Home » রোহিঙ্গাদের গণহত্যার জন্য বিনিয়োগ করেছে অন্তত ৪৫টি কোম্পানি: জাতিসংঘ
বাংলা সংবাদ

রোহিঙ্গাদের গণহত্যার জন্য বিনিয়োগ করেছে অন্তত ৪৫টি কোম্পানি: জাতিসংঘ

রোহিঙ্গাদের হত্যা ও বিতাড়নের মাধ্যমে জেনোসাইড সম্পন্ন করতে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে অন্তত এক কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার দিয়েছিল ৪৫টি কম্পানি ও সংস্থা।

মূলত মায়ানমার সরকার ও সামরিক বাহিনীকে খুশি করে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ পাওয়ার জন্যই এই বিনিয়োগ করেছে তারা ।

বন্দর নির্মান, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মান, খনি খনন, রাজ্য পূর্নগঠন সহ বড় বড় প্রকল্পে কাজ পাওয়ার আশায় তারা রোহিংগাদের হত্যার জন্য মায়ানমার সামরিক বাহিনীর পিছনে এই অর্থ বিনিয়োগ করেছে ।

ওই কম্পানি ও সংস্থাগুলোই পরে রাখাইন রাজ্য পুনর্গঠনের কাজ পেয়েছে এবং বুলডোজার দিয়ে রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরসহ নাম-নিশানা নিশ্চিহ্ন করতে ভূমিকা রেখেছে।

মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক তদন্তকারি মিশন গতকাল সোমবার জেনেভায় ১১১ পৃষ্ঠার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য দিয়েছে।

জাতিসংঘের ওই মিশনের প্রতিবেদন আগামী মাসে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে উত্থাপন করা হবে। এবারের প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো মিয়ানমার বাহিনীর সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত ব্যবসা-বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোকে চিহ্নিত করে বৈশ্বিকভাবে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন ও উক্ত প্রতিষ্ঠান গুলিকে অবরোধে আনা্র সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের হত্যা করার কাজে ব্যবহৃত হবে জেনেও ভারত, চীন, রাশিয়া, ইউক্রেন, ইসরায়েলসহ অন্তত সাতটি দেশ ও ১৪টি বিদেশি ফার্মের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের বিষয়টি চিহ্নিত করেছে তদন্তকারি দল ।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ওই প্রতিষ্ঠান ও দেশগুলোর সহায়তায় মিয়ানমার বাহিনী কোনো ধরনের জবাবদিহিতা ছাড়াই আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর অপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করে চলেছে।

মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘের তদন্তকারি দল বলেছে, নিরাপত্তা পরিষদ ও জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অবিলম্বে মিয়ানমার সামরিক বাহনী পরিচালিত কম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত। সাতটি দেশের অন্তত ১৪টি প্রতিষ্ঠান ২০১৬ সাল থেকে মিয়ানমারকে যুদ্ধবিমান, সাঁজোয়া যান, যুদ্ধজাহাজ, ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে বলে উল্লেখ করে জাতিসংঘ নিযুক্ত মিশন তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার আহ্বান জানিয়েছে। মিয়ানমার বাহিনীর হাতে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম তুলে দেওয়া ১৪টি ফার্মের মধ্যে পাঁচটিই চীনের। এ ছাড়া রাশিয়া ও ভারতের দুটি করে ফার্ম এবং উত্তর কোরিয়া, ফিলিপাইন, ইসরায়েল ও ইউক্রেনের একটি করে ফার্ম মিয়ানমার বাহিনীকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের ওপর যখন বৈশ্বিক চাপ বাড়ছে তখন ভারত মিয়ানমারকে সাবমেরিন সরবরাহ করতে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

জাতিসংঘের স্বাধীন সত্যানুসন্ধানী মিশন বলেছে, ওই সাতটি দেশ যখন মিয়ানমারকে অস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে, তখন মিয়ানমার বাহিনী রাখাইন, কাচিন ও শান রাজ্যে বেসামরিক লোকজনের ওপর ধারাবাহিকভাবে ও ব্যাপক মাত্রায় মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটিয়েছে। ২০১৬ সালের ২৫ আগস্টের পর সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করে বাংলাদেশে আসতে বাধ্য করা সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

জাতিসংঘের ওই মিশনের প্রধান মারজুকি দারুসমান বলেন, ‘এই প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন হলে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর অর্থনৈতিক ভিত্তি দুর্বল ও সংস্কার প্রক্রিয়ার প্রতিবন্ধকতা দূর হবে। এ ছাড়া এটি কোনো ধরনের নজরদারি ছাড়াই সামরিক অভিযান চালানোর সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি কমাবে এবং স্বল্প মেয়াদে জবাবদিহিতায় কাজে আসবে।’

জাতিসংঘ মিশনের প্রতিবেদনে মিয়ানমারের সবচেয়ে অস্বচ্ছ দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মিয়ানমার ইকোনমিক হোল্ডিংস লিমিটেড (এমইএইচএল) ও মিয়ানমার ইকোনমিক কো-অপারেশনকে (এমইসি) চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিক মিয়ানমারের জ্যেষ্ঠ সামরিক অধিনায়ক ও সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং ও উপসর্বাধিনায়ক ভাইস সিনিয়র জেনারেল সোয়ে উইন।

জাতিসংঘের ওই মিশন গত বছরই ওই সামরিক অধিনায়কের বিরুদ্ধে জেনোসাইড, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচারের সুপারিশ করেছে। জাতিসংঘ মিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের এমইএইচএল ও এমইসি ওষুধ, ইনস্যুরেন্স, পর্যটন, ব্যাংকিকসহ অন্তত ১২০ ধরনের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের অধীনে অন্তত ২৬টি প্রতিষ্ঠান কাচিন ও শান রাজ্যে জেড ও রুবির খনি খননের কাজ পেয়েছে। মিয়ানমার বাহিনীর সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন, জোরপূর্বক শ্রম দিতে বাধ্য করা ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে।

মিশনের বিশেষজ্ঞ রাধিকা কুমারাস্বামী বলেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ক্রেতাদের নিশ্চিত করা উচিত যে তারা মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন ও প্রভাবিত প্রতিষ্ঠানগুলোর জেড ও রুবি কিনছেন না।

যে ৪৫টি কম্পানি ও সংস্থা মিয়ানমার বাহিনীকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযানে অর্থায়ন করেছে তাদের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টোফার সিডোটি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনে তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধসহ অন্যান্য অপরাধ সংঘটনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা রাখার কথা মাথায় রেখেই তাদের ব্যাপারে তদন্ত হওয়া উচিত।

প্রতিবেদনে কেবিজেড গ্রুপ ও ম্যাক্স মিয়ানমার নামের দুটি কম্পানির নাম এসেছে। রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমার সীমান্তে বেড়া নির্মাণে ওই কম্পানিগুলো অর্থায়ন করেছে। মিয়ানমার বাহিনীর সঙ্গে যৌথ অংশীদারির কাজ করছে এমন অন্তত ১৫টি কম্পানিকে এবং কিছু না কিছু যোগাযোগ আছে এমন ৪৪টি কম্পানিকে প্রতিবেদনে চিহ্নিত করা হয়েছে। জাতিসংঘ মিশন বলেছে, ওই কম্পানিগুলো মিয়ানমার বাহিনীর আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। মিয়ানমার থেকে পণ্য কেনা কম্পানিগুলোর চিন্তা করা উচিত তারা মিয়ানমার বাহিনীর অপকর্মে ভূমিকা রাখছে কি না।

Add Comment

Click here to post a comment

এই সপ্তাহের সর্বাধিক দেখা ভিডিও:

বাংলাদেশীদের জন্য সেরা অ্যাপ

BD MEDIA MATE APP SCREENSHOT

আমাদের ওয়েবসাইটের জনপ্রিয় পোস্টগুলি:

BEST APP FOR US PEOPLE

US MEDIA MATE APP