Home » ১৩টি আবিষ্কার যা মানুষ মূল্যায়ন করেনা কিন্তু সেগুলো ছাড়া জীবন অচল
নিবন্ধ

১৩টি আবিষ্কার যা মানুষ মূল্যায়ন করেনা কিন্তু সেগুলো ছাড়া জীবন অচল

উড়োজাহাজ, স্যাটেলাইট, বেতার যন্ত্র (রেডিও), দূরদর্শন (টেলিভিশন), দূরআলাপনী (টেলিফোন), বৈদ্যুতিক বাতি ইত্যাদি আবিষ্কার নিয়ে আমরা সবসময় বিষ্ময় প্রকাশ করি, ভাবি এসব আবিষ্কৃত না হলে সভ্যাতা আজ কত পিছিয়ে থাকত। এসব আবিষ্কারের ফলে মানব জাতির কত বড় কল্যান হয়েছে সেকথা ভেবে এসব যারা আবিষ্কার করেছে তাদের আমরা বড় বড় বি জ্ঞানিদের তালিকায় স্থান দিয়েছি। কিন্তু এমন অনেক আবিষ্কার আছে যেগুলো নিয়ে আমরা খুব একটা ভাবিনা এবং এসব যারা আবিষ্কার করেছে তাদেরও আমরা মনে রাখিনি কিন্তু এসব ছাড়া জীবন অচল। এখানে আমি এমন কিছু আবিষ্কারের কথা তুলে ধরবো যেগুলোকে আমরা একদমই মূল্যায়ন করিনা কিন্তু আমাদের জীবনে এদের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। এসব ছাড়া আমাদের জীবন একদম অচল বলা চলে।

অমূল্যায়িত অতি মূল্যবান কিছু আবিষ্কার:

* সুই: কখনো কি ভেবে দেখেছেন যদি পৃথীবিতে সুই না থাকতো তাহলে পৃথীবি কেমন হতো? সুই না থাকলে মানুষের জামা কাপড় কেমন হতো? আর সেসব জামা কাপড় পড়তে ও সারাক্ষন শরীরে জড়িয়ে রাখতে কতটা কষ্ট হতো তা একটু কল্পনা করুন। সুই না থাকলে কিছু সেলাই করা যেতোনা। শুধু জামা কাপড় নয় বরং মশারি, বিছানার চাদর, স্কুল ব্যাগ, প্যারাসুট, বাসের আরামদায়ক সিট, ক্যাপ, জুতা, ছাতা সহ হাজার হাজার পন্য তৈরিতে সুই ব্যবহার করতে হয়। এমনকি পশু পাখি বা মানুষের চিকিৎসার কাজেও সুই ব্যবহার হয়ে থাকে।
সুই ছাড়া বর্তমান পৃথীবি অচল কিন্তু “সুই”কে কি আমরা কখনো মূল্যায়ন করেছি? যে ব্যাক্তি সুই আবিষ্কার করেছে তাকেও কেউ মনে রাখেনি। তার আবিষ্কৃত জিনিসটি আকারে ছোট হতে পারে তবে এর গুরুত্ব অনেক অনেক বেশি। যে বুদ্ধিমান মহান ব্যাক্তি সুই আবিষ্কার করেছিলেন তার প্রতি রইলো আমার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
BD MEDIA MATE APP
* দিয়াশলাই: দিয়াশলাই (ম্যাচ) ছাড়া পৃথীবির একটা দিন কল্পনা করুন। আগুন জ্বালাতে আমরা এই জিনিসটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করি। এটা ঠিক যে এখন আরো বেশ কিছু জিনিস দিয়ে আগুন জ্বালানোর কাজ করা যায় তবে সেগুলো এখনও সহজলভ্য নয়। আর যখন এসব ছিলোনা তখন দিয়াশলাই-ই ছিলো আগুন জ্বালানোর প্রধান ভরসা। ভাবুনতো দশ তলা ভবনের উপরে একজন মানুষ পাথরে ঘষে ঘষে কাঠে আগুন জ্বালিয়ে তা দিয়ে রান্না করলে সেটা কেমন হতো?
দিয়াশলাই ছোট একটা জিনিস। তবে এর গুরুত্ব অনেক। সারা পৃথীবির মানুষের রান্না-বান্না ও কলকারখানার কাজকে এটি সহজ করে দিয়েছে। পাল্টে দিয়েছে পৃথীবির রুপ। অথচ এই বিরাট যুগান্তকারি আবিষ্কারের কথা আমরা কখনো মূল্যায়ন করেছি কি? কে এই দিয়াশলাই আবিষ্কার করলো তার কথা মনে রেখেছি কি? এই মহান বি জ্ঞানীর প্রতিও আমার অনেক অনেক শ্রদ্ধা রইলো।
* বৈদ্যুতিক তার: বিদ্যু আবিষ্কারের বিষয়টিকে আমরা গুরুত্ব দেই কিন্তু বৈদ্যুতিক তারের বিষয়টিকে মোটেই মূল্যায়ন করিনা। অথচ বৈদ্যুতিক তারের কল্যানেই আমরা বিদ্যুতের সুফল ভোগ করতে পারছি। বৈদ্যুতিক তারের মাধ্যমেই নিরাপদে সব জায়গায় বিদ্যুৎ পৌছে দেয়া সম্ভব হচ্ছে। বৈদ্যুতিক তার ছাড়া আধুনিক পৃথীবি একদমই অচল।
* তালা চাবি: তালা ও চাবি যদি আবিষ্কার না হতো তাহলে বর্তমান পৃথীবি কেমন হতো তা কি ভেবে দেখেছেন? তালা ও চাবির ভরসায় আমরা কোটি কোটি টাকার সম্পদ বা গুরুত্বপূর্ন যেকোন কিছু নিরাপদে রাখতে পারি। তালা ও চাবি না থাকলে আমাদের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিসের নিরাপত্তা থাকতোনা।
* দা/বটি/ছুরি: দা/বটি/ছুরি বা এধরনের সমজাতীয় জিনিসগুলো আমাদের প্রতিদিনের জীবনের অবিচ্ছেদ্দ অংশ। এগুলো ছাড়া জীবন যাপনের কথা কল্পনাই করা যায়না। রান্না করা হতে শুরু করে কৃষিকাজ, এমনকি কলকারখানার কাজে পর্যন্ত এসব ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এসব ছাড়া রান্নাঘরের কাজ কিভাবে সামলাতেন? মাছ, মাংস বা সবজি কিভাবে কাটতেন বলুনতো? অথচ এত বিরাট গুরুত্বপূর্ন জিনিসগুলোকে আমরা কখনো মূল্যায়ন করিনা।
* স্ক্রু বা তারকাটা: তারকাটা বা স্ক্রু এর মাধ্যমে যেকোন জিনিস আমরা সহজে টা ঙ্গাতে বা আটকাতে পারি। তারকাটা বা স্ক্রু না থাকলে জীবন যাপন হতো অনেকই কঠিন। তারকাটা বা স্ক্রু না থাকলে পৃথীবি সেই প্রাচীন গুহামানবদের যুগের পরে থাকতো, আধুনিক যুগে আসতে পারতো না। তারকাটা এবং স্ক্রু যে কত কাজে লাগে তা বলে শেষ করা সম্ভব নয়। সারা দুনিয়াজুড়ে সকল বাড়ি, কল-কারখানা, দোকানপাট সহ সর্বত্রই তারকাটা এবং স্ক্রু ব্যবহৃত হয়ে থাকে। সামান্য এই জিনিসটি যে কত গুরুত্বপূর্ন তা কি আমরা ভেবে দেখেছি? আমরা গুরুত্ব দেই বা না দেই, তারকাটা ও স্ক্রু ছাড়া কিন্তু বর্তমান পৃথীবি অচল।
* আয়না: আয়না না থাকলে নিজেকে কখনো দেখতে পারতেন না। আপনি দেখতে কেমন তা আয়না আছে বলেই বুঝতে পারেন। কোন জামাতে আপনাকে কেমন মানাচ্ছে, চুল ঠিকমতো আচড়ানো হয়েছে কিনা, নাপিত দাড়ি গোঁফ ঠিকমতো কাটলো কিনা সবই আয়না আছে বলেই বুঝতে।
এসব ছাড়াও যানবাহনে আয়নার বহুল ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। আয়না যানবাহনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। আয়না না থাকলে যানবাহনগুলোকে প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনার শিকার হতে হতো। অথচ এত গুরুত্বপূর্ন একটি আবিষ্কারের কথা আমরা কি কোনদিন ভেবে দেখেছি?
* বোতল এবং বোতলের ছিপি: বিভিন্ন আকার ও ধরনের বোতল আমাদের নিত্যদিনের জীবনে একটি অপরিহার্য বস্তু হয়ে দাড়িয়েছে। আমাদের প্রতিদিনের গৃহস্থালী জীবন ও কর্ম জীবনকে সহজ করে দিয়েছে বোতল! আর বোতলের ব্যবহারকে আরো নিরাপদ করেছে বোতলের ছিপি। ছিপির কারনে বোতলের ভিতরের জিনিস সম্পূর্ন নিরাপদ থাকে। আমাদের জীবনে প্রতিদিনই কোন না কোন কারনে বোতল ব্যবহার করতেই হয় অথচ এত উপকারি এই আবিষ্কারটিকে আমরা কেউ খেয়ালই করিনা।
* হাতুরি: কল-কারখানা, নির্মান কাজ, গৃহস্থলী কাজ সহ বিভিন্ন কাজে হাতুরির ব্যবহার অপরিহার্য। আপনি যদি কি কি কাজে হাতুরি ব্যবহার হয় তা হিসাব করতে বসেন তবে গুনে শেষ করতে পারবেননা। হাতুরি ছাড়া কল-কারখানার কাজ, নির্মান কাজ, যানবাহনের কাজ, মেরামত কাজ সহ প্রায় সব কিছুই অচল। হাতুরি ছোট, সাধারন, কমদামি একটি যন্ত্র তবে এর উপকারিতা কোটি টাকা দামের যন্ত্রের চাইতেও বেশি।
* চশমা: চশমা এমন একটি আবিষ্কার যা কোটি কোটি মানুষের জীবনকে সঠিক পথে চলতে সাহায্য করেছে এবং ভবিষ্যতেও এটি কোটি মানুষের উপকারে আসবে একথা নির্দ্বিধায় বলা যায়। চোখের সমস্যায় ভোগা প্রতিটি মানুষের জন্য চশমা আশির্বাদ স্বরুপ। আমার দৃষ্টিতে চশমা পৃথীবির মহান আবিষ্কারগুলোর মধ্যে অন্যতম।
* নল (পাইপ): নল আবিষ্কার না হলে সমগ্র পৃথীবির পয়:নিষ্কাশন ব্যাবস্থা কেমন হতো তা ভাবতেই ভয় হয়। আধুনিক পৃথীবির পয়:নিষ্কাসন ব্যবস্থা টিকে আছে নলের উপর ভিত্তি করে।
শুধু পয়:নিষ্কাসন ব্যবস্থাই নয়, পানি এবং গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাও নল(পাইপ) এর উপর নির্ভরশীল। নল না থাকলে কি কি কাজ সম্ভব হতোনা তা নিজেই একবার ভেবে দেখুন।
* পাতিল: যখন হাড়ি-পাতিল ছিলোনা তখন মানুষ কিভাবে খাবার রান্না করতো তা ভাবতেও আমার কষ্ট হয়। আদিম কালে মানুষ পাথরের উপর রেখে বা কাঠিতে গেঁথে পুড়িয়ে পুড়িয়ে খাবার রান্না করতো তবে সেটা কতটা খাবার উপযোগি হতো তা ভাববার বিষয় বটে। নি:সন্দেহে সে পক্রিয়া ছিলো অনেক কষ্টকর ও বিরক্তিকর। আর সব ধরনের খাবারও সেভাবে রান্না করা যেতোনা। যিনি হাড়ি-পাতিল আবিষ্কার করেছেন তিনি মূলত সমগ্র পৃথীবির চেহারাটাই পাল্টে দিয়েছেন। হাড়ি পাতিলের কল্যানেই আমরা নানান ধরনের মুখরোচক ও স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে পারি।
* চামচ: চামচ বা চটি আমাদের প্রতিদিনের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। যদি চটি, চামচ না থাকতো তাহলে আমাদের রান্না করতে ও খাবার পরিবেশন করতে কতটা ঝামেলা পোহাতে হতো তা কি ভেবে দেখেছেন? চামচ আমাদের জীবনকে সহজ করে দিয়েছে। যিনি বুদ্ধি করে চামচ আবিষ্কার করেছিলেন তার প্রতি আমরা চিরকৃত জ্ঞ।
একবার ভাবুনতো এখানে আমি যেই জিনিসগুলোর কথা উল্লেখ করেছি সেগুলো যদি না থাকতো তাহলে আমাদের কি হতো? এগুলোকে আমরা সামান্য জিনিস মনে করি, কোন গুরুত্ব দেইনা তবে এগুলো রকেট, স্যাটেলাইট বা কোটি টাকা দামের যন্ত্রপাতির চাইতেও বেশি গুরুত্বপূর্ন। এগুলো না থাকলে পৃথীবি আজও আদিম যুগে পরে থাকতো! অথচ এগুলোকে আমরা একদমই মূল্যায়ন করিনা। যারা এসব আবিষ্কার করেছে তাদের আমরা মনে রাখিনি অথচ তাদের আবিষ্কার করা জিনিসগুলো আমরা প্রতিনিয়ত ব্যবহার করছি।
এখানে আমি অল্প কয়েকটি আবিষ্কারের কথা উল্লেখ করেছি মাত্র। এমন আরো অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ন আবিষ্কার রয়েছে যা আমরা মূল্যায়ন করিনা। সব কিছু এখানে উল্লেখ করা সম্ভব নয়। এখানে আমি কিছুটা ধারনা দেয়ার চেষ্টা করেছি মাত্র। লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করে আমাদের উৎসাহ দেয়ার অনুরোধ রইলো পাশাপাশি নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইট ভ্রমন করার আমন্ত্রনও রইলো। ধন্যবাদ।

Add Comment

Click here to post a comment

এই সপ্তাহের সর্বাধিক দেখা ভিডিও:

বাংলাদেশীদের জন্য সেরা অ্যাপ

BD MEDIA MATE APP SCREENSHOT

আমাদের ওয়েবসাইটের জনপ্রিয় পোস্টগুলি:

BEST APP FOR US PEOPLE

US MEDIA MATE APP