বাদে কেউ কম্প্রোমাইজ করতে পারেনা।

এই সময়ে হিউম্যান রিলেশানকে র‍্যাডিকালাইজ করা হয়। টিচারের সাথে ছাত্র, মালিক শ্রমিক সম্পর্ক, যাত্রির সাথে পরিবহন শ্রমিকের সম্পর্ক সকল লেভেলে একজন আরেকজনকে ঘৃণা করবে।
এই সময়ে মিলিটারাইজেশান ও হবে। এমনকি নাগরিকের মধ্যেও মিলিটারাইজেশান হবে। সামান্য ইসুতে একজন আরেক জনকে শুট করবে। মিডিয়াকে নাগরিক তার প্রতিপক্ষ মনে করবে।
নাগরিকের অধিকারের বদলে, অপ্রয়োজনীয় ইস্যুকে রাষ্ট্রের প্রধান ইস্যুতে পরিণত করা হবে, যেই গুলো নিয়ে নাগরিক নিজেদের মধ্যে মারামারি করবে।
এই সময়ে বিভিন্ন আরটিফিশিয়াল এন্টিটি ক্ষমতা দাবী করবে। এবং রাষ্ট্র তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে ক্ষমতার হালুয়া রুটির ভাগ দিবে।

৩। ক্রাইসিস-

থার্ড স্টেজে এসে পপুলেশান এখন সমাধান খুজবে। একটা শক্তিশালী সরকার খুজবে। একজন নেতা খুজবে, যে রাষ্ট্রের এই সমস্যা গুলোকে সমাধান করতে পারবে।

সমস্যা সমাধানের আশায় এই নেতাকে অপরিসীম ক্ষমতা দেয়া হবে। একজনের হাতে যতটা ক্ষমতা দেয়া উচিত তার চাইতে বেশি ক্ষমতা দেয়া হবে, যতটা দ্বায়িত্ব একজনের পক্ষে পালন করা সম্ভব নয় তার চাইতে বেশি দায়িত্ব তাকে দেয়া হবে । যেহেতু রাষ্ট্রের শিরায় উপশিরায় ততদিনে বিরোধ, অবিশ্বাস, হিংসা, অনৈক ঢুকে গেছে তাই ক্ষমতা ভাগ করে একাধিক ব্যাক্তির হাতে দেয়ার উপায় থাকবেনা । কারন একাধিক ব্যাক্তির হাতে ক্ষমতা গেলে তখন তারা নিজেদের মধ্যে বিরোধে জড়িয়ে পড়তে পারে । যেমন রাষ্ট্রের ১০০ ভাগ ক্ষমতাকে ভাগ করে ৫ জন মন্ত্রীর হাতে দিলে একজন ২০% করে ক্ষমতা পাবে । তখন বিরোধ, অবিশ্বাস, হিংসা বা অন্য কারনে একজন আরেকজনের সাথে বিরোধে জড়িয়ে গেলে কেউ কাউকে থামাতে পারবেনা বা বিরোধ হবে দীর্ঘমেয়াদি, যেহেতু দুজনেই সমানে সমান । রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতা দিতে চাইবেনা আবার প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতা দিতে চাইবেনা কারন নিজেদের কাজ নিয়ে তারা একে এপরের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পরতে পারে আর তেমনটা হলে কেউ কাউকে পরাস্ত করতে পারবেনা । রাষ্ট্রের কর্মচারিরা তখন কার আদেশ মানবে ? কাকে ভয় পাবে ? একজন বলবে এটা ঠিক তো অন্যজন বলবে এটা ভূল । তাই বিরোধ ও ঝামেলা এড়াতে ক্ষমতা তুলে দেয়া হবে একজনের হাতে । যাকে সবাই ভয় পাবে, যার আদেশ সবাই মানবে । যার সাথে কেউ বিরোধে জড়ানোর সাহস পাবেনা । রাষ্ট্র সমান্তরাল ভাবে চলবে । সবাই ভাববে দেশ ঠিকমতো চলছে, দেশে কোন হৈ চৈ নেই ।

এক বনে একাধিক রাজা থাকলে যে অচলবস্থা সৃষ্টি হতে পারে তার থেকে বাচাতে গিয়ে একজন অতি ক্ষমতাবান রাজার সৃষ্টি হবে । সব কিছুতে তার নিয়ন্ত্রন থাকবে । নইলে সম্পূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙ্গে পরার বা সিভিল ওয়ারের ভয় থাকবে। সেই রাজা বা নেতা ভালো করলেতো ভালো আর খারাপ করলেও কিছু করার থাকবেনা । কেউ তাকে বাধা দেয়ার থাকবেনা । আর একজন নেতা এতকিছু সামলাতে গিয়ে চাইলেও সামলাতে পারবেন না । তার কাজে প্রচুর ভূল হতে থাকবে । কাজের চাপে তিনি দিশেহারা হয়ে যাবেন । তবে তিনি নিজের ভূল বুঝতে পারলেও ক্ষমতা ছাড়তে চাইবেন না । কারন ক্ষমতা ছাড়লে পরবর্তিতে অন্য নেতা তাকে তার ভূলের জন্য কঠিন শাস্তি দিবেন । তাই তিনি তার ভূলটাই চালিয়ে যেতে থাকবেন আর ভাববেন তিনি ধীরে ধীরে সব ঠিক করে ফেলবেন । কিন্তু প্রতিনিয়ত এত এত কাজের ভিড়ে তিনি কিছুই ঠিক করতে পারবেন না । আর অন্য নেতা এবং রাষ্ট্রেষ কর্মচারিরা ভয়ে ভয়ে তার অধীনে কাজ চালিয়ে গেলেও কেউ মন থেকে কাজ করবেনা । ফলে শতভাগ সঠিক ভাবে কাজ হবেনা । ধীরে ধীরে সমস্যা বাড়তেই থাকবে । সাধারন মানুষ তখন এই নেতার পক্ষে থাকবে নাকি বিপক্ষে থাকবে তা বুঝে উঠতে পারবেনা । ভাববে উনি যা করছেন তা ঠিকই করছেন বা বাধ্য হয়ে করছেন, অন্য নেতা আসলে সেও একই কাজ করবে । এভাবে সাধারন জনগন দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে পরবে ।

৪। নরমালাইজেশান-

এই নেতা রাষ্ট্রের এই নেতা কঠোর ভাবে, আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রন করবে। তিনি স্টাবিলিটির নাম দিয়ে, সব কিছু নিজস্ব বাহিনী দিয়ে নিয়ন্ত্রন করবে। কিন্ত, সমাজের আর কারো, তার কোন কিছুর বিরোধিতা করার সুযোগ থাকবেনা।
এই সময়ে আর কোন স্ট্রাইক হবেনা। সবাই একটা ফ্রিডমের ভাবের মধ্যে থাকবে। কিন্ত, তার আর কোন স্বাধীনতা থাকবেনা। সব কিছু ভেঙ্গে পরলেও সবাই নীরব থাকবে। সবাই, একটা ডিজফানশনাল জীবন যাপন করবে কিন্ত, সেইটাকে নরমাল ভাববে ।

এভাবে ধীরে ধীরে একটি দেশ ধংসের দিকে ধাবিত হবে বা পংগু, অথর্ব, পরনির্ভরশীল হয়ে উঠবে । এমন অবস্থা থেকে দেশকে বাচাতে হলে তখন আবার সবকিছু প্রথম থেকে শুরু করতে হবে । কিন্তু নিজের ভূল বুঝতে পেরে মাঝবয়সে এসে একজন মানুষ সুন্দরভাবে তার জীবনকে প্রথম থেকে শুরু করতে চাইলেও যেমন তা করতে পারেনা তেমনি ঐ দেশের পক্ষেও তখন আর সবকিছু প্রথম থেকে সুন্দরভাবে শুরু করা সম্ভব হয়ে উঠে না । এমন পরিস্থিতি থেকে ফিরে আসতে হলে অসাধ্য সাধন করতে হয় যা সব দেশের পক্ষে সব সময় সম্ভব হয়না ।

এই সাবভারশান পক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিভিন্ন রুপধারন করে । শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পত্রিকা, ম্যাগাজিন, অন্যান্য গনমাধ্যম, ঋনদাতা সংস্থা, এনজিও, রাষ্ট্রদূত, দূতাবাস কর্মি, সচিব, এমপি, মন্ত্রি, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, সমাজসেবক বা যখন যেমন প্রয়োজন তেমন রুপধারন করে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাদের কাজ চালিয়ে থাকে ।

আসলে সাবভারশন বিষয়টি কয়েক হাজার পৃষ্ঠা লিখেও শেষ করা যাবেনা । এখানে খুব সংক্ষেপে সাধারনভাবে আমরা বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি । লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করে আমাদের উৎসাহ দেয়ার অনুরোধ রইলো । আর নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইট ভ্রমন করার আমন্ত্রন রইলো । ধন্যবাদ ।

ট্যাগ গুলো

১ টি মতামত

মতামত দিতে ক্লিক করুন

error: দুঃখিত, অনুলিপি করা যাবে না ! পরে এই কন্টেন্ট প্রয়োজন হলে আপনার সামাজিক অ্যাকাউন্টের সাথে ভাগ করুন।