Home » মোবাইলের ব্যাটারি ভালো রাখার উপায় (ব্যাটারি ব্যবহারের সঠিক নিয়ম)
নিবন্ধ

মোবাইলের ব্যাটারি ভালো রাখার উপায় (ব্যাটারি ব্যবহারের সঠিক নিয়ম)

Mobile and charger , মোবাইল এবং চার্জার

স্মার্টফোন বা বাটন ফোন যেটিই হোকনা কেন ব্যাটারি হলো একটি মোবাইল ফোনের প্রান। যতক্ষন ব্যাটারির শক্তি (চার্জ) আছে ততক্ষন আপনার ফোনটি কর্মক্ষম থাকবে আর ব্যাটারির শক্তি ফুরালেই আপনার ফোনটি যত দামীই হোকনা কেন তা কোন কাজে আসবেনা।

ব্যাটারি একটি মোবাইলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন অংশগুলোর একটি। তাই এর সঠিক যত্ন নেয়া প্রয়োজন। সঠিক উপায়ে যত্ন নিলে আপনার মোবাইলের ব্যাটারীটি দীর্ঘদিন ভালো থাকবে।

আজকে আমি আপনাদের সামনে মোবাইলের ব্যাটারি ভালো রাখার উপায় আলোচনা করবো। চলুন তবে জেনে নেই মোবাইলের ব্যাটারি ভালো রাখতে চাইলে কি কি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।

ফোনের ব্যাটারি ভালো রাখবেন যেভাবে

বারবার চার্জ দেয়া থেকে বিরত থাকুন:

ব্যাটারি ভালো রাখতে হলে মোবাইল বারবার চার্জ দেয়া হতে বিরত থাকতে হবে। আপনি যত বেশিবার মোবাইল চার্জ দিবেন, ততই ব্যাটারিকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়। প্রতিটি ব্যাটারির একটি নির্ধারিত চার্জিং সাইকেল থাকে। যেমন ৫০০ বার ৭০০ বার বা ১০০০ বার। অর্থ্যাৎ এই ব্যাটারিগুলো ৫০০/৭০০/১০০০ বার চার্জ গ্রহন ও সরবরাহ করতে পারবে। এরপর ব্যাটারিগুলো যেকোন সময় নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

ধরুন আপনি যে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন তার ব্যাটারির চার্জিং সাইকেল ১০০০ বার। এখন আপনি যদি ১ মাসেই ব্যাটারিটি ১০০০ বার চার্জ করে থাকেন তাহলে এটি ১ মাস পরেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আবার যদি দিনে মাত্র ১ বার করে চার্জ দেন তাহলে সেটি ১০০০ দিন বা প্রায় ৩ বছরের কাছাকাছি টিকতে পারে।

ব্যাটারি সম্পূর্ন চার্জ দিন:

যখন মোবাইল চার্জ দিবেন তখন চেষ্টা করবেন সম্পূর্ন চার্জ দিতে বা সম্পূর্ন না হলেও তার কাছাকাছি যেমন ৯০% এর উপরে চার্জ দিতে। ১৫-২০ মিনিট বা আধাঘন্টার জন্য মোবাইল চার্জ দিবেন না।

মোবাইলে ৫০% বা ৬০% চার্জ থাকা অবস্থায় নতুন করে চার্জ দেয়া ঠিক নয়। চার্জ ২০% এর নিচে নেমে গেলে চার্জে লাগান এবং অন্তত ৯০% পর্যন্ত একটানা চার্জ করুন। এভাবে চার্জ দিলে মোবাইল ফোনের ব্যাটারির চার্জিং সাইকেল সঠিকভাবে কাজে দিবে।

ফাস্ট চার্জার ব্যবহার হতে বিরত থাকুন:

ফাস্ট চার্জার খুবই চমকপ্রদ একটি আবিষ্কার এবং অনেকক্ষেত্রে এটি জরুরী পরিস্থিতিতে দ্রুত ফোন চার্জ দিতে সহায়তা করে।

ফাস্ট চার্জারের মাধ্যমে ব্যাটারি দ্রুত চার্জ হয় একথা সত্য তবে এধরনের দ্রুতগতির চার্জার মোবাইল ফোনের ব্যাটারির জন্য ক্ষতিকর।

ফাস্ট চার্জার মূলত দুইভাবে ব্যাটারির ক্ষতি করে থাকে।
১) ফাস্ট চার্জারগুলো সাধারন চার্জারের চাইতে বেশি ওয়াটের হয়ে থাকে। ফলে একটি ব্যাটারি যত ওয়াটের বিদ্যুৎ গ্রহন করার উপযোগি তার চাইতে বেশি ওয়াটের বিদ্যুৎ সরবরাহ করার মাধ্যমে এটি ব্যাটারির ক্ষতি করে।

২) মোবাইলের ব্যাটারির সাথে তাপমাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ন সম্পর্ক রয়েছে। মোবাইলের ব্যাটারি অধিক তাপমাত্রায় দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এবং ঠান্ডা পরিবেশে বেশিদিন ভালো থাকে। কিন্তু ফাস্ট চার্জার বেশি ওয়াটের বিদ্যুৎ প্রেয়ন করে বিধায় ব্যাটারি গরম হয়ে যায়। ফলে ব্যাটারি দ্রুত দূর্বল হয়ে পরে।
তাই ফাস্ট চার্জার ব্যবহার করা মোবাইলের জন্য ক্ষতিকর।

মোবাইলের সাথে প্রদত্ত অরজিনাল চার্জার ব্যবহার করুন:

সবসময় চেষ্টা করবেন মোবাইলের সাথে প্রদত্ত আসল চার্জার ব্যবহার করতে। কারন একেক প্রতিষ্ঠানের মোবাইল ফোন ও চার্জার একেক রকম এমনকি মডেল অনুযায়িও রয়েছে ভিন্নতা।

একটি মোবাইল ফোনের ব্যাটারি যত ওয়াটের চার্জ গ্রহন করতে সক্ষম কোম্পানিগুলো সেরকম একটি চার্জার মোবাইলের সাথে দিয়ে দেয় যেন মোবাইল ফোনের ব্যাটারি দীর্ঘদিন ভালো থাকে।

কিন্তু যদি আপনি মোবাইল ফোনের সাথে প্রদত্ত আসল চার্জার বাদ দিয়ে অন্য চার্জার ব্যবহার করেন তাহলে সেটি ব্যাটারির বিদ্যুৎ গ্রহন ক্ষমতার সাথে নাও মিলতে পারে। সেটি বেশি বা কম ওয়াটের হতে পারে। ফলে ঐ চার্জার দ্বারা চার্জ করলে আপনার ব্যাটারি দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই মোবাইল ফোন চার্জের সময় সর্বদা আপনার সেটের সাথে প্রদত্ত আসল চার্জার ব্যবহার করুন।

চার্জে লাগিয়ে ফোন ব্যবহার করবেন না:

মোবাইলের ব্যাটারি দীর্ঘদিন ভালো রাখতে চাইলে আপনার মোবাইল ফোনটি চার্জে লাগিয়ে ব্যবহার করবেন না। কারন এতে করে ব্যাটারীর উপর অতিরিক্ত চাপ পরে যা একে দ্রুত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।

এছাড়া মোবাইল ব্যবহারের সময় এর প্রসেসর ক্রমাগত চলতে থাকে ফলে মোবাইল গরম হয়ে যায়। আর মোবাইল চার্জ দেয়ার সময় ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ এর ভোল্টেজ প্রবাহিত হওয়ার ফলেও মোবাইল গরম হয়ে যায়।

তাই যদি মোবাইল ব্যবহার ও চার্জিং- দুইটি কাজ একই সাথে চলতে থাকে তাহলে ব্যাটারি দ্বিগুন গরম হয়ে যায় যা ব্যাটারির জন্য খুবই খারাপ। সুতরাং এই দুইটি কাজ একসাথে করবেন না।

চার্জ সম্পূর্ন শেষ করে ফেলবেন না:

মোবাইলের চার্জ সম্পূর্ন শেষ করবেন না। অর্থ্যাৎ চার্জ একেবারে ০ (শূন্য) করে ফেলবেন না। ১০% বা ১৫% চার্জ থাকতেই পূনরায় চার্জে লাগিয়ে ফেলুন।
আর একটানা ৮০% থেকে ৯০% চার্জ করে তারপর খুলে ফেলুন।

বিশেষজ্ঞদের মতে বারবার একটি ব্যাটারির চার্জ সম্পূর্ন শেষ করে ফেলেল সেই ব্যাটারি খুব দ্রুতই দূর্বল হয়ে যায়।

গরম আবহাওয়ায় মোবাইল ব্যবহার করবেন না:

মোবাইল ফোনের ব্যাটারির ভালো থাকার সাথে তাপমাত্রার একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

শুষ্ক ও ঠান্ডা আবহাওয়া মোবাইল ফোনের ব্যাটারির জন্য সবচেয়ে উপযোগি। আর বিপরীত দিকে আদ্র ও গরম আবহাওয়া ব্যাটারির জন্য ক্ষতিকর। অধিক তাপমাত্রায় ফোনের ব্যাটারি দ্রুত কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তাই সরাসরি সূর্যের আলোতে বেশিক্ষন ফোন ব্যবহার করবেন না। আর সূর্যের আলো, চুলার কাছে বা গরম কিছুর উপর মোবাইল রাখবেন না।

সারারাত চার্জ দেয়া যাবেনা:

অনেকেই ঘুমানোর আগে ফোন চার্জে লাগিয়ে ঘুমান আর সকালে উঠে খোলেন। এদিকে মোবাইল সম্পূর্ন চার্জ হয়ে যাওয়ার পরও সারা রাত মোবাইলের ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতেই থাকে। যা ব্যাটারির হায়াত অল্প দিনে শেষ হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে।

মোবাইল রিস্টার্ট করুন:

আমি একটি প্রযুক্তি বিষয়ক নিবন্ধে কয়েকজন বিশেষজ্ঞের মতামত পড়েছিলাম যে মাঝে মধ্যে মোবাইল রিস্টার্ট করা বা মোবাইল কিছুক্ষন বন্ধ রেখে পুনরায় চালু করা মোবাইলের জন্য ভালো।

এটি করলে মোবাইলে আপনার অজান্তে কোন এপস বা অন্য কোন পোগ্রাম চালু থাকলে তা বন্ধ হয়ে যায় ও দীর্ঘদিন যাবত একটানা চলতে থাকা মোবাইল ও মোবাইলের ব্যাটারি কিছুক্ষনের জন্য বিশ্রাম পায়। ফলে এটি দীর্ঘদিন ব্যাটারির কর্মক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে।

আপনি চাইলে এটিও পড়তে পারেন: মোবাইলের চার্জ দীর্ঘক্ষন ধরে রাখার উপায়

ভাবছেন কোন ফোনের ব্যাটারি ভালো?

আসলে কোন ফোনের ব্যাটারি ভালো তা সরাসরি নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। বর্তমানে আমাদের দেশে ওয়ালটন, সিম্ফনি, আইটেল, স্যামসাং, শাওমি, ওপ্পো, ভিবো ইত্যাদি ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। এরা সবাই প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি এবং পন্যের মান বজায় রাখার ব্যাপারে খুবই যত্নবান।

তাই আশা করা যায় এদের তৈরিকৃত মোবাইলগুলোর ব্যাটারিও ভালো হবে।

তবে আপনি আপনার প্রয়োজনের দিকে লক্ষ্য রেখে মোবাইল কেনার সময় ব্যাটারি কত মিলি এম্পিয়ার তা দেখে নিবেন। সাধারন ব্যবহার করার ক্ষেত্রে  স্মার্টফোনের বেলায় ২২০০ মিলি এম্পিয়ার থেকে ২৫০০ মিলি এম্পিয়ার ব্যাটারি যথেষ্ট। আর বাটন ফোন হলে ১৫০০ মিলি এম্পিয়ার থেকে ২০০০ মিলি এম্পিয়ার ব্যাটারি যথেষ্ট সময় সেবা দিতে পারবে।

তবে যারা মোবাইলে বেশি কথা বলেন বা ইন্টারনেট ব্রাউজ করেন কিংবা গেম খেলেন বা অন্য যেকোন কারনে মোবাইল বেশি ব্যবহার করা হয় তাদের জন্য ৩০০০ মিলি এম্পিয়ারের বেশি ধারন ক্ষমতা সম্পন ব্যাটারি যুক্ত মোবাইল ফোন কেনা উচিত। এসব ফোনের ব্যাটারি ভালো সময় পর্যন্ত আপনাকে সঙ্গ দেবে।

মোবাইল ফোন কেনার সময় তাই শুধু ক্যামেরা আর RAM এর হিসাব না দেখে অবশ্যই ব্যাটারির ধারনক্ষমতা কতটা সেটাও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

আপনি চাইলে এটিও পড়তে পারেন: নতুন মোবাইলের ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার নিয়ম

কি করলে ফোনের ব্যাটারি ক্ষতিগ্রস্ত হবে আর কিভাবে একটি ব্যাটারি ভালো থাকবে তা নিয়ে আপনাদের ধারনা দেয়ার চেষ্টা করেছি। উপরে উল্লেখিত মোবাইলের ব্যাটারি ভালো রাখার উপায় গুলো মেনে চললে আপনার ফোনের ব্যাটারি দীর্ঘদিন ভালোভাবে কাজ করবে বলে আশা করা যায়। ভালো লাগলে শেয়ার করার অনুরোধ রইলো। ধন্যবাদ।

Add Comment

Click here to post a comment

এই সপ্তাহের জনপ্রিয় পোস্ট:

বাংলাদেশীদের জন্য সেরা অ্যাপ

BD MEDIA MATE APP SCREENSHOT

আমাদের ওয়েবসাইটের জনপ্রিয় পোস্টগুলি:

BEST APP FOR US PEOPLE

US MEDIA MATE APP