নিবন্ধ

Google AMP – ক্ষতিকর যত দিক

Google AMP (Accelerated Mobile Pages) গুগল এএমপি

Google AMP (Accelerated Mobile Pages) (গুগল এএমপি) গুগলের একটি প্রজেক্ট যার মাধ্যমে গুগল ওয়েবসাইটগুলোর মোবাইল ভার্সনকে সার্চ রেজাল্টে দ্রুতগতি সম্পন্ন করে তোলে। এর ফলে ধীরগতি সম্পন্ন ওয়েবপাতা গুলো অনেকটাই দ্রুতগতিতে লোড হয়। তবে এই একটি সুবিধা দিতে গিয়ে প্বার্শপতিক্রিয়া হিসেবে বেশকিছু অসুবিধা সৃষ্টি হয়। এমনকি গুগল তাদের নিজেদের সাইটগুলোতেই এই “এএমপি” ব্যবহার করেনা। যে বিষয়গুলো এর মূল অসুবিধা হয়ে দাড়িয়েছে সেসব নিয়েই আমাদের আজকের এই লেখা। চলুন তাহলে দেখে নেই Google AMP এর ক্ষতিকর দিকগুলো।

Google AMP এর অসুবিধা সমূহ –

CSS লিমিট মাত্র ৫০ কেবি: গুগলের এক্সেলেরাটেড মোবাইল পেজগুলোর CSS লিমিট ৫০ কেবিতে সীমাবদ্ধ। যা আপনার পাতাটিকে পূর্নাংগভাবে তুলে ধরতে সক্ষম নয়।

ভিজিটরের সামনে সাইটের আসল রুপ তুলে ধরেনা: আপনার ওয়েবসাইটে থাকা অনেক অপশনই Accelerated Mobile Page এর কারনে তুলে ধরা যায়না। যা অবশ্যই খারাপ।

সাইটের উইজেট এরিয়া তুলে ধরেনা: এটি আপনার সাইটের উইজেট এড়িয়া তুলে ধরেনা। ফলে রিলেটেড পোস্ট, রিকমেন্ড পোস্ট, বিভিন্ন ধরনের পোল অপশন সাইটে প্রদর্শিত হয়না। এর ফল স্বরুপ ভ্রমনকারিদের কাছে আপনি অনেক কিছুই তুলে ধরতে পারেননা।

পেজ ভিউ কমায়: উইজেট এরিয়া না থাকায় রিলেটেড পোস্ট, রিকমেন্ডেড পোস্ট, পোল অপশন সহ বিভিন্ন বিষয় ভিজিটরের সামনে উপস্থাপিত হয়না। ফলে ভিজিটর শুধুমাত্র যে পেজে এসেছে সেই পেজটি দেখেই বেড়িয়ে যায়। তাই স্বাভাবিকভাবেই পেজ ভিউ কমে যায়।

বাউন্স রেট বাড়ায়: বাউন্স রেট বলতে বোঝানো হয় ভিজিটর যে পেজে ঢুকেছে সেই পেজ থেকেই বেড়িয়ে যাচ্ছে। অর্থ্যাৎ ওয়েবসাইটি ভিজিটরকে আকর্ষন করে অন্য পেজগুলোতে নিতে পারছেনা । এতে ধরে নেয়া হয় ওয়েবসাইটটির কনটেন্ট যথেস্ট মান সম্মত নয়। যা সাইটের Ranking এর ক্ষেত্রে নেতীবাচক প্রভাব ফেলে। আর এএমপির কারনে পেজ ভিউ কমে গিয়ে বাউন্স রেট বেড়ে যায়, ফলে তা সাইটের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারন হয়ে দাড়ায়।

টাইম অন সাইট কমায়: টাইম অন সাইট একটি ওয়েবসাইটের গুনগত মানকে প্রকাশ করে। সাইটে ভিজিটর বেশি সময় থাকলে বুঝতে হবে সাইটের কনটেন্টগুলো ভিজিটরকে বেশি আকর্ষন করছে। যে সাইটের ভিজিটর যত বেশি সময় ওয়েবসাইটে থাকে সেই সাইটের কনটেন্টগুলো তত মানসম্পন্ন বলে ধরে নেয়া হয়। Accelerated Mobile Page এর কারনে সাইটের পেজ ভিউ কমে যায়, বাউন্স রেট বেড়ে যায় ফলে আপনার সাইটের “Time on site” কমে যায়। এটিও Ranking এর জন্য খারাপ এবং আপনার সাইটকে নিন্মমানের সাইটে হিসেবে মানুষের সামনে তুলে ধরে।

নিউজলেটার সাইনআপ ফর্ম প্রদর্শন করেনা : এএমপি সমর্থিত পাতাগুলোয় ওয়েবসাইটের নিউজলেটার সাইন আপ ফর্ম প্রদর্শিত হয়না। ফলে ভিজিটররা নিউজলেটারের জন্য সাইনআপ করতে পারেনা। যা অনেক ওয়েবসাইটের জন্য গুরুত্বপূর্ন।

ওয়েবসাইট তার আকর্ষনীয়তা হারায়: Accelerated Mobile Page ব্যবহারের কারনে ওয়েবসাইটের অপশনগুলে প্রকাশিত না হওয়ায় ওয়েবসাইটের ভিজিটররা সেগুলো সম্পর্কে জানতে পারেনা এবং ব্যবহার করতে পারেনা। তবে অপশন গুলো প্রকাশিত থাকলে হয়তো কেউ কেউ সেগুলো ব্যবহার করতো। এভাবে আপনার ওয়েবসাইট ধীরে ধীরে তার আকর্ষনিয়তা হারায়।

প্লাগিনের মাধ্যমে Google AMP ব্যবহার সাইটে চাপ বাড়ায়: আমরা জানি যে ওয়ার্ডপ্রেস CMS ব্যবহৃত সাইটগুলোতে এএমপি ব্যবহারের জন্য প্লাগিন ইন্সটল করতে হয়। আর যত বেশি প্লাগিন আপনি ব্যবহার করবেন সাইটের উপর তত বেশি চাপ বাড়বে।

আলাদা এড ইউনিট তৈরি করতে হয়: Accelerated Mobile Page এর জন্য আলাদা করে এড ইউনিট তৈরি করতে হয় এবং সেগুলি সাইটে বসাতে হয় যা অকারনে বাড়তি কাজের বোঝা তৈরি করে।

Google AMP ইনডেক্সড পেজ গুলোর আলাদা লিংক তৈরি হয়: আমার মতে এই Accelerated Mobile Page পক্রিয়ার একটি অন্যতম ফালতু দিক হলো এটি আপনার সাইটের কনটেন্টগুলোর আলাদা নিজস্ব লিংক তৈরি করে এবং সেগুলোকে ইনডেক্স করে। ফলে একই কনটেন্ট সাধারন লিংকে একবার ইনডেক্স হয় আবার এএমপি সমর্থিত আরেকটি লিংক ইনডেক্স হয়। ফলে একই কনটেন্ট দুইবার ইনডেক্স হওয়ায় তা ডুপলিকেট কনটেন্ট হিসেবে গন্য হতে পারে।

এছাড়া এএমপি সমর্থিত লিংকগুলো ইনডেক্স হওয়ার সাথে সাথে সার্চ ইন্জিনে মূল লিংকগুলো বাদ দিয়ে এএমপি সমর্থিত লিংকগুলো প্রদর্শিত হয়। তখন সাধারন লিংকগুলো দিয়ে প্রবেশ করলে এএমপি সমর্থন করেনা শুধু এএমপি সমর্থিত লিংকগুলো দিয়ে প্রবেশ করলেই এএমপি কাজ করে। আর আলাদা লিংক তৈরি হয়ে সেগুলো সার্চ ইন্জিনে ইনডেক্স হওয়ার ফলে সবচেয়ে পাগলাটে যে জিনিসটা ঘটে তা আমি একটু পরে আলাদা পয়েন্টে বলছি।

রিটার্নি ভিজিটর কমায়: AMP ব্যবহার করেছিলো এমন অনেক বড় বড় ওয়েবসাইট তাদের রিটার্নিং ভিজিটর আগের চাইতে আশংকাজনক হারে কমে যেতে দেখে পরবর্তিতে AMP বাদ দিয়েছে। ইন্টারনেটে খুজলেই এমন অনেক সাইট পাবেন যারা AMP বাদ দিয়ে পুনরায় আগের জায়গায় ফিরে গিয়েছে হতাশা নিয়ে। আমি নিজেও আমার সাইট থেকে AMP বাদ দিয়েছি ১ মাস ব্যবহার করার পর!
অন্যদের মতো আমিও লক্ষ্য করেছি এটি রিটার্নিং ভিজিটর কমিয়ে দেয়। হয়তো উপরে উল্লেখিত প্রথমদিককার কারনগুলোই এর জন্য দায়ি। ভিজিটর সাইট থেকে বেশি অপশন ব্যবহার করতে না পেরে সেই সাইটে পুনরায় আসার আগ্রহ পায়না।

সাইটকে Google নির্ভর করে তোলে: Accelerated Mobile Page ব্যবহার করিয়ে সাইটের কনটেন্টগুলোর আলাদা লিংক সৃষ্টি করে এবং AMP পেজগুলোতে প্রদর্শিত বিজ্ঞাপনের জন্য পাবলিশারকে দু-চার পয়সা বেশি দিয়ে গুগল ওয়েবসাইটিকে তাদের ইকো সিস্টেমে প্রবেশ করাতে চায়! সোজা কথায় ফাঁদে ফেলতে চায়। একবার এই ইকো সিস্টেমের জীবনচক্রে প্রবেশ করলে বেড়িয়ে আসা কষ্টকর হয়ে দাড়ায়!

আগেই এএমপি সমর্থিত আলাদা লিংক তৈরি হওয়া নিয়ে পাগলামির কথা বলেছিলাম। এটা পাগলামি নাকি ইচ্ছাকৃত ফাদ কে জানে! AMP চালু করার পর যখন আপনার কনটেন্টগুলোর আলাদা এএমপি সমর্থিত লিংক তৈরি হয়ে সার্চ রেজাল্টে প্রদর্শন করা শুরু হবে তারপরে যদি এর ক্ষতিকর দিকগুলো বিবেচনা করে আপনি আপনার সাইট থেকে এএমপি বাদ দেন তখন সার্চ ইন্জিন থেকে সেই এএমপি সমর্থিত লিংকগুলো দিয়ে আসা ভিজিটরদের কাছে এটি “৪০৪ ইরোর” পেজ শো করবে। আপনার কনটেন্ট শো করবেনা! এ যেন AMP বাদ দেয়ার শাস্তি!!! মানে আপনার ওয়েবসাইটে আর্টিকেল বা নিউজটি থাকার পরও সার্চ ইন্জিন থেকে আগত ভিজিটদের সামনে দেখাবে এমন কোন পেজ আপনার সাইটে নেই! ভিজিটরদের ৪০৪ ইরোর দেখাবে! এটা আপনার সাইটের জন্য কতটা ক্ষতিকর তা বুঝতেই পারছেন। তবে এর একটা সমাধান অবশ্য আছে। আপনি চাইলে AMP সমর্থিত পেজগুলো থেকে ভিজিটরদের সাধারন লিংকগুলোতে রিডাইরেক্ট করে দিতে পারেন। তাহলে এই কুফা থেকে রক্ষা পাবেন। তবে সেটিও ঝামেলার কাজ।

সাইটকে ব্রান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখেনা: উপরিউক্ত নানাবিধ সমস্যার কারনে আপনার সাইটটি ব্রান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে পারবেনা। গুগল তাদের ভিজিটরদের সামনে দ্রুত গতিতে তথ্য তুলে ধরে নিজের ভিজিটরদের সন্তুষ্ট করবে ঠিকই কিন্তু কনটেন্টের নির্মাতা হিসেবে সেই ভিজিটরের কাছ থেকে আপনি কি পেলেন ? সেই ভিজিটরের কাছ থেকে আপনি আরো “পেজ ভিউ” বা “টাইম অন সাইট” পাওয়ার সুযোগ থেকে বন্চিত হলেন!

Google AMP ছাড়াও সাইট দ্রুতগতির করা যায়

এত কিছু হারিয়ে আপনি কি পেলেন ? সামান্য একটু “গতি”! অথচ এটা ছাড়াও আপনি গতি বাড়াতে পারেন।

গুগল এএমপি এর কাজ হলো ওয়েবসাইটের মোবাইল ভার্সনকে দ্রুতগতির করে তোলা। তবে ওয়েবসাইটকে দ্রুতগতির করতে হলে যে “এএমপি”ই ব্যবহার করতে হবে এমন কোন কথা নেই। এএমপি ব্যবহার না করেও অন্য বিভিন্ন উপায়ে ওয়েবসাইটের গতি বৃদ্ধি করা যায়। ভালো হোস্টিং ব্যবহার করে, ভালো হালকা থিম ব্যবহার করে, সাইটের কোডিং দক্ষতার সাথে করে

Google AMP প্রজেক্ট Google তাদের নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য বানিয়েছে বা ওয়েবসাইট মালিকরা যেন গুগুলের উপর নির্ভরশীল হয়ে পরে সেজন্য বানিয়েছে- এমন কথা আমি নিশ্চিত করে বলতে পারবোনা। ইন্টারনেট জগতকে সুন্দর ও অর্থবহ করতে গুগলের প্রচুর অবদান রয়েছে যা অস্বীকার করার উপায় নেই। আমি গুগলের উপর দোষারোপ না করে ধরে নিচ্ছি যে এটা হয়তো তারা ভালোর জন্যই বানিয়েছে কিন্তু এর অপূর্নতাগুলো একে উল্টো ক্ষতির কারন হিসেবে দাড় করিয়ে দিয়েছে। আমার পরামর্শ হলো, যতদিন পর্যন্ত এই প্রজেক্টটি আরো উন্নত না হচ্ছে এবং সমস্যাগুলো সমাধান না হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত Google AMP ব্যবহার না করা। তবে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা আপনার। আপনিই চিন্তা করুন কোন পথে যাবেন।

ট্যাগ গুলো

মতামত যোগ করুন

মতামত দিতে ক্লিক করুন

error: দুঃখিত, অনুলিপি করা যাবে না ! পরে এই কন্টেন্ট প্রয়োজন হলে আপনার সামাজিক অ্যাকাউন্টের সাথে ভাগ করুন।