নিবন্ধ

ভালবাসার কষ্টের গল্প (নিজের অজান্তেই ভিজে উঠবে চোখের কোণ)

ভালবাসার কষ্টের গল্প কবিতা

এখানে আমরা আপনাদের জন্য ৩টি ছোট আকারের ভালবাসার কষ্টের গল্প কাহিনী তুলে ধরেছি যা আপনাদের হৃদয় ছুয়ে যাবে বলে আমাদের বিশ্বাস । আসলে ভালবাসা এমন এক অনুভূতি যা মানুষের মনকে সুখে আচ্ছন্ন করে রাখে । কিন্তু কখনো কখনো ভাগ্যের লিখনে সেই সুখের অনুভূতিগুলোই হয়ে যায় কষ্টের স্মৃতি । প্রিয় পাঠক চলুন তবে শুরু করা যাক ।

১ নং ভালবাসার কষ্টের গল্প কাহিনী

বিয়ের পর যাকে ভালোবেসে রাজু নিজেকে বদলাতে শুরু করেছিলো, একদিন সেই প্রিয়তমা স্ত্রী হঠ্যাৎ করেই পৃথীবি থেকে বিদায় নিলো কাউকে কিছু না জানিয়ে ।স্থবির করে দিয়ে গেলো রাজুর জীবন…

গল্পের নাম: মীরা এবং আলো
লিখেছেন- অনানিকা আহমেদ

তড়িঘড়ি করে বাসরঘরে ঢুকতে গিয়ে রাজু দরজার সামনে রাখা পাপোষের সাথে পা আটকে ধপাস করে চিৎপটাং হল। নতুন বউ মীরা বিছানা থেকে নেমে স্বামী কে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করল। রাজুর রোমান্টিক মুডটা নিমিষেই লজ্জায় রূপ নিল। কি আশ্চর্য! এভাবে কেউ বউয়ের সামনে বোল্ড আউট হয়? তাও আবার প্রথম রাতে? এই ছিল কপালে!

মীরা মিটিমিটি হাসতে হাসতে আবার বিছানায় গিয়ে চুপ করে উল্টো দিকে মুখ ঘুরিয়ে বসে রইল। রাজু নিজেকে সামলিয়ে কৃত্তিম কাঁশি দিয়ে পরিবেশ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলো। বিছানায় বসে মীরাকে মৃদু ভাবে ডাক দিল রাজু..
:হাই, মীরা। ধন্যবাদ সাহায্য করার জন্য। তো…
:তো…?
:মানে… রাত তো অনেক হল ঘুমাই চল।
:আচ্ছা
:লাইটটা অফ করার আগে তোমাকে কিছুক্ষণ অপলক দৃষ্টিতে দেখতে চাই.. এইদিকে একটু ঘুরবে?
মীরাকে ঘুরার সময় না দিয়ে রাজু নিজেই তাকে নিজের দিকে মুখ করে ঘুরিয়ে দিল। মীরা লজ্জায় চুপ করে রইল। রাজু তার রোমান্টিক মুডটা আরো বাড়াতে লাইটের সুইচটা যেইমাত্র অফ করেছে ওমনি মীরা চিৎকার করে উঠল,”লাইট জ্বালাও, লাইট জ্বালাও প্লিজ।”
“একি যন্ত্রনা! লাইট অন রাখলে ভাব আসবে কেমনে? একি বিপদ!! ঘুমাতেও তো পারবো না! “কিন্তু মীরার চিৎকার থামাতে লাইট জ্বালাতে বাধ্য হল রাজু।
:সরি, আমি আঁধারে ভয় পাই। লাইট বন্ধ করলে আমার দম বন্ধ হয়ে আসে ভয়ে। আমি লাইট জ্বালিয়েই রাতে ঘুমাই ছোটবেলা থেকে। প্লিজ লাইট বন্ধ করো না।
:কিন্তু আমি তো ডিমলাইট জ্বালানো থাকলেও ঘুমাতে পারি না মীরা। এখন আমার কি হবে? আমি ঘুমাবো কিভাবে?
মীরা অসহায়ভাবে করুণ দৃষ্টিতে রাজুর দিকে তাকিয়ে রইল। ঐ অসহায় দৃষ্টির কাছে সমুদ্রের গর্জনো যেন নিরবে হার মেনে নেবে। রাজু নিজের কষ্ট ভুলে মেনে নিল মীরার আলোর ভুবনকে।

বিয়ের রাত…ভোর পাঁচটা….
রাজু হঠাৎ, “বৃষ্টি বৃষ্টি” বলে ঘুম থেকে চিৎকার করে উঠল। মীরা তার মুখ চেপে ধরল। বলল বৃষ্টি নয়, সে পানি ছিটিয়েছে রাজুর মুখে। অনেকবার ডাকার পরও যখন রাজু উঠছিলো না তখন এই পন্থায় ঘুম ভাঙাতে বাধ্য হয়েছে মীরা। রাজুর খুব রাগ হল। সে সাধারনত ছুটির দিনে সকাল ১০টার আগে বিছানা ছাড়ে না। তার উপর আজ তার বিয়ের প্রথম রাত! এত রাতে ঘুমিয়ে এত সকালে কার উঠতে মন চায়? কেমন মেয়ে রে বাবা! এত মজার ঘুমটাকে এত নিষ্ঠুরভাবে ভেঙে দিল! কপালে তোর মহা খারাবি আছে রে রাজু! “মনে মনে ভাবল রাজু। মীরা কোমল স্বরে বলল, এসো আজ ফজরের নামাজটা একসাথে আদায় করি। রাজু আকাশ থেকে পড়ল যেন! রাজুর অনিচ্ছাটা চোখে মুখে ভেসে উঠল। কিন্তু মীরার আকুতি সরাসরি এভয়েডও করতে পারল না। মনে মনে রাগ নিয়ে তাড়াতাড়ি গোসল শেষ করে দু’জনে একসাথে নামাজ আদায় করল। নামাজ আদায়ের পর রাজুর রাগটা যেন ভালবাসা আর মুগ্ধতায় রূপান্তরিত হল। মেয়েটা এত পবিত্র চেহারার যে চেহারার দিকে তাকালে সব না গুলো হ্যাঁ হয়ে যায়! ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে তাদের রুমের লাইটা বন্ধ করার সুযোগ পেল রাজু। আবার দু’জনে ঘুমিয়ে পড়ল।

বিয়ের চারমাস পর….
রাজুর ব্যাপক পরিবর্তনে বাসা, অফিস, এলাকার সবাই অবাক। যে রাজু কখনো মসজিদে যেত না সে এখন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে জামাতের সাথে আদায় করে। অট্টহাসি দেওয়া রাজু এখন মৃদু হাসি দেয়। বাবা, মা, ভাই, বোনের সাথে ধমক দিয়ে কথা বলা রাজু এখন চরম বিনয়ী। তার ভাল ব্যবহার, ন্যায়পরায়ণতা আর কর্মনিষ্ঠায় অফিসে তার সুনাম বেড়েছে খুব সাথে প্রমোশানটাও। একটা মেয়ে তার জীবনে এত অল্প সময়ে এত পরিবর্তন এনে দিতে পারে এটা যেন অচিন্তনীয় একটা ব্যাপার। মীরার পবিত্র ভালবাসার স্পর্শে অপবিত্রতাও যেন নতুনভাবে পবিত্রতা খুঁজে পায়। সে খুব জোরাজুরি করে কিছু করায় তা নয় কিন্তু তার আকুতি ভরা অনুরোধ কোন পাষাণের হৃদয়টাও গলিয়ে দিতে পারে বরফের মত। খুব বেশি সাজগোজ সে করে না তবে তার অল্প সাজগোজই চোখ শীতল করে দেবার জন্য যথেষ্ট। সবার প্রতি তার সমান খেয়াল। নিজের বাবা মায়ের প্রতি যতটুকু শ্রদ্ধা বা দ্বায়িত্ববোধ তেমনি শশুড়-শাশুড়ির জন্যই। কাদের প্রতি ভালবাসাটা বেশি আর কাদের প্রতি কম তা তার ব্যবহার দিয়ে নির্ণয় করা খুব কঠিন। ভালবাসা আর মমতায় সে সবার প্রিয় হয়ে উঠেছে এই একমাসেই। কিন্তু রাতে রুমে লাইট জ্বলে থাকার কারনে রাজুর ঘুম কম হয়। ফলাফল চোখের নিচে কালি।

এভাবে তিন বছর কেটে গেল। রাজুর ঘরে কোন সন্তান আসেনি। মেয়েটা সেই চিন্তায় মনমরা হয়ে থাকে। লুকিয়ে লুকিয়ে খুব কাঁদে। চোখ দুটোতে যেন সমুদ্রের সব নোনা জল এসে ভর করেছে তাই সকালে বালিসটা স্পর্শ করলে বোঝা যায় নোনা জলের উপস্থিতি।
রাতে…
:মীরা তুমি কেন এটা নিয়ে এত চিন্তা করছো? দেখ ডাক্তার তো বলেছে সব রিপোর্ট ভাল। আল্লাহ্ চাইলে বেবী হবেই। তুমি এভাবে ভেঙে পরোনা প্লিজ।তোমায় এভাবে দেখতে আমার খুব কষ্ট হয়।
:দেখ,আমি সে জন্য কাঁদি না।
:তবে?
:লাইট জ্বালিয়ে ঘুমাতে তোমার খুব কষ্ট হয় তবু তুমি আমার জন্য এটা তোমার অভ্যাসে পরিনত করেছো।আমি কত ভাগ্যবতী! আমি হয়তো আর…
:আর কি?
:না কিছু না। আমায় একটু জড়িয়ে ধরে রাখবে তোমার বাহুডোরে?
:তুমি তো নিজের থেকে এমন করে জড়িয়ে ধরতে বল না কখনো। কি হয়েছে তোমার মীরা? খারাপ লাগছে? ডাক্তার ডাকবো? তোমার বাবা মা কে আসতে বলবো?
:না কাউকে আজ ডেকো না। কাল দেখবে সবাই আসবে। বাড়ি ভর্তি মানুষ থাকবে, হা হা হা।
:কি বলছো এসব? বাড়ি ভর্তি মানুষ থাকবে কেন? কাল কি কোন প্রোগ্রাম হবে নাকি? আর হাসতেছো কেন?
:রাজু….(খুব মৃদ্যুভাবে)শোন তোমাকে প্রচন্ড ভালবাসি। আমাদের দেখা হবে আবার। আমি রাখতে পারবো না বলে আল্লাহ আমাকে বেবী দেন নি। যে গাছ নিজেই অসীমের পথে সে গাছে আর ফুল ধরে কি লাভ?
:চুপ কর মীরা। কি উল্টাপাল্টা বকছো! ঘুমাও এখন, কথা বলতে হবে না। তোমার মনে হয় জ্বর আসছে। একটু ছাড়ো আমি নাপা নিয়ে আসি।
:না। আজ আর তোমায় ছাড়বো না। তুমি শুয়ে থাকো প্লিজ। আমি নাপা খাবো না। লাইটটা অফ করবে? আজ আলোটা খুব যন্ত্রনা দিচ্ছে।তোমার বালিসের পাশে বেড সুইচটা।
রাজু অবাক হল এ কথা শুনে। মীরার খারাপ লাগছে তাই আর কথা না বাড়িয়ে সুইচ বন্ধ করে দিল। নিমিষে আলোর জায়গাটা আঁধারের দখলে চলে গেল। শেষ রাতের দিকে রাজুর হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল মীরার ঠান্ডা শরীরের স্পর্শে। রাজু মীরার দু বাহুর বাঁধনে বাঁধা। মীরার হাত দুটো খুব ঠান্ডা হয়ে আছে। রাতে কখন ঘুমিয়ে পরেছে রাজুর মনে নেই। তিন বছর পর আজ আঁধারে খুব ভাল ঘুম হয়েছে তার। শীতল স্পর্শে হঠাৎ এ ঘুম ভাঙায় সে ঘুম জড়ানো চোখে পায়ের কাছ থেকে কাঁথাটা নিয়ে মীরা আর তার শরীরে জড়িয়ে আবার শুয়ে পড়ল।

মসজিদে ফজরের আযান শোনা যাচ্ছে। রাজু নামাজ আদায় করতে উঠার চেষ্টা করল। কিন্তু দেখল মীরা এখনো তাকে জড়িয়ে আছে শক্তভাবে। মীরা তো এমন করে না! সে মীরা কে সরাতে গিয়ে দেখে মীরার শ্বাস চলছে না। সে মীরা মীরা বলে চিৎকার করে মীরাকে ঝাকাতে লাগলো। মীরা না ফেরার দেশ থেকে সে ডাকের উত্তর দিতে পারলো না।

সকালে এমন আকস্মিক ঘটনায় সবাই রাজুদের বাসায় এসে কান্না করতে লাগল। শুধু রাজু বোবা হয়ে রইল। সবাই চেষ্টা করছে রাজুর কাছ থেকে মীরাকে সরাতে কিন্তু রাজু তাকে খুব করে জড়িয়ে ধরে রেখেছে যেন এ বন্ধন খোলা পৃথিবীর কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। অনেক চেষ্টার পর মীরাকে রাজুর বন্ধন থেকে মুক্ত করা গেল আর সাথে সাথে রাজু বলে উঠল, মীরা আমি কেন ঘরের লাইট বন্ধ করলাম? কেন তুমি বললে আজ লাইট বন্ধ করতে?তুমি না আঁধারে ভয় পাও? কেন তবে সেই আঁধারে পাড়ি জমালে? আমি আমি কিভাবে তোমায় ছেড়ে একা রইবো? মীরা মীরা মীরা…তার কান্নায় সবার হৃদয় হু হু করে কেঁদে উঠল।

এক বছর পর…
রাজু রুমের লাইট জ্বালিয়ে না রাখলে ঘুমাতে পারে না। লাইট জ্বালিয়ে রেখে সে সেই আলোর সাথে কথা বলে বিড়বিড় করে। কবিতা বলে, গল্প করে আবার হো হো করে হেসে ওঠে একা একা ।
“সব চলে যাওয়া যে চলে যাওয়া নয়,
সব বলে দেয়া তবু কথা বাকি রয়।
হৃদয়ে বসে তুমি নেই যার ক্ষয়।
আলোতে কি আছে বল আঁধারের ভয়?”

২ নং ভালবাসার কষ্টের গল্প

যারা সত্যিকারের ভালোবাসে তারা পাগলের মতোই ভালবাসে । নিজের প্রিয়জনকে অন্য কারো হতে দিতে চায়না । সব সময় জড়িয়ে রাখতে চায় নিজের কাছে । তবুও সেই প্রিয়জনকে ছেড়েই পারি দিতে হয় অজানার পথে…

গল্পের নাম- আগলে রেখো
অজানা

ওর সাথে পারিবারিক ভাবেই বিয়েটা হয়েছিলো।
বাসর রাতে ওর প্রথম প্রশ্ন ছিলো, কয়টা প্রেম করছেন?

আমি ওর মুখের দিকে অনেকক্ষন তাকিয়ে ছিলাম।
আবার বলেছিলো, কয়টা প্রেম করছেন?
আমি বলেছিলাম একটাও না!
উওরটা শুনে অনেক খুশি হয়েছিলো। বলেছিলো, এখন থেকে শুধু আমাকেই
ভালোবাসবেন, অন্য কোন মেয়ের দিকে তাকালে মেরে ফেলবো!
ও আমাকে কতটা ভালোবাসে বুঝছিলাম সেই দিন। যেদিন আমি ওর চাচাতো বোনের সাথে হেসে হেসে কথা কিছুক্ষন বলছিলাম।
ও আমাকে জড়িযে ধরে সে কি কান্না!
আমাকে বলেছিলো, তোমাকে না বলেছি আর কারো সাথে কথা বলবেনা। আমি মরে গেলে ইচ্ছেমত কথা বলো! তখন আর নিষেধ করবো না!
ওর কাঁন্না দেখে আমি নিজেই কেঁদেছিলাম।

ও আমাকে বলেছিলো, আমি নাকি বাবা হবো!
কথাটা শুনে যে কি খুশি হয়েছিলাম বোঝাতে পারবো না!
ওকে কোলে করে সারা বাড়ি ঘুরেছিলাম।

ও আমাকে বলতো রান্না করার সময় ওকে পিছন থেকে জড়িয়ে না থাকলে নাকি ওর রান্না করতে ইচ্ছে করে না।
আমি ওর সব আবদার হাসি মুখে পুরন করতাম। বড্ড ভালোবাসতাম ওকে। এখনো বাসি।
ও আমাকে বলেছিলো, আমাকে জড়িয়ে ধরে না ঘুমালে নাকি ওর ঘুমই আসে না!
সারারাত জড়িযে ধরে থাকতো।
তাই কোথাও রাতে থাকতাম না যত রাতই হোক বাসায় আসতাম!

ও যখন ৬ মাসের অন্তঃসন্তা তখন আমাকে বলেছিলো, আমাকে ছাড়া তোমার কেমন লাগবে গো?
আমি ওর কথা উওর দিতে পারি নি শুধু কেঁদেছিলাম!
ও আমাকে প্রায় বলতো, আমার যদি কিছু হয়ে যায় তুমি আবার আরেকটা বিয়ে করো না যেন!
মরে গিয়েও তোমাকে অন্য কারও হতে দিবো না!
আমাকে ভুলে যেও না।
ওর কথা শুনে কাঁদতাম।
ঘুমানোর সময় আমাকে বলতো, আমাকে ছাড়া ঘুমানোর চেষ্টা করো?
বলা তো যায় না……….
আমি ওকে আরও জড়িয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরতাম!

একদিন ওর ব্যথা উঠলো! সাথে সাথে ওকে হাসপাতালে নিয়ে গেলাম।
ও আমাকে বলেছিলো, আমার যদি কিছু হয়ে যায় প্লিজ আমাকে ভুলে যেও না!
বড্ড ভালোবাসি তোমাকে।
কথাটা শুনে কান্না ধরে রাখতে পারি নি!
ওকে বলেছিলাম, কিছু হবে না তোমার আমি তো আছি। কিছু হতে দিবো না!
ও আমাকে বলেছিলো, শেষ বারের মত একবার বুকে নিবে?
কথাটা বলেই হাউ মাউ করে কেঁদে দিছিলো!
আমিও কান্না ধরে রাখতে পারি নি। ও আমাকে ছেড়ে দিতে চাইছিলো না, জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলো!
আমিও কাঁদছিলাম!
সবাই হা করে তাকিয়ে ছিলো।

নিয়েছিলাম ওকে বুকে
কিন্তু এটাই যে শেষবার বুঝতে পারি নি। বুঝতে পারলে কখনোই ছেড়ে দিতাম না। ও আমাকে
বলছিলো, আমার সাথে তুমিও চলো আমার খুব ভয় করছে!
ডাক্তারকে কত বার বলেছিলাম, আমিও ওর পাশে থাকবো!
কিন্তু আমাকে যেতে দিলো না।

অপারেশন থিয়েটার থেকে একটা বাচ্চার কান্নার আওয়াজ শুনলাম।
বাচ্চাকে পেলাম, কিন্তু ওকে আর পেলাম না!

পাগলের মত ওর কাছে
গেলাম, দেখলাম সাদা কাপড় দিয়ে ওকে ঢেকে রাখছে।
কাপড়টা সরাতেই অজ্ঞান হয়ে গেছিলাম!
জ্ঞান ফিরার পর দেখলাম ওকে খাটলিতে শুয়ে রাখছে।
ওর কাছে গেলাম। বলেছিলাম, এই কই যাও আমাকে ছেড়ে?
আমার রাতে ঘুম হয় না
তোমাকে ছাড়া জানো না?
তোমাকে না জড়িয়ে ঘুমালে আমার ঘুম হয় না জানো না?
কেন চলে যাচ্ছো?
এই উঠো উঠো অনেক তো ঘুমালা আর কত ঘুমাবে?
আমার কথা মনে পড়েনি?
এই তুমি না বলেছিলে আমার চোখের জল তুমি সহ্য করতে পারো না!
এই দেখো আমি কাদছি,
এই উঠো, আরে উঠো না!
প্লিজ উঠো!
ও শুনলোই না আমার কথা ঘুমিয়ে থাকলো!

ওকে যখন নিয়ে যাচ্ছিলো আমি পাগলের মত আচরন করছিলাম।
তবুও উঠলো না!
চলে গেলো।
ও আমাকে বলতো যে দিন হারিয়ে যাবো সেই দিন বোঝবে কতটা ভালোবাসি তোমাকে!
চলে গেলো, হারিয়ে গেলো!

১০ বছর ধরে তার স্মৃতি বুকে নিয়ে বেঁচে আছি।
ছোট্ট মেয়ে বুঝতে শিখেছে। আমাকে বলে
আব্বু আম্মুর জন্য আর কেঁদো না। তোমাকে
আর কাঁদতে দিবো না!
বলে চোখের পানি মুছে দেয়। আবার চোখ জলে ভরে উঠে, আবার মুছে দেয়।

৩ নং ভালবাসার কষ্টের গল্প

সবাই নিজের ভালবাসার মানুষকে নিজের করে নিতে পারেনা । মনে প্রানে চাইলেও ভাগ্যের কাছে তাকে হেরে যেতে হয় । নিজের চোখের সামনে নিজের ভালবাসার মানুষটা অন্য কারো হয়ে গেলেও চেয়ে চেয়ে শুধু দেখা ছাড়া কিছুই করার থাকেনা…

গল্পের নাম- সামান্য দেরি
লিখেছেন- তিথী

– দুপুরে খেয়েছো?
– নাহ, রান্না হচ্ছে। একটু পর খাবো।
– ৩ টা বাজে এখন। কখন তোমার রান্না শেষ হবে আর কখন তুমি খাবে।
– হয়ে যাবে। তুমি খেয়েছো?
– তোমার খাওয়ার আগে আমি কখনো খাই?
– আজ খেয়ে নাও। আমার লেট হবে।

অঙ্কুশ ফোন রেখে বিছানায় চিৎ হয়ে শুয়ে আছে। শরীর চলছেনা আর। গত রাত থেকে এখনো পেটে কোন খাবার যায়নি। বাসায় রান্না হয়নি। মেসের রুমমেটরা দুপুরে কেউ বাসায় খায়না। সবাই অফিসে চলে যায়। বাজার হয়নি সকালে। পকেটেও কোন টাকা নেই। এই মেসে অঙ্কুশই কেবল একমাত্র বেকার মানুষ। সারাদিন বই পড়ে। এই গল্প টল্প পড়ে অথবা দু একটা কবিতার বই।

বাসা থেকে মাসে ৩ হাজার টাকা আসে। বাবা নেই, মা বাসায় বসে সেলাই টেলাই এর কাজ করে যা উপার্জন করে, তা দিয়ে সংসারটাকে টেনেটুনে নিয়ে যাওয়াই কঠিন হয়ে যায়।
তারপরও সেই কষ্টের টাকা থেকে, এই টাকাটা তাকে পাঠাতে হয়।
যদিও ৩০০০ টাকার মধ্যে ২০০০ টাকা চলে যায় সিট ভাড়াতে আর বাকি ১০০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা মেসের বুয়ার বিল। মেসে থাকতে হলে ওয়াইফাই এর বিল ১০০ টাকা দেওয়া বাধ্যতামূলক!
যদিও অঙ্কুশ এর এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন অথবা ল্যাপটপ কিছুই নেই, তবুও দিতে হয়।
জগতের যে কত নিয়ম ফলো করে টিকে থাকতে হয়!

ক্ষুধায় অঙ্কুশের শরীর দুমড়ে মুচরে যাচ্ছে। পেটের ভেতর গ্যাস বুদবুদ শব্দ করে ফেপে উঠছে।
পেট ফুলে গেছে, অথচ পেটে কোন খাবার যায়না প্রায় ২৮ ঘন্টা!
গলির মোড়ের যে চায়ের দোকানটা, সেখানে ২৩৫ টাকা বাকি জমেছে।
কলা রুটি খেয়ে কাটিয়ে দেওয়া যেত, কিন্তু যাওয়ারই তো সুযোগ নেই।

অনুরিমা আবার ফোন দিয়েছে।
– খাওয়া হলো তোমার?
– হ্যা হয়েছে। খুব ক্ষুধার্ত ছিলাম, গুনে গুনে ২ প্লেট ভাত খেয়েছি। তুমি খাওনি এখনো?
– নাহ, এখন খেতে যাবো। খেয়ে এসে তোমাকে কল দিচ্ছি।
– আচ্ছা খেয়ে নাও।

অনুরিমা ফোন কেটে দিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে কান্না করছে। সে জানে, অঙ্কুশ এখনো কিছু খায়নি। প্রিয় মানুষের কন্ঠস্বর শুনলে তার না বলা কথাও বুঝা যায়।
অনুরিমার সামনে ভাতের থালায় খাবার পড়ে আছে। কাছের মানুষ না খেয়ে আছে জানার পর কি করে গলা দিয়ে খাবার নামে?
অনুরিমা তার খাবারগুলো একটা বক্সে ভরে বাসা থেকে বের হয়ে গেলো।
অঙ্কুশের বাসার গেটে এসে তাকে ফোন দিয়ে নিচে নামতে বললো।
অঙ্কুশ নিচে নেমে দেখে অনুরিমা দাঁড়িয়ে আছে। তার হাতে একটা টিফিন বক্স।
সামনে আসতেই অনুরিমা বক্সটা অঙ্কুশের হাতে দিয়ে বললো, আজ শোল মাছের ভর্তা আর শিং মাছের ঝোলটা ভালো হয়েছে।
আমি একা একা খাবো, এটা মানতে পারছিলাম না। তুমি তো দুপুরে খেয়েছো, এটা রাতে খেও। আর উপরে যেয়ে ফ্রেস হয়ে বের হও।
পাক্কা ১৫ মিনিট সময় আছে তোমার হাতে। ১ মিনিটও যাতে লেট হয়না।

ব্যাচেলর মেসে থাকা ছেলেদের রেডি হয়ে বাসা থেকে বের হতে ২ মিনিট লাগে। এর আগেও অনুরিমা কখনো ২ মিনিটের বেশি সময় দেয়নি। আজ ১৫ মিনিট সময় দিয়েছে।
অঙ্কুশ বুঝতে পারছে, এটা আসলে তার ভাত খাওয়ার সময়।
সে ভাত খেয়ে নিচে নেমে দেখে অনুরিমা গেটের পাশে নেই।
অঙ্কুশ তাকে খুঁজতে খুঁজতে অনেকদূর চলে এসেছে। কোথাও অনুকে দেখা যাচ্ছেনা।
সে অনুর ফোনে কল দিতে যেয়ে দেখলো ব্যালেন্স নেই। ব্যাচেলর মেসে থাকা দরিদ্র পরিবারের ছেলেদের ফোনে সবসময় ব্যালেন্স থাকে না।
একটু পর অনুরিমা ফোন দিয়েছে। অঙ্কুশ ফোন ধরেই বললো,
– এ্যাই অনু, কোথায় চলে গেলে?
– বাসায়।
– বাসায় মানে?
– বাসায় একটু কাজ আছে! জরুরী কাজ!
– কি এত জরুরী কাজ? না বলেই চলে যেতে হয়?
– পরে বলি?
– আচ্ছা বইলো।
– তুমি খেয়েছো?

অঙ্কুশ কোন জবাব দিল না। কারন ওপাশ থেকে অনুরিমা কান্না করছে।
একদম হাউমাউ টাইপ কান্না। মনে হচ্ছে, এখনি বোধয় তার দমবন্ধ হয়ে আসবে।
অঙ্কুশ দুঃশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলো,
– কি হয়েছে, অনু? কাঁদছো কেন? কেউ কিছু বলেছে? আমি কিছু করেছি?
– নাহ, তুমি কিছু করোনি। এমনিই কাঁদছি।
– এমনিই কেউ কখনো কাঁদে?
– আমি কাঁদি তো।
– কি হয়েছে বলো আমাকে?
– সন্ধ্যায় আমার এংগেইজমেন্ট। তোমার কথা তো বাবাকে অনেকবার বলেছি। বাবা তার মেয়েকে কোন বেকার ছেলের সাথে বিয়ে দিবে না।
আমি আর এসব নিতে পারছিনা, অঙ্কুশ! তোমাকে ছাড়া আমার বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে যাবে।
অঙ্কুশ কি জবাব দিবে বুঝে উঠতে পারছেনা। বড়লোক বাবার আদরের সন্তান হলে হয়তো গোপনে বিয়ে করে বাড়ি নিয়ে যেত।
যেখানে মা নিজেই ঠিকঠাক সংসারটা চালাতে পারছেনা, সেখানে হুট করে নতুন একটা মানুষকে এনে সেট করে দেওয়ার মতো অত’টা দায়িত্ব জ্ঞানহীন তো অঙ্কুশ না।

ঢাকায় আসার পর কত কত চাকরির ইন্টারভিউ দিয়েছে। অথচ, ভালো ইন্টারভিউ দিয়েও কোন চাকরি হলো না।
চাকরির ইন্টারভিউ মানেই বাস ভাড়াটা অযথা খরচ হওয়া।
এই শহরে অঙ্কুশের বোধহয় কোন চাকরি হবেনা।
দুদিন পর অনুরিমার ফোন এলো। ভাঙা ভাঙা কন্ঠে অঙ্কুশ বললো,
– কেমন আছো, অনু?
অনুরিমা কাঁদতে কাঁদতে জবাব দিল,
– তোমার কি মনে হয়, আমি ভালোই আছি?
অঙ্কুশ বললো,
– ভালো থাকারই তো কথা। যার স্বামী শহরের নাম করা শিল্পপতির ছেলে, তার ভালো না থাকাটা মানায়?
– অথচ, আমি তোমার সাথেই খারাপ থাকতে চেয়েছিলাম।
– জীবন আসলে এত’টা সহজ না। পৃথিবী মানুষের প্রত্যাশা পূরন করতে অপছন্দ করে। আমার সাথে থাকলে তুমি সুখী হবেনা। একটা মানুষ নিয়ে আসলে জীবন না। বেঁচে থাকতে আরো অনেক কিছুই লাগে। আমার ঘর নেই, থাকার কোন নির্দিষ্ট জায়গা নেই, ভর দিয়ে দাঁড়ানোর একটা লাঠি নেই। আমার জীবনে এসে তুমি কিছুই পাবেনা।
আমি চাইনা, তুমি আমার জীবনে আসো। তুমি বরং অন্য কোথাও ভালো থাকো।
ছোট্ট এই জীবনে, তোমার খারাপ থাকাটা মেনে নিতে পারবোনা।
– অর্থ সম্পদই কি জীবনের সব? এখানে কি ভালোবাসার কোন মূল্য নেই? এই যে আমি কাঁদছি, তোমার মায়া লাগছেনা?
– মায়া লাগলেই সব কিছু আটকে রাখতে নেই। কিছু কিছু মায়াকে উপেক্ষা করতে শিখে গেলে, মায়াময় কিছু জিনিস ভালো থাকবে।
বিয়ের ডেট কবে ঠিক হয়েছে?
– এই মাসের ২০ তারিখ।
– ওহ, আজ তো ১৩ তারিখ। আর মাত্র এক সপ্তাহ!
– তোমার মন খারাপ হচ্ছেনা?
– নাহ। বিয়ে তো আনন্দের বিষয়। তার উপর কাছের মানুষের বিয়ে। মন খারাপ কেন হবে?
– মন খারাপ করা লাগবেনা তোমার। আমি ফোন রাখছি।

অনুরিমা ফোন রেখে দিলো। অঙ্কুশ খেয়াল করলো তার চোখ থেকে টুপ করে এক ফোঁটা জল মাটিতে পড়ে গেলো।
কি আশ্চর্য!
পুরুষ মানুষ কখনো কাঁদে? অঙ্কুশ নিজেকে বুঝাতে চেষ্টা করলো, পুরুষদের হৃদয় হবে পাথরের মতো। মৃত্যুতেও এরা কাঁদতে পারবেনা।
এদের সহ্য করার ক্ষমতা হবে প্রবল।
কিন্তু অঙ্কুশ নিজেকে যতই বুঝাচ্ছে, ততোই তার কান্না বেড়ে যাচ্ছে।
হাউমাউ করে কান্না পাচ্ছে। কাছের মানুষের চলে যাওয়াতে কান্না পাওয়াটাই স্বাভাবিক।
তবুও, অঙ্কুশ তো নিন্ম মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। এতটুকু ব্যথায় সে কাঁদবে কেন?

আজ ২০ তারিখ।
সকাল বেলায় ঘুম ভাংলো অনুরিমার ফোনে।
– হ্যালো।
– হ্যা অনু, বলো!
– দুপুরে বিয়ে।
– কনগ্রেটস!
– তুমি কি একটু আসবে?
– কোথায়?
– বিয়েতে।
– তুমি কি চাচ্ছো?
– শেষবার তোমাকে একটু দেখতাম।
– আচ্ছা আসবো।
– নীল পাঞ্জাবিটা আছে না?
– হ্যা আছে। তবে, আয়রন করা না।
– ওটাই পড়ে এসো!
– আসবো।

অনুরিমা ফোন রেখে দিলো। অঙ্কুশের জীবনের সবচেয়ে কঠিন এবং কষ্টের দিন আজকে। তবুও সে কাপরের স্তুপ থেকে নীল পাঞ্জাবীটা বের করে পানি দিয়ে আয়রন করে নিলো।
পাশের রুমমেটের কাছ থেকে একটু পারফিউমের ঘ্রাণ মাখিয়ে নিলো।

অঙ্কুশ বাসা থেকে বের হয়ে সোজা কমিউনিটি সেন্টারে গেলো। কমিউনিটি সেন্টারের নাম আনন্দ কমিউনিটি সেন্টার। যদিও এখান থেকেই অনেক মানুষের বেদনার গল্প শুরু হয়।

ফুল দিয়ে সাজানো একটা স্টেজে অনু বসে আছে। কি পরীর মতো লাগছে মেয়েটাকে।
অঙ্কুশ বুঝতে পারছে ঝলমলে আলোর স্টেজে বসা মেয়েটার ব্যাকস্টেজে অন্য একটা মানুষ।
এই মানুষটা সে নিজেই।
কখনো নিজের প্রেমিকার বিয়েতে প্রাক্তন প্রেমিক দাওয়াত খেতে আসে, এরকম কিছু অঙ্কুশ কখনো শুনেনি।
এত বড় স্পর্ধা প্রেমিকদের হয়না।

অঙ্কুশ স্টেজের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। কুচকানো পাঞ্জাবি দেখে তেমন কেউই পাত্তা দিচ্ছে না। ক্যামেরাম্যান বললো- এ্যাই ভাই চাপেন তো। দেখেন না ছবি তুলতেছি।
অঙ্কুশ হাসতে হাসতে সাইডে চেপে গেলো। অনুরিমা কিছু বলতে পারছেনা।
ক্যামেরা ম্যান হাসতে বললে, অনুরিমা হাসে। ক্যামেরা ম্যানরা কখনো কাঁদতে বলে না। কাঁদতে বললে, এই মুহূর্তে অনু জন্মের কান্না কাঁদতো।

একটু পর অঙ্কুশ স্টেজে উঠে অনুরিমার আর তার স্বামীর পাশে বসে অনুরিমার সাথে শেষ দেখা করে এলো।
চলে আসার সময় অনুরিমার হাতে একটা খাম ধরিয়ে দিয়ে বলে আসলো, তোমার বিয়ের উপহার!
চলে আসার সময়, অঙ্কুশ পেছনে তাকিয়ে একটা অতৃপ্তির হাসি দিলো।
অনুরিমা তাকাচ্ছে না। তাকালেই হয়তো কেঁদে ফেলবে।
বাসর ঘরে ঢুকে অনুরিমা অঙ্কুশের দেওয়া খামটা খুললো।
খামের ভেতর কম্পিউটারে কম্পোজ করা বোল্ড লেটারের একটা চাকরির এপোয়েন্টমেন্ট লেটার।

হয়তো এখানে দেয়া ৩টি ভালবাসার কষ্টের গল্প পড়ে আপনাদেরও মনটা খারাপ হয়ে গেছে । এগুলো গল্প হলেও বাস্তব জীবনেও এমন বহু ঘটনা অহরহ ঘটে চলছে । চাইলে আমাদের এই গল্পগুলো আপনি শেয়ার করতে পারেন । শুভকামনা রইলো । ধন্যবাদ |

ট্যাগ গুলো

মতামত যোগ করুন

মতামত দিতে ক্লিক করুন

error: দুঃখিত, অনুলিপি করা যাবে না ! পরে এই কন্টেন্ট প্রয়োজন হলে আপনার সামাজিক অ্যাকাউন্টের সাথে ভাগ করুন।