Home » ব্যবসার মার্কেটিং করার কৌশল (কম খরচে দীর্ঘস্থায়ি প্রচার)
নিবন্ধ

ব্যবসার মার্কেটিং করার কৌশল (কম খরচে দীর্ঘস্থায়ি প্রচার)

মার্কেটিং করার কৌশল

এখানে আমি শুধুমাত্র তুলনামূলক কম খরচে দীর্ঘমেয়াদি ২০টি মার্কেটিং করার কৌশল তুলে ধরেছি। যেগুলোতে মোটা অংকের টাকা খরচ হয় সেসব মার্কেটিং প্লান এখানে আমি উল্লেখ করিনি। কারন সেগুলো শুধু বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষেই সম্ভব, ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে সম্ভব নয়। তবে এখানে উল্লেখিত কৌশলগুলো ছোট, বড়, মাঝারি সবার জন্যই কার্যকর।

কথায় আছে প্রচারেই প্রসার! আপনি হয়তো হাজারো উপায়ে আপনার ব্যবসার প্রচার করতে পারেন তবে সব পদ্ধতি আপনার জন্য কার্যকর নাও হতে পারে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠানগুলোকে সব সময় খুব হিসাব নিকাশ করে টাকা খরচ করতে হয়। অপরিকল্পিত ভাবে অধিক টাকা খরচ করে প্রচার করতে গেলে আপনার লাভতো হবেই না বরং উল্টো লোকসান গুনতে হবে। তাই আপনাকে এমন কিছু উপায় বের করতে হবে যেন আপনি যথাসম্ভব কম খরচে বেশি মাত্রায় আপনার ব্যবসার প্রচার করতে পারেন। এখানে আমি আপনাদের জন্য এমন কিছু মার্কেটিং করার কৌশল তুলে ধরছি যেগুলোতে খরচ কম হলেও যথেষ্ট কার্যকরি।

আপনি যত বেশি আপনার ব্যবসার প্রচার করবেন আপনার ব্যবসা তত বেশি মানুষের মাঝে পরিচিত হয়ে উঠবে। বর্তমান তীব্র প্রতিযোগিতামূলক বাজারে পরিকল্পিত প্রচার ছাড়া ব্যবসার অগ্রগতি প্রায় অসম্ভবই বলা চলে। বড় বড় ঔষধ, ভোগ্য পন্য, রড, সিমেন্ট উৎপাদনকারি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে এলাকার মুদি দোকান বা বিউটি পার্লার- সবাইকেই নিজ নিজ প্রয়োজন অনুযায়ি প্রচার কার্য চালাতে হয়। আগামি দিনে ব্যবসায়িক জগতে প্রতিযোগিতা আরো তীব্র হবে ফলে ব্যবসায়িক প্রচারের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাবে।

বহুদিন যাবত প্রচলিত মার্কেটিং করার কৌশল:

প্রথম ধাপে আমি এমন কিছু মার্কেটিং কৌশল তুলে ধরবো যেগুলো আমাদের দেশে বহু বছর ধরেই প্রচলিত এবং আপনি চাইলে সহজেই এই পদ্ধতিগুলো অল্প কিছু টাকা খরচ করেই প্রয়োগ করতে পারেন। নিচের দিকে আরো কিছু সহজ ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশলও তুলে ধরবো। চলুন তবে শুরু করা যাক।

ব্যানার টানান:

আপনার ব্যাবসার প্রচারের জন্য একটি ভালো উপায় হতে পারে ব্যানার টানানো। এতে খরচ কম হয়, এটি সহজেই মানুষের দৃষ্টি আকর্ষন করে এবং এটি দীর্ঘদিন টিকে থাকে ফলে আপনার বি জ্ঞাপনটি দীর্ঘস্থায়ি হয়। অতএব ব্যানারের মাধ্যমে বি জ্ঞাপন প্রদান করলে আপনি ভালো সুফল পাবেন বলে আশা করা যায়।

বিলবোর্ড স্থাপন:

কোন একটি এলাকার প্রধান সড়কের পাশে বা জনসমাগম স্থলে বিলবোর্ড স্থাপন করে বা ভাড়া নিয়ে তাতে আপনার ব্যবসার প্রচার করতে পারেন। বিলবোর্ডে প্রদর্শিত বড় আকারের বি জ্ঞাপনগুলো  খুব সহজেই মানুষের দৃষ্টি আকর্ষন করে পাশাপাশি এই পক্রিয়ায় বি জ্ঞাপন প্রচার করলে তাতে খরচ কম লাগে কিন্তু দীর্ঘদিন কাজে দেয়। তাই আপনার ব্যবসার প্রচারের জন্য আপনার এলাকার বিলবোর্ডগুলোকে কাজে লাগাতে পারেন। এ টি বড় বা ছোট সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্যই একটি কার্যকর প্রচার পদ্ধতি।

দেয়াল লিখন:

কম খরচে দীর্ঘস্থায়ি বি জ্ঞাপন প্রদানের আরেকটি সহজ উপায় হলো দেয়াল লিখন। আপনার এলাকায় বিভিন্ন উপযুক্ত স্থানে সুন্দর ও আকর্ষনীয় করে দেয়াল লিখনের মাধ্যমে আপনার পন্য ও সেবার প্রচার করতে পারেন।

এর খরচ যেমন কম তেমনি একবার সুন্দর ও আকর্ষনিয় করে দেয়াল লিখন তৈরি করলে এর মাধ্যমে মাসের পর মাস সুফল পেতে থাকবেন।

তবে একটি অনুরোধ, দয়া করে যেখানে সেখানে যত্রতত্র অপরিকল্পিত দেয়াল লিখনের মাধ্যমে কোন স্থানের সৌন্দর্যহানি করবেন না।

স্টিকার লাগিয়ে প্রচার:

আপনার ব্যবসা যদি একটি নির্দিষ্ট এলাকা ভিত্তিক হয় তবে উক্ত এলাকায় নিয়মিত চলাচলকারি যানবাহনগুলোতে স্টিকার লাগিয়ে প্রচারনা চালাতে পারেন। প্রতিদিন সেসব যানবাহনে যেসব মানুষ চলাচল করবে আপনার বি জ্ঞাপন তাদের চোখে পরবে। স্টিকার তৈরিতে খরচ কম আবার স্টিকার দীর্ঘদিন ভালো থাকে। ফলে এটি দীর্ঘমেয়াদি প্রচারনা হিসেবে কাজে দিবে। তবে কোথায় স্টিকার লাগানোর আগে অবশ্যই অনুমতি নিয়ে লাগাবেন কারন অনুমতি ছাড়া স্টিকার লাগালে তা ছিড়ে ফেলা হতে পারে।

বিক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগ করুন:

সরাসরি বিক্রয় প্রতিনিধি নিয়োগ করলে তা বিক্রি ও প্রচার বৃদ্ধিতে বিরাট ভূমিকা রাখে। বিক্রয় প্রতিনিধিরা বিভিন্ন স্থানে গিয়ে আপনার পন্য বা সেবার সম্ভাব্য ক্রেতাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে। এর ফলে আপনার ব্যবসার প্রচারের পাশাপাশি বিক্রি বৃদ্ধিতে এটি খুবই কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

আর বিক্রয় প্রতিনিধিদের সাধারনত একটি লক্ষ্য বেধে দেয়া হয় এবং লক্ষ্য পুরন করতে পারলে কমিশন দেয়া হয় ফলে বিক্রয় প্রতিনিধিরা তাদের লক্ষ্য পুরনের জন্য জোরালো চেষ্টা চালায়। এতে করে আপনার ব্যবসার প্রচার ও পন্য বিক্রি বৃদ্ধি পাবে। এটি যেকোন পন্য বা সেবা মার্কেটিং করার সেরা কৌশল।

সাইনবোর্ড টানিয়ে রাখুন:

আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা কারখানার সামনে অবশ্যই সাইনবোর্ড স্থাপন করুন। এটি আপনার ব্যবসা প্রতিাষ্ঠান বা কারখানায় আগত লোকদের মাঝে প্রভাব বিস্তার করবে পাশাপাশি ঐসব এলাকায় বসবাসকারি ও যাতায়াতকারি লোকজনের মাঝে আপনার ব্যবসার প্রচারও হয়ে যাবে। প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই তাদের কার্যালয় বা কারখানার সামনে সাইনবোর্ড লাগায় কারন এটি আসলেই কার্যকর ও প্রয়োজনীয়। বিশেষ করে স্থানীয় ব্যবসার প্রচারের জন্য এটি অবশ্যই ভূমিকা রাখে।

টিশার্ট তৈরি করুন:

আপনার প্রতিষ্ঠানের নাম, লোগো, পন্য বা সেবার কথা উল্লেখ করে টিশার্ট তৈরি করুন। এরপর আপনি নিজে সেই টিশার্ট পরিধান করুন এবং আপনার কর্মীদের সেই টিশার্ট প্রদান করুন। আপনি এবং আপনার কর্মিরা যেখানে যাবেন সেখানে আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচার হবে। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রচার কৌশল।

দিনপন্জিকা (ক্যালেন্ডার) তৈরি:

দিনপন্জিকা তৈরি করে তা বিতরন করতে পারেন। দিনপন্জিকাটি এমনভাবে তৈরি করবেন যেন তা যথেস্ট আকর্ষনীয় হয় পাশাপাশি তাতে আপনার প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা, পন্য ও সেবার বিষয়ে উল্লেখ করবেন। একটি দিনপন্জিকা মানুষ ১ বছর ব্যবহার করে তাই এর মাধ্যমে ১ বছর ধরে আপনার বি জ্ঞাপনটি মানুষের চোখের সামনে থাকবে। কম খরচে দীর্ঘমেয়াদি বি জ্ঞাপন প্রচারের একটি ভালো কৌশল হতে পারে এই দিনপন্জিকা তৈরি।

মূল্য ছাড় দিয়ে পন্য বিক্রি:

মূল্য ছাড় দিয়ে পন্য বিক্রি করলে সেটা মার্কেটিংএর ক্ষেত্রেও কাজে দেয়। কারন ছাড় দিয়ে পন্য বিক্রি করলে ক্রেতারা বার বার আপনার কাছ থেকে পন্য ক্রয়ে আগ্রহি হবে। এমনকি আপনার দোকানে যে কম মূল্যে পন্য বা সেবা পাওয়া যায় সেটা তারা তাদের পরিচিত অন্য লোকদেরও বলবে। ফলে তাদের মাধ্যমে বিনা খরচেই মৌখিকভাবে আপনার ব্যবসার প্রচার হবে। সুতরাং এক ঢিলে দুই পাখি মরবে। পন্যের বিক্রিও বাড়বে এবং যারা পন্য ক্রয় করবে তাদের মাধ্যমেই তাদের পরিচিত লোকদের মাঝে প্রচারনার কাজটিও হয়ে যাবে।

তবে মূল্য ছাড় দিয়ে পন্য বিক্রির ক্ষেত্রে আমার ব্যাক্তিগত মতামত হলো শুধুমাত্র দ্রুত বিক্রি না করলে পন্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে- এমন পরিস্থিতি ছাড়া কখনই লোকসান দিয়ে কমদামে পন্য বিক্রি করবেন না। এতে আপনার পুঁজি নষ্ট হয়ে পথে বসতে হবে। বরং কম লাভে বা আপনার যত টাকা খরচ হয়েছে তত টাকায় পন্যটি বিক্রি করতে পারেন। যেন লাভ না হলেও লোকসান না হয়। তবে লোকসান দিয়ে বিক্রি করবেন না।

১০ বিনামূল্যে সেবা প্রদান:

আপনি আপনার ব্যবসার সাথে সম্পর্কিত কোন সেবা বিনামূল্যে প্রদান করতে পারেন। যেমন আপনি যদি ঔষধ বিক্রির ব্যবসা করেন তবে বিনামূল্যে প্রেশার মাপা বা ওজন মাপার সুযোগ দিতে পারেন।

এমন ছোট খাটো কিছু সেবা বিনামূল্যে দিলে মানুষের মাঝে আপনার প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ইতিবাচক ধারনা সৃষ্টি হবে। এতে পরোক্ষোভাবে আপনার বিক্রি আরো বাড়বে ও সেবা গ্রহিতারা নিজেরাই অন্যের কাছে আপনার প্রতিষ্ঠানের সুনাম করবে। ফলে বিনা খরচে আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচার হবে।

১১ স্থানিয় পত্রিকা বা ম্যাগাজিনে আপনার বি জ্ঞাপন ছাপাতে পারেন:

আপনার ব্যবসার প্রচারের জন্য স্থানিয় বা জাতীয় পত্রিকা বা ম্যাগাজিন গুলোতে বি জ্ঞাপন দিতে পারেন। এক্ষেত্রে বেশি প্রচার হয় এমন পত্রিকাগুলোতে বি জ্ঞাপন দেয়ার চেষ্টা করবেন। তবে আমার ব্যাক্তিগত মতামত হলো পত্রিকায় বি জ্ঞাপন দেয়া ব্যায়বহুল ও এটি পাঠকরা শুধুমাত্র একদিন পাঠ করেন। ফলে আপনি আজকের পত্রিকায় বি জ্ঞাপন দিলে সেটা শুধু আজকেই পাঠকদের চোখে পড়বে, একদিন পরে এই বি জ্ঞাপন আর কেউ দেখবেনা। তাই পত্রিকার চাইতে বিভিন্ন ম্যাগাজিনে বি জ্ঞাপন দিলে সেটা কিছুটা দীর্ঘমেয়াদি কাজ করে।

সুতরাং কিছুটা দীর্ঘমেয়াদি বি জ্ঞাপন দিতে চাইলে ম্যাগাজিনে বি জ্ঞাপন দিতে পারেন আর যদি স্বল্পমেয়াদি কোন বিষয়ের উপর বি জ্ঞাপন প্রচার করতে চান তবে পত্রিকায় বি জ্ঞাপন দেয়াটাই ভালো। যেমন ধরন আপনি আপনার শোরুমে ৫০% মূল্য ছাড়ে পন্য বিক্রয় করবেন শুধু মাত্র ১ সপ্তাহের জন্য। ১ সপ্তাহ পরে এই বি জ্ঞাপনের কোন কার্যকারিতা থাকবেনা। এমন স্বল্প সময়ের জন্য বি জ্ঞাপন প্রচার করতে চাইলে পত্রিকা বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। কারন পত্রিক্গুলো স্বল্প সময়ের জন্য বেশি মানুষের কাছে পৌছায়।

১২ পোস্টার লাগিয়ে প্রচার:

পোস্টারের মাধ্যমে প্রচার একটি পুরাতন, বহুল ব্যবহৃত ও যথেস্ট কার্যকর পদ্ধতি। স্থানিয় পর্যায়ের যেকোন ব্যবসার জন্য পোস্টার লাগিয়ে প্রচার করতে পারেন। এটি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষন করে এবং এর খরচও কম। তবে পোস্টার স্টিকারের মতো দীর্ঘমেয়াদি নয় তাই আমি এটিকে স্টিকারের পরে স্থান দিবো। আর যেখানে সেখানে পোস্টার লাগিয়ে এলাকার সৌন্দর্য নষ্ট করবেন না।

১৩ খেলাধুলা বা অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে যোগদান:

আপনার সামর্থ্য অনুযায়ি জাতীয়, আন্তর্জাতিক বা স্থানিয় পর্যায়ের যেকোন জনপ্রিয় খেলাধুলা বা অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা (স্পন্সর) করতে পারেন।

শর্ত থাকবে যে অনুষ্ঠান বা খেলাধুলার প্রচারনার সময় আপনার প্রতিষ্ঠান বা পন্যটির নামও সাথে উচ্চারিত হবে। এছাড়া খেলোয়াড়দের আপনার প্রতিষ্ঠানের নাম ছাপানো পোষাক দিতে পারেন। খেলাধুলার সময় সবার চোখ থাকে খেলোয়াড়দের উপর। ফলে তারা এটি পরলে তাদের মাধ্যমে আপনার প্রচারনার কাজটি হয়ে যাবে।

১৪ উপহার সামগ্রি প্রদান:

দীর্ঘদিন কাজে লাগে এমন বিভিন্ন জিনিস উপহার হিসেবে গ্রাহক বা শুভাকাংখিদের মাঝে বিতরন করতে পারেন।

উপহারগুলোতে আপনার প্রতিষ্ঠানের নাম ছাপানি দিবেন। উপহার পেয়ে গ্রাহকরা খুশি হবে পাশাপাশি যতদিন আপনার প্রদত্ত উপহারগুলো ব্যবহার করবে ততদিন আপনার প্রতিষ্ঠানের নাম তাদের চোখে পরবে। ফলে কম খরচে দীর্ঘমেয়াদি প্রচার হবে।

১৫ সৌজন্য কপি প্রদান:

আপনি নতুন কোন পন্য বের করে থাকলে বিনামূল্যে কিছু পন্য মানুষের মাঝে বিতরন করতে পারেন। এতে করে তারা যদি ঐ পন্যটি ব্যবহার করে সন্তুষ্ট হয় তবে ভবিষ্যৎতে তারা আপনার কাছ থেকে সেই পন্যটি ক্রয় করবে

বিনামূল্যে পন্য বিতরন করলে সেই পন্যগুলোতে আপনার প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা তাতে ছাপিয়ে দিবেন। এতে করে যতদিন তারা ঐ পন্যটি ব্যবহার করবে ততদিন আপনার প্রতিষ্ঠানের নাম তাদের চোখে পড়বে।

অর্থ সাশ্রয়ি ৫টি ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশল

BD MEDIA MATE APP DOWNLODE

ওয়েবসাইটে বি জ্ঞাপন প্রচার:

বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বি জ্ঞাপন প্রচার করতে পারেন। বড় বড় শীর্ষস্থানিয় ওয়েবসাইটে বি জ্ঞাপন প্রচার করতে গেলে আপনাকে মোটা অংকের টাকা খরচ করতে হবে। যা ক্ষুদ্র বা মাঝারি ব্যবসায়িদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই বড় বড় ওয়েবসাইটে বি জ্ঞাপন দিতে না পারলে মাঝারি স্তরের ওয়েবসাইট গুলোতে বি জ্ঞাপন প্রচার করুন।

গেষ্ট পোষ্টিং এর মাধ্যমে মার্কেটিং করার কৌশল:

এটিও ওয়েবসাইটে বি জ্ঞাপন দেয়ার মতোই। তবে এটি বি জ্ঞাপনের চেয়েও ভালো কারন আপনি যতদিন টাকা পরিশোধ করবেন ততদিন আপনার বি জ্ঞাপন চালু থাকবে তারপর বন্ধ হয়ে যাবে কিন্তু একটি মানসম্মত গেষ্ট পোস্ট একবার ওয়েবসাইটে পাবলিশ হলে যতদিন ওয়েবসাইট থাকবে ততদিন আপনার পোস্টটিও থাকবে। এটি একপ্রকার চিরসবুজ বি জ্ঞাপন! আর এতে আপনাকে বি জ্ঞাপন দেয়ার মতো টাকা খরচ করতে হবেনা।

মূলত গেস্ট পোস্টিং হলো এমন একটি বিষয় যেখানে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে আপনার পছন্দসই বিষয় নিয়ে লেখা আর্টিকেল পোস্ট করতে পারেন।

ধরুন আপনি আসবাবপত্রের ব্যবসা করেন। এখন কিভাবে আসবাবপত্রের যত্ন নিলে তা বেশিদিন ভালো থাকবে বা কোথায় কম দামে ভালো আসবাবপত্র কেনা যায় এসব বিষয় নিয়ে আপনি কিছু আর্টিকেল লিখতে পারেন। তারপর সেই আর্টিকেলে কৌশলে আপনার প্রতিষ্ঠানের কথাও উল্লেখ করলেন। তারপর সেই আর্টিকেল কোন একটি ওয়েবসাইটে পোস্ট করলেন। এখন সেই ওয়েবসাইটে যেসব ভিজিটর আপনার লেখা আর্টিকেলগুলো পড়বে তারা আপনার প্রতিষ্ঠানের কথাও জানতে পারবে। এভাবে কৌশলে গেস্ট পোস্টিং এর মাধ্যমে আপনি বিনা খরচে আপনার ব্যবসার প্রচার করতে পারেন।

( আপনি চাইলে FANCIM.COM এর  মাধ্যমে গেস্ট পোস্টিং করেও আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রচার করতে পারেন। প্রথমে FANCIM.COM এ আপনার নামে একটি একাউন্ট খুলুন। আপনি চাইলে আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ওয়েবসাইট বা ইউটিউব চ্যানেলের নামেও একাউন্ট খুলতে পারেন। এরপর আপনার পছন্দসই বিষয় নিয়ে আর্টিকেল লিখে বা শর্ট ভিডিও তৈরি করে তা FANCIM.COM এ পোস্ট করুন। আপনার আর্টিকেল বা ভিডিও মানসম্মত হলে তা অবশ্যই পাবলিশ করা হবে। তবে যদি আপনার আর্টিকেল বা ভিডিও মানসম্মত না হয় তবে তা এপ্রুভ করা হবেনা। আপনার পোস্ট যেন এপ্রুভ হয় সেই সম্ভবনা বাড়াতে শুধু বারবার আপনার ব্যবসার কথা না বলে এমনভাবে পোস্ট লিখুন যেন তা মানুষের উপকারে আসে পাশাপাশি আপনার ব্যবসার কথাও প্রচার হয়। এক্ষেত্রে আপনাকে কিছুটা বুদ্ধি খাটাতে হবে। আপনি যদি একটি পোস্টে শুধুই বি জ্ঞাপনমূলক কথাবার্তা লিখে রাখেন তাহলে কেউই সেটি পড়তে চাইবেনা তবে আপনি যদি একটি তথ্যমূলক পোস্ট লিখেন এবং সরাসরি বি জ্ঞাপনের মতো করে না বলে পরোক্ষভাবে আপনার ব্যবসার প্রচার করেন তাহলে এডমিনরা আপনার পোস্ট এপ্রুভ করবে এবং মানুষ সেই পোস্ট পড়বে।)

কিভাবে আপনি আমাদের ওয়েবসাইটকে আপনার কাজে লাগাতে পারেন তা জানতে এখানে প্রবেশ করুন

গেস্ট পোস্টিং একটি আধুনিক ডিজিটাল মার্কেটিং করার কৌশল। আপনার পন্য বা সেবা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য অনলাইন জগতে প্রচার করতে পারেন গেস্ট পোস্টিং এর মাধ্যমে।

মোবাইলে SMS পাঠানোর মাধ্যমে প্রচার:

SMS মার্কেটিং করতে পারেন। বর্তমানে “মাস্কিং SMS” ও “নন মাস্কিং SMS” এই দুই পদ্ধতিতে SMS মার্কেটিং করতে পারেন। মাস্কিং SMS হলো এমন একটি পদ্ধতি যেখানে আপনি প্রেরক হিসেবে আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পন্য বা সেবার নাম লিখে SMS পাঠাতে পারবেন। এই পদ্ধতিতে SMS পাঠালে সেখানে প্রেরক হিসেবে কোন নাম্বার না দেখিয়ে আপনার প্রতিষ্ঠান বা পন্যের নাম দেখাবে। Gp offer, Govt info ইত্যাদি SMS গুলোর বেলায় যেমন কোন নাম্বার না দেখিয়ে সরাসরি প্রতিষ্ঠানের নাম দেখায় আপনিও তেমন করে SMS পাঠাতে পারবেন। এই পদ্ধতিতে SMS মার্কেটিং করতে গেলে অবশ্য খরচ কিছুটা বেশি হবে।

আর “নন মাস্কিং SMS” পদ্ধতিতে মার্কেটিং করলে আপনার প্রতিষ্ঠান বা পন্যের নাম না উঠে যে নাম্বার থেকে SMS পাঠানো হয়েছে সেই নাম্বারটি প্রেরকের জায়গায় ভেসে উঠবে। এই পদ্ধতিতে খরচ অনেকটাই কম।

আপনার এলাকার বাসিন্দাদের মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে তাতে সুন্দর ও ভদ্র ভাষায় সংক্ষেপে আপনার ব্যবসার মার্কেটিং করতে পারেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে, অতিরিক্ত SMS পাঠিয়ে কাউকে বিরক্ত করবেন না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।

ফেসবুক গ্রুপ তৈরি করুন:

আপনি আপনার ব্যবসার সাথে সম্পর্কিত একটি ফেসবুক গ্রুপ তৈরি করে তাতে আপনার পন্য বা সেবার দাম, বিভিন্ন অফার বা অন্যান্য তথ্য তাতে দিতে পারেন। পাশাপাশি আপনার ব্যবসার সাথে যোগসূত্র আছে এমন বিভিন্ন তথ্য বা পরামর্শ তাতে দিতে পারেন। এতে করে ফেসবুক ব্যবহারকারিরা আপনার প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে প্রয়োজনিয় তথ্য জানতে পারবে এবং সহজে আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারবে। এক্ষেত্রে শুধু ফেসবুকের উপর নির্ভর না করে আপনি টুইটার, লিংকডইন সহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও নিজের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারেন।

ইমেইল মার্কেটিং করুন:

ইমেইল মার্কেটিং হলো এমন একটি পদ্ধতি যেখানে সম্ভাব্য গ্রাহকদের ইমেইল পাঠানোর মাধ্যমে ব্যবসায়িক প্রচারনা চালানো হয়।

যদি আপনার সম্ভাব্য গ্রাহকরা শিক্ষিত শ্রেনীর হয় এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে পারদর্শি হয় তবে ইমেইল মার্কেটিং আপনার জন্য যথেষ্ট কার্যকর হতে পারে। আপনি তাদেরকে আপনার ব্যবসা, সেবা, পন্য বা বিভিন্ন অফার সম্পর্কে লিখে ইমেইল পাঠাতে পারেন। উন্নত দেশগুলোতে ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক প্রচারের কাজে ব্যাপক মাত্রায় ইমেইল মার্কেটিং ব্যবহার হয়।

আপনি চাইলে নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন ব্যাক্তির ইমেইল এড্রেস জোগার করে তাতে ইমেইল পাঠাতে পারেন আবার চাইলে পেশাদারভাবে মার্কেটিংয়ের কাজ করে এমন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ইমেইল এড্রেস ক্রয় করে তাতে ইমেইল পাঠিয়ে প্রচারনা চালাতে পারেন। তবে এতে কিছুটা বাড়তি টাকা খরচ করতে হবে।

আপনি আমাদের এই লেখাটিও পড়ে দেখতে পারেন: সফল ব্যবসায়ি হতে হলে যে খারাপ স্বভাবগুলো থাকা প্রয়োজন

উপরে আমি আপনাদের জন্য কম খরচে অধিক কার্যকর ও দীর্ঘদিন কাজে দিবে এমন ২০টি মার্কেটিং করার কৌশল তুলে ধরেছি। আপনারা যারা ব্যবসার প্রচার প্রচারনার কথা ভাবছেন তাদের জন্য এখানে দেয়া ২০টি মার্কেটিং কৌশল উপকারে আসবে বলে আশা করি। এছাড়াও আরো বিভিন্ন উপায়ে আপনি আপনার ব্যবসার প্রচারের কাজ চালাতে পারেন। পরিবেশ ও পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে আপনি নিজেই সিদ্ধান্ত নিবেন কোনটি আপনার জন্য ভালো হবে। ব্যবসা-বানিজ্য বিষয়ক বিভিন্ন তথ্যবহুল নিবন্ধ পড়তে আমাদের ওয়েবসাইটে নিয়মিত ভিজিট করুন। লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করে উৎসাহ দেয়ার অনুরোধ রইলো। ধন্যবাদ।

Add Comment

Click here to post a comment

এই সপ্তাহের জনপ্রিয় পোস্ট:

বাংলাদেশীদের জন্য সেরা অ্যাপ

BD MEDIA MATE APP SCREENSHOT

আমাদের ওয়েবসাইটের জনপ্রিয় পোস্টগুলি:

BEST APP FOR US PEOPLE

US MEDIA MATE APP