Home » দীর্ঘসময় মোবাইলের চার্জ ধরে রাখার উপায় (১০০% কার্যকর কৌশল)
নিবন্ধ

দীর্ঘসময় মোবাইলের চার্জ ধরে রাখার উপায় (১০০% কার্যকর কৌশল)

মোবাইলের চার্জ ধরে রাখার উপায় , স্মার্টফোন

মোবাইল নিয়ে আমরা সবাই কম বেশি যে সমস্যাটির সম্মুখীন হই সেটি হলো মোবাইলের চার্জ না থাকা। মোবাইলের চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে গেলে একদিকে যেমন বিরক্তির অন্ত থাকেনা আবার পাশাপাশি বিভিন্ন কাজেও সমস্যা হয়। অনেক সময় দেখা যায় যে জরুরী কোন বিষয়ে কথা বলার জন্য ফোন করা দরকার কিন্তু চার্জ না থাকায় ফোন করাও যাচ্ছেনা।

তাই এখানে আমি আপনাদের জন্য অধিক সময় মোবাইলের চার্জ ধরে রাখার উপায় নিয়ে কিছু কার্যকর কৌশল তুলে ধরবো। আশা করি বিষয়গুলো আপনাদের কাজে দিবে। চলুন তবে শুরু করা যাক।

বেশিক্ষন মোবাইলের চার্জ ধরে রাখার উপায় (যে কাজগুলো অবশ্যই করতে হবে):

প্রথম ধাপে এখানে ৮টি বিষয় তুলে ধরছি। এই বিষয়গুলো স্মার্টফোনে বেশিক্ষন চার্জ ধরে রাখতে মূল ভূমিকা পালন করে।

স্ক্রীনের ব্রাইটনেস (উজ্জলতা) কমিয়ে মোবাইল ব্যবহার করুন:

দীর্ঘ সময় মোবাইলের চার্জ ধরে রাখতে চাইলে মোবাইলের ব্রাইটনেস কমিয়ে তারপর মোবাইল ব্যবহার করতে হবে।

একটি মোবাইল ফোনের সবচেয়ে বেশি চার্জ খরচ হয় স্ক্রীনের পিছনে। স্ক্রীনের লাইট যতক্ষন জ্বলতে থাকে ততক্ষন এর পিছনে চার্জ খরচ হতে থাকে। আর যদি লাইটের (Brightness) উজ্জলতা বাড়ানো থাকে তাহলে চার্জ আরো বেশি পরিমানে খরচ হতে থাকে। তাই মোবাইলের চার্জ বেশিক্ষন ধরে রাখতে চাইলে উজ্জলতাস কমিয়ে মোবাইল ব্যবহার করতে হবে।

দিনের বেলায় বাইরে থাকাকালীন সূর্যের আলোর কারনে স্ক্রীন দেখতে সমস্যা হয় বলে তখন ব্রাইটনেস কিছুটা বাড়িয়ে ব্যবহার করলেও ঘরের ভিতরে থাকাকালীন বা রাতের বেলায় ব্রাইটনেস কমিয়েও স্বাচ্ছন্দে মোবাইল ব্যবহার করা যায়। এতে একদিকে যেমন মোবাইলের চার্জ বাঁচবে পাশাপাশি রাতে ব্রাইটনেস কমিয়ে মোবাইল ব্যবহার করলে চোখের উপরও চাপ কম পড়বে।

পাওয়ার সেভিং মোড চালু করুন:

বর্তমানে সকল স্মার্টফোন এমনকি বাটন ফোনেও “পাওয়ার সেভিং মোড” অপশন থাকে। পাওয়ার সেভিং মোড হলো এমন একটি ব্যবস্থা যা চালু করলে মোবাইল ফোনের বেশি প্রয়োজনীয় ফাংশনগুলো চালু থাকে (যেমন: কল করা বা মেসেজ আদান-প্রদান) এবং কম প্রয়োজনীয় ফাংশন ও এপসগুলো বন্ধ হয়ে যায়।

এর মাধ্যমে মোবাইলের চার্জ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় ধরে রাখা যায়। অনেক মোবাইলে ব্যাটারির চার্জ ১৫% বা ২০% এর নীচে চলে আসলে অটোমেটিক ভাবেই পাওয়ার সেভিং মোড চালু হয়ে যায়।

আবার বর্তমানে অনেক মোবাইলে আল্ট্রা পাওয়ার সেভিং মোড নামক একটি অপশন যুক্ত করা হয়। এই আল্ট্রা পাওয়ার সেভিং মোড চালু করার মাধ্যমে মোবাইল ফোনের চার্জ আরো বেশি সময় ধরে রাখা সম্ভব। তবে এই অপশনগুলো চালু করলে মোবাইলের কম প্রয়োজনীয় কিছু ফাংশন কাজ করবেনা, শুধু অধিক প্রয়োজনীয় অপশনগুলোই কাজ করবে।

ব্লুটুথ/ওয়াইফাই/লোকেশন সেবা বন্ধ রাখুন:

মোবাইল ফোনে ব্লুটুথ, ওয়াইফাই, লোকেশন, হটস্পট ইত্যাদি সেবাগুলো ব্যবহারের পর সাথে সাথে বন্ধ করে রাখুন। কারন এগুলো চালু থাকলে সর্বক্ষন অন্য ডিভাইস বা নেটওয়ার্ক সিগন্যাল খুজতে থাকে। ফলে দ্রুত চার্জ শেষ হয়ে যায়।

অনেক সময় নতুন মোবাইল ফোন কেনার পর দেখা যায় যে তাতে লোকেশন বা হটস্পট সেবা চালু করা থাকে। ব্যাটারির চার্জের সময় দীর্ঘায়িত করতে চাইলে এগুলো দ্রুত বন্ধ করে দেয়া উচিত।

আরো পড়ুন: একটি নতুন মোবাইল কেনার পর ১ম বার কতক্ষন চার্জ দেয়া উচিত?

লাইভ ওয়ালপেপার ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন:

অনেকেই মোবাইলে বিভিন্ন লাইভ ওয়ালপেপার বা এনিমেশন ব্যবহার করে। তবে যদি অধিক সময় মোবাইলের চার্জ ধরে রাখতে চান তবে লাইভ ওয়ালপেপার ব্যবহার থেকে দুরে থাকতে হবে।

এনিমেশন বা লাইভ ওয়ালপেপারগুলো বিরতিহীনভাবে অবিরত কাজ করতেই থাকে। ফলে মোবাইলের প্রসেসরও চালু থাকে। ফলে অকারনেই মোবাইলের চার্জ খরচ হতে থাকে। তাই যদি মোবাইল ফোনের চার্জ বেশি সময় স্থায়ী রাখতে চান তবে এনিমেশন বা লাইভ ওয়ালপেপার ব্যবহার করা হতে বিরত থাকুন।

ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করে এমন এপগুলো বন্ধ রাখুন:

বহু এপস রয়েছে যেগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করে। মানে আপনি সেসব এপসে প্রবেশ না করলেও সেগুলো আপনার অজান্তেই চালু থাকে এবং বিভিন্ন কাজ করতে থাকে। ফলে আপনার ব্যাটারির চার্জও দ্রুত শেষ হয়ে যায়।

ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করে এমন কিছু এপস হলো মেসেন্জার, ইমো, ভাইভার, ইউসি ব্রাউজার, জিমেইল, গুগল প্লে, শেয়ার ইট ইত্যাদি। আপনি এই এপসগুলোতে প্রবেশ না করলেও এরা চালু থাকে ও বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত আদানপ্রদান করতে থাকে। ফলে আপনার ইন্টারনেট ডাটা ও মোবাইলের চার্জ খরচ হতে থাকে।

তাই ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করে এমন এপগুলো ব্যবহার শেষে ফোরস ডিজেবল করে রাখুন বা আনইন্সটল করে দিন।

ইন্টারনেট ডাটা চালু করে রাখবেন না:

অনেকেই আছেন ইন্টারনেট ব্যবহার না করলেও ডাটা চালু করে রাখেন। এটি না করে যখনই ইন্টারনেট ব্যবহার করা শেষ হবে তখনই সাথে সাথে ডাটা অফ করে রাখুন।

অনেক সময় ওয়াইফাই ব্যবহারকারিরা ভাবেন যে আমারতো আনলিমিটেড ইন্টারনেট তাই ইন্টারনেট চালু থাকলেও সমস্যা নেই। আবার অনেকে ভুলে যান। তবে মোবাইলে চার্জ দীর্ঘস্থায়ি করতে চাইলে এই বিষয়টিকে উপেক্ষা করলে চলবেনা। কারন ডাটা সেটিংস চালু থাকলে সেটি সিগন্যাল রিসিভ ও ডাটা প্রসেস করতে থাকে আর আপনার চার্জও খরচ হতে থাকে। তাই যখনই ইন্টারনেট ব্যবহার করা শেষ হবে তখনই ডাটা সেটিংস বন্ধ করে রাখুন।

ব্যাকগ্রাউন্ড ডাটা রেসট্রিকশন অপশন চালু করুন:

স্মার্টফোন মানেই বিভিন্ন এপসের উপর নির্ভরতা। এপস ছাড়া স্মার্টফোন একটি বোকা যন্ত্র। তবে হাজারো উপকারি এপসের ভিড়ে এমন কিছু এপসও আছে যেগুলো মোবাইলের জন্য ক্ষতিকর।

আমরা নিয়মিত ব্যবহার করি এমন এপসগুলোর মধ্যে কিছু এপস ও ব্রাউজার রয়েছে যেগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডেও কাজ করে। মানে আপনি এপটিতে না ঢুকলেও এপটি নিজে নিজেই চালু থাকে এবং বিভিন্ন কাজ করতে থাকে। ফলে আপনার মোবাইলের চার্জ দ্রুত খরচ হতে থাকে।

আপনি যদি আপনার মোবাইলে ব্যাকগ্রাউন্ড ডাটা রেস্ট্রিকশন চালু করে রাখেন তাহলে যখন আপনি এই এপগুলো ব্যবহার করবেন এগুলো শুধু তখনই ডাটা ব্যবহার করে কাজ করতে পারবে, আপনি এপগুলো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর এরা আর ডাটা ব্যবহার করে কোন কাজ করতে পারবেনা। ফলে আপনার মোবাইলের ডাটা এবং চার্জ দুটোই বেঁচে যাবে।

আপনি আপনার মোবাইল ফোনের সেটিংসে এই অপশনটি পেয়ে যাবেন। এটি সাধারনত নেটওয়ার্ক এন্ড ইন্টারনেট সেটিংসে “ব্যাকগ্রাউন্ড ডাটা রেস্ট্রিকশন” বা “ডাটা সেভার” নামে থাকে। সেখান থেকে অপশনটি চালু করে রাখুন।

গরম আবহাওয়ায় মোবাইল ব্যবহার করবেন না:

এই বিষয়টি হয়তো অনেকেই জানেননা যে আবহাওয়ার সাথে মোবাইল ফোনের ব্যাটারির ভালো থাকার একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

শুষ্ক ও ঠান্ডা আবহাওয়ায় মোবাইলের ব্যাটারি দীর্ঘদিন ভালো থাকে ও অধিক কর্মক্ষম থাকে আবার বিপরীত দিকে গরম আবহাওয়া মোবাইলের জন্য ক্ষতিকর। গরম আবহাওয়ায় মোবাইলের ব্যাটারি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এবং পূর্ন কর্মক্ষম থাকেনা।

তাই সরাসরি অধিক রোদে মোবাইল ব্যবহার করা উচিত নয় বা গরম কোন কিছুর উপর মোবাইল রেখে দেয়াও উচিত নয়।

আপনি যদি অধিক তাপমাত্রায় মোবাইল ফোন রেখে দেন বা ব্যবহার করেন তবে সেটি দ্রুতই চার্জ হারিয়ে ফেলবে। তাই যদি আপনি আপনার মোবাইল ফোনের চার্জ দীর্ঘসময় ধরে রাখতে চান তবে অধিক তাপমাত্রায় মোবাইল ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

মোবাইল ফোনের চার্জ ধরে রাখার আরো কিছু উপায়:

কোন বিষয় গুলো লক্ষ্য রাখলে মোবাইল এর চার্জ বেশিক্ষন থাকবে তার প্রধান দিক গুলো তো জেনেছেন, এবার জানুন আরো কিছু বিষয় যেগুলো সরাসরি না হলেও পরোক্ষ ভাবে আপনার মোবাইলের চার্জ ধরে রাখতে সহায়তা করবে।

মোবাইল সিডিউলড পাওয়ার অন অফ:

বর্তমানে প্রায় সব মোবাইলেই আরেকটি আর্কষনীয় সুবিধা যুক্ত করা হয়, সুবিধাটি হলো “মোবাইল সিডিউলড পাওয়ার অন/অফ”।

এটি খুব কাজের একটি ফাংশন হলেও আমরা অনেকেই একে কাজে লাগাইনা। সিডিউল পাওয়ার অন/অফ হলো এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে একটি পূর্ব নির্ধারিত সময়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মোবাইল বন্ধ এবং চালু হয়ে যায়।

এই পদ্ধতিটি কাজে লাগিয়ে একদিকে যেমন মোবাইলের চার্জ বাঁচানো যায় তেমনি অসময়ে বিরক্তিকর ফোন কল ও মেসেজ থেকেও বাঁচা যায়।

যেমন ধরুন রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত আমরা মোবাইল ব্যবহার করিনা। আবার এসময়ের মাঝে কল আসলে ঘুমেরও ব্যাঘাত ঘটে। ফলে আপনি চাইলে সিডিউলড পাওয়ার অন/অফ অপশনে ঢুকে রাত ১২টায় মোবাইল বন্ধ এবং সকাল ৬টায় মোবাইল চালুর নির্দেশ দিয়ে রাখতে পারেন। এতে করে আপনার মোবাইলটি নিজে নিজেই রাত ১২টা বাজে বন্ধ হয়ে যাবে এবং সকাল ৬টায় চালু হয়ে যাবে।

সুতরাং উক্ত সময়ে কেউ আপনাকে কল করেও বিরক্ত করতে পারবেনা আবার আপনার মোবাইলের চার্জও অনেকটা বেঁচে যাবে।

স্ক্রিন লকের পর মোবাইলের এপ ক্লোজ করে দিন:

বর্তমানে এন্ড্রয়েডের উন্নত সংস্করনগুলিতে এই সুবিধাটি পাওয়া যায়। আপনি চাইলে আপনার মোবাইলের সেটিংস থেকে স্ক্রীন লক হয়ে যাওয়ার পর নির্ধারিত এপসগুলো বন্ধ করে দিতে পারেন।

এই পক্রিয়াটি চালু করলে যখন আপনার মোবাইল ফোনের স্ক্রীন লক হয়ে যাবে তখন আপনার নির্ধারন করে দেয়া এপসগুলো কাজ করা করে দেবে। ফলে ঐ এপসগুলোর পেছনে আর ব্যাটারির চার্জ খরচ হবেনা। ফলে প্রতিদিন একটু একটু করে আপনার অনেক চার্জ সাশ্রয় হবে।

ফোরজি ব্যবহার না করে থ্রিজি বা ওয়াইফাই ব্যবহার করুন:

আপনি জানেন কি, আপনি কোন প্রজন্মের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মোবাইল ব্যাবহার করছেন তার উপরও মোবাইলের শক্তি খরচের বিষয়টি নির্ভর করে?

বিষয়টি হয়তো বেশিরভাগ মানুষই জানেননা, তবে আপনি যত উন্নত প্রজন্মের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করবেন আপনার মোবাইলের শক্তি খরচ হবে তত বেশি! 2nd Genaretion, মানে 2G নেটওয়ার্ক সিগন্যাল ব্যবহার করে ইন্টারনেট চালালে মোবাইলের শক্তি (চার্জ) কম খরচ হয়। 3G ব্যবহার করে চালালে কিছুটা বেশি চার্জ খরচ হয়, 4G ব্যবহার করে চালালে আরো বেশি চার্জ খরচ হয়, 5G ব্যবহার করে চালালে আরো বেশি চার্জ খরচ হয়।

পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে যে 4G সিগন্যাল ব্যবহার করে ইন্টারনেট চালালে তা ওয়াইফাই এর চাইতে ৪০% বেশি চার্জ খরচ করে! জ্বী, ৫% বা ১০% নয়, বরং ৪০%। এটা কিন্তু বেশ বড় একটা পরিমান। তাই ফোর জি বা ফাইভ জি ব্যবহার না করে ওয়াইফাই বা থ্রি জি নেটওয়ার্ক সিগন্যাল ব্যবহার করে ইন্টারনেট চালাতে পারেন।

আপনি যত উন্নত প্রজন্মের নেটওয়ার্ক সিগ্যানাল ব্যবহার করে ইন্টারনেট চালাবেন আপনার ইন্টারনেটের গতি তত বৃদ্ধি পাবে তবে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক সিগন্যাল প্রসেস করতে গিয়ে আপনার ব্যাটারির চার্জও দ্রুত শেষ হয়ে যাবে।

আসলে দুখে:র কথা হলো হলে আমাদের দেশের 4G উন্নত দেশগুলোর 3G এর সমান। অনেক দেশে 3G তে ১৫-২০ mbps পর্যন্ত গড় স্পিড পাওয়া যায়, অথচ আমাদের দেশে গড়ে ১ mbps স্পিডও পাওয়া যায়না। ৫১২ kbps স্পিডও একটানা পাওয়া যায়না, স্পিড ওঠানামা করে। থ্রি জি সেবা ঠিকমতো পেলে তাতেই যথেস্ট, ফোর জি খুব একটা প্রয়োজন হয়না।

যাকগে, সেসব ভিন্ন কথা। মূল বিষয় হলো মোবাইলে ফোর জি ব্যবহার না করে যদি থ্রি জি বা ওয়াইফাই এর মাধ্যমে ইন্টারনেট চালান তাহলে চার্জ কম খরচ হবে।

ভিডিও দেখতে বা গান শুনতে হেডফোন ব্যবহার করুন:

মোবাইলে ফোনে আমারা ভিডিও দেখে বা গান শুনে প্রচুর সময় কাটাই। ভিডিও দেখলে এমনিতেই চার্জ বেশি খরচ হয় আর স্পিকারের মাধ্যমে উচ্চ শব্দ সরবরাহ করতে গিয়ে সাউন্ড আরো বেশি খরচ হয়।

যদিও এতে করে খুব বড় ধরনের কোন পার্থক্য তৈরি হবেনা তবে সামান্য হলেও চার্জ সাশ্রয় হবে। প্রয়োজনের সময় এই সামান্য চার্জই অনেক জরুরী হয়ে দাড়ায়। আর মোবাইল দীর্ঘদিন ভালো রাখতে হলেও হেডফোন ব্যবহার করে ভিডিও দেখা বা গান শোনা উচিত। এতে করে মোবাইলের ইন বিল্ট সাউন্ড স্পিকার বেশিদিন ভালো থাকে।

সঠিক নিয়মে মোবাইলের ব্যাটারি চার্জ দিন:

অন্য সব কিছুর মতোই মোবাইলের ব্যাটারি চার্জ দেয়ারও কিছু নিয়ম কানুন আছে। নিয়ম মেনে সঠিক পদ্ধতিতে ব্যাটারি চার্জ দিলে ও মোবাইলের যত্ন নিলে মোবাইল দীর্ঘদিন ভালো থাকে।

আরো পড়ুন: মোবাইল ফোন ৪/৫ বছর টিকাতে চাইলে যে বিষয়গুলো মানতে হবে।

তাই মোবাইলের চার্জ ধরে রাখতে চাইলে সঠিক নিয়ম মেনে মোবাইল ফোন চার্জ দিন। কারন সঠিক নিয়মে মোবাইল চার্জ দিলে ব্যাটারি কর্মক্ষম থাকবে এবং চার্জ ধরে রাখতে পারবে।

বেশি মিলি এম্পিয়ার এর ব্যাটারি যুক্ত মোবাইল কিনুন:

আরেকটি বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, যদি মোবাইলের ব্যাটারির ধারন ক্ষমতাই কম থাকে তবে সেটি দীর্ঘসময় সেবা দিতে পারবেনা এটাই স্বাভাবিক। আপনি যত বেশি মিলি এম্পিয়ার ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যাটারি যুক্ত মোবাইল ফোন কিনবেন আপনার ব্যাটারি তত বেশি সময় কাজ করতে পারবে। ব্যাটারির ক্ষমতা কম থাকলে চার্জ তারাতারি শেষ হবে।

আমার মতে একটি সাড়ে চার বা পাঁচ ইন্চি ডিসপ্লে সাইজের 3G মোবাইলের ব্যাটারির ধারন ক্ষমতা হওয়া উচিত নূন্যতম ২২০০ মিলি এম্পিয়ার। আর ডিসপ্লের আকার যদি ৬ ইন্চি বা সাত ইন্চি হয় তবে ব্যাটারির ধারন ক্ষমতা হওয়া উচিত নূন্যতম ২৫০০ মিলি এম্পিয়ার।

আবার ৫ ইন্চির কাছাকাছি স্ক্রীনের 4G মোবাইল ফোনের ব্যাটারি ধারন হওয়া উচিত নূন্যতম ২৫০০ মিলি এম্পিয়ার। আর ৬/৭ ইন্চি স্ক্রীন সাইজের মোবাইল ফোনের ব্যাটারির ধারন ক্ষমতা হওয়া উচিত কমপক্ষে ৩০০০ মিলি এম্পিয়ার।

আমি নূন্যতম পরিমানের কথা বলেছি, এর চাইতে কিছুটা বেশি থাকলে তা ভালো। তাই নতুন মোবাইল কেনার সময় শুধু ডিজাইন, ক্যামেরা আর RAM দেখলেই হবেনা সাথে ব্যাটারির ধারন ক্ষমতাটাও গুরুত্ব সহকারে দেখে নিবেন। নাহয় মোবাইল ব্যবহার করে শান্তি পাবেননা।

আপনি চাইলে এটি পড়ে দেখতে পারেন: নতুন মোবাইল ক্রয়ের পর প্রথমবার কতক্ষন চার্জ দেয়া উচিত?

ছোট স্ক্রীনের মোবাইল ব্যবহার করুন:

সাধারনত ছোট স্ক্রীনের মোবাইল ফোনগুলোতে চার্জ কিছুটা বেশি থাকে। কারন ডিসপ্লের আকার ছোট বলে ডিসপ্লের পিছনে সাধারনতই কম বাতি ( লাইট) ব্যবহার হয় আর কম বাতি ব্যবহার হওয়ার ফলে ব্যাটারির শক্তিও কম খরচ হয়।

সুতরাং ব্যাটারির ধারনক্ষমতা যদি ঠিক থাকে আর ডিসপ্লের আকারও যদি কিছুটা ছোট হয় তবে মোবাইলে চার্জ কিছুটা বেশি সময় ব্যাকআপ দিবে বলে আশা করা যায়।

আপনি চাইলে এটিও পড়ে দেখতে পারেন: কি কি কারণে মোবাইলের চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে যায়?

সমূহ তো জানলেন। আশা করি এই বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখলে ফোনের চার্জ দীর্ঘ সময় থাকবে।
প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য জানতে নিয়মিত আমাদের সাইট ভ্রমণ করুন। আমাদের লেখাগুলো ভালো লাগলে শেয়ার করে উৎসাহ দেয়ার অনুরোধ রইলো। ধন্যবাদ।

Add Comment

Click here to post a comment

এই সপ্তাহের জনপ্রিয় পোস্ট:

বাংলাদেশীদের জন্য সেরা অ্যাপ

BD MEDIA MATE APP SCREENSHOT

আমাদের ওয়েবসাইটের জনপ্রিয় পোস্টগুলি:

BEST APP FOR US PEOPLE

US MEDIA MATE APP