নিবন্ধ

নবজাতক শিশুর যত্ন

নবজাতক শিশুর যত্ন

একটি শিশু জন্মের পর প্রথম কয়েকদিন খুবই গুরুত্বপূর্ন । শিশুর কোমল ত্বক সহজেই রোগ জীবানু দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে । এছাড়া এসময় শিশুর নাভিও কাচা থাকে । ফলে সামান্য অবহেলাতেই মারাত্বক ক্ষতি হতে পারে । গুরুত্বপূর্ন এই সময়টাতে কিভাবে সহজেই নবজাতক শিশুর যত্ন ও পরিচর্যা করবেন সেই বিষয়গুলো জেনে নিন ।

শিশুর জন্মের পর প্রথম ১ মাস পর্যন্ত তাকে নবজাতক হিসেবে ধরা হয় । এই সময়টা মা এবং শিশু উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ন । এই নিবন্ধে আমরা আপনাদের জন্য সহজ ভাষায় নবজাতকের পরিচর্যার টিপস তুলে ধরছি ।

জন্মমুহূর্তের পরপর নবজাতক শিশুর যত্ন :

শিশু জন্মের পরপর নরম পরিষ্কার কাপড় দিয়ে শিশুর শরীর মুছে নিতে হবে । তারপর অন্য আরেকটি নরম ও পরিষ্কার কাপড়ে শিশুকে আলতোভাবে জড়িয়ে নিতে হবে ।

জন্মের সময় শিশুর ত্বকে প্রাকৃতিক ভাবেই একটি পাতলা সাদাটে আবরন থাকে ৷ এটা হলো এমিওনিটিক ফ্লুইড ৷ এই পাতলা সাদাটে আবরনটি শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ৷ ৬-৭ দিন পরে এটি নিজে নিজেই পরিষ্কার হয়ে যায় ৷ এটি জোর করে ঘষে মেজে তুলতে যাবেন না ৷

নবজাতক শিশুর যত্ন (পরিচ্ছন্নতায় করনীয়) :

নবজাতক শিশুর সারা শরীরেই বিশেষ যত্ন প্রয়োজন। তবে নাভি, চোখ, নাক, কান, জিভ, নখ, দুপায়ের ফাক ইত্যাদি স্থানে বিশেষ যত্ন প্রয়োজন ।

  •  শিশুর সংস্পর্শে আসার আগে ভালো করে হাত ধুয়ে নিতে হবে ।
    শিশুকে কোলে নেয়ার সময় বা শিশু প্রসাব- পায়খানা করলে পোষাক পরিবর্তন করার আগে ও পরে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিন ।
  •  শিশুর জন্মের পরপরই নাভি কাটা হয় ৷ নাভি কাটে ফেলার পরে ডাক্তাররা তা ক্ল্যাম্প করে বা পেঁচিয়ে ক্লিপের মত প্লাস্টিক বা মেটাল কর্ড ক্ল্যাম্প বা টেইপ লাগিয়ে দেন ।
    এভাবে করার ফলে নাভির রক্ত সন্চালন বন্ধ হয়ে যায় । ফলে নাভিতে ইনফেকশন হওয়ার সম্ভবনা কমে যায় ।
  • নাভিকে শুষ্ক অবস্থায় রাখুন । নাভিতে তেল, লোশন অন্য অন্য কোনভাবে ভিজাবেন না । নাভি শুষ্ক থাকলে তারাতারি ঝরে যাবে । নাভির স্থানটি শিশুর জন্য খুবই স্পর্শকাতর । তাই কিভাবে নাভির যত্ন নিবেন বা কিভাবে নাভি পরিষ্কার করবেন সেটি ডাক্তারদের কাছ থেকে ভালোভাবে জেনে নিন ।
  •  নবজাতক শিশুর নখ একটু দ্রুত বড় হয় । নখের আঘাতে শিশু ত্বকে ব্যাথা পেতে পারে । তাই নখ কেটে ছোট রাখতে হবে । নখ কাটার আগে জীবানুনাশক দিয়ে নেইলকাটার পরিষ্কার করে নিন । শিশুর নড়াচড়ার কারনে নখ কাটতে সমস্যা হলে ঘুমিয়ে যাওয়ার পর নখ কাটতে পারেন ।
  • চোখ মানুষের শরীরের একটি খুবই গুরুত্বপূর্ন অঙ্গ । তাই চোখের যত্নে বিশেষ খেয়াল রাখা উচিত । শিশুর চোখে যেন ময়লা না যায় সে বিষয়ে খেয়াল রাখুন । আর ময়লা গেলে সেটি তারাহুড়ো করে হাত দিয়ে বের করতে যাবেননা । ধীরে সুস্থে বের করুন । হালকা গরম পানিতে একটি পাতলা কাপড় ভিজিয়ে পানি চিপে ফেলুন । তারপর সেই কাপড়টি দিয়ে আলতো করে চোখ মুছে পরিষ্কার করতে পারেন ।
  • অনেক সময় শিশুর চোখ থেকে পানি ঝড়তে থাকে । সাধারনত এক থেকে দেড় মাস পর এটি এমনিতেই ভালো হয়ে যায় । তবে বেশি সমস্য হলে ডাক্তার দেখাতে পারেন ।
  •  দুধ খাবার কারনে নবজাতক শিশুর জিভে সাদা আস্তরন পড়তে পারে । পরিষ্কার নরম কাপড় দিয়ে হালকাভাবে শিশুর জিভ মুছে দিন ।
  • নবজাতক শিশুর কান পরিষ্কার করার সময় খুবই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে । কানে যেন কটনবাটের আঘাত না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে । কটনবাডের কোন অংশ যেন কানের ভিতরে রয়ে না যায় সেটিও খেয়াল রাখতে হবে ।
  • সর্দি বা অন্য কোন কারনে নাক বন্ধ হয়ে আসলে শিশুর নাক দিয়ে নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয় । তাই নাক সবসময় পরিষ্কার রাখুন । নাক পরিষ্কার করতে নরম সুতি কাপড় ব্যবহার করুন ।
  • শিশুর যৌনাঙ্গ পরিষ্কারের বিষয়ে বিশেষ লক্ষ্য রাখুন । ছেলে এবং মেয়ে উভয় শিশুর ক্ষেত্রেই এবিষয়ে বিশেষ খেয়াল রাখুন ।
নবজাতক শিশুর যত্ন (ডায়পার পড়ানো) –

শিশুর জন্য ডায়পার কেনার সময় অবশ্যই নরম এবং উচ্চ শোষন ক্ষমতা সম্পন্ন ডায়পার কিনুন । অনেকসময় ডায়পার পড়ানোর কারনে শিশুর র‍্যাশ উঠতে পারে । র‍্যাশ উঠলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন ।

নবজাতক শিশুর যত্ন (শিশুর গোসল) –

নাভি শুকানোর আগ পর্যন্ত শিশুকে গোসল করানো থেকে বিরত থাকা ভালো । কারন নাভিতে পানি লাগলে সেটি শুকাতে দেরি হবে ।

গোসল করানোর জন্য হালকা গরম ও পরিষ্কার পানি ব্যবহার করুন । তবে আপনার কাছে যেটা হালকা গরম মনে হচ্ছে শিশুর কোমল ত্বকে সেটা বেশি গরম মনে হতে পারে । তাই সেপি বিষয়ে খেয়াল রাখুন ।

একটি গামলাতে শিশুর কোমড় সমান পানি নিয়ে সেখানে শিশুকে বসিয়ে গোসল করাতে পারেন । শিশুর শরীর আলতো করে একটু ডলুন এবং মাথায় অল্প করে ধীরে ধীরে পানি ঢালুন । মাথায় পানি ঢালার সময় যেন কানে পানি না ঢোকে এবং পানির কারনে যেন শিশুর নিশ্বাস নিতে কষ্ট না হয় তা খেয়াল রাখুন । আর প্রথম দুই- তিন বার বেশি সময় নিয়ে গোসল করানোর দরকার নেই । ৩-৪ মিনিটের ভিতর দ্রুত গোসল শেষ করে নরম কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দিন ।

আর নাভি শুকানোর আগ পর্যন্ত হালকা গরম পানিতে নরম কাপড় ভিজিয়ে সেটি চিপে ঐ কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দিন এবং সাথে সাথে আরেকটি শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে দিন ।

* শিশুকে কোন বদ্ধ রুমে রাখবেন না, পর্যাপ্ত আলো বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে রাখবেন । ভিটামিন ডি পাওয়ার জন্য সূর্যের আলোতে শিশুকে বসিয়ে রাখবেন না । নবজাতক শিশুর জন্য সূর্যের তীব্র আলো কষ্টদায়ক হতে পারে । কয়েকমাস পরে শিশু যখন পৃথীবির আলো বাতাসে অভ্যস্ত হয়ে যাবে তখন এগুলো করবেন ।

নবজাতক শিশুর জন্য চাই বিশেষ যত্ন । তাই সঠিকভাবে নবজাতক শিশুর যত্ন নিতে আমাদের দেয়া নিয়মগুলো মেনে চলুন আর পাশাপাশি ডাক্তার এবং অভিজ্ঞ মুরব্বীদের পরামর্শ কাজে লাগান |

মতামত যোগ করুন

মতামত দিতে ক্লিক করুন

error: দুঃখিত, অনুলিপি করা যাবে না ! পরে এই কন্টেন্ট প্রয়োজন হলে আপনার সামাজিক অ্যাকাউন্টের সাথে ভাগ করুন।